রাজনীতি আর সংঘাতের জেরে প্রায় এক দশক ধরে ভারতে গান গাওয়া নিষিদ্ধ পাকিস্তানের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আতিফ আসলামের। তবে এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এবার খোলামেলা কথা বললেন। ভারতে নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ পেয়েছেন।
তাই যারা তাকে নিষিদ্ধ করেছিলেন, উল্টো তাদেরই ধন্যবাদ জানিয়েছেন আতিফ। ইউটিউবার ক্রিস ফেড-এর টকশোতে সম্প্রতি উপস্থিত হয়ে নিজের মিউজিক ক্যারিয়ারের এই নতুন অধ্যায় নিয়ে মুখ খোলেন ‘তেরে বিন’খ্যাত এই গায়ক।
আতিফ আসলাম বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর হতে চলল ভারতে আমার গান গাওয়া নিষিদ্ধ। এটি ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল, তারা পাকিস্তানি শিল্পীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। একই সঙ্গে পাকিস্তানেও ভারতীয় শিল্পীরা নিষিদ্ধ। তবে এই এক দশকে আমার গান থেমে থাকেনি।’
তার কথায়, ‘ভারতীয় ভক্তরা এখনো ভিপিএন ব্যবহার করে আমার গান শোনেন। তারা সিডি বার্ন করে একে অপরের হাতে পৌঁছে দেন। যদিও আমি পাইরেসি সমর্থন করি না, তবে সত্য এটাই সংগীতের পৌঁছানোর জায়গায় ঠিকই পৌঁছে যায়।’
কাজের জায়গা নিয়ে কোনো আফসোস নেই জানিয়ে আতিফ আরও বলেন, ‘আমি একটা কথা সবসময় বলতে চেয়েছি আমি ভারতীয় ভক্তদের মিস করি, তবে সেখানে কাজ করাটা মিস করি না। প্লেব্যাক থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু যদি এই নিষেধাজ্ঞা না আসত, তবে হয়তো আমি নিজে স্বাধীনভাবে গান তৈরি করতে পারতাম না। নিজেকে নতুনভাবে চেনার এই সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আমি তাদেরকে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে সেখানে নিষিদ্ধ করেছিলেন।’
বলিউডে ‘আদাত’, ‘ওহ লমহো’, ‘পেহলি নজর মে’, ‘তেরা হোনে লাগা হু’ ও ‘জিনা জিনা’র মতো একের পর এক সুপারহিট গান উপহার দিয়ে কোটি দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন আতিফ। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকলেও ডিজিটাল দুনিয়া ও কনসার্ট মঞ্চে তার জনপ্রিয়তা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই পাকিস্তানি সংগীত তারকা।
শিল্পী জেমস ও হাসান
নব্বইয়ের দশকের রক সংগীতের স্মৃতি ফিরিয়ে দীর্ঘদিন পর একই মঞ্চে পারফর্ম করতে যাচ্ছেন দেশের ব্যান্ড সংগীতের দুই জনপ্রিয় মুখ নগর বাউলের জেমস ও আর্কের হাসান। এই দুই সংগীতশিল্পী আগামী ২৩ অক্টোবর ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কের কার্নিভাল অ্যারেনায় ‘রক এন রিদম ৫.০: নো লিমিটস ইন দ্য জোন’ শীর্ষক কনসার্টে পারফর্ম করবেন।
মাহফুজ আনাম জেমস ও হাসানের পাশাপাশি কনসার্টে বাংলাদেশের রক সংগীতের আরও কয়েকটি জনপ্রিয় ব্যান্ড ও সংগীতশিল্পী অংশ নেবেন।
আয়োজক অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, কনসার্টে নগর বাউল, আর্ক, ওয়ারফেজ, অর্থহীন ও শূন্য পারফর্ম করবে। গিটারিস্ট ওনি হাসান ওয়ারফেজের সঙ্গে বিশেষ পরিবেশনায় অংশ নেবেন। পাশাপাশি একক পরিবেশনাতেও থাকবেন তিনি।
একে রাহুলও ওই কনসার্টে পারফর্ম করবেন বলে জানা গেছে।
কনসার্ট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক অনুমতি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।
গত সোমবার টিকিফাই ডট লাইভ ওয়েবসাইটে কনসার্টের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়। টিকিটের দাম ধরা হয়েছে ৯৯৯ টাকা।
২০২২ সাল থেকে রক এন রিদম কনসার্ট সিরিজ আয়োজন করে আসছে অ্যাডভেন্টর কমিউনিকেশনস।
আয়োজকদের দাবি, এসব কনসার্টের মাধ্যমে বাংলাদেশের রক ও মেটাল সংগীতের শিল্পী এবং শ্রোতাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে।
এর আগে ২০২২ সালে প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৩ সালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় এবং ২০২৪ সালে চতুর্থ আসর অনুষ্ঠিত হয়।
আগের আসরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিসরে পঞ্চম কনসার্ট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা বলছেন, আগামী ২৩ অক্টোবরের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নব্বইয়ের দশকের বাংলাদেশি রক সংগীতের স্মৃতি ও প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পরিবেশনা উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা।
ছবি : সংগৃহীত
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব গত বছরই কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এ খবর অবশ্য এখন পুরোনো। কিন্তু মেয়ের ছবি প্রকাশ্যে আনেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
কিন্তু ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, গত ১২ ডিসেম্বর অভিনেতার মেয়ে আনায়ার জন্ম হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয়।
এবার প্রায় এক বছর পর সেই ভুল ভাঙালেন অভিনেতা অপূর্ব। জানালেন, আজ (১৫ অক্টোবর) তার মেয়ের বিশেষ দিন, অর্থাৎতার মেয়ের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেয়ের দুটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার মেয়ে গত বছরের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল।
এ অভিনেতা মেয়ের বিশেষ দিনে বিশেষ বার্তায় লিখেছেন, ‘তোমাকে ভালোবাসার ৩৬৫ দিন। আমাদের ছোট্ট রাজকন্যার প্রথম জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সত্যিই বুঝতে পারিনি, দেখতে দেখতে কীভাবে সময়টা পেরিয়ে গেল। ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে তুমি পৃথিবীতে এসেছিলে, আর মুহূর্তেই অপার সৌন্দর্যে বদলে দিয়েছিলে সবকিছু।’
রাজকন্যার বেড়ে ওঠা দেখতে পারাই যেন অভিনেতা এবং তার স্ত্রী শাম্মা দেয়ানের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। এ ব্যাপারে অপূর্ব লিখেছেন, ‘তোমার বেড়ে ওঠা, নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা, আর তোমার মিষ্টি হাসি ও আনন্দে আমার ঘর ভরিয়ে তোলা, এসব দেখা এই জীবনের বড় প্রাপ্তি। আজ তোমার মাথায় হয়তো ছোট্ট একটি মুকুট শোভা পাচ্ছে, কিন্তু জন্মের সেই প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাদের হৃদয়ের রানির মুকুট পরে আছো তুমি।’
সবশেষ মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জীবন যেন সবসময় তোমার মতোই উজ্জ্বল, মায়াময় ও অমূল্য হয়ে থাকে।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা অপূর্ব। এর আগে ২০১১ সালে অদিতিকে বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে ছেলে আয়াশ রয়েছে। এরও আগে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। যদিও সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি।
করণ জোহর ও সালমান খান
ভারতের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিতর্কের নানা বিষয় উঠে এসেছে প্রযোজক ও পরিচালক করণ জহরের এই অনুষ্ঠানের আড্ডায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ তথা নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমোতেই বেশ বোঝা গেল যে, দর্শকমহলের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। অতিথি বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রচারঝলকের গোড়াতেই ভাইজানের সঙ্গে সঞ্চালককে রসিকতায় মাততে দেখা গেল।
আর সেখানেই করণ জোহরের প্রশ্নবাণে স্তম্ভিত ভাইজান!
সালমানকে স্বাগত জানিয়ে করণকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন জ্ঞানী মানুষ একবার বলেছিলেন, ‘ইটস ডান, ব্রো’। তাই আমার শেষ সিজন শুরু করার জন্য এই মানুষটির থেকে ভালো আর কে-ই হতে পারেন!’
বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের আড্ডা-গসিপ, বিতর্ক আর নানা আলোচনার ঠেক হয়ে উঠেছে করণ জোহরের টকশো। ‘কফি উইথ করণ’ মানেই নতুন সম্পর্ক, নতুন ব্রেকআপ আর নতুন গুঞ্জন!
শুধু তাই নয়, খুনসুটি করে তাকে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণের পর এবার শুরু হচ্ছে কফি উইথ সালমান।’ এরপরই বলিউড সুপারস্টারকে সরাসরি করণ জোহর জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘তুমি কি এখনও ভার্জিন (চিরকুমার)?’
এটাই অবশ্য প্রথম নয়! অতীতে একবার ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভাইজানকে। তবে এবার আর থামেননি। পালটা করণ জোহরকে সীমাজ্ঞানের পাঠ দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো।’
টিজারটি প্রকাশ্যে আসতেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এর আগেও ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে অতিথি হয়ে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির নবম মরশুমের প্রথম পর্বটি শিগগিরই প্রচার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে
শাকিব খান ও স্বামী নেহালের সঙ্গে সাবিলা নূর
শোবিজ দুনিয়ায় বইছে তারকাদের বিচ্ছেদের বাতাস। এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের বিচ্ছেদগুঞ্জন।
২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারই চলছিল তার। কিন্তু এখন নাকি একসঙ্গে থাকছেনও না তারা! বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে অনেক আগেই, যা গোপন রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে।
বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে এমন কথা। পরে বিষয়টি আসে সংবাদের শিরোনাম আকারেই! এ গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে মিলি সুলতানা নামের এক একটিভিস্ট-এর একাধিক পোস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সাবিলার অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেট থেকেই নাকি অভিনেত্রীর সংসার ভাঙার বীজ বোনা হয়েছিল। মিলি সুলতানা পোস্টে উল্লেখ করেন, শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় সাবিলা নূরের। শুধু তাই নয়, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দেশের নায়িকাদের কাছে শাকিব খান নাকি এক ভয়ানক ব্যধি। যার ভুক্তভোগী সাবিলার স্বামী নেহাল সুন্দর তাহের। সাবিলা নূর নাকি নেহালের নিয়ন্ত্রণে আর নেই, এমনটাও উল্লেখ করেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট আরও বিস্ফোরক কিছু বিষয় তুলে দাবি করেন, সাবিলা নূর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। রিহ্যাবেও ছিলেন বেশ কয়েকদিন।
নেহালের মনে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, শাকিব খানের পাল্লায় পড়ে সাবিলা নিজেকে আরও উঁচুতে ওঠাতে চেয়েছিলেন। বাসায় নাকি মদ্যপ অবস্থায়ও ফেরেন। নেহাল দেখলেন সাবিলা আর তার কবজায় নেই। এরপর মিলি সুলতানা উল্লেখ করেন, এ সকল ঘটনার কারণে নাকি সাবিলার সংসার ভেঙেছে; বিচ্ছেদ ঘটেছে। আর বিষয়টি গোপন রেখেছেন সাবিলা নূর।
সব মিলিয়ে, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে শোবিজ অঙ্গনের ভেতরে নায়িকাদের অফস্ক্রিন স্টোরির কথা তুলে ধরেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু এই পোস্টে শুধু শাকিবের দিকে আঙুল তুলে থেমে থাকেননি তিনি, পরবর্তী এক পোস্টে রকস্টার সিনেমার ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার) আবদুল মামুনের সাথে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই নাকি ভেঙে যায় সাবিলা-নেহালের সাত বছরের সংসার।
অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানা সবশেষ উল্লেখ করেন, ‘যদিও সাবিলা শাকিবের সাথে ধামাকা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন এটা সত্যি। কিন্তু তার ঘর ভাঙার জন্য রকস্টারের ক্যামেরাম্যন আব্দুল মামুনই দায়ী। এই কথাটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’
এখন কথা হলো, এই অ্যাক্টিভিস্ট-এর এই পোস্ট কেন এত সাড়া ফেলল, কেন বিষয়টি মানুষ কানে নিলো সেটা নিয়েও ভাবছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ এটাকে বানোয়াট-মনগড়া গল্প বলছেন। আবার কেউ কেউ শাকিব খানের অতীতের বাস্তবতা টেনে এটিকে সম্ভাব্য সত্যি বলেও ভাবছেন। শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা যে একটা 'রোজকার বিষয়' তা মনে করেন অনেক নেটিজেনই। কাজেই, সমালোচক, লেখক মিলি সুলতানার এই পোস্ট নানা ধরনের জল্পনা উস্কে দিলেও, শোবিজ অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও তার উল্লেখিত পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
এ প্রসঙ্গে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। অতঃপর, অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
শাহরুখ খান ও সোহানা খান
শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘কিং’ সিনেমা মুক্তির আর মাত্র দুই মাস বাকি। ছবিটির কাজও প্রায় শেষের পথে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের শুটিং। এই পর্বে শাহরুখের অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি তার মেয়ে সুহানা খানের একটি নতুন গানের শুটিং করবেন পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ।
প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নতুন করে কাজ শুরু করেন। ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্টের একটি স্টুডিওতে শাহরুখকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের ধারণ শুরু হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব দৃশ্যের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন যুক্ত হওয়া গানটির চিত্রগ্রহণে মনোযোগ দেবেন পরিচালক।
‘কিং’ সিনেমায় সুহানা খানের নাচের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে একটি বিশেষ গানের আয়োজন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে বিশাল সেট তৈরি করে এর শুটিং করা হবে। গানটির কোরিওগ্রাফিতে থাকছেন পীযূষ ভগত ও শাজিয়া সামজি।
একদিকে শুটিংয়ের শেষ পর্বের ব্যস্ততা, অন্যদিকে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
শাহরুখ খান ও সুহানা খান ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও জয়দীপ আহলাওয়াত।
নাসিমা খানম
বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম।
জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।'
অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা।
রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'
নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি।
শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা।
বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন।