হাইকোর্ট ভবন। ছবি : সংগৃহীত
বিচার বিভাগের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্পের এবং অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রক্কলিত ব্যয় পৃথকভাবে ১০০ কোটি টাকা হলে তার অনুমোদন দিতে পারবেন প্রধান বিচারপতি। সরকার সময়ে সময়ে, সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শ করে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আর্থিক সীমা মুদ্রাস্ফীতির সাথে সমন্বয় করে বা অন্য কোনো উপযুক্ত কারণে বৃদ্ধি করতে পারবে। আর্থিক পরিমাণ এর চেয়ে বেশি হলে তার অনুমোদন নিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর নিকট পাঠাতে হবে। এমন বিধানসহ অধস্তন আদালতের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত করে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ জারি করা হয়েছে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে এ অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এর আগে গত ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ অধস্তন আদালতের জন্য একটি পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।
অধ্যাদেশের ৮ ধারায় বলা হয়েছে, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলো সংক্রান্ত উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশ করার লক্ষ্যে ৮ সদস্যের একটি পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি গঠিত হবে। এই পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির প্রধান হবেন প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি। কমিটি প্রধান বিচারপতির সাথে পরামর্শক্রমে এর কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন এবং এর ওপরে হলে তা অনুমোদনের জন্য সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে উপস্থাপনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রীর নিকট সরাসরি প্রেরণ করা হবে। প্রকল্প গ্রহণ, প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাই করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিবের নেতৃত্বে প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি প্রকল্প যাচাই-বাছাই করার ক্ষেত্রে ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা, ২০২২’ অনুসরণ করবে। প্রকল্প যাচাই-বাছাই কমিটি কর্তৃক যাচাই-বাছাইকৃত প্রকল্প চূড়ান্ত নিরীক্ষা ও সুপারিশের জন্য পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির নিকট প্রেরণ করবে। অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, অনুন্নয়ন বাজেটের আওতায় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটি কর্তৃক সুপারিশকৃত স্কিমের প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ (পঞ্চাশ) কোটি টাকার মধ্যে থাকলে প্রধান বিচারপতি অনুমোদন করবেন এবং এর ঊর্ধ্বে হলে এইরূপ স্কিম অনুমোদনের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে প্রেরণ করা হবে। পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির সুপারিশক্রমে প্রধান বিচারপতি উক্ত ধারার অধীন গৃহীত বা বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের ক্ষেত্রে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প, বিনিয়োগ প্রকল্প, কারিগরি সহায়তা প্রকল্প, কারিগরি প্রকল্প, সংশোধিত বিনিয়োগ প্রকল্প, সংশোধিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প ও সংশোধিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রকল্প এবং প্রকল্পের আন্তঃঅঙ্গ ব্যয় সমন্বয়সহ প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং বরাদ্দ ব্যবহার সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব অনুমোদন করবেন।
অধ্যাদেশের ১১ ধারায় বাজেট ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রত্যেক অর্থবছরের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কার্যপরিধিভুক্ত আদালত, প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি এবং সুপ্রিম কোর্টের জন্য অনুমিত আয় ও ব্যয়-সংবলিত একটি বিবৃতি উক্ত অর্থ-বৎসর শুরু হওয়ার অন্তত ৩ (তিন) মাস পূর্বে প্রস্তুত করবে। এই বিবৃতিতে সুপ্রীম কোর্ট ও বিচার কর্ম-বিভাগে নিযুক্ত বিচারক, বিচার বিভাগীয় কর্মচারী এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ে নিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণকে প্রদেয় বেতন ও ভাতাদি এবং দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনার প্রশাসনিক ব্যয় এবং সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, তৎসংশ্লিষ্ট দপ্তর, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, কমিশন, ইনস্টিটিউট, একাডেমি প্রভৃতির আবর্তক ও উন্নয়ন ব্যয়, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রধান বিচারপতি উক্ত বিবৃতি সরকারের আর্থিক বিবৃতির সাথে সংযুক্ত করে সংসদে উপস্থাপনের জন্য অর্থমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করবেন। সরকারের বাজেট প্রণয়নের সুবিধার্থে কৌশলগত পর্যায়ের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের রাজস্ব ও প্রাপ্তির প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রাথমিক সম্ভাব্য ব্যয়সীমার প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ সরকারের নিকট প্রেরণ করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের অনুকূলে বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থ পুনঃউপযোজনের সব ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির থাকবে।
অধ্যাদেশের ৪ ধারায় বলা হয়েছে, সংবিধানের ২২, ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নামে একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় থাকবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির উপর ন্যস্ত থাকবে এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব ওই সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হবেন।
অধ্যাদেশের ৫ ধারায় এই সচিবালয়ের কার্যাবলী সম্পর্ক-এ বলা হয়েছে, দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তা প্রদান করার জন্য অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন; অধস্তন আদালতের প্রতিষ্ঠা বা বিলোপ, সংখ্যা, গঠন ও এখতিয়ার নির্ধারণ; অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বা ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ ও নিয়োগ; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ, বিন্যাস, নিয়োগ, কর্মের শর্তাবলি নির্ধারণ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি, প্রশাসন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়; সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের পদ সৃজন, বিলোপ ও বিন্যাস; সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদকরণ; অধস্তন আদালতের পদ সৃজন সংক্রান্ত বিষয়াদিতে সংবিধানের ১২৫ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালায় বর্ণিত কমিটিকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক ও অন্যান্য সহায়তা; বিচার কর্মে নিয়োজিত সার্ভীস সদস্যদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটি সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্যান্য অনুষঙ্গিক বিষয়। সার্ভিস সদস্যগণের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনা, সুপ্রিমকোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইবুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশ্লিষ্ট দপ্তর-এ প্রতিষ্ঠানসমূয়ের উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; প্রধান বিচারপতির এবং সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও উক্ত আদালতগুলোর বিচারকদের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান; সার্ভিস সদস্যগণের এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের শিক্ষা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষন ও এতদসংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
জুডিসিয়াল সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে অধ্যাদেশের ৭ ধারায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হবে। সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কাজে রাষ্ট্রপতির পক্ষে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে। সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত কার্যাদি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব কর্তৃক সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট কমিটির পরামর্শের জন্য উপস্থাপিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সার্ভিস সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান করলেও, আইন ও বিচার বিভাগ ও এর কার্যপরিধিতে বর্ণিত প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং অন্য কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের দপ্তরে সার্ভিস সদস্যদের পদায়ন বা বদলি সংক্রান্ত কার্যাদি এতদুদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সাথে পরামর্শক্রমে, সম্পাদিত হবে।
অধ্যাদেশ জারির উদ্দেশ্য সম্পর্ক-এ বলা হয়েছে, অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ। যেহেতু সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদে নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে; যেহেতু সংবিধানের ১০৯ এবং ১১৬ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিধান সংক্রান্ত বিষয়াদি যথাযথরূপে পালনের জন্য এবং বিচার বিভাগের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা পালনের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করা আবশ্যক এবং এর কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তগুলো সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়; যেহেতু আপিল বিভাগের ৭৯/১৯৯৯ নম্বর সিভিল আপিলের রায় বাস্তবায়নের জন্য নির্বাহী বিভাগ হতে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ বাস্তবায়নকল্পে বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে; এবং যেহেতু সংসদ ভেঙে যাওয়া অবস্থায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির নিকট এটা সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, আশু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রয়েছে; সেহেতু সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি নিম্নরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করলেন।
উল্লেখ্য, বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতকরণে প্রধান বিচারপতির উদ্যোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হতে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি চেয়ে বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের করা আবেদনে সাড়া দেয়নি হাই কোর্ট। আদালত বলেছে, ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইন এবং ২০২২ সালের সড়ক পরিবহন বিধিমালা মেনে বিআরটিএর অনুমোদন পাওয়া বাসগুলোই কেবল রাস্তায় চলতে পারবে। অনুমোদনহীন বা আইনবহির্ভূত চলা বাসের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে কোনো বাধা নেই।
বুধবার বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ-এ-মাওলা সোহেলের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রাফিউল ইসলাম। রিটকারী আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খানও শুনানিতে ছিলেন।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অননুমোদিত স্লিপার বাস চলাচল বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি হাই কোর্টে রিট মামলা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম খান।
ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘বাংলাদেশ স্লিপার এসি বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ হাই কোর্টে আরেকটি রিট আবেদন করে। এতে ভ্রাম্যমাণ আদালত বা অন্য কোনো কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের চলমান বাস ডাম্পিং, জব্দ কিংবা অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া থেকে বিরত রাখতে নির্দেশনা চাওয়া হয়।
রিট আবেদনে মালিক সমিতি বলেছে, ৮৯টি পরিবহন কোম্পানির অধীনে প্রায় এক হাজার স্লিপার এসি বাস পরিচালিত হচ্ছে। এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৫০ মানুষের জীবিকা জড়িত।
আবেদনে আরো বলা হয়, বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন বা বিধিমালায় স্লিপার বাসের কাঠামো ও নকশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা বা প্রযুক্তিগত মানদণ্ড নেই। বাসগুলোর অনুমোদনের লক্ষ্যে বিআরটিএ একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে এবং বুয়েটের মাধ্যমে বাসগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা ও এআইএস-১১৯ মানদণ্ড যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
এই নীতি ও কারিগরি মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৈধ নিবন্ধন, ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিট থাকা বাসগুলোর চলাচল নিশ্চিত করতে বিআরটিএর গত ১১ অগাস্ট জারি করা একটি আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়।
তবে শুনানি শেষে ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো স্থগিতাদেশ দেয়নি হাই কোর্ট।
বিআরটিএর আইনজীবী রাফিউল ইসলাম বলেন, “স্লিপার বাসের কোনো নিবন্ধনই বিআরটিএ দেয়নি। ফলে আদালত স্লিপার বাস চলাচলের বিষয়ে কোনো অনুমতিও দেননি।”
তিনি বলেন, “স্লিপার বাস সম্পর্কে যেহেতু বিআরটিএ কোনো রেজিস্ট্রেশনও প্রদান করেনি, সেহেতু এগুলো চলাচলের সম্পর্কে কোনো আদেশ বিজ্ঞ আদালত প্রদান করেননি।”
রাফিউল ইসলাম বলেন, “সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ২৮ ধারায় রুট পারমিট ছাড়া কোনো গাড়ি রাস্তায় চলাচল করতে পারে না। আর রুট পারমিট ছাড়া গাড়ি চললে ওই আইনের ৮৪ ধারায় শাস্তি ও তিন লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।”
অবৈধ স্লিপার বাস বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে কিছু বাস ডাম্পিং ও জব্দ করা হয়েছেএবং কয়েকটি বাসকে জরিমানা করা হয়েছে।
এদিকে রিটকারী আইনজীবী হুজ্জাতুল ইসলাম খান বলেন, তথ্য অধিকার আইনে বিআরটিএর কাছে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমতি রয়েছে কি না জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে বিআরটিএ জানিয়েছে, স্লিপার বাস চলাচলের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।
স্লিপার বাসে ভ্রমণের সময় বিভিন্ন অনিয়ম নজরে আসার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে ভাষ্য আইনজীবী হুজ্জাতুলের।
তিনি বলেন, স্লিপার বাস চলাচল বন্ধ হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবেন।
হাইকোর্ট
ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ-সংক্রান্ত আগে জারি করা রুল খারিজ করে বুধবার এ রায় দেন বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মন্ডল। নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আদালত আগে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে ছবি ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সুযোগ থাকছে না।
রিট সূত্রে জানা যায়, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী পর্দা পালনের কারণে ছবি না তুলে বিকল্প পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার দাবিতে ২০২২ সালে রিটটি করা হয়। রাজধানীর শাহজাহানপুরের শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা রিট আবেদনটি করেন। তার স্বামী মুহম্মদ আরিফুর রহমানকে এ বিষয়ে প্রতিনিধিত্বের ক্ষমতা দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলেন সুমাইয়া। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী। ধর্মীয় বিধান অনুসরণের কারণে তিনি ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন।
এ কারণে তার জাতীয় পরিচয়পত্র নেই এবং পরিচয়পত্র না থাকায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় এনআইডি দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেন তিনি।
আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়ায় পরে হাইকোর্টে রিট করেন সুমাইয়া। রিটের শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ৬ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় বা বায়োমেট্রিক বৈশিষ্ট্য ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল। বুধবার সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন
তথ্য গোপনের অভিযোগে এক আইনজীবীকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার বিষয়কে কেন্দ্র করে শুনানিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পুরো বেঞ্চ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে একটি মামলার শুনানির সময় এ ঘটনা ঘটে।
শুনানির একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর আইনজীবীদের আয়-রোজগার কমে গেছে।
এ মন্তব্যের পর প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী পাল্টা প্রশ্ন করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ছেড়ে চলে যান।
পরে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে কথা বলার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পুরো আপিল বিভাগ এজলাস ছেড়ে চলে গেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনানির একপর্যায়ে আমি প্রধান বিচারপতিকে বলি, আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পর থেকে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে। এ কথা বলা নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আমার তর্ক হয়। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে দুপুরে প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন।’
কেন এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি, কী ঘটেছিল
বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিদিশার করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফজলুর রহমান খান ও মাসুদ মিয়া।
পরে আইনজীবী মাসুদ মিয়া জানান, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। তাই হাইকোর্টের আদেশের পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই।
প্রতারণা মামলায় গত ২৬ আগস্ট বিদিশাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে এই মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের একজন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।
বিদিশা সিদ্দিক
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। ফলে এ মামলায় আপিল করার সুযোগ থাকলেও আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
বিদিশার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদিশার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ।
তিনি বলেন, আপিল করার শর্তে বিদিশার জামিন চাওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।
মামলাটি বিচার শেষে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে ‘পলাতক’ উল্লেখ করে সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।
সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে আদালত আবেদনটি নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ ছিল ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদারের। ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে ওই আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন।
পরে ফ্ল্যাটটির দাম ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দুজনের মধ্যে চুক্তি হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদিশা ২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়।
বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে বায়নানামাও করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।
বাদী নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
এরপরও বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই ফেরত কিংবা বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ করেন মোশাররফ হোসেন সিকদার। এমনকি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
মামলাটিতে আদালতের দেওয়া সাজা ও পরবর্তী জামিনের সিদ্ধান্তই বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। বিদিশার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিনের জন্য তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে সোমবার এ রায় দেয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।
গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ছোট ভাই রাতুল শেখ এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।