দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে জুবায়ের রহমান চৌধুরী রোববার (২৮ ডিসেম্বর) শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে তাকে শপথ পড়াবেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বঙ্গভবনে এই শপথ অনুষ্ঠান হবে।
আপিল বিভাগের বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ১১ আগস্ট দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। অবসরের বয়সসীমা অনুযায়ী, আজ তিনি অবসরে গেলেন।
সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুসারে, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর জন্ম ১৯৬১ সালের ১৮ মে। ওই হিসেবে তার ৬৭ বছর পূর্ণ হবে ২০২৮ সালের ১৭ মে। অর্থাৎ প্রায় আড়াই বছর পর তিনি অবসরে যাবেন।
প্রয়াত বিচারপতি এএফএম আবদুর রহমান চৌধুরী ও বেগম সিতারা চৌধুরীর সন্তান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইনে এলএলএম করেন।
জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জজকোর্টে, ১৯৮৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালে তার নিয়োগ স্থায়ী হয়। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট তিনি আপিল বিভাগের বিচারক হিসেবে শপথ নেন।
বিদিশা সিদ্দিক
প্রতারণার এক মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত এইচ এম এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রোববার বিদিশার করা জামিন আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম এবং বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জামিনের এই আদেশ দেন।
আদালতে বিদিশার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফজলুর রহমান খান ও মাসুদ মিয়া।
পরে আইনজীবী মাসুদ মিয়া জানান, বিদিশার বিরুদ্ধে আর কোনো মামলা বিচারাধীন নেই। তাই হাইকোর্টের আদেশের পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা নেই।
প্রতারণা মামলায় গত ২৬ আগস্ট বিদিশাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
এর আগে এই মামলায় তার দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২০ মে ফ্ল্যাট বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় বিদিশাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম। কারাদণ্ডের পাশাপাশি বিদিশাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন।
ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন ২০০৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকার স্যানিটারি পণ্যের একজন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী।
বিদিশা সিদ্দিক
ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই বছরের কারাদণ্ড পাওয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিকের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন আদালত। ফলে এ মামলায় আপিল করার সুযোগ থাকলেও আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে তাকে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
বিদিশার পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে, বাদীপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান (হিরণ) জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিদিশার আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ।
তিনি বলেন, আপিল করার শর্তে বিদিশার জামিন চাওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি। এ আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা জানান তিনি।
রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলা করেন ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদার।
মামলাটি বিচার শেষে গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম বিদিশাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণার সময় বিদিশা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে ‘পলাতক’ উল্লেখ করে সাজার পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এরপর গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।
সেদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন তার আইনজীবীরা। তবে আদালত আবেদনটি নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কে একটি ফ্ল্যাট কেনার আগ্রহ ছিল ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেন সিকদারের। ২০০১ সালের ১ জুলাই বিদিশা তাকে ওই আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাট দেখিয়ে বিক্রির প্রস্তাব দেন।
পরে ফ্ল্যাটটির দাম ৮০ লাখ টাকা নির্ধারণ করে দুজনের মধ্যে চুক্তি হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিদিশা ২০০১ সালের ১০ জুলাই মোশাররফকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলা হয়।
বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই অর্থ পরিশোধ করেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির বিষয়ে বায়নানামাও করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেওয়ার পর বাকি অর্থ পরিশোধ করে ফ্ল্যাটটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাকে ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়।
বাদী নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে চেকটি জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয় বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।
এরপরও বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা বা ফ্ল্যাট কোনোটিই ফেরত কিংবা বুঝিয়ে দেননি বলে অভিযোগ করেন মোশাররফ হোসেন সিকদার। এমনকি তাকে ‘সন্ত্রাসী’ দিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও মামলায় করা হয়েছে।
মামলাটিতে আদালতের দেওয়া সাজা ও পরবর্তী জামিনের সিদ্ধান্তই বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। বিদিশার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জামিনের জন্য তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।
ছবি : সংগৃহীত
মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে সোমবার এ রায় দেয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চ।
গত ২৫ আগস্ট রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য থাকলেও তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।
গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ মেয়েটিকে শুধু ধর্ষণই করেননি, হত্যারও চেষ্টা চালান। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় আট বছর বয়সী শিশুটির। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
২০২৫ সালের ১৭ মে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
রায়ে বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীব শেখের ছোট ভাই রাতুল শেখ এবং সজীবের মা জাহেদা বেগম।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলে তা অনুমোদনের জন্য মামলার যাবতীয় কার্যক্রম উচ্চ আদালতে প্রেরণ করতে হয়। সে অনুসারে এ মামলার নথিও গত বছরের ২১ মে হাইকোর্টে আসে। পরে সব যাচাই-বাছাই শেষে পেপারবুক তৈরির জন্য বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। প্রস্তুতের পর পেপারবুক ৮ জুন হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এরপর শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চের কার্যতালিকাভুক্ত হয়।
আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
আপিল বিভাগের নবনিযুক্ত বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি শপথ নিয়েছেন। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী তাকে শপথবাক্য পাঠ করান। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী শপথ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আরশাদুর রউফ এবং সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ২৭ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. হাবিবুল গনিকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন।
এ নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতির সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে। আইন মন্ত্রণালয়ের জারি করা গেজেট প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, বিচারপতি হাবিবুল গনি যেদিন থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেবেন, সেদিন থেকেই এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
বিচারপতি হাবিবুল হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের জ্যেষ্ঠতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তার এই নতুন নিয়োগের মাধ্যমে আপিল বিভাগে এখন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ মোট পাঁচজন বিচারপতি রয়েছেন। অন্য বিচারপতিরা হলেন— বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ১৯৮৯ সালের ৩ এপ্রিল জেলা আদালত এবং ১৯৯২ সালের ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ২০১০ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং ২০১২ সালের ১৫ এপ্রিল একই বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।
ছবি : সংগৃহীত
বিচারকদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেছেন, ‘কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) বা এআই দিয়ে রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত।’
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘এআই গভর্নেন্স সামার স্কুল ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘এআই এর ব্যবহার আমাদের জানতে হবে। আমরা কতটা প্রয়োগ করতে পারব, সে ব্যবহারটা জানতে গিয়ে যে বিষয়টি খুব প্রয়োজন, সেটা হলো এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই দিকই রয়েছে।’
প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘এআইয়ের ঝুঁকি হচ্ছে, এটি যাচাই না করে ব্যবহার করা খুব কঠিন।’
বিচারিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস শিখেছি-আপনি এআই দিয়ে যা-ই করেন আর না করেন, রায় লিখতে পারবেন না। এটা হবে অনুচিত। কারণ রায় লিখতে হয় তিনটি জিনিস দিয়ে। প্রথম হচ্ছে ‘অন দ্য ফ্যাক্টস’-কী বিষয় নিয়ে মামলাটি হয়েছে? এরপর সেই ফ্যাক্টের ওপর প্রযোজ্য আইন প্রয়োগ করবেন। কোন আইন এই মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আইনের কোন ধারা বা উপধারা প্রযোজ্য-সেটি দেখতে হবে। আইন অনেক ব্যাপক।’
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘প্রথম হচ্ছে ফ্যাক্ট, তারপরে আইন। শেষে আপনি যখন সিদ্ধান্ত নেবেন, আপনি কিন্তু এই ফ্যাক্ট আর আইনের সঙ্গে যে জিনিসটি আমি ব্যবহার করি, বা এমন প্রত্যেক বিচারক ব্যবহার করেন, সেটা হচ্ছে আপনার বিবেক। এটা কি সঠিক? দ্যাট ইজ ইথিকস, বিবেক।’
এই বিবেক এআই দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকরামুল হক।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি
স্বামী তৌফীক নেওয়াজের মৃত্যুর পর এখন আর বাসায় ফেরার তাগিদ অনুভব করছেন না জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহার চেয়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
ট্রাইব্যুনালকে তিনি বলেন, আমি দুই বছর ধরে কারাবন্দি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ এসব কথা বলেন দীপু মনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। আজ তার জামিনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।
জামিন শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। ট্রাইব্যুনাল তাকে কথা বলার অনুমতি দেন। পরে ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় দীপু মনি এসব কথা বলেন।
সাবেক এ মন্ত্রী ট্রাইব্যুনালে বলেন, এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই। আমার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। তার বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে উত্তর দিতেন তিনি। আমি পাঁচ বছর সরকারি দায়িত্বপালনের সময় শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছি। এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন। আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।
গত ১৮ আগস্ট রাতে দীপু মনির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ মারা যান। গত ২৬ এপ্রিল দীপু মনির জামিন আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চার মাস আগে তার স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলেও উল্লেখ করেন দীপু মনি। তিনি বলেন, তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাবো? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমরা খুবই ব্যথিত। আপনার আবেদনের যৌক্তিকতা আছে। কিন্তু আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। এরপর দীপু মনির জামিন শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।