হাইকোর্ট
হাইকোর্ট বিভাগের ১২টি ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ৩ হাজার ৭৮৪টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। এর মাধ্যমে মাত্র ১৫ কার্যদিবসে মোট ৬৬ হাজার ৫৮৬টি পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা নিষ্পত্তি করা হলো।
সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, সম্প্রতি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত পুরাতন ক্রিমিনাল মিস মামলা এবং পুরাতন রিট মামলা মিলিয়ে মোট ৭৩ হাজার ৪৯৩টি পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন বেঞ্চ এবং রিট মোশন বেঞ্চে দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তির কার্যক্রম চলছে। বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, মামলা জট হ্রাস এবং বিচার ব্যবস্থার গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এ বিশেষ উদ্যোগের আওতায় ধারাবাহিকভাবে বিপুল সংখ্যক পুরাতন মামলা নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৭ মে হাইকোর্ট বিভাগের ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চে বিচারপতিরা দীর্ঘদিনের পুরাতন মামলা নিষ্পত্তিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে পুরাতন ক্রিমিনাল মিস ও পুরাতন রিট মামলা নিষ্পত্তির বিশেষ এ কার্যক্রম শুরু করেন। পুরোনো মামলা নিষ্পত্তির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
নাহিদ ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহার চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী আজ বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠান। নাহিদ ইসলাম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। মো. হাবিবুর রহমান নামের সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী নোটিশটি পাঠিয়েছেন।
নাহিদের উদ্দেশে নোটিশে আইনজীবী বলেছেন, ‘গত ৩০ অক্টোবর চ্যানেল ওয়ান ও চ্যানেল আইয়ে সন্ধ্যার পর প্রকাশিত আপনার বক্তব্য “চাঁদাবাজি–লুটপাট করার জন্য তারেক রহমান এসেছেন। দেশ পরিচালনায় তাঁর কোনো পরিকল্পনা নাই” দৃষ্টিগোচর হওয়ায় আমি বিব্রত, ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হয়ে জানাচ্ছি যে এ বক্তব্য অমার্জনীয়, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঈর্ষান্বিত হয়ে অবাস্তব, কাল্পনিক মন্তব্য দিয়ে নিজেকে ছোট ও অপরিপক্ব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, প্রজ্ঞাহীন ব্যক্তি বলে আখ্যায়িত হয়েছেন।’
নোটিশে আরও বলা হয়, ‘এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের মতো পদধারী ব্যক্তির কাছ থেকে এমন অগ্রহণযোগ্য, কাল্পনিক, অজ্ঞ, জ্ঞানহীন, রাজনৈতিক অপ্রজ্ঞা বক্তব্য জাতি কখনো আশা করেনি।’ এমন বক্তব্যের জন্য নাহিদ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবেন বলে নোটিশে ওই আইনজীবী আশা প্রকাশ করেন।
নাহিদের উদ্দেশে নোটিশে বলা হয়, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া ঢালাওভাবে ‘চাঁদাবাজি–লুটপাট করার জন্য এসেছেন’—এমন বক্তব্য চ্যানেল আই ও চ্যানেল ওয়ানের হেডলাইনে বারবার প্রকাশ করে একজন সম্মানিত ব্যক্তির চরিত্র হনন করে মারাত্মক অপরাধ ও ভুল করেছেন, যা ক্ষমার অযোগ্য।
নোটিশদাতা আরও বলেছেন, তারেক রহমানের পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্রপতি ছিলেন এবং তাঁর মা খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী ও দুর্নীতিমুক্ত প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের ছেলে তারেক রহমান এমন কার্যকলাপ করতে পারেন—জাতি কখনো বিশ্বাস ও আশা করে না।
নোটিশের শেষাংশে নাহিদের উদ্দেশে বলা হয়, নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে চ্যানেল ওয়ান ও চ্যানেল আইয়ে ৩০ অক্টোবর দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে জবাব দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন বলে নোটিশে উল্লেখ করেছেন নোটিশদাতা।
সালমান শাহ
চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার দিন পিছিয়ে আগামী ৮ ডিসেম্বর রেখেছে আদালত। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল বৃহস্পতিবার। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের ইন্সপেক্টর মজিবুর রহমান প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
এজন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ঠিক করে দেন বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই ওয়াজেদ আলী।
গেল বছরের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলাটি দায়ের করেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহ ঢাকার ইস্কাটনের ফ্ল্যাটে মারা যান। সেই সময় চলচ্চিত্র জগতে তার জনপ্রিয়তা ছিল তুঙ্গে।
ছেলের মৃত্যুর পর অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছিলেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই সেটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন জানান তিনি।
তখন অপমৃত্যুর মামলার সঙ্গে হত্যার অভিযোগটি তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়ে সিআইডি বলেছিল, সালমান শাহ ‘আত্মহত্যা’ করেছেন।
সিআইডির সেই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কমরউদ্দিন চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। পরে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট সেই প্রতিবেদন দাখিল করেন মহানগর হাকিম ইমদাদুল হক। তাতেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
সালমান শাহের বাবার মৃত্যুর পর তার মা নীলা চৌধুরী মামলাটি চালিয়ে যান। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনে ‘নারাজি’ দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, এরা তার ছেলেকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।
এরপর মামলাটি তদন্ত করে র্যাব। তখন রাষ্ট্রপক্ষ আপত্তি তুললে ২০১৬ সালের ২১ অগাস্ট ঢাকার ষষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েশ মামলাটি র্যাবকে আর তদন্ত না করার আদেশ দেন।
তখন তদন্তের দায়িত্বে আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তারা চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।
সেখানেও বলা হয়, ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৫৪ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে, জব্দ করা আলামত পর্যালোচনা করে হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।
পিবিআই তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে বলেছে, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরা হকের কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন।
ওই প্রতিবেদনেও সন্তুষ্ট নন সালমানের মা নীলা চৌধুরী। ছেলের মৃত্যু কীভাবে হয়েছিল, তা জানতে তিনি আরও তদন্ত চান।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর পিবিআইয়ের প্রতিবেদন আমলে নিয়ে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এরপর আবার সালমান শাহর পরিবারের তরফে কয়েকটি যুক্তি দেখিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন দায়েরের আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে; তবে বিভিন্ন কারণে আর রিভিশন শুনানি হয়নি।
গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক সালমান শাহর মায়ের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ বিষয়ে সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিনের অভিযোগ এবং সন্দেহভাজন রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে রমনা মডেল থানাকে হত্যা মামলার নির্দেশ দেয়।
মামলার আসামিরা হলেন- সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেডিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আব্দুস ছাত্তার, সাজু, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
তারাসহ অচেনা ব্যক্তিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ্কে হত্যা করে বলে এজাহারে বলা হয়েছে। মামলার তদন্তভার শুরুতে রমনা থানা পুলিশের থাকলেও পরে সেই দায়িত্ব সিআইডিকে দেওয়া হয়।
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার জেরিকা তাসনীম দিশাকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (৪ নভেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
এর আগে এ মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে দিশাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে নৌ পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন আবারও সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ২৭ অক্টোবর রাতে নিহত তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার ‘নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে’ যান জেরিকা তাসনিম দিশা। এছাড়াও ঘটনার আগে তারা একাধিকবার ‘সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকস’ এ গিয়েছিলেন। একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে এই মামলার অপর রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামি আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের (২৩) সঙ্গেও দিশাকে একসঙ্গে অবস্থান করতে দেখা গেছে। এছাড়া ভিকটিম তাহসিফের সঙ্গে দিশা রেস্টুরেন্টে অবস্থানসহ মোটরসাইকেলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরি করেছিলেন। নিহত তাহসিফের মোবাইল কললিস্ট (সিডিআর) পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঘটনার আগে দিশার সঙ্গে তার একাধিকবার ফোনালাপের প্রমাণ রয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিকভাবে তাহসিফ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে দিশার জড়িত থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন, অন্য অজ্ঞাত আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, হত্যাকাণ্ডের স্থান নির্ধারণ, আলামত উদ্ধার এবং অপর আসামি দীপের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য ক্রস-চেক (মুখোমুখি যাচাই) করার জন্য আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন।
ফাইল ফটো
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলার শুনানির সময় আদালত কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারক। আজ মঙ্গলবার আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের রিমান্ড শুনানি চলাকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত সাংবাদিকদের আদালতকক্ষ ত্যাগ করতে বলেন।
এ সময় আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ভাষ্য, শুনানি চলাকালে বিচারক প্রশ্ন করেন, ‘আদালতের মধ্যে সাংবাদিকরা কেন? আপনারা কি ভেতরে ঢুকতে পারেন? শুনানির পর পিপি এপিপিরা আপনাদের বিস্তারিত জানাবে। আপনারা বেরিয়ে যান। আপনারা থাকতে পারবেন না।’
পুলিশকে আদালতকক্ষ খালি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাত বলেন, ‘ভেতরে কেউ যেন না থাকে।’
এরপর সাংবাদিকরা এজলাস থেকে বের হয়ে গেলে শুনানি শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে আদালত দীপের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা জজ মো. শাহজাহান সাজু বলেন, ‘আদালতকক্ষের কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে জানাতে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যেহেতু এটি কোনো "ইন-ক্যামেরা" (রুদ্ধদ্বার) বিচার নয় বরং একটি প্রকাশ্য বিচার, তাই শুধু সাংবাদিক নন, সাধারণ মানুষেরও এখানে উপস্থিত থাকার অধিকার রয়েছে। সাংবাদিকদের এজলাস ছেড়ে যেতে বলা ঠিক হয়নি।'
চার দিনের রিমান্ড শেষে দীপকে আজ আদালতে হাজির করা হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন জানান।
প্রসঙ্গত, ২৮ অক্টোবর তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। ৩১ অক্টোবর তার বাবা হত্যা মামলা করার পর দীপকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়।
শাহজালাল রুমিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আদালতের
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের পাল্টা অভিযোগে করা মামলায় আলোচিত সেই অভিভাবক শাহজালাল রুমিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিচারপতি মো. সেলিম এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে জামিন আবেদনের শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন এবং অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।
এর আগে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে টঙ্গীর একটি মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলায় সংশ্লিষ্ট অভিভাবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার সৃষ্টি করে।
পরবর্তীকালে তার পক্ষে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত আবেদনকারীকে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন জানান, আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। এ লক্ষ্যে সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পদ বাজেয়াপ্তের রায় কার্যকরের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অন্যান্য মামলার রায়ে যেসব আসামির সম্পদ বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব রায় বাস্তবায়নের জন্যও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে।
শেখ হাসিনার সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে বণ্টনের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
রায়ে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দ্রুত শেখ হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়া না হলে তিনি যেকোনো সময় এসব সম্পত্তি ভোগ, বিক্রি কিংবা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করতে পারেন। এতে ট্রাইব্যুনালের বাজেয়াপ্তসংক্রান্ত রায় ও আদেশ কার্যকর করা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় শেখ হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তা দ্রুত রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে। পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব সম্পত্তি থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও আহত ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাজসাক্ষী সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহিদ পরিবার ও আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।
এদিকে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের আরেক মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঘোষিত ওই রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। এ মামলার সব আসামিই পলাতক রয়েছেন।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায়ে পাঁচ আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেন। তারা হলেন- ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন খান নিখিল। রায়ে বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ থেকে জুলাই-আগস্টে নিহত ও আহত ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারকে জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
একইভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় অপর তিন আসামি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সদর উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসগর আলী এবং কুষ্টিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমানকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।
গত ২৯ অক্টোবর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চার দণ্ডিত আসামির স্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি বিক্রির অর্থ জুলাই ফাউন্ডেশন অথবা অন্য কোনো বিধিবদ্ধ সংস্থার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেয়ার নির্দেশও দেন ট্রাইব্যুনাল।