• প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:১২ পিএম

সবার কাছেই ডিম খুবই পরিচিত একটি খাবার। এটি খুবই সহজলভ্য ও সুস্বাদু হওয়ায় প্রায়ই বাসা-বাড়িতে রকমারি পদের সঙ্গে রান্না করা হয়। কেউ ডিম সেদ্ধ খেতে পছন্দ করেন, কেউ ভাজি বা অমলেট, কেউ আবার ডিম ভুনা বা ডিমের কুরমা খেতে ভালোবাসেন। সাধারণত, পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় সবাই খাদ্যতালিকায় রাখেন ডিম। এমনকি, এ কারণে কেউ কেউ নিয়ম করে প্রতিদিন খেয়ে থাকেন।


স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম ইটিং ওয়েলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিম কারও কাছে উপকারী খাবার হলেও সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কেও জড়িয়েছে। যে কারণে এর পুষ্টিগুণ নিয়ে কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। যখন কম-ফ্যাটযুক্ত ডায়েটের প্রচলন ছিল, তখন ডিমকে অবহেলা করা হতো। আবার এখন চর্বি বা ফ্যাট নিয়ে বেশ আলোচনা হয়, এ কারণে ডিম নিয়ে বিতর্ক কিছুটা কমেছে।


আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনও মানসম্মত প্রোটিনের উৎস হিসেবে দিনে ১-২টি ডিম খাওয়ার পরামর্শ দেয়। এটি ফ্রিজে প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পর্যন্ত রাখা যায়। এ কারণে মাছ-মাংস বা মুরগির মতো অন্যান্য প্রোটিনের মতো দ্রুত নষ্ট হওয়ার ভয় থাকে না। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, ডিম কি শরীরের জন্য ভালো? আর এটি প্রতিদিন খেলে কী ঘটে?


দীর্ঘক্ষণ তৃপ্ত ও শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করে:


ডিম আকারে ছোট হলেও এর পুষ্টিগুণ বেশ অসাধারণ। বিশেষ করে ডিমের কুসুম ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস। যা শরীরকে খাবার থেকে ব্যবহারযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির সমন্বয় ডিমকে দীর্ঘক্ষণ পেটে থাকার শক্তি দেয়। ফলে ক্ষুধা কম লাগে।


চুল ও ত্বককে অধিকতর স্বাস্থ্যকর করে তুলে:


ডিম হচ্ছে ভিটামিন বি২, বি৫ এবং বি১২-সহ কয়েকটি বি ভিটামিনের দারুণ উৎস। এসব পুষ্টি উপাদান শরীরে কিছু কাজ করে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যকর ত্বক ও চুল বজায় রাখা অন্যতম। এসব পানিতে দ্রবণীয়, অর্থাৎ―এগুলা শরীরে বেশি সময় থাকে না এবং সহজে জমাও থাকে না। এ কারণে প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা পূরণে নিয়মিত ডিম খাওয়া যেতে পারে। ডিমে মেথিওনিনের মতো অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, যা ত্বকের লাবণ্য ও নমনীয়তা এবং চুল ও নখের শক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।


চিন্তাশক্তি তীক্ষ্ম করে:


ডিমে কোলিন নামক অণু-পুষ্টি উপাদান (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) থাকে প্রচুর পরিমাণ। যা কোষের ঝিল্লি (সেল মেমব্রেন) এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ নিউরোট্রান্সমিটার তৈরিতে কাজে লাগে। কোলিন স্মৃতিশক্তি, মেজাজ, পেশি নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্বাভাবিকভাবে উপাদানটি পর্যাপ্ত পরিমাণ না পেলে বিভ্রান্তি বোধ বা মস্তিস্কে অসচ্ছলতা (ব্রেইন ফগ) অনুভব করতে পারেন। এছাড়া একটি ডিম দৈনিক কোলিনের চাহিদার প্রায় ৬ শতাংশ যোগান দেয়; অর্থাৎ ডিম খাওয়া হলে মস্তিস্কের সুস্থতায় সহায়ক হয়।


দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে:


ডিমের কুসুমে দুটি ক্যারোটিনয়েড থাকে- লুটিন ও জিয়াজ্যানথিন। যা আপনার চোখের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয়। ক্যারোটিনয়েডগুলো চোখের বিকাশ ও দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে অবদান রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত চোখ বা দৃষ্টিশক্তির সাধারণ রোগগুলোর ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করতে পারে।


হাড় মজবুত করে:


ভিটামিন ডি শরীরের অসংখ্য প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে বেশ জরুরি। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায় এবং মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। ভিটামিন ডি’র অন্যতম কাজ হচ্ছে হাড় সুস্থ রাখা। যা অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা এমন পর্যায়ে রাখে, যা হাড়ের সুস্থ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে সহায়তা করে। প্রতিদিন যদি একটি করে ডিম খাওয়া হয়, তাহলে একটি ডিম ভিটামিন ডি-এর চাহিদার ৬ শতাংশ পূরণ করে।


হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো করে:


যদিও ডিমে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন, খনিজ ও পুষ্টি উপাদান; এরপরও অনেকে ডিমের কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ে চিন্তিত থাকেন। অথচ, একটি ডিমে প্রায় ২০৭ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল থাকে। এদিকে আগে খাদ্যাভ্যাস নির্দেশিকায় প্রতিদিন খাদ্যতালিকার কোলেস্টেরল ৩০০ মিলিগ্রাম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।


তবে বর্তমান নির্দেশিকায় এই নির্দিষ্ট সংখ্যা থেকে সরে আসতে বলা হয়েছে। কারণ, খাবার থেকে কোলেস্টেরল গ্রহণ করলে তা সরাসরি রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় না। প্রকৃতপক্ষে খাবারের কোলেস্টেরলের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার ওপর কিছুটা প্রভাব রয়েছে। এছাড়া উচ্চ-কোলেস্টেরলযুক্ত কিছু খাবার তাদের স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বির জন্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। কিন্তু ডিম ও চিংড়ি তাদের উচ্চ পুষ্টিগুণের কারণে এর ব্যতিক্রম।

বিষয় :



সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম
  • আপডেট : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ পিএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫৪ এএম

সবচেয়ে জটিল ক্যানসারগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রোস্টেট ক্যানসার। পুরুষরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। পুরুষের প্রজনন ক্ষমতার গ্রন্থি প্রোস্টেটে ক্যানসার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি প্রোস্টেট গ্রন্থির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। পরবর্তীতে অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে। 


প্রোস্টেট ক্যানসারের ধরন


প্রোস্টেট ক্যানসার কয়েক ধরনের হয়। যেমন—


১. অ্যাসিনার অ্যাডেনোকার্সিনোমা: প্রোস্টেট গ্রন্থির ভেতরের আস্তরণের গ্রন্থিকোষগুলোতে বিকশিত হয়। প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় সবার এই ধরনের ক্যানসার থাকে;


২. ট্রানজিশনাল সেল বা ইউরোথেলিয়াল ক্যানসার: এ ধরনের ক্যানসার সাধারণত মূত্রাশয়ে শুরু হয়ে প্রোস্টেটে ছড়িয়ে পড়ে;


৩. স্কোয়ামাস সেল ক্যানসার: এ ধরনের ক্যানসার প্রোস্টেট গ্রন্থিকে আবৃত করে থাকা চ্যাপ্টা কোষ থেকে বিকশিত হয়। এটি প্রেস্টেটের অ্যাডেনোকার্সিনোমার চেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং ছড়িয়ে পড়ে।


প্রোস্টেট ক্যানসার কাদের হয় ও কেন হয়


প্রোস্টেট ক্যানসার বেশ কয়েকটি মিউটেশন কোষের ক্ষতি করে এবং দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়ে। প্রোস্টেটে ক্যানসার কোষগুলো বৃদ্ধি করতে পারে এমন কয়েকটি কারণ হলো-


* যদি কোনো ব্যক্তির প্রোস্টেট ক্যানসারের ইতিহাস থাকে তাহলে পরবর্তী প্রজন্মের এই ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে;


* যৌনরোগ প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়;


* পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি;


* ক্যাডমিয়ামের মতো কার্সিনোজনিক রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকা পুরুষদের প্রোস্টেট ক্যানসারের উচ্চঝুঁকি আছে;


* আফ্রিকান ও আমেরিকান পুরুষদের অন্য জাতির তুলনায় প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি।


প্রোস্টেট ক্যানসারের লক্ষণ


* ঘন মূত্রত্যাগ;


* প্রসাবে রক্ত;


* বেদনাদায়ক বীর্যপাত;


* ওজন কমা;


* হাড়ে ব্যাথা;


* পেলভিক অঞ্চলে অস্বস্তি;


* ইরেক্টাইল ডিসফাংশন।


প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা


প্রোস্টেট ক্যানসার চিকিৎসায় বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। চিকিৎসাগুলো নির্ভর করে ক্যানসার কত দ্রুত বাড়ছে, কতটা ছড়িয়েছে বা সামগ্রিক স্বাস্থ্য। 


* বিকিরণ থেরাপি;


* হরমোন থেরাপি;


* জৈবিক থেরাপি;


* কেমোথেরাপি;


* প্রোস্টেট অপসারণের জন্য অস্ত্রপচার।


প্রোস্টেট ক্যানসারের বয়স ৫ বছর হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার হার প্রায় ১০০%। যেখানে ১০-১৫ বছর পরে প্রোস্টেট ক্যানসারে হলে বেঁচে থাকার হার ৯৮%-৯৬% শতাংশ।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ এএম

দেখতে খুব ছোট হলেও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম এবং সেলেনিয়ামের ভালো উৎস এ বীজ। অর্থাৎ প্রায় ৩০ গ্রাম বা এক মুঠো সূর্যমুখীর বীজে ৫ গ্রাম প্রোটিন, প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অসম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় এটি রাখতে পারেন। পুষ্টিবিদরা বলেন, সূর্যমুখীর বীজে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমন্বয় হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।


স্বাস্থ্য উপকারিতা


সূর্যমুখীর বীজে থাকা অসম্পৃক্ত চর্বি হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ খাবারের পরিবর্তে এটি খেতে পারেন। এটি কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় সূর্যমুখীর বীজ যুক্ত করা যেতে পারে।


সূর্যমুখীর বীজে ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম, অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন প্রদাহ কমাতে সূর্যমুখীর বীজ খেতে পারেন। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন-ই, ম্যাগনেশিয়াম ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যৌগ কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে। 


সূর্যমুখীর বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ভিটামিন-ই ও সেলেনিয়াম, শরীরে তৈরি হওয়া ফ্রি র‌্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে। ফ্রি র‌্যাডিক্যাল কোষের ক্ষতি করতে পারে। তাই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মোকাবিলায় শরীরকে সহায়তা করা সম্ভব।


শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ম্যাগনেশিয়াম প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রম অন্যতম। সূর্যমুখীর বীজ ম্যাগনেশিয়ামের দৈনিক চাহিদা পূরণে অবদান রাখে। আবার শরীরে শক্তি তৈরির প্রক্রিয়ায় ম্যাগনেশিয়ামের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এটি খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি উপাদানকে শক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। অবশ্য সূর্যমুখীর বীজ তাৎক্ষণিকভাবে শক্তি বাড়িয়ে দেয় না। তবে এতে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের সমন্বয় এটিকে পুষ্টিকর ও শক্তিসমৃদ্ধ খাবারের অংশ করে তোলে।


কাঁচা নাকি ভাজা, কোনটি বেশি উপকারী?


সূর্যমুখীর বীজের উপকারিতা পেতে কাঁচা খেতেই হবে, তা নয়। কাঁচা কিংবা হালকা ভাজা, দুই ভাবেই এ বীজ খেতে পারেন। তবে বীজ কেনার সময় অতিরিক্ত লবণযুক্ত, অপ্রয়োজনীয় তেল কিংবা অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভযুক্ত কিনা তা দেখে কিনুন।

সর্বশেষ সব খবর

কফির ত্বকে ব্যবহার

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০১ পিএম

মানসিক চাপ, রোদের তীব্রতা, রাস্তার ধুলাবালি, দূষণের কারণে ত্বক নিস্তেজ হয়ে পড়ে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে অনেকেই পার্লারে যান। চাইলে বাড়িতেও ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করে ত্বকের সজীবতা ফেরাতে পারেন। এক্ষেত্রে কফি হতে পারেন দারুন বিকল্প। 


কফি খেলে শুধু শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি পাওয়া যায় তাই নয়, এটি ব্যবহারে ত্বকেরও উপকার হয়। কফি দিয়ে তৈরি স্ক্রাব ও ফেসপ্যাক ব্যবহারে ত্বক হয়ে উঠে উজ্জ্বল। যেমন-


কফি ও মধু  


কফির গুঁড়োর সাথে মধু মিশিয়ে মুখে লাগান। কয়েক মিনিট পর ধুফে ফেলুন। এটি ত্বকে আর্দ্রতা ধরে রাখে। সেই সঙ্গে ত্বকে সতেজ লুক দেয়।


কফি স্ক্রাব 


কফির গুঁড়োর সঙ্গে মধু বা দই মিশিয়ে মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ত্বককে নরম ও মসৃণ করতে সাহায্য করে। 


কফি-দই প্যাক


কফির গুঁড়োর সঙ্গে দই মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন। দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে নরম করে। সেই সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।


কফি ও অ্যালোভেরা


কফির গুঁড়োর সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে ব্যবহার করতে পারেন। অ্যালোভেরা ত্বককে ঠান্ডা রেখে ত্বকের আর্দ্রতা জোগায়। এতে ত্বক হয়ে উঠে সতেজ। 


কফি আইস কিউব


ব্ল্যাক কফি তৈরি করে ঠান্ডা করে নিন। এরপর এটি আইস কিউব ট্রেতে জমিয়ে নিন। পরে কাপড়ে মুড়িয়ে আলতো করে মুখে ঘষুন। এটি ব্যবহারে ত্বক তাৎক্ষণিক সতেজ হয়। 

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৩৭ পিএম

যে হারে সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়ছে তাতে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই। রান্না করা থেকে শুরু করে পানি গরম করা— প্রতিদিনের নানা কাজে গ্যাস সিলিন্ডার অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সহজ কিছু কৌশল জানা থাকলে খরচ কমানো সম্ভব। যে সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে হয়তো ২০ দিন যেত তা দিয়ে ২৫ দিন চালানো যাবে। এতে কিছুটা সাশ্রয়ও হবে। যেমন-


ঢেকে রান্না করুন


রান্নার সময় পাত্রে ঢাকনা ব্যবহার করলে গ্যাস সাশ্রয় হতে পারে। ঢাকনা দিলে পাত্রের ভিতরের তাপ সহজে বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে না। এর ফলে খাবার দ্রুত সেদ্ধ বা রান্না হয়। তাতে গ্যাসের খরচও কমতে পারে। পানি ফোটানো থেকে শুরু করে ভাত বা তরকারি রান্নার সময় সম্ভব হলে পাত্র ঢেকে রাখুন।


পাত্রের আকার অনুযায়ী আঁচ


প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আঁচ দিলে গ্যাস অপচয় হয়। রান্নার সময় আগুনের শিখা যেন পাত্রের তলার মধ্যেই থাকে এবং চারপাশ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে না আসে সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। পাত্রের আকার অনুযায়ী উপযুক্ত বার্নার ও আঁচ ব্যবহার করলে তাপ সরাসরি পাত্রে পৌঁছয়, এতে অপচয় কম হয়।


বার্নার পরিষ্কার রাখুন 


বার্নারের ছিদ্রে তেল, মসলা বা খাবারের কণা জমে গেলে আগুন ঠিক করে বেরোতে পারে না। এতে গ্যাসের খরচ বাড়তে পারে। তাই নিয়মিত বার্নার পরিষ্কার করুন এবং ছিদ্রগুলি পরীক্ষা করুন। আগুনের রং বা ধরন দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক থাকলে বার্নার পরীক্ষা করানো ভালো।


সব রান্নায় বেশি আঁচ নয়


অনেকেই মনে করেন বেশি আঁচে রান্না করলে দ্রুত খাবার তৈরি হবে। সেই সঙ্গে গ্যাস বাঁচবে। বাস্তবে সব রান্নার ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ঠিক নয়। ডাল,সবজির মতো কিছু পদ রান্নার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী মাঝারি বা কম আঁচ ব্যবহার করুন। যখন বেশি আঁচ সত্যিই প্রয়োজন,তখনই শুধু তা ব্যবহার করুন। 


একসঙ্গে রান্নার প্রস্তুতি নিন


দিনে বার বার রান্না বা খাবার গরম করার বদলে সম্ভব হলে একসঙ্গে কিছুটা বেশি পরিমাণে রান্না করে রাখতে পারেন। এতে বার বার গ্যাস জ্বালানোর প্রয়োজন কমে। সেই সঙ্গে জ্বালানিও সাশ্রয় হতে পারে।


রান্না প্রায় হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করুন


কিছু খাবার গ্যাস বন্ধ করার পরও পাত্রের অবশিষ্ট তাপে কিছুক্ষণ রান্না হতে থাকে। তাই ভাত বা ধীর আঁচে রান্না হওয়া কিছু পদ প্রায় তৈরি হয়ে গেলে গ্যাস বন্ধ করে ঢেকে রাখুন।  তবে খাবার পুরোপুরি সেদ্ধ বা নিরাপদ ভাবে রান্না হয়েছে কি না, সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। 


গ্যাস লিকেজকে অবহেলা নয়


সিলিন্ডার অস্বাভাবিক দ্রুত শেষ হলে শুধু রান্নার অভ্যাসকেই দায়ী করবেন না। পাইপ, রেগুলেটর বা সংযোগে লিকেজ থাকলেও গ্যাস কমে যেতে পারে। পাইপে ফাটল বা সংযোগে সমস্যা দেখলে প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের সাহায্য নিন। গ্যাসের গন্ধ পেলে আগুন, দেশলাই এবং বৈদ্যুতিক সুইচ থেকে দূরে থাকুন। 

বিষয় :

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৬ এএম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে বিভিন্ন সৌন্দর্যচর্চার কৌশল ও ‘ডিআইওয়াই’ টিপসের বন্যা বয়ে যায়। তবে এসব ঘরোয়া টিপস বা হ্যাকস মুখের ত্বকের জন্য কতটা নিরাপদ, তা জানা অত্যন্ত জরুরি। আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় মুখের ত্বক অনেক বেশি সংবেদনশীল। বিশেষ করে চোখ ও ঠোঁটের চারপাশের ত্বক আরও অনেক বেশি পাতলা, ভঙ্গুর এবং সংবেদনশীল। তাই মুখে কোন ধরনের পণ্য বা উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিশেষ সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ বিভাগ ‘ডক্টর এনডিটিভি’-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রখ্যাত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ এবং ‘লুমিয়ার ডার্মাটোলজি’-র মেডিকেল ডিরেক্টর ড. কিরণ লোহিয়া এমন ৯টি উপাদানের কথা তুলে ধরেছেন, যা কখনোই মুখে ব্যবহার করা উচিত নয়। সেই ৯টি উপাদানের ক্ষতিকর দিক ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:


১. বডি লোশন


শরীরের ত্বকের জন্য তৈরি বডি লোশনগুলো ফেসিয়াল ময়েশ্চারাইজারের তুলনায় বেশ ঘন হয় এবং এতে সুগন্ধির পরিমাণও বেশি থাকে। মুখের ত্বকে বডি লোশন ব্যবহার করলে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ হয়ে ব্রণ বের হতে পারে এবং অ্যালার্জিজনিত প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই মুখের জন্য সবসময় সুগন্ধিহীন এবং তেলহীন ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।


২. চিনি


শরীরের চামড়ার মরা কোষ দূর করতে চিনির স্ক্রাব চমৎকার এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করলেও মুখের ত্বকে চিনি ব্যবহার করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। চিনির কণাগুলোর ধারালো আকৃতি মুখের অতিসংবেদনশীল ত্বককে ছিলে ফেলতে পারে এবং ত্বকে অনুবীক্ষণিক বা মাইক্রোস্কোপিক টিয়ার তৈরি করতে পারে।


৩. পেট্রোলিয়াম জেলি


শুষ্ক ত্বক কিংবা শীতকালে ঠোঁটের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এবং পোকামাকড়ের কামড়ে পেট্রোলিয়াম জেলি কার্যকর ভূমিকা রাখে। কিন্তু ঠোঁটের বাইরের পুরো মুখের ত্বকে এটি ব্যবহার করলে তা আর্দ্রতার পাশাপাশি ধুলোবালি ও ময়লাও ত্বকের ওপর আটকে ফেলে। ফলে ত্বক অতিরিক্ত বাতাস ও আর্দ্রতার সংস্পর্শ থেকে বঞ্চিত হয় এবং সময়ের সাথে সাথে ত্বক আরও বেশি শুষ্ক হয়ে পড়ে।


৪. ফুট ক্রিম


মুখের ময়শ্চারাইজার ফুরিয়ে গেলে কখনোই বিকল্প হিসেবে পায়ে দেওয়ার ফুট ক্রিম মুখে লাগানো যাবে না। ফুট ক্রিমে শক্তিশালী কেমিক্যাল এক্সফোলিয়েন্ট থাকে, যা পায়ের শক্ত ও মোটা চামড়ার জন্য উপযোগী হলেও মুখের কোমল ত্বকের জন্য অত্যন্ত কঠোর ও ক্ষতিকর।


৫. গরম পানি


অনেকের ধারণা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়, যা একটি ভুল ধারণা। স্টিম নেওয়া উপকারী হতে পারে, তবে সরাসরি গরম পানি দিয়ে মুখ ধুলে তা ত্বকের সবচেয়ে বাইরের স্তরের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা পুরোপুরি কেড়ে নেয়।


৬. লেবুর রস


লেবুর মতো সাইট্রাস জাতীয় ফল ত্বকে তীব্র জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। লেবুতে ‘সোরালেন’ নামক একটি রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ত্বককে সূর্যের আলোর প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল করে তোলে। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ড. কিরণ লোহিয়ার মতে, লেবুর রস মুখে লাগিয়ে রোদে গেলে ত্বকে র‍্যাশ ও ফোসকা পড়তে পারে এবং ত্বক পুড়ে যেতে পারে।


৭. রসুন


ব্রণ বা মুখের দাগ কমাতে কাঁচা রসুন লাগানোর ভুল অভ্যাস অনেকেরই আছে। ড. কিরণের মতে, মুখে রসুন লাগালে ত্বকে তীব্র ইরিটেশন বা জ্বালাপোড়া হতে পারে। এর ফলে ত্বকে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ইরিট্যান্ট ডার্মাটাইটিস’ নামে পরিচিত।


৮. পারফিউম বা সুগন্ধি


সুগন্ধি স্প্রে করার সময় খেয়াল রাখা উচিত যেন তা কোনোভাবেই মুখে না লাগে। কিছু পারফিউমে এমন কিছু উপাদান থাকে যা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ত্বককে অতি-সংবেদনশীল করে তোলে। ড. কিরণ সতর্ক করে বলেন, এর ফলে বিরল চর্মরোগ হতে পারে এবং ত্বকে গাঢ় বেগুনি রঙের দাগ বা পিগমেন্টেশন তৈরি হতে পারে।


৯. টুথপেস্ট


মুখে ব্রণ হলে তাতে টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে ড. কিরণ লোহিয়া একে পুরোপুরি নিষিদ্ধ বলেছেন। টুথপেস্ট ব্যবহারের ফলে ব্রণের স্থানে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে এবং পোড়া দাগ বা বার্ন তৈরি হতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:১৭ পিএম

সকালের ঘুম কাটাতে এক কাপ কফি, কাজের ফাঁকে আরেক কাপ এভাবেই অনেকের দিনে ৩-৪ কাপ কফি খাওয়া হয়ে যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিনে কতটা কফি খেলে তা নিরাপদ থাকে? কফির মূল উপাদান ক্যাফেইন অতিরিক্ত পরিমাণে শরীরে গেলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা পেটের অস্বস্তির মতো সমস্যা হতে পারে। তাই শুধু কাপ গোনা নয়, দিনে মোট কতটা ক্যাফেইন গ্রহণ করছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।


জানুন দিনে কত কাপ কফি নিরাপদ?


যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) বলছে, বেশিরভাগ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে দিনে ৪০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত ক্যাফেইন সাধারণত নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত নয়। এফডিএ-এর হিসাবে, এটি প্রায় ২ থেকে ৩ কাপ ১২ আউন্সের (প্রায় ৩৫৫ মিলিলিটার) কফির সমান।


তবে এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সব কফিতে ক্যাফেইনের পরিমাণ এক নয়। একই আকারের এক কাপ কফিতেও ব্র্যান্ড, তৈরির পদ্ধতি ও কফির ধরন অনুযায়ী ক্যাফেইনের পরিমাণ যথেষ্ট আলাদা হতে পারে। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ আউন্স সাধারণ তৈরি কফিতে প্রায় ১১৩ থেকে ২৪৭ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে বড় কাপ বা বেশি ঘন কফি পান করলে কয়েক কাপেই ৪০০ মিলিগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।


বেশি কফি খেলে কী হতে পারে?


ক্যাফেইন একটি স্টিমুলান্ট। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করলে ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি এবং হৃদ্‌স্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে উদ্বেগও বাড়তে পারে। তাই রাতে ঘুমাতে সমস্যা হলে বিকেল বা সন্ধ্যার পর কফি খাওয়ার অভ্যাসটিও বিবেচনা করা দরকার। একই সঙ্গে চা, কোলা, এনার্জি ড্রিংক, চকোলেট এবং কিছু ওষুধেও ক্যাফেইন থাকতে পারে। ফলে শুধু কফির কাপ হিসাব করলেই হবে না সারাদিনে সব উৎস মিলিয়ে মোট ক্যাফেইনের পরিমাণ দেখতে হবে।


সবার জন্য কি ৪০০ মিলিগ্রাম একই?


না। এফডিএ-ও বলছে, ক্যাফেইনের প্রভাব ব্যক্তি অনুযায়ী আলাদা হতে পারে। শরীরের ওজন, কিছু শারীরিক সমস্যা, নিয়মিত খাওয়া ওষুধ এবং ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করতে পারে। কারও ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম ক্যাফেইনেও অস্বস্তি হতে পারে। গর্ভাবস্থা, সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা বা স্তন্যদানকালীন সময়ে ক্যাফেইন কতটা গ্রহণ করা উচিত, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা ভালো। একইভাবে হৃদ্‌স্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ বা ক্যাফেইনে অস্বস্তির মতো সমস্যা থাকলে নিজের জন্য উপযুক্ত সীমা চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।


কফি মানেই ক্ষতিকর নয়


কফিকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর খাবার হিসেবে দেখারও কারণ নেই। এফডিএ-এর মতে, অধিকাংশ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে ক্যাফেইন থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো পরিমাণ এবং ব্যক্তিগত সহনশীলতা। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি ডিক্যাফ কফি মানেই পুরোপুরি ক্যাফেইনমুক্ত নয়। এফডিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৮ আউন্স ডিক্যাফ কফিতেও সাধারণত ২ থেকে ১৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকতে পারে।


তাই সুস্থ অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য দিনে ২-৩ কাপ সাধারণ কফি সাধারণত নিরাপদ সীমার মধ্যে থাকতে পারে, তবে কফির আকার ও ক্যাফেইনের ঘনত্ব বিবেচনা করতে হবে। শরীরে অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে পরিমাণ কমানোই ভালো। আর ক্যাফেইনযুক্ত পণ্য হিসেবে বিশুদ্ধ বা অতিমাত্রায় ঘন ক্যাফেইন পাউডার বা তরল এড়িয়ে চলা উচিত এগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে।

সর্বশেষ সব খবর