ছবি : সংগৃহীত
ভোটের মাঠে নাম ছিল, প্রভাব ছিল, ছিল দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভার তবু শেষ হাসি হাসতে পারলেন না অনেকে। এবারের নির্বাচনে চমক দেখিয়েছে ভোটাররাই; একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে হারিয়ে বদলে দিয়েছেন সমীকরণ। বহুদিনের শক্ত ঘাঁটি, প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্ব আর পরিচিত মুখ সবকিছু ছাপিয়ে ফলাফলে উঠে এসেছে নতুন বার্তা।
খুলনা-৫ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-২ থেকে খুলনা নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনের জামায়াতের আলোচিত প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী হেরে গেছেন। এছাড়া এনসিপির সারজিস আলম, বিএনপি নেতা এম এ কাইয়ুম, জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ, এবি পার্টির সভাপতি মজিবুর রহমান মঞ্জু হেরে গেছেন। এই তালিকায় আরও আছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। জামায়াতের প্রার্থীর কাছে হার মেনেছেন ফুটবলার আমিনুল হকও।
লড়াই শেষে মামুনুল হকের পরাজয়
ঢাকা-১৩ আসনে (মোহাম্মদপুর-আদাবর-শ্যামলী) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি ভোট। তাদের ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৩২০।
ওই আসনের ১৩৯টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশ শুরু হওয়ার পর থেকেই দেখা গেছে, একে অন্যের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে এই দুই প্রার্থীর। ভোটের আগে এক জরিপেও ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হকের মধ্যে তুমুল লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গিয়েছিল। এই আসন থেকে ববি হাজ্জাজ ও মামুনুল হক ছাড়াও আরো সাতজন প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। এই সাত প্রার্থী সব মিলিয়ে ভোট পেয়েছেন তিন হাজার ৮১৩টি।
দুই আসনেই হেরে গেছেন ফয়জুল করীম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-৫ ও ৬ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির এবং হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ধানের শীষের প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বরিশাল-৫ আসনের মোট ১৭৬টি কেন্দ্রের সবগুলোতেই গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এই আসনে মজিবর রহমান সরোয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট।
বরিশাল-৬ আসনেও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেননি ফয়জুল করীম। এ আসনের মোট ১১৩টি কেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এবং বরিশাল জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান পেয়েছেন ৮১ হাজার ৮৭ ভোট। দ্বিতীয় হয়েছেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ মাহমুদুন্নবি। তিনি পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৫৩৩ ভোট। হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম পেয়েছেন ২৮ হাজার ৮২৩ ভোট। যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম বলে মনে করছেন ভোটাররা।
জামায়াত নেতা আযাদ হেরে গেছেন
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতবদিয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ হেরে গেছেন। তার নিকটতম প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ১২৪ কেন্দ্রের ফলাফলে আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬২ ভোট। হামিদুর রহমান আযাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৬৩৪ ভোট। আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ ৩৫ হাজার ৬২৮ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ফুটবলার আমিনুলের পরাজয়
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা-১৬ আসনের ১৩৭টি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মো. আব্দুল বাতেন মোট ভোট পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮২৩টি। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমিনুল হক পেয়েছেন মোট ৮৪ হাজার ২০৭ ভোট।
সারজিস আলমও হেরে গেছেন
পঞ্চগড়-১ (তেঁতুলিয়া, পঞ্চগড় সদর ও অটোয়ারী) আসনে বিএনপি প্রার্থী নওশাদ জমির বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও ১১ দলীয় জোটের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সারজিস আলম শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১২৬ ভোট। ১৫৫ কেন্দ্রের এ আসনে বিজয়ী ও পরাজিত প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ৮৩০৪।
কৃষ্ণ নন্দী হেরেছেন ৫০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে
হিন্দু-অধ্যুষিত খুলনার দাকোপ ও বটিয়াঘাটা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-১ আসনে এবারের নির্বাচনে ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের আটজন প্রার্থী মাঠে ছিলেন। জামায়াতে ইসলামী প্রথা ভেঙে ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সাবেক সভাপতি কৃষ্ণ নন্দীকে এখানে প্রার্থী করে। তিনি সারা দেশে আলোচনা তৈরি করতে পেরেছিলেন। তবে ভোটের মাঠে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হেরেছেন কৃষ্ণ নন্দী।
খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান পেয়েছেন ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী কৃষ্ণ নন্দী পান ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। ভোটের ব্যবধান ৫১ হাজার ৬। এই আসনে পোস্টাল কেন্দ্রসহ মোট কেন্দ্র ছিল ১২০টি। এখানে তৃতীয় অবস্থানে আছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবু সাঈদ। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট।
হেরে গেলেন হেভিওয়েট প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু
খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে হারিয়ে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। দুজনের ভোটের ব্যবধান ৫ হাজার ৫৯২। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আমানুল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।
২০০৮ সালে খুলনার ছয়টি আসনের মধ্যে একমাত্র বিএনপির প্রার্থী হিসেবে খুলনা-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। ২০০১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই আসন থেকে জয় পান। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এখানে বিএনপি থেকে জয় পান সাবেক স্পিকার শেখ রাজ্জাক আলী। ১৯৯৬ সালের পর এই আসনে কখনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াত।
মিয়া গোলাম পরওয়ার জিততে পারেননি
খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলি আসগার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট। ব্যবধান ২ হাজার ৬০৮। পোস্টাল কেন্দ্রসহ আসনটিতে মোট কেন্দ্র ছিল ১৫১টি। পরওয়ার ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে। ২০০৮ ও ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ছিলেন। এ আসনের লক্ষাধিক ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের। তাদের ভোট পেতে দুই প্রার্থীই চেষ্টা চালিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত হিন্দু ভোট ও আওয়ামী লীগের ভোট ব্যবধান তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশ্লেষকেরা।
অবশেষে হেরে গেলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা-৮ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোট গ্রহণ হয়।
এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬। অন্যদিকে, ঢাকা-৮ আসনে এনসিপির মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তাতে তাঁর পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭টি।
হেরে গেলেন তাসনিম জারা
তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে হাবিবুর রশিদ পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। জাবেদ মিয়ার তুলনায় ৫৭ হাজার ৭৫২ ভোট এবং তাসনিম জারার তুলনায় ৬৬ হাজার ৫২৮ ভোট বেশি পেয়ে জয় নিশ্চিত করেন হাবিবুর রশিদ।
এ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬ জন। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮১ জন। বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৩টি ভোট।
ফলে বৈধ ভোট দাঁড়ায় ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮টি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৮২৭ ভোট। জাতীয় পার্টির কাজী আবুল খায়ের লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২ ভোট।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।একই আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকায় কর্মরত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে পরদিন ২৯ অক্টোবর থেকে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: সংগৃহীত
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রার) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রতিনিধিদল মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পের পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ কাজ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় হয়।
এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।
জাহেদুল হাসান আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে, সম্ভাব্য ২৫ অক্টোবর, পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কিনা- তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।
আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
সমাজ থেকে মাদক, ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জিনা ও অন্যায়-অবিচার দূর করতে জুমার খুতবার মাধ্যমে জনসচেতনতা তৈরিতে ইমামদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় ঢাকার আগারগাঁওয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রি-বার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন অন্যায় ও অনৈতিকতা দূর করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ইমামদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ মানুষ ইমামদের কথা পরম আস্থার সাথে শোনে ও বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি জুমার খুতবার মাধ্যমে সার্বিক নৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার জন্য সকল ইমামদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সম্মেলনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পর্যায়ক্রমে সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু হয়েছে উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় নেতাদের পর্যায়ক্রমে সরকারি সম্মানী কাঠামোর আওতায় আনা হবে। ইমাম ও আলেম সমাজের ঐতিহাসিক অবদানের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও দেশের ইমাম, ওলামা ও পীর-মাশায়েখরা সমর্থন ও সহযোগিতা করেছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে ‘আস্থা গণভোট’ (হ্যাঁ-না)-এর নির্বাচনেও আলেম-ওলামারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। এছাড়া, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৪ সালে বেগম খালেদা জিয়া ২ কোটি টাকার কল্যাণ তহবিল গঠনের যে ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে বলেও সম্মেলনে জানান ধর্মমন্ত্রী।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন ধর্মমন্ত্রীর অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে বলেন, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আইনশৃঙ্খলা ও সামরিক বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও তার ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে বিবেচিত হয়।
তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে আলেম-ওলামা ও ইমাম সমাজকে সঙ্গে নিয়ে সরকারের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর শক্তিকে উন্নয়নের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা কাজী আবু হুরায়রার সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জামাল, বিএনপির চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহিল বাকী নদভী।
মাদ্রাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনাকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতির ত্রিবার্ষিক কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।
সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ধর্মমন্ত্রী জানান, মাদ্রাসার মতো পবিত্র স্থানে যাতে এ ধরনের গর্হিত ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ইমামদের সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।এর আগে সম্মেলনে সারা দেশ থেকে আসা ইমামদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ যেন উসকানি দিয়ে দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জুমার খুতবায় মাদক, সন্ত্রাসসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে ইমামদের জোরালো বক্তব্য দিতে হবে। কারণ, সমাজে ইমামদের যথেষ্ট গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এ সময় বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিসহ নিজেদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি-দাওয়ার কথা তুলে ধরেন ইমাম সমিতির নেতারা।
পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত
‘আন্দোলনের হুংকার দিয়ে লাভ নেই। বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রাম ও লড়াই করতে করতে রাজপথ থেকে উঠে আসা দল। তাই ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ হবে না।’ বিরোধী দলের আন্দোলনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে এমন মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার দত্তপাড়ায় তোতারখিল আয়েশা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাইফ লাইন ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেলাইতে স্বাবলম্বী নারী’ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন পানিসম্পদমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে ১৫০ জন নারীর হাতে সেলাইমেশিন তুলে দেন তিনি।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে মোট ৫০০ নারীকে এ সহায়তার আওতায় আনা হবে। জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে এ্যানি বলেন, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে জামায়াত ১৭২ দিন হরতাল-অবরোধ করেছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের আগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির গুপ্ত পরিচয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করত। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সংসদে সুন্দর সুন্দর কথা বললেই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন হয় না; জনগণের পাশে থাকতে হয়। রোডমার্চ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা উচিত নয়।
দীর্ঘ ১৭ বছর মানুষ নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশকে নতুন করে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া কাম্য নয়। ধর্মের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করে এ্যানি বলেন, ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করা থেকে বিরত রাখতে সবাইকে কাজ করতে হবে। শুধু মিছিল-মিটিং নয়, রাজনৈতিক দলগুলোর দেশের উন্নয়ন, সমাজের কল্যাণ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায়ও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।
মাদক ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদকসহ যেকোনো অপকর্মের মাধ্যমে সমাজে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এক্ষেত্রে সরকারের অবস্থান কঠোর।
এ্যানি আরও বলেন, এলাকার উন্নয়ন যেমন প্রয়োজন, তেমনি মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি। সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে ‘সেলাইতে স্বাবলম্বী নারী’ কর্মসূচির মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেলাইমেশিন পেয়ে উপকারভোগী নারীরা নিজ উদ্যোগে আয় করে পরিবারে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: বঙ্গভবন
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তরুণ প্রজন্মকে মাদকাসক্তি, মোবাইল আসক্তি ও হতাশা থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। খেলাধুলা তরুণদের শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস শেখায়। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে সুস্থ জাতি গঠনে মাঠ ও খেলাধুলার প্রসার জরুরি।
আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতা-২০২৬ উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় স্টেডিয়ামে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
এসময় রাষ্ট্রপতি বলেন, অ্যাথলেটিক্সকে ক্রীড়ার জননী বলা হয়। এখানে ক্রীড়াবিদের গতি, শক্তি, ক্ষিপ্রতা, শৃঙ্খলা ও সহনশীলতার প্রকৃত পরীক্ষা হয়। এটির ভিত্তি মজবুত হলে অন্যান্য খেলায়ও দেশের সক্ষমতা বাড়বে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলা জাতীয় গৌরব ও ঐক্যের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো এবং বিজয়মঞ্চে জাতীয় সংগীত বাজানো- পুরো জাতির জন্য গর্বের বিষয়। তখন আমাদের একটাই পরিচয়- আমরা বাংলাদেশি।
তিনি বলেন, নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের দলকে সাফল্য এনে দিতে হবে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে সব ধরনের খেলাধুলাকে এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, সুস্থ জাতি গঠন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্পোর্টস কার্ড, স্পোর্টস অ্যালাউন্স, তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্পোর্টস ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন এবং ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এ সময় তিনি অবৈধভাবে দখল করা মাঠ দখলমুক্ত করে সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি নারী অ্যাথলেটদেরও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আর্থিক কারণে যেন কোনো প্রতিভা ঝরে না পড়ে, সে জন্য স্কুল, কলেজ এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা আয়োজনের আহ্বান জানান।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
এই প্রতিযোগিতা থেকে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিভাবান অ্যাথলেট উঠে আসবে, যারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আরও গৌরবান্বিত করবে বলে রাষ্ট্রপতি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিযোগিতাটিকে দেশের বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আরাফাত রহমান কোকো ১৮তম জাতীয় অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন।
এর আগে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ৫৭ টি দলের মার্চ পাস্ট অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিযোগিতার থিম সং পরিবেশন করা হয়।
সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সুমিতা রানী দাস গেমসের মশাল প্রজ্জ্বলন করেন।
উদ্বোধন শেষে রাষ্ট্রপতি ১০০ মিটার স্প্রিন্ট প্রতিযোগিতা (পুরুষ ও নারী) উপভোগ করেন এবং বিজয়ীদের মেডেল প্রদান করেন।
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জাতীয় স্টেডিয়ামে পৌঁছলে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ জাবের, বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন তাকে স্বাগত জানান।