রাজধানীর কল্যাণপুরে ফের চালু হয়েছে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে সম্প্রতি দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তারাও ছিলেন। এরপর ডিএমপি এক নির্দেশনায় নগরীর ভেতরে থাকা অনুমোদনহীন সব দূরপাল্লার বাস কাউন্টার অপসারণে সাতদিনের সময় বেঁধে দেয়।
এমন সিদ্ধান্তের পর গেল সোমবার (১৩ এপ্রিল) থেকে কল্যাণপুর এলাকার সব কাউন্টার বন্ধ রাখা হলেও, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে সেগুলো আবার খুলে বসেছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগের দিন পরিবহন মালিক সমিতি ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষসহ (বিআরটিএ) বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বয়ে বৈঠক হয়। এতে সরকারের পক্ষ থেকে কল্যাণপুরে থাকা কাউন্টারগুলোর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিন মাস সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তবে এসময় কোনো দূরপাল্লার বাস এখানে প্রবেশ করতে পারবে না বলে জানানো হয়। ফলে এখানকার যাত্রীদের গাবতলী থেকে গাড়িতে উঠিয়ে দিতে হচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) কল্যাণপুরের বিভিন্ন বাস কাউন্টার ঘুরে ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব জানা গেছে। সেখানে দেখা গেছে, ছোট-বড় সব ধরনের কোম্পানির কাউন্টার খুলে বসেছেন পরিবহন কর্মীরা। তবে কাউন্টারের সামনে কোনো বাস দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি।
এসআই ট্রাভেলসের একজন টিকিট বিক্রেতা বলেন, ‘আমাদের তিন মাস কাউন্টার খোলার সুযোগ দিয়েছে। বলেছে, দিন-রাতে কোনো সময়ই গাড়ি কল্যাণপুরে ঢোকানো যাবে না। গাড়ি থাকবে গাবতলী। কল্যাণপুর কাউন্টার খোলা থাকবে। এখান থেকে যাত্রী নিয়ে ওখানে গিয়ে গাড়িতে উঠিয়ে দিয়ে আসবেন।’
তবে এতে যানজট নিরসনে কোনো উপকার হয়নি বলে দাবি করেন সেই টিকিট বিক্রেতা। তিনি বলেন, ‘দুইদিনে যানজট কমেনি, কাউন্টার তো বন্ধ ছিল, কোনো গাড়ি কল্যাণপুরে ঢোকেনি। কারণ কী জানেন? কারণ সব গাড়ি টেকনিক্যাল থেকে ইউটার্ন নিতে হচ্ছে। যার কারণে যানজট আরও বেড়েছে।’
এসআই ট্রাভেলের কাউন্টার মাস্টার শফিক বলেন, ‘পরশুদিন রাতে মালিক সমিতির একটা মিটিং হয়েছে। মিটিংয়ে ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। আর কী কী সিদ্ধান্ত হয়েছে আমরা জানি না। মালিক সমিতি জানে।’
কাউন্টার স্থানান্তর করা হলে কেমন অসুবিধা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে স্টাফ আছে ১৫ জন। ১৫ জনের সঙ্গে ১৫টা ফ্যামিলি জড়িত। কল্যাণপুরে ছোট-বড় অনেক কাউন্টার আছে। হিসাব করলে স্টাফ লাখ পার হয়ে যাবে। এরপর যদি এই শ্রমিকরা বেকার হয়ে রাস্তায় নামে তখন দেশে আরেক ঝামেলা হয়ে যাবে। আমাদের যদি পুনর্বাসন করে দেয় তাহলে সবাই চলে যাবো।’
আহাদ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘মালিক বন্ধ রাখতে বলেছিল, বন্ধ রেখেছিলাম। মিটিং হয়েছে, কাউন্টার খুলতে বলেছে, কাউন্টার খুলেছি।’
তিনি জানান, যাত্রীদের কল্যাণপুর থেকে গাবতলী কাউন্টারে নিতে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। পাবলিক বাসে করে নিতে হচ্ছে। কেউ যেতে চাইছেন না।’
গত ৫ এপ্রিল ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কাউন্টার বন্ধের নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে ঢাকা মহানগরের ভেতরের অনুমোদনহীন সব আন্তঃজেলা নাইট কোচ কাউন্টার অপসারণে সংশ্লিষ্টদের সাতদিনের আলটিমেটাম দেয় ডিএমপি। রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নির্দেশনায় জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুরাতন ভবনের দ্বিতীয় তলায় ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ডিক্যাব)-এর লাউঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এই আগুন লাগে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম।
তিনি বলেন, পাঁচতলা ভবনের দোতলায় সাংবাদিকদের বসার রুমে বই পুস্তকে আগুন লাগে। অবশ্য সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়।তদন্ত করে আগুন লাগার উৎস বের করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযান মালিকদের জন্য বড় সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই বকেয়া কর ও ফি জমা দিয়ে মোটরযানের কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সময়সীমা আরও বাড়োনো হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিআরটিএর এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জরিমানা ছাড়া কেবল মূল কর ও ফি জমা দিয়ে সব প্রকার মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করার সুযোগ আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে সরকার।
বিআরটিএ জানিয়েছে, এটিই শেষ সুযোগ। তাই জরিমানা এড়াতে নির্ধারিত বৃহস্পতিবারের মধ্যে মূল কর ও ফি পরিশোধ করে মোটরযানের সব ধরনের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার জন্য সব যানবাহন মালিক ও চালকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী। ছবি: সংগৃহীত
ওয়াজ মাহফিলে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য প্রদান ও তাদের পেটানোর উসকানিমূলক হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত ইসলামী বক্তা ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি (লিগ্যাল) নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমকর্মী আজহারুল ইসলাম সুজনের পক্ষে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে বলা হয়, নোটিশ প্রাপ্তির আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে তার প্রদত্ত বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যথায় পেশাদার সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়ে মানহানি ঘটানো, শারীরিক হামলার হুমকি এবং অনুসারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগে প্রচলিত আইনে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশের বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ অক্টোবর চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার নিশ্চিন্তপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার বার্ষিক ওয়াজ ও দোয়া মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে ড. এনায়েতুল্লাহ আব্বাসী সাংবাদিকদের তীব্র সমালোচনা ও হুমকি দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, সবচেয়ে খারাপ বাংলাদেশের সাংবাদিকগুলো। এগুলোরে কুত্তার মতো পেটানো দরকার। তিনি আরও দাবি করেন, একটা যুবক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে তার বাহিনী নিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের চেইনকে ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেছে। সাংবাদিকরা ইতিবাচক সংবাদটা প্রচার করে নাই, প্রচার করেছে পিস্তল নিয়ে দৌড়িয়েছে। এই সাংবাদিকগুলো হচ্ছে সাংঘাতিক। এরা হলুদ সাংবাদিকতা করে।
এরা বিদেশি ইন্টিলিজেন্স ব্রাঞ্চ কর্তৃক পয়সায় চলে। বাংলাদেশ ভালো হোক এটা তারা চায় না। আইনি নোটিশে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে, জনসম্মুখে দেওয়া এমন বিষোদ্গারমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি স্বয়ং এবং তার ভক্ত-অনুসারীদের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ওপর হামলার হুমকি সৃষ্টি করেছেন। যা স্বাধীন ও পেশাদার সাংবাদিকতার জন্য অত্যন্ত ভীতিকর ও বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি করেছে। এই ধরণের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও পেটানোর উসকানি সাংবাদিকতা পেশা এবং পেশাদার সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি ও চরম অবজ্ঞার শামিল।
বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারসহ তিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।রোববার (২৫ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির আদেশ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসানকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) মোহাম্মদ এনামুল হককে খাগড়াছড়ি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও বিশেষায়িত ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি (সুপারনিউমারারি ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে।একই আদেশে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকায় কর্মরত এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সংযুক্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম মাহবুবুর রহমানকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি পুলিশ সুপার) পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলি হওয়া বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের কর্মকর্তাদের আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলে পরদিন ২৯ অক্টোবর থেকে তারা বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজড) হয়েছেন বলে গণ্য হবেন।
জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।