প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানাই।’
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।’
প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে।’
প্রতিষ্ঠাকাল থেকে আজ পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে যারা যুক্ত ছিলেন ও আছেন সবাইকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানাই।
এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।’
তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য বিএনপি জনগণের রায় পায়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে। রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী, সরকার প্রধানের জন্য এসএসএফ সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমার গাড়িবহরের আকার সীমিত করেছি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পরিবর্তে এসএসএফকে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের উপর বেশি জোর দিতে হচ্ছে। আপনারা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।’
তিনি বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়ই জনসভা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করতে হয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কিছুটা জটিল।’
এ ধরনের পরিস্থিতিতে একদিকে সরকার প্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়। এ ধরণের পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এসএসএফে’র কর্মদক্ষতাও প্রতিভাত হয়ে ওঠে।
এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।’
রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, ‘এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।’
আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি।’
অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের পর তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। সেই সময় ওই শব্দ হয়। তবে বোমা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম সমকালকে বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছাতার মধ্যে লুকানো বোমাসদৃশ বস্তুটি পাওয়া যায়।নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকা ঘিরে রাখা হয়। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। তখন বিকট শব্দ হয়। এতে কেউ হতাহত হননি। তবে কেউ ভুলে ছাতা ভেবে সেটি বহন করতে গেলে বিপত্তি হতে পারতো।
এদিকে বিস্ফোরণের শব্দের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশে আর কোথাও এমন বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। নিষ্ক্রিয় করা ‘বোমা’র ভেতরে শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল বলে জানা গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: রয়টার্স
পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজীবন পেনশন, মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা, সরকারের দেওয়া অফিস-স্টাফ, কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ নানা সুবিধা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেতনের ৭৫ শতাংশ হিসেবে মাসে ৯০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির বেতন বৃদ্ধি পেলে পেনশনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।
২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে বলা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কী সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন কর্মজীবনে জেলা জজ ছিলেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যে কোনো একটি পেনশন পাবেন। মৃত্যুর পর তাঁর দুই তৃতীয়াংশ পেনশন সুবিধা কার্যকর হবে।
আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং অফিস পরিচালনার খরচ পাবেন সরকারের কাছ থেকে। ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার।
একজন মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। একজন মন্ত্রী দেশে ও বিদেশে শতভাগ সরকারি খরচে চিকিৎসা সুবিধা পান। রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও এই সুবিধা পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলে বিনা খরচে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। বাসায় ব্যবহারের জন্য টেলিফোন পাবেন। নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল সরকার পরিশোধ করবে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইসব সুবিধা পাবেন যদি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন। নৈতিক স্খলনের কারণে দণ্ডিত হলে অবসর সুবিধা বাতিল হবে।
চাইলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থও নিতে পারবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তবে এ জন্য অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করতে হবে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সোমবার নৈশভোজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে। বিগত আন্দোলনে তাদের কোথাও দেখা যায়নি। অনেকে পালিয়ে ছিল। নির্বাচনের পর এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি। এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে।’
সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু কোনো বিভেদ নেই। বিএনপি ও শরিকরা প্রতিটি আন্দোলনে সামনে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আমাদের মধ্যে ডিফরেন্স অব অপিনিয়ন হতে পারে, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে আমি মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্র হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য এক।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক। আমাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকতে পারে যেমন একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করব– এই ব্যাপারে আপনার একটা মত থাকতে পারে, আমার একটি মত থাকতে পারে। এখানে হয়তো কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, আমাদের ৩১ দফার আলোকে হোক এবং জুলাই সনদের আলোকে হোক আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
‘গুপ্তদের রাজপথে দেখা যায়নি’
অতীতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটু পেছনে যাই– আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না– যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও তাদের চেনে। এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি, তাদের আমরা পাইনি, আমি পাইনি দূরে থেকে। আপনারা কি কেউ পেয়েছিলেন রাজপথে তাদের? তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি।
বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। রাজপথে দেখিনি, শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। কাজেই দেশের মানুষ আমাদের ওপরই আস্থা রেখেছে যে এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে– এটি আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”
মানুষের আস্থা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি। তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। আপনাদের নিশ্চয়ই এটাও স্মরণ আছে যে ৩১ দফা– রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা উপস্থাপন করেছিলাম, সেটিকে আমরা সংস্কারই বলি। সেটিকে আমরা রাষ্ট্র মেরামতের দফা বলি। তখন বাংলাদেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যারা পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, এই মানুষগুলোকে বা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে তখন সংস্কারের ‘স’ বলতে দেখিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি একত্রে, আমরা কিন্তু তখন স্বৈরাচারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনে জনগণ ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন এই ৩১ দফা শুধু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নয় বরং বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছিল। স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী আগস্টের ৫ তারিখের পরে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আপনাদের পরিষ্কার মনে আছে যে তারা ১২ তারিখের নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে কি স্বৈরাচারী কায়দায় ডিজিটাল ওয়েতে তারা কীভাবে তাদের কাজগুলো চালিয়েছিল? কীভাবে তারা চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তবে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সব সময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কখনও ভুল করেনি।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, তারা যে ১৮ মাসের মতন দেশ পরিচালনা করেছেন, এই ১৮ মাস তারা কত অসহায়ের মতো ছিলেন। তিনি (উপদেষ্টা) বলছেন, সরকারের ৬০ শতাংশের ওপরে সেই গুপ্ত বাহিনীর প্রভাব ছিল।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি এবং এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখছি। সেই ব্যক্তির (উপদেষ্টার) বক্তব্য হচ্ছে, এরা দিশাহারা হয়ে গেছেন– ১৮ মাস তারা এমনভাবে পুরা জিনিসটাকে ব্যবহার করেছে তাদের পক্ষে। কিন্তু ১২ তারিখে যখন জনগণ তাদের রায় প্রদান করেছে, তারপর থেকে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ১৬-১৭ বছরের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে চলার প্রত্যয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। আপনি দেখেন এই ঢাকা শহর এখন পরিষ্কার করতেই সমস্যা। যে দিকে তাকাবেন ময়লা। কেউ একজন বলেছেন, এটা কি ফেয়ারওয়েল ডিনার কিনা? কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয় গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম। আমরা ইনশাল্লাহ একসঙ্গে থাকব।’
দুঃখ প্রকাশ
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন বসার সুযোগ হয়নি সেজন্য আজকে এই আয়োজনটি করেছি। আমি জানি, মুরুব্বিরা যা বলেছেন তার সঙ্গে আমি মোটেও দ্বিমত করব না। তাদের মনে এই কষ্ট আছে– সেগুলো আমি জানি। স্বাভাবিক। বয়সে তারা আমার থেকে বড়– আমি ছোট ভাই হিসেবে বড় ভাইদের সব বিষয় মেনে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই অনুরোধ করব, আমাদের সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ বিভিন্ন সময় মান্না (মাহমুদুর রহমান মান্না) ভাই তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি জনগণের প্রত্যাশাটাকে আগে আমরা অ্যাড্রেস করি।’
সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনার অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী টেবিলে টেবিলে গিয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়ের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে, আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে, যারা যারা যেভাবে চালাচ্ছেন, সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’
বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে... বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’
সরকারি পর্যায়ে দেশে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি পর্যায়ে দেশে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ করা হবে। তারা মায়েদের নরমাল ডেলিভারিকরাতে উৎসাহ দেবেন। এছাড়া ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মীও নিয়োগ করা হবে।
তিনি বলেন, দেশের উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলো পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি সরকারি চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীকেন্দ্রিক চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কমাতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এতে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে চিকিৎসার জন্য অপ্রয়োজনে ঢাকায় ছুটে আসতে হবে না।
এর আগে, সকালে ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। তার আগমনকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার সহধর্মিণী ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. জুবাইদা রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘২০ হোস্টেল প্রকল্প’-এর আওতায় দুটি ছাত্রী হোস্টেলের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি জমির উদ্দিন সরকার। ছবিঃ সংগৃহীত
প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক শোকবার্তায় তিনি বলেছেন, “তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, দক্ষ সংসদীয় ব্যক্তিত্ব এবং সত্যিকারের দেশপ্রেমিককে হারাল।”
রোববার ভোরে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের সংসদ সদস্য জমির উদ্দিন সরকার; তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
তারেক রহমান তার শোকবার্তায় বলেন, “তার আদর্শ, প্রজ্ঞা, সততা ও কর্মময় জীবন আগামী প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”
১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জমির উদ্দিন সরকারের জন্ম। আইন পেশায় তিনি সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিতি পান।
ছাত্রজীবনে, ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনীতিতে হাতেখড়ি। পরে ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতির যুক্ত হন।
জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল বা জাগদল গঠন করলে তাতে যোগ দেন জমির উদ্দিন সরকার। পরে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। আমৃত্যু তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেন জমির উদ্দিন সরকার। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।
শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেনে, “ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ, সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তিত্ব। সুদীর্ঘ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি সততা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন।
“গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত করা, সংসদীয় সংস্কৃতির বিকাশ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আজীবন বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আদর্শে অবিচল ছিলেন।”
তারেক রহমান বলেন, দলের দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও দুঃসময়ের কোনো পর্যায়েই কখনো কোনো পরিস্থিতিতেই ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ‘আদর্শচ্যুত হননি’।
“রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, নিপীড়ন ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ়তার সঙ্গে দলীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শকে সমুন্নত রেখেছেন। বিশেষ করে বিগত দীর্ঘ ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও দৃঢ় প্রত্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তার অবিস্মরণীয় অবদান বিএনপির ইতিহাসে যেমন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, তেমনি দেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রারও এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে।”
প্রধানমন্ত্রী মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
রোববার বাদ জোহর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে এবং পরে বিকাল ৫টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জমির উদ্দিন সরকারের জানাজা হবে। পরে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণেই দাফন করা হবে সাবেক এই স্পিকারকে।
তার মৃত্যুতে সোমবার সারাদেশে শোক পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববারেএক শোকবার্তায় তিনি বলেন, "এই বরেণ্য রাজনীতিবিদের প্রয়াণ দেশের রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার বিকাশে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।"
রোববার ভোরে শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান পাঁচবারের সংসদ সদস্য জমির উদ্দিন সরকার; তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে শপথ নেন জমির উদ্দিন সরকার। ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি সেই দায়িত্বে ছিলেন।
২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন।
এর আগে জিয়াউর রহমানের সময় গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং খালেদা জিয়ার সরকারে ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন জমির উদ্দিন।
রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।