একদিনেই রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ) তিন বিভাগের তিনটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাবেন তিনি। সফরে রাজশাহীতে একটি জনসভায়ও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সামরিক বিমানে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যাবেন তারেক রহমান। সেখান থেকে রংপুরের ধর্মসভা বা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করবেন।
এরপর রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে পৌঁছে দুপুর দেড়টায় রাজশাহী ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রাজশাহী সার্কিট হাউসে কিছুক্ষণ অবস্থান শেষে বেলা ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
রাজশাহী থেকে বিমানে করে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন তিনি। সন্ধ্যায় নগরীর রহমতগঞ্জের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে তিন বিভাগের তিন জেলায় যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি প্রথমে রংপুর, এরপর রাজশাহী এবং সবশেষে চট্টগ্রাম যাবেন।
তিনি আরও বলেন, এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো সরকারপ্রধান ঢাকার বাইরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী পূজারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করবেন।
চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে একই দিন রাতেই তিনি ঢাকা ফিরবেন বলেও জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।এর আগে রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় ডা. জুবাইদা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।মঙ্গলবার উদযাপিত হবে দুর্গাপূজার মহানবমী। পরদিন বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হবে।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে দুর্গাপূজা ছুটিতে মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে কর্তৃপক্ষ। ছুটির দিনগুলোতে যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্ধারিত সময়ে ১০ থেকে ২০ মিনিট বিরতিতে ট্রেন পরিচালনা করা হবে।সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের () জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আহসান উল্লাহ শরিফী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।ডিএমটিসিএলের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, পূজার ছুটির দিনগুলোতে পিক আওয়ারের সময় প্রতি ১০ মিনিট পর পর মেট্রোরেল চলাচল করবে।
সাধারণত মেট্রোরেলের নিয়ম অনুযায়ী: সকাল ৮টা ১০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল পৌনে ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়কে ‘পিক আওয়ার’ হিসেবে ধরা হয়। উল্লেখ্য, স্বাভাবিক কর্মদিবসে পিক আওয়ারে প্রতি ৫-৬ মিনিট পর পর ট্রেন চলাচল করে। অন্যদিকে অফ-পিক আওয়ার বা অন্যান্য সময়ে সাধারণত ৮-১০ মিনিটের ব্যবধানে ট্রেন স্টেশন ছাড়ে।ডিএমটিসিএলের নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার: উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় প্রথম ট্রেন এবং রাত ৯টা ৫০ মিনিটে শেষ ট্রেন ছাড়ে। অন্যদিকে মতিঝিল স্টেশন থেকে প্রথম ট্রেন ছাড়ে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং শেষ ট্রেন ছাড়ে রাত সাড় ১০টায়। শুক্রবার: সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে উত্তরা উত্তর থেকে বিকেল ৩টায় এবং মতিঝিল থেকে বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে প্রথম ট্রেন ছাড়ে। এই দিনে দুই স্টেশন থেকে রাতের শেষ ট্রেন ছাড়ে যথাক্রমে ৯টা ৫০ মিনিট ও রাত ১০টা ৩০ মিনিটে।
দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বাজেটের বড় একটি অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও তা দ্রুত চালু করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার পাশাপাশি এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত 'জাতীয় ক্যান্সার সম্মেলন ২০২৬'-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য ছিল-'সবার জন্য ক্যান্সার সেবা: প্রতিরোধ, নির্ভুল চিকিৎসা, উপশমমূলক পরিচর্যা ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়'।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্যানসার রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের প্রতিটি ক্যানসার হাসপাতালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেন রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে পাড়ি দিতে না হয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও টেকনোলজিস্ট রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে।স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরের অপশাসন ও চরম অব্যবস্থাপনা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করবে না। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হালিম ডালিম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নীতি নির্ধারক বৃন্দ।
মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে ধাপে ধাপে বিদায় নিতে যাচ্ছে টু-জি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের পর থেকে দেশে প্রচলিত টু-জি বাটন ফোন আর কাজ করবে না। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা প্রায় ৬ কোটি টু-জি হ্যান্ডসেট পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামের যে মানুষটি বাটন ফোন ব্যবহার করেন তারা কীভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবেন? স্মার্ট ফোনের দাম কি কমবে? কতটা কমবে? মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে কি স্মার্ট ফোনের দাম আনা সম্ভব?
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে মোবাইল অপারেটররা খুশি হলেও দেশীয় হ্যান্ডসেট প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অবৈধ সেটে কি আবারও বাজার সয়লাব হয়ে যাবে? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মোবাইল অপারেটরদের পরিচালন ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেকটা কমে আসবে। পাশাপাশি সস্তা ফোনের বাজার চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ ও ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে বিটিআরসি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর থেকে নতুন কোনো টু-জি বাটন ফোনের মডেলের অনুমোদন দেবে না বিটিআরসি। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশে টু-জি মোবাইল ফোন সেট উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। ২০২৭ সালের ৩০ জুনের পর থেকে বাজারে টু-জি ফিচার ফোন বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে ।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভালো। কিন্তু একবারে যেভাবে বন্ধ করতে চাচ্ছে সেটাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এনইআইআরের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে সেটা হতে পারে। আমরা বলছি, ২০২৭ সালের মার্চের পর আপনি টুজি ফোন উৎপাদন বন্ধ করে দিলেন। এরপর যে দুই বছর থাকবে, সেখানে তো অবৈধ ফোন দিয়ে বাজার ভরে যাবে। ফলে বিটিআরসি যদি টার্গেট করে ২০২৭ সালের মধ্যে কতটুকু তারা অর্জন করবে, ২০২৮ সালের মধ্যে কতটুকু অর্জন করবে সেটা যদি ঠিকমতো চলে তাহলে তো বন্ধ করলে ক্ষতি নেই। মোবাইল অপারেটরদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
জানা গেছে, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে মাত্র ৫ হাজার টাকায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদকরা বলছেন, টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এই স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ ফোর-জি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা সম্ভব? গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মতো টেলিকম অপারেটরদের ডেটা নেটওয়ার্কের মান কি উন্নত হবে? সেগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশই টু-জি ফিচার ফোন, যা ৯৫০ টাকায় পাওয়া যায়। বিপরীতে সাশ্রয়ী ফোর-জি স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। টু-জি বন্ধ হলে দেশের নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।
তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট পরামর্শসহ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাবে বিটিআরসি। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যে দাবি করছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বাটন ফোনের লাইফটাইম আড়াই বছর। ফলে আড়াই বছর আগেই এটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে অনেকের হাতেই ২০২৯ সালের পরও বাটন ফোন থাকবে, সেগুলো তারা কী করবেন? বিটিআরসি সবদিক বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, টু-জি থেকে ফোর-জি হলে আমরা স্পেকট্রাম এফিসিয়েন্সি অনেক বাড়াতে পারব। আর রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, যত তাড়াতাড়ি টু-জি থেকে ফোর-জি করতে পারব, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা মূলত ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সাজিয়েছি। ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন ঐচ্ছিক পর্যায়ে চলে এসেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অবিরাম ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল হিসেবে ২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দীর্ঘ আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে। জাতীয় জীবনের দিকনির্দেশনা দেয় এই জুলাই। জুলাই একদিনে সংঘটিত হয়নি।
২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অবিরাম ধারাবাহিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফসল হিসেবে ২৪-এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে।’সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘রক্তাক্ত গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস জাতীয় জীবনে চির জাগরূক হয়ে থাকবে। আমাদের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। আমরা জুলাইকে ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্য পথনির্দেশক হিসেবে গণ্য করি।
বহু সাহিত্যিককে নাটক ও সাংস্কৃতিক প্রগ্রামে এই জুলাইকে প্রতিফলন করতে হবে। শুধু জুলাই আসলে বা বাৎসরিক অনুষ্ঠান দিয়েই এটা শেষ করলে হবে না। যত দিন শহীদের রক্তের অঙ্গীকার, জাতীয় জীবনের প্রত্যাশা, জুলাইয়ের প্রত্যাশা, জনজীবনের প্রত্যাশা পূরণ না হবে, তত দিন শহীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে না।’
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রক্রিয়া শেষ করে এসেছি। কিছু অংশ আছে সাংবিধানিক, কিছু আইনবিষয়ক।
আইনি ও বিধিবিধান চলমান প্রক্রিয়া। আমার এমন সাংবিধানিক প্রক্রিয়া আনতে চাই, যেটা অনেকে সংস্কার বলতে পারেন। তারা সংস্কার বলে তুষ্ট থাকলে আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু তারা বিরোধী দল হিসেবে সংশোধন প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত সহযোগিতা করছেন না।’
তিনি বলেন, জুলাই ছাত্র অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। সেই বিনির্মাণের জন্য আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এবং তা বাস্তবায়ন করে চলছেন। শহীদদের সব আকাঙ্ক্ষা আমাদের সেই পরিকল্পনার অংশ।
‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ময়লার ভাগাড়ের স্থান সংস্কার করে গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বাগান প্রকল্প ‘রূপান্তর’। দীর্ঘদিনের বর্জ্য-স্তূপকে সবুজে বদলে দেওয়ার এই উদ্যোগকে দেশের অন্য সব জেলার প্রশাসকদের জন্য এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় আমিনবাজারে নিমগাছ রোপণের মাধ্যমে ‘রূপান্তর’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা ও সদিচ্ছা থাকলে একটি এলাকাকে মানুষের কল্যাণে কীভাবে সুন্দরভাবে পরিবর্তন করা যায়, আমিনবাজারের এই উদ্যোগ তার বড় প্রমাণ। আপনারা যারা এলাকাবাসী, তারা জানেন দুই মাস আগে এই জায়গাটার কী অবস্থা ছিল। আর আজকে প্রায় দুই মাস পরে এই জায়গাটির কী পরিবর্তন হয়েছে! এই চার কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে জায়গাটি দেখতে ভালো লাগার পাশাপাশি ভালো পরিবেশে শ্বাস নেওয়াও এখন সহজ হয়েছে।’
৪০ হাজার শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ দিচ্ছে সরকার, যেভাবে মিলবে
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বাগানের সৌন্দর্য ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ‘সরকার উদ্যোগ নিয়ে এলাকাটিকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলেছে। এখন এই সৌন্দর্য ধরে রাখার দায়িত্ব এলাকাবাসীকেও নিতে হবে। জনগণ সরকারকে সহযোগিতা করলে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সমস্যাগুলো ধীরে ধীরে সমাধান করা সম্ভব হবে এবং মানুষ বুক ভরে শ্বাস নিতে পারবে।’
প্রধানমন্ত্রীর পরিদর্শনের পর বন্ধ সরকারি কোয়ার্টারের ‘হাট-বাজার’
আমিনবাজারের এই উদ্যোগকে চার কিলোমিটার এলাকার বাইরেও বিস্তৃত করার জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসককে পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি মহাসড়কের দুই পাশে থাকা মিল-কারখানার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভাগ করে পরিচর্যার দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় দুই দশক ধরে আমিনবাজার এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ৩০ ফুট পর্যন্ত উঁচু স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল। গত জুলাই মাসে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বর্ষাকালীন মহড়া পরিদর্শনে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বর্জ্যের ভাগাড় ও দুর্গন্ধ প্রত্যক্ষ করেন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের তত্ত্বাবধানে সাভার উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার সহযোগিতায় ৩ মাসের প্রচেষ্টায় জমে থাকা বিপুল বর্জ্য অপসারণ করা হয়।
বক্তব্য রাখছেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট মেটার (ফেসবুক) মুনাফাকেন্দ্রিক অ্যালগরিদম ও প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু কঠোর আইন করে অপতথ্য ও সাইবার অপরাধ ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
তিনি বলেছেন, অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে বর্তমান বিতর্কিত কাঠামোয় সাইবার সুরক্ষা আইন পাস করা হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হবে। একই সঙ্গে এটি সরকারের জন্যও বুমেরাং ও আত্মঘাতী হতে পারে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে নাগরিক সমাজের ১৯টি সংগঠন ও সম্প্রতি গঠিত গণমাধ্যম কমিটির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের যেসব দেশ অপতথ্য নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা মেটার অ্যালগরিদমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে এক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অপতথ্য ও ভুয়া খবর ছড়ানোর পেছনে প্ল্যাটফর্মগুলোর বিপুল আর্থিক মুনাফার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসা বাড়ানোর স্বার্থে মেটা সংঘাত ও সহিংসতামূলক বক্তব্যকে বেশি প্রচার করে, অথচ ধর্মনিরপেক্ষ বা যৌক্তিক আলোচনাকে সেন্সর করে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তি ব্যবসার অশুভ আঁতাতের ফলে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহি নিশ্চিত না করে সাধারণ নাগরিকদের ওপর আইন চাপিয়ে দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান নয়।
আলোচনায় ডেইলি ওয়াদার সম্পাদক শফিকুল আলম এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ২০১২ সালে রামু বৌদ্ধপল্লিতে হামলা ও ২৫টি প্যাগোডা ভাঙচুর, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের গণহত্যা উসকে দেওয়া এবং সম্প্রতি ফেসবুকে সংঘবদ্ধভাবে মব তৈরি করে পিটিয়ে হত্যার মতো সহিংসতার ঘটনায় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ফেসবুকের অপব্যবহার ছিল।
শফিকুল আলম বলেন, ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক সমন্বয়ের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৬(ক) ধারা বাদ দেওয়া, ২৫ ধারায় মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য না করা, ৮(৩) ধারার অপব্যবহার রোধ এবং সাংবাদিকদের বিচারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ব্যবস্থা বাতিল করার বিষয়ে বৃহত্তর ঐকমত্য রয়েছে। তবে সামাজিক মাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার ও ইউটিউবারদের মাধ্যমে চরিত্রহনন এবং লাগামহীন অপপ্রচার থেকে সুরক্ষার উপায়ও বের করতে হবে।
যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে শফিকুল আলম পরামর্শ দেন, মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় না রেখে দেওয়ানি আইনের অধীনে এনে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার বিধান করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, বিদেশে বড় পত্রিকাগুলো সম্ভাব্য মানহানি মামলার জরিমানা পরিশোধের জন্য কোটি কোটি টাকার বাজেট রাখে। বাংলাদেশেও এমন ব্যবস্থা থাকা উচিত, যাতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে কারও সম্মানহানি করলে তাকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও জরিমানা দিতে হয়।
তদন্ত কর্মকর্তার ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ
প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দেওয়া ক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি দেখে মনে হচ্ছে, এটি শুধু ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের সুরক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
এতে গণমাধ্যমকর্মীদের হাত-পা বেঁধে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একজন ব্যক্তির অপরাধ বা ভুলের কারণে পুরো গণমাধ্যম বা মিডিয়া হাউস বন্ধ করে দেওয়ার মতো বিধানও রয়েছে।
শহীদুল ইসলাম আরও বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে গণমাধ্যমের ডেটা সেন্টারসহ সব প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি জব্দ করার অবাধ ক্ষমতা পেয়েছেন। এতে একটি পুরো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এ ছাড়া মানহানির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞাও আইনে নেই।
তৃণমূল পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত বিবেচনায় নিয়ে গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
সাইবার কাউন্সিলে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্বের দাবি
আলোচনায় রাজনীতি ডটকমের সম্পাদক ও প্রকাশক শরীফুজ্জামান পিন্টু প্রস্তাবিত আইনের দায়মুক্তির বিধান এবং অপরাধের অস্পষ্ট সংজ্ঞা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, অতীতে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) আইন কিংবা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও দায়মুক্তির বিধান ছিল না। সাংবাদিকতা ও মূলধারার গণমাধ্যম যাতে এ আইনের অপপ্রয়োগের শিকার না হয়, সে জন্য তাদের আইনের আওতাবহির্ভূত রাখার বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকা প্রয়োজন।
অনলাইন কনটেন্ট ব্লকের প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের গঠনকাঠামো নিয়েও আপত্তি জানান শরীফুজ্জামান পিন্টু।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান করে পাঁচজন মন্ত্রী, ৯ জন সচিব এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের নিয়ে প্রস্তাবিত কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিত্ব ও ভারসাম্য নেই। নির্বাহী বিভাগকে এভাবে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা দেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য শুভ নয়।
কাউন্সিলে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সদস্য হিসেবে মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
সমাপনী বক্তব্যে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের সুরক্ষার প্রশ্নে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যম একই পথের যাত্রী। তাই তাদের মধ্যে সমন্বয় ও ঐক্য জরুরি। তিনি প্রস্তাবিত আইনের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের মতামতের ভিত্তিতে আইনটি সংশোধনের আহ্বান জানান।