• প্রকাশ : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৫:৫৬ এএম

২০২৩ সালে রাজধানীর সিদ্দিকবাজার ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় দুটি ভবন ধসে পড়ে। ওই বছর নগর উন্নয়ন কমিটির এক সভায় ২২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে।

তালিকায় থাকা ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার এবং ১৮৭টি ভবন রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজউকের জরিপে দেখা যায়, ঢাকায় সরকারিভাবে নির্মিত ৩৭ শতাংশ নতুন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। অতিঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবন সাত দিনের মধ্যে খালি করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু আড়াই বছর পার হলেও এসব ভবন এখনো ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।

রাজউক-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহুবার চিঠি পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজউকের তালিকায় বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুটি ভবন রয়েছে—একটি ২০২২ সালে এবং অন্যটি ২০০৮ সালে নির্মিত। হাজারীবাগের সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত আটতলা ভবন এবং আশুলিয়ার দোসাইদ এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০১৭ সালের ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ।

সরকারি সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঝুঁকির পেছনে রয়েছে নির্মাণের ত্রুটি ও বিল্ডিং কোড না মানা। অথচ এসব ভবন নির্মিত হয়েছে সরকারি উদ্যোগেই।

রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক বলেন, মধুপুর ফাটলরেখায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৯টি ভবন ধসে পড়তে পারে—যা মোট ভবনের ৪০ শতাংশের কিছু বেশি। এতে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার (তিন লাখ কোটি টাকা) এবং ভবন মেরামত বা পুনর্নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার (৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা)।

রাজউক সূত্র জানায়, ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় মোট ব্যয় ৫৬৮ কোটি টাকা। এর আওতায় ২ হাজার ৭০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০৭টি হাসপাতাল, ৩৬টি থানা ও ৩০৪টি অন্যান্য ভবন জরিপ করা হয়। জরিপে ১৮৭টি ভবনের রেট্রোফিটিং এবং ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়।

ভাঙার তালিকায় রয়েছে পিজি হাসপাতালের তিনটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি, মাদ্রাসা বোর্ডের তিনটি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত ৩০টি ভবন।

রেট্রোফিটিংয়ের তালিকায় আছে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির তিনটি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চারটি, মাদ্রাসা বোর্ডের ছয়টি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১০টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৫৪টি ভবন।

ঝুঁকিপূর্ণ ২২৯টি ভবনের মধ্যে ৮৫টি ভবন নির্মিত হয়েছে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে, যা মোট সংখ্যার ৩৭ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নির্মিত ভবনের সংখ্যা আটটি, আর ২০১০ সালের পর নির্মিত ভবনের সংখ্যা ৪৯টি।

ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি এক বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছি। কোন ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, তা আমার জানা নেই।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক মনোয়ার জাহেদী বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে রাজউক একটি তালিকা করেছিল। তবে এসব ভবনের অধিকাংশই বেসরকারি স্কুলের, তাই রেট্রোফিটিংয়ের দায়িত্ব আমাদের নয়।’

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘রাজউক দুটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেছে, তবে কোন দুটি তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি। পরে বুয়েটের প্রকৌশলীদের দিয়ে পরীক্ষা করালে তারাও ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দেখা গেছে—ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে থাকা এবং অন্যান্য ত্রুটি। ২৯ এপ্রিল অবকাশ ভবনের দোতলার কার্নিশ ভেঙে পড়ে একজন কর্মকর্তা আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বসেছিলাম। হঠাৎ ভবনটি দুলতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে বারান্দায় চলে যাই। অনেকেই ভবন থেকে দৌড়ে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘বুয়েটকে ভবনের অবস্থা জানতে বলেছিলাম, তারা রাজউকের প্রতিবেদন চায়। রাজউককে একাধিক চিঠি দিয়েও প্রতিবেদন পাইনি। নিজেরা পরীক্ষা করতে চাইলে বুয়েট জানায়, চারটি ভবন পরীক্ষায় খরচ হবে ৪৫ লাখ টাকা। ইউজিসিকে চিঠি দিয়েও বরাদ্দ মেলেনি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, রাজউকের তিনটি প্রধান কাজ—পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ। তারা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। ভবন মালিক ও প্রকৌশলীরাও দায় এড়াতে পারেন না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজউকের আইনি ক্ষমতা রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার। সিটি করপোরেশন আইনেও একই ক্ষমতা দেওয়া আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তালিকা তৈরি করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় রাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।’

রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, ‘ঢাকায় ভবনগুলোয় ন্যূনতম মান বজায় রাখা হচ্ছে না। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং ক্ষতি হতে পারে ২৫ মিলিয়ন ডলার। যেসব ভবন রেট্রোফিটিং করা সম্ভব, সেগুলোর জন্য খরচ হবে ৬২ মিলিয়ন ডলার।’

ভূমিকম্প আতঙ্কে ঢাকাবাসীর মধ্যে অনেকে শহর ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। মিরপুর-১ এলাকার বাসিন্দা সাদেকুর রহমান কামাল বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে জেগে উঠি। এখন ঢাকায় থাকা না থাকার প্রশ্নটি নতুনভাবে ভাবছি।’

মিটফোর্ড এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ খান বলেন, ‘এখানকার ভবনগুলো পুরোনো এবং একটির সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। দুর্ঘটনার সময় নিরাপদ জায়গায় দাঁড়ানোরও সুযোগ নেই। বড় ভূমিকম্প হলে কী হবে, একমাত্র আল্লাহ জানেন। ভাবছি দ্রুত গ্রামের বাড়ি চলে যাব।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৯ এএম

প্রাইজবন্ডের ১২৫তম ড্র আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে। এ ড্রয়ে প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী পাবেন ৬ লাখ টাকা। এছাড়া দ্বিতীয় পুরস্কার ৩ লাখ ২৫ হাজার, তৃতীয় পুরস্কার ১ লাখ, চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার এবং পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সঞ্চয়ের প্রবণতা বাড়াতে সরকার বাংলাদেশ প্রাইজবন্ড চালু করে। প্রাইজবন্ডের অন্যতম সুবিধা হলো, এটি যেকোনো সময় কেনা ও ভাঙানো যায়। পাশাপাশি নির্ধারিত ড্রয়ে বিজয়ী হলে বন্ডের বিপরীতে পুরস্কারের অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।


প্রাইজবন্ডের ড্রয়ে ঘোষিত প্রতিটি বিজয়ী নম্বরের বিপরীতে সব সিরিজের একই নম্বরের বন্ড পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ড্রয়ের তারিখের আগের ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ড এ ড্রয়ের আওতায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে বন্ড বিক্রির দিন গণনায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ড্রয়ের তারিখ গণনা করা হবে না।


আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। ফলে বিজয়ীকে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ দেওয়া হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত ড্রয়ের তারিখের আগের ৬০ দিনের মধ্যে বিক্রি হওয়া প্রাইজবন্ড এ ড্রয়ের আওতায় থাকবে। এ ক্ষেত্রে বন্ড বিক্রির দিন গণনায় অন্তর্ভুক্ত হলেও ড্রয়ের তারিখ গণনা করা হবে না।


আয়কর আইন, ২০২৩-এর ১১৮ ধারা অনুযায়ী, প্রাইজবন্ডের পুরস্কারের অর্থ থেকে ২৫ শতাংশ হারে উৎসে কর কাটা হয়। ফলে বিজয়ীকে কর কর্তনের পর অবশিষ্ট অর্থ দেওয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৮ এএম

মোটরসাইকেলের বিনামূল্যে সার্ভিসিং দিচ্ছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকাল ৪টা ৩৪ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন ফাউন্ডেশনটির চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ।


ফেসবুক পোস্টে শায়খ আহমাদুল্লাহ লিখেছেন, ‘এ যাবৎ ২৮০০+ মোবাইল এবং ৫০০+ মোটরসাইকেল ফ্রি সার্ভিসিং করেছে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন। আপনিও নিতে পারেন আমাদের সেবা।’


তবে কীভাবে এ সেবা গ্রহণ করা যাবে, সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানাননি শায়খ আহমাদুল্লাহ। এদিকে, মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগানোর সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ১৫ নভেম্বরের পরিবর্তে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।


বিআরটিএ চেয়ারম্যানের পাঠানো বিবেচ্যপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


বিবেচ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত মোটরযানের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৭৪ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৫০ লাখই মোটরসাইকেল। এত বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেলের সামনে স্বল্প সময়ের মধ্যে নম্বরপ্লেট সংযোজন করা প্রায় অসম্ভব।


এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোটরসাইকেল চালক ও মালিকদের নানা মতামত ও আলোচনা সামনে এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই নম্বরপ্লেট লাগানোর সময়সীমা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এর আগে বিআরটিএর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছিল, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে মোটরসাইকেলের সামনে ম্যানুয়াল নম্বরপ্লেট লাগিয়ে প্রদর্শন করতে হবে।


সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে আগে থেকেই আরএফআইডি সংবলিত উন্নতমানের রেট্রো-রিফ্লেকটিভ ধাতব প্লেটে নম্বর প্রদর্শনের নিয়ম রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় এখন মোটরসাইকেলের সামনের দিকেও নম্বরপ্লেট লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


বিআরটিএর নির্দেশনা অনুযায়ী, স্কুটারের নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য হতে হবে ২০০ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ১০০ মিলিমিটার। অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরপ্লেটের দৈর্ঘ্য ২৮৫ মিলিমিটার ও প্রস্থ ৫০ মিলিমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় ধরনের নম্বরপ্লেটেই অক্ষর ও সংখ্যার উচ্চতা অন্তত ২০ মিলিমিটার হতে হবে। নম্বরপ্লেট তৈরিতে ব্যবহার করতে হবে স্টেইনলেস স্টিল অথবা অ্যালুমিনিয়াম।


এ ছাড়া নম্বরপ্লেটের সাদা পটভূমিতে কালো রঙে বাংলা হরফ ও সংখ্যা লিখতে হবে। এতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত নকশা বা শোভাবর্ধক উপাদান ব্যবহার করা যাবে না।


স্কুটার ছাড়া অন্যান্য মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে নম্বরটি সোজাসুজি এক লাইনে বসানোর সুযোগ রাখা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০৫ পিএম

বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের সম্পূর্ণ কিংবা আংশিক অন্যের কাছে ভাড়া দেওয়া বন্ধে কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর। ইতোমধ্যে যারা বাসা বা ফ্ল্যাট সাবলেট দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়া সরিয়ে নিজ নিজ বরাদ্দ বাসায় বসবাসের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্ধারিত সময়ের পরও কোনো বাসা বা ফ্ল্যাট সাবলেট পাওয়া গেলে কারণ দর্শানোর সুযোগ ছাড়াই বরাদ্দ বাতিলসহ শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিদর্শন দলের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কিছু বরাদ্দপ্রাপক তাদের নামে বরাদ্দ পাওয়া সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটের এক বা দুই কক্ষ কিংবা পুরো বাসা অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিয়েছেন। এ ধরনের কার্যক্রম বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২-এর পরিপন্থি। এ অবস্থায় সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন কোনো বাসা বা ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক তার নামে বরাদ্দ পাওয়া বাসার সম্পূর্ণ বা আংশিক, এমনকি এক বা একাধিক কক্ষও অন্যের কাছে সাবলেট বা ভাড়া দিতে পারবেন না।


যারা ইতোমধ্যে সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাট অন্যের কাছে ভাড়া দিয়েছেন, তাদের আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ভাড়াটিয়াদের আবশ্যিকভাবে সরিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দপ্রাপকদের নিয়ম অনুযায়ী নিজ নিজ বরাদ্দ বাসায় বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রমের পর কোনো সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাটে সাবলেট বা ভাড়াটিয়া পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপককে আর কোনো কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হবে না। সরাসরি বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধিমালা, ১৯৮২ অনুযায়ী তার বাসার বরাদ্দ বাতিলসহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পাশাপাশি একই বিধিমালার ১৪(৩) বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বরাদ্দপ্রাপকের অফিসপ্রধান ও নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে। তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাবে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।


সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের আওতাধীন সব বাসা ও ফ্ল্যাটের বরাদ্দপ্রাপক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে। 

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে চাইলেও দেশের জনগণ তা গ্রহণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।


তিনি বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। তারা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ কোনোদিন রাজনৈতিক দল ছিল না। কারণ তাদের ডিএনএর মধ্যে কোনো গণতন্ত্রের বীজ ছিল না। তারা একটা স্বৈরতান্ত্রিক একটি মাফিয়া শক্তি ছিল। অরাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তারা নিজেদেরকে প্রমাণিত করেছে। তারা গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই-২০২৬ ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশে ১৪০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে, জাতিসংঘের হিসাব মতে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এ সংখ্যা ২ হাজারের বেশি। যারা গণহত্যা চালিয়েছে, ম্যাসাকার করেছে, এদেশের নিরীহ জনগণকে তারা হত্যা করেছে। তারা এখনো পর্যন্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেনি। তারা দুঃখ প্রকাশ করেনি।তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে আওয়ামী লীগ জঙ্গিবাদী হিসেবে আখ্যায়িত করার চেষ্টা করেছিল। এ পরিস্থিতিতে দলটি আবার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি করতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলে তিনি মনে করেন।আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কে কখন দেশে আসতে চায়, তা নিয়ে আমরা বিচলিত নন। সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। কেউ দেশে এলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা অঙ্গীকার আবদ্ধ যার সন্তানই হোক সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হয় নাই।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

জাপানে চার দিনের সরকারি সফর শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


জাপানের স্থানীয় সময় রাত ১০ টা ৫৬ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা তিনি। এদিনই রাত আনুমানিক ২ টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি অবতরণের কথা রয়েছে।


এই সফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


সফরকালে কৃষি, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য-প্রযুক্তি এবং শিল্প খাতের মানোন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে দুই দেশের মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেন। তার এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় এবং কৌশলগত অংশীদারি নিয়ে আলোচনা হয়।এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সম্রাট নারুহিতোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি তিনি জাপানি বিনিয়োগকারী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ‌‘বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট’-এ অংশ নিয়ে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের নানা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৮ পিএম

ডিজিটাল পদ্ধতিতে আসামি আদালতে হাজির করা গেলে বিচার ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, ‘বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।’বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ‎সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন কারাগার থেকে যে পরিমাণ আসামিকে কোর্টে হাজির করতে হয় ধার্য তারিখে, এই হাজির করাটা একদিকে যেমন মোবিলাইজেশনের ব্যাপার; আমার গাড়ি লাগছে, সিকিউরিটি দিতে হচ্ছে এত ঝামেলার মধ্যে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একটা সেক্টরকে আদালতের এখানেই ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে।’


এটি করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।মামলার জট নিষ্পত্তিতে সরকার বাছাই করে বিচারক নিয়োগের পরিকল্পনা করছে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বিচার ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করে জনগণের আস্থায় নিতে চায় সরকার। সারা দেশে চলমান ৪৬ লাখ মামলা নিষ্পত্তি করা ২৩০০ জজের জন্য খুবই কষ্টকর। অন্যদিকে অনেক জুডিশিয়াল কর্মকর্তা ঠিকমতো কাজ না করে আয়েশি জীবন কাটাচ্ছে।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ টেনে আইনমন্ত্রী জানান, কোনো কোনো আসামির ক্ষেত্রে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে চালু করেছি যে, উনারা হাজিরা দেবেন ধার্য তারিখে, কারাগারে থাকবেন, আদালত দেখছেন, ওখান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে হাজির করে কনফার্ম করছেন। আদালত তার ডিজিটাল হাজিরা কনফার্ম করে নিচ্ছেন।


মন্ত্রী জানান, সংবিধান সংশোধনে জুলাই যোদ্ধা, শহীদদের পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর