• প্রকাশ : বুধবার ২৬ নভেম্বর, ২০২৫, সময় : ৫:৫৬ এএম

২০২৩ সালে রাজধানীর সিদ্দিকবাজার ও সায়েন্স ল্যাব এলাকায় দুটি ভবন ধসে পড়ে। ওই বছর নগর উন্নয়ন কমিটির এক সভায় ২২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় এসব ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি করে।

তালিকায় থাকা ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার এবং ১৮৭টি ভবন রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে সংস্কার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজউকের জরিপে দেখা যায়, ঢাকায় সরকারিভাবে নির্মিত ৩৭ শতাংশ নতুন ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। অতিঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবন সাত দিনের মধ্যে খালি করার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু আড়াই বছর পার হলেও এসব ভবন এখনো ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়ে গেছে।

রাজউক-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বহুবার চিঠি পাঠানো হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রাজউকের তালিকায় বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দুটি ভবন রয়েছে—একটি ২০২২ সালে এবং অন্যটি ২০০৮ সালে নির্মিত। হাজারীবাগের সালেহা উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত আটতলা ভবন এবং আশুলিয়ার দোসাইদ এ কে স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০১৭ সালের ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ।

সরকারি সংস্থাগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঝুঁকির পেছনে রয়েছে নির্মাণের ত্রুটি ও বিল্ডিং কোড না মানা। অথচ এসব ভবন নির্মিত হয়েছে সরকারি উদ্যোগেই।

রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. ওয়াহিদ সাদিক বলেন, মধুপুর ফাটলরেখায় ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ঢাকার ৮ লাখ ৬৪ হাজার ৬১৯টি ভবন ধসে পড়তে পারে—যা মোট ভবনের ৪০ শতাংশের কিছু বেশি। এতে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলার (তিন লাখ কোটি টাকা) এবং ভবন মেরামত বা পুনর্নির্মাণে ব্যয় হবে ৪ হাজার ৩৭০ কোটি ডলার (৫ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা)।

রাজউক সূত্র জানায়, ‘আরবান রেজিলিয়েন্স’ প্রকল্পের আওতায় মোট ব্যয় ৫৬৮ কোটি টাকা। এর আওতায় ২ হাজার ৭০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ২০৭টি হাসপাতাল, ৩৬টি থানা ও ৩০৪টি অন্যান্য ভবন জরিপ করা হয়। জরিপে ১৮৭টি ভবনের রেট্রোফিটিং এবং ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলার সুপারিশ করা হয়।

ভাঙার তালিকায় রয়েছে পিজি হাসপাতালের তিনটি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি, মাদ্রাসা বোর্ডের তিনটি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত ৩০টি ভবন।

রেট্রোফিটিংয়ের তালিকায় আছে ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির তিনটি, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চারটি, মাদ্রাসা বোর্ডের ছয়টি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ১০টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০টি এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১৫৪টি ভবন।

ঝুঁকিপূর্ণ ২২৯টি ভবনের মধ্যে ৮৫টি ভবন নির্মিত হয়েছে ২০০০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে, যা মোট সংখ্যার ৩৭ শতাংশের বেশি। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নির্মিত ভবনের সংখ্যা আটটি, আর ২০১০ সালের পর নির্মিত ভবনের সংখ্যা ৪৯টি।

ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমি এক বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছি। কোন ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ, তা আমার জানা নেই।’

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেক মনোয়ার জাহেদী বলেন, ‘বছর দুয়েক আগে রাজউক একটি তালিকা করেছিল। তবে এসব ভবনের অধিকাংশই বেসরকারি স্কুলের, তাই রেট্রোফিটিংয়ের দায়িত্ব আমাদের নয়।’

বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, ‘রাজউক দুটি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলেছে, তবে কোন দুটি তা নির্দিষ্ট করে জানায়নি। পরে বুয়েটের প্রকৌশলীদের দিয়ে পরীক্ষা করালে তারাও ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি অতিঝুঁকিপূর্ণ ভবনে দেখা গেছে—ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে রড বেরিয়ে থাকা এবং অন্যান্য ত্রুটি। ২৯ এপ্রিল অবকাশ ভবনের দোতলার কার্নিশ ভেঙে পড়ে একজন কর্মকর্তা আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিফাত হোসেন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বসেছিলাম। হঠাৎ ভবনটি দুলতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে বারান্দায় চলে যাই। অনেকেই ভবন থেকে দৌড়ে ফাঁকা জায়গায় চলে যায়।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, ‘বুয়েটকে ভবনের অবস্থা জানতে বলেছিলাম, তারা রাজউকের প্রতিবেদন চায়। রাজউককে একাধিক চিঠি দিয়েও প্রতিবেদন পাইনি। নিজেরা পরীক্ষা করতে চাইলে বুয়েট জানায়, চারটি ভবন পরীক্ষায় খরচ হবে ৪৫ লাখ টাকা। ইউজিসিকে চিঠি দিয়েও বরাদ্দ মেলেনি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক আকতার মাহমুদ বলেন, রাজউকের তিনটি প্রধান কাজ—পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ। তারা উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। ভবন মালিক ও প্রকৌশলীরাও দায় এড়াতে পারেন না।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ‘রাজউকের আইনি ক্ষমতা রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভাঙার। সিটি করপোরেশন আইনেও একই ক্ষমতা দেওয়া আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তালিকা তৈরি করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেয় না। দুর্ঘটনা ঘটলে দায় রাষ্ট্রের ওপরই পড়ে।’

রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, ‘ঢাকায় ভবনগুলোয় ন্যূনতম মান বজায় রাখা হচ্ছে না। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হতে পারে এবং ক্ষতি হতে পারে ২৫ মিলিয়ন ডলার। যেসব ভবন রেট্রোফিটিং করা সম্ভব, সেগুলোর জন্য খরচ হবে ৬২ মিলিয়ন ডলার।’

ভূমিকম্প আতঙ্কে ঢাকাবাসীর মধ্যে অনেকে শহর ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। মিরপুর-১ এলাকার বাসিন্দা সাদেকুর রহমান কামাল বলেন, ‘ভূমিকম্পের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঘুমের মধ্যেও আতঙ্কে জেগে উঠি। এখন ঢাকায় থাকা না থাকার প্রশ্নটি নতুনভাবে ভাবছি।’

মিটফোর্ড এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ আহমেদ খান বলেন, ‘এখানকার ভবনগুলো পুরোনো এবং একটির সঙ্গে আরেকটি লাগোয়া। দুর্ঘটনার সময় নিরাপদ জায়গায় দাঁড়ানোরও সুযোগ নেই। বড় ভূমিকম্প হলে কী হবে, একমাত্র আল্লাহ জানেন। ভাবছি দ্রুত গ্রামের বাড়ি চলে যাব।’




  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৮ পিএম

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট কাটাতে এরই মধ্যে সরকারের জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলা কাজ শুরু করেছে। যুক্তরাজ্য থেকে তিন সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ দল ত্রুটি সারাতে কাজ শুরু করেছে। তবে দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো এখন পর্যন্ত টার্মিনালটি কবে নাগাদ চালু হবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাতে পারেনি।


গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকবার দুঃখ প্রকাশ করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাসের আওতাভুক্ত সব শ্রেণির গ্রাহকদের গ্যাসের তীব্র সংকটে ভুগতে হবে। এর আগে শনিবার পেট্রোবাংলা আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক্সিলারেট এনার্জির এফএসআরইউ কারিগরি ত্রুটি সারাতে দেশি ও বিদেশি টেকনিক্যাল টিম নিরলসভাবে কাজ করছে। দ্রুত এ কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।


পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, এ কারিগরি ত্রুটির জন্য তিতাস গ্যাসের আওতাধীন আবাসিক, শিল্প, বাণিজ্যিক ও সিএনজিসহ সব শ্রেণির গ্রাহকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।


প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এফএসআরইউ-তে আগুন ও কারিগরি ত্রুটির ঘটনা ঘটে। তারপর থেকে টার্মিনালটি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমেছে। এতে মোট সরবরাহ ২ হাজার ৬২০ এমএমসিএফডি থেকে কমে প্রায় ২ হাজার ১৭০ এমএমসিএফডিতে নেমেছে, যেখানে দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ এমএমসিএফডি।


বাংলাদেশে বর্তমানে দুটি এফএসআরইউ রয়েছে। এগুলো থেকে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৯৭০ এমএমসিএফডি এলএনজি


সরবরাহ করা হয়, যা মোট গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩৭ শতাংশ। বর্তমানে একটি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ গ্যাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। জানা যায়, শর্টসার্কিটের কারণে সৃষ্ট আগুনে টার্মিনালে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে। এগুলো প্রতিস্থাপনের জন্য যুক্তরাজ্য প্রকৌশলী আনা হয়েছে। তারা গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্যাবল ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ মেরামত করছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত টার্মিনাল চালুর তাগিদ দেওয়া হলেও এক্সিলারেট কর্তৃপক্ষ এখনো নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেনি। আগামী পাঁচ থেকে আট দিনের মধ্যে টার্মিনালটি আংশিক চালু করা সম্ভব হলে দৈনিক প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।


ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৪৮ পিএম

আওয়ামী লীগের শাসনামলের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করলে মানুষ বিএনপিকে বিশ্বাস করবে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।


রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, লক্ষ্মীপুর জেলা আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘পার্লামেন্টে বক্তব্যটা দায়িত্বশীল আকারে দেওয়া দরকার। সেটা প্রত্যেক সংসদ সদস্যই গুছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। দেশের প্রয়োজনে এবং জনসাধারণের প্রয়োজনের সেখানে আপনার বক্তব্যটা দিতে হবে। প্রথম অধিবেশনে বিরোধী দলকে পরামর্শ আকারে কিছু কথা বলেছি।


এখন দ্বিতীয় অধিবেশনে তারা বক্তব্য দিচ্ছেন। তারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় সভা করেন। ম্যাচিউরড ও দেশপ্রেম নিয়ে যে কথাগুলো তুলে ধরা দরকার, তুলে আনা প্রয়োজন, তা তাদের সভায় উঠে আসছে না।’


তিনি বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপির রাজনীতি থেকে দেশ কী পাবে, তারা কী দিচ্ছে কিংবা জনগণ কী আশা করতে পারে—এ বিষয়টি নবীন ও প্রবীণ সবাই বোঝেন।


রাজনীতির সঙ্গে দেশপ্রেম, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে বাস্তবসম্মত চিন্তা এবং তা বাস্তবায়নের লক্ষ্য থাকা উচিত। সেখান থেকেই সেবা, সম্মান, শ্রদ্ধা ও দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়।’


আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘১৭ বছর আওয়ামী লীগের শাসন দেখে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এখন তাদের নিয়ে আলাদা করে বক্তব্য দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির রাজনীতির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে।


আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের বারবার স্মরণ করিয়ে দিই, আওয়ামী লীগ যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে, চাকরি দেওয়া থেকে শুরু করে সামাজিক কর্মকাণ্ড—সেই একই পথে আমরা হাঁটলে মানুষ আমাদের কখনো বিশ্বাসের জায়গায় রাখবে না। জবাবদিহিতার ক্ষেত্রেও আমরা পিছিয়ে পড়ব।’

শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আরো বলেন, ‘আমরা মনে করছি যুদ্ধ করতে করতে ব্যর্থ হচ্ছি, আর কত নিজেকে বিলিয়ে দিব? কিন্তু একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক কখনো পরাজিত হতে পারেন না, পিছপা হতে পারেন না। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের ও নবীন আইনজীবীদের পিছপা হওয়ার সুযোগ নেই।’


জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফেরদাউস মানিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জাতীয় সংসদের হুইপ ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমানসহ অন্যান্য নেতারা।


  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ পিএম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সময়ের চাহিদানুযায়ী আধুনিক এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেনাবাহিনী গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর।’


রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে সেনাসদর দপ্তরে আয়োজিত ‘সেনাসদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সীমান্ত নিরাপত্তা, আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আন্তঃসীমান্ত হুমকি, সাইবার ও তথ্যভিত্তিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমসহ বহুমাত্রিক ও জটিল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। ফলে বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের প্রত্যাশা ও সহনশীলতাকে বিবেচনায় রেখে প্রতিরক্ষা আধুনিকায়নের একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই মডেল অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।’


তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারপ্রধান এবং একই সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আমার বিশ্বাস, বাংলাদেশের প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল শক্তি শুধু সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতায় নয়, বরং সমগ্র জাতির ঐক্য, প্রস্তুতি ও সহনশীলতায় নিহিত।’


তিনি বলেন, ‘সে লক্ষ্যেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ধারণার আলোকে একটি আধুনিক নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।


যেখানে সশস্ত্র বাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন, শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ একটি সমন্বিত জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করবে। এই নীতিমালার উদ্দেশ্য যুদ্ধকে উৎসাহিত করা নয়, বরং সম্ভাব্য যেকোনো সংকট, আগ্রাসন বা দুর্যোগ মোকাবেলায় সদাপ্রস্তুত, স্থিতিশীল এবং আত্মনির্ভরশীল সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা, যাতে দেশের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও জাতীয় স্বার্থ সর্বতোভাবে সুরক্ষিত থাকে।’


উপস্থিত জেনারেলদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সময়ে যুদ্ধের ধরন বদলেছে। নিরাপত্তা মানে কেবল ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আঞ্চলিক ভূ-কৌশলগত প্রতিযোগিতা। তাই ড্রোন প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট নজরদারি, সাইবার এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকার প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে চায়।’


তিনি বলেন, ‘এরই ধারাবাহিকতায় সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের জন্য একটি রূপরেখা প্রণয়নের কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো বাহিনীর ভবিষ্যৎ উন্নয়ন। যেখানে গুরুত্ব পাবে সংখ্যার পরিবর্তে সক্ষমতা, সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্যকারিতা, প্ল্যাটফর্ম বৃদ্ধির পরিবর্তে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং একক বাহিনীকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে যৌথতার ওপর গুরুত্বারোপ।’


তিনি আরো বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে সরকারের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়সমূহ হলো সুশৃঙ্খল, আধুনিক ও শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী গঠন, সমন্বিত প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা জোরদার, যুগোপযোগী প্রতিরক্ষা নীতি ও কৌশল প্রণয়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ এবং গণতান্ত্রিক সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততার মূল্যায়নে যথানিয়মে যোগ্যদের বাছাই করে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে গঠিত এই সিলেকশন বোর্ডের মাধ্যমেই পদায়ন কিংবা পদোন্নতির ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে আগামী দিনের দূরদর্শী এবং পেশাদার নেতৃত্বের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হবে বলে বিশ্বাস করি।’


তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনীর যেকোনো সাফল্যে আমি একধরনের গৌরববোধ করি। আবার সেনাবাহিনীর কোনো নেতিবাচক খবরে অস্বস্তি অনুভব করি।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট আমার গভীর আবেগ এবং স্মৃতিময় স্থান। আপনারা জানেন, ঘরে-বাইরে সেনা পরিবেশেই আমার কিশোর ও তারুণ্যের দিনগুলি কেটেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনীর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং বিধিবিধান সম্পর্কেও আমি অনেকটা ওয়াকিবহাল। এসব কারণে সেনাবাহিনী সম্পর্কে কিছু বলতে গেলে আমি কিছুটা স্মৃতিকাতর হই।’


তিনি বলেন, ‘সেনা পরিবেশে অনুসৃত শৃঙ্খলা এবং নিয়মতান্ত্রিক অনুশাসনের মধ্যেই আমি আমার মা-বাবা এবং একমাত্র ছোট ভাইয়ের সঙ্গে বেড়ে উঠেছি। সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমার বৃহত্তর পরিবারের অংশ বলেই মনে করি।’


তিনি আরো বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তৎকালীন মেজর জিয়া সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য ইতিহাসে পরিণত করেছেন। নিঃসন্দেহে দেশের সেনাবাহিনীর জন্য এটি একটি গৌরবময় অধ্যায়।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা থাকলেও স্বাধীনতার পরপরই সেনাবাহিনীর ইমেজ বিনষ্ট এবং সেনাবাহিনীতে অস্থিরতা সৃষ্টির একধরনের অপপ্রয়াস লক্ষণীয় ছিল। সেই অস্থির সময়েও সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানের দৃঢ় ও দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমেই সেনাবাহিনীতে শৃঙ্খলা ও পেশাদারির এক নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল।


তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই সেনাবাহিনীর সদস্যরা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করছেন। পার্বত্য ও সীমান্তবর্তী অঞ্চলে চলমান প্রায় ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘বর্ডার রোড’ প্রকল্প শুধু সীমান্ত নিরাপত্তাই নিশ্চিত করছে না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।


এ ছাড়া পার্বত্য এলাকায় সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১২০০ বর্গমিটার এলাকা মাইন ও বিস্ফোরকমুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা ও সন্ত্রাস দমনে নিয়োজিত থেকে শাহাদাতবরণকারী ২১৭ জন বীর সেনা সদস্যের পরিবারের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।


তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দক্ষতা, পেশাদারি ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বিশ্বদরবারে বিশেষ গৌরব ও মর্যাদা অর্জন করেছে।’


তারেক রহমান বলেন, সম্প্রতি সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান এবং মালিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের সম্মান সমুন্নত রেখেছেন। তবে এই গৌরবময় অর্জনের পেছনে রয়েছে আত্মোৎসর্গের ইতিহাস।


তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর দক্ষিণ সুদানে সংঘটিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয়জন শান্তিরক্ষী সদস্য শহীদ হন। আমি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।


তারেক রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে সেনাবাহিনী যে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে, গণতন্ত্রকামী জনগণ সেটি ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করবে বলে বিশ্বাস করি। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পুরো সময়জুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্থবির হয়ে পড়া অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রেও সেনাবাহিনী প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে।


তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল মূলত গণতান্ত্রিক বিধি-বিধানের প্রতি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসের অনন্য বহিঃপ্রকাশ। এ ছাড়াও বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকটময় পরিস্থিতিতেও তেল সংরক্ষণাগারগুলোতে দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।’


দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ-পরবর্তী উদ্ধার অভিযান এবং জুলাই গণজাগরণ ও বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলাসহ যেকোনো জাতীয় সংকটে সেনাবাহিনী সর্বদা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।


তিনি আরো বলেন, ফ্যাসিস্ট শাসনের সময় দেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান তাদের পেশাদারি হারিয়েছিল। সেনাবাহিনীকেও অনাকাঙ্ক্ষিত বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। বর্তমানে গণতান্ত্রিক পরিবেশে সেনাবাহিনীকে পুনরায় নিজেদের যোগ্যতা, দক্ষতা এবং পেশাদারি দিয়ে জনগণের আস্থায় থাকতে হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদোন্নতি কিংবা পদায়নের ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করলে পেশাদারি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ‘সেনাসদর সিলেকশন বোর্ড’ যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করতে পারে। মেধা এবং যোগ্যতাই হয়ে উঠুক একজন সেনা অফিসারের পদোন্নতি অর্জনের প্রধান মাপকাঠি।


তিনি বলেন, পদোন্নতির জন্য একজন অফিসারের শারীরিক যোগ্যতা এবং ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয় হওয়া উচিত।


ফিজিক্যাল ফিটনেস তথা নিয়মিত শারীরিক কসরতের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করতে গিয়ে প্রয়াত মার্কিন জেনারেল ‘নরম্যান সোয়ার্জকফ’-এর একটি মন্তব্য বেশ প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।


তিনি বলেন, জেনারেল এইচ নরম্যান সোয়ার্জকফ বলেছিলেন ‘দ্যা মোর ইউ সোয়েট ইন পিস, দ্যা লেস ইউ ব্লিড ইন ওয়্যার।’ তাই সেনাবাহিনীতে নিয়মানুবর্তিতা আর ফিটনেসের ব্যাপারে কোনো পর্যায়েই আপসের সুযোগ নেই।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্বাচন পর্ষদের মাধ্যমে নির্বাচিত কর্মকর্তাগণ ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাফল্য, গৌরব ও পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা আরও সুদৃঢ় করবেন। বর্তমান সরকারের দর্শন হচ্ছে, দেশের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

  • প্রকাশ : রবিবার ২৬ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৭ পিএম

বাংলাদেশের চা শিল্পের বিকাশ, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শিল্পের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দেশের চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে আয়োজিত এক সভায় তিনি এই আশ্বাস দেন।


সভায় দেশের বিভিন্ন চা বাগানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা শিল্পের বর্তমান অবস্থা, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থায়নের সংকট, জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জসহ বিভিন্ন বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তারা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে কিছু দাবি-প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং চা শিল্পকে দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে উল্লেখ করেন। 


প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ শিল্পের বিকাশে সরকার প্রয়োজনীয় নীতিগত, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে। সভায় প্রধানমন্ত্রী চা বাগান মালিকদের বিদ্যমান ঋণের দায় সহজীকরণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি চা বাগানে চাষের অনুপযোগী জমিতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমতি দেয়ার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানান এবং এ ধরনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা দেয়ার আশ্বাস দেন।


প্রধানমন্ত্রী চা শিল্পের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধান করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং চা শিল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।


সভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং চা বাগান মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪২ এএম

রাজধানীর মতিঝিলের মেট্রোরেল স্টেশন এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের পর তা নিষ্ক্রিয় করা হয়। সেই সময় ওই শব্দ হয়। তবে বোমা হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম সমকালকে বলেন, মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছাতার মধ্যে লুকানো বোমাসদৃশ বস্তুটি পাওয়া যায়।নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকা ঘিরে রাখা হয়। পরে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল পৌঁছে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। তখন বিকট শব্দ হয়। এতে কেউ হতাহত হননি। তবে কেউ ভুলে ছাতা ভেবে সেটি বহন করতে গেলে বিপত্তি হতে পারতো।

এদিকে বিস্ফোরণের শব্দের পর ওই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশে আর কোথাও এমন বোমা বা বোমাসদৃশ বস্তু আছে কি না তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। নিষ্ক্রিয় করা ‘বোমা’র ভেতরে শক্তিশালী বিস্ফোরক ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এক কর্মকর্তা জানান, নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি আইডি বোমা বা ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। এটি শক্তিশালী বোমা ছিল।

বিষয় : বোমা


সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: রয়টার্স

  • প্রকাশ : শনিবার ২৫ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৩৬ এএম

পদত্যাগের পরও সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আজীবন পেনশন, মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা সুবিধা, নিরাপত্তা, সরকারের দেওয়া অফিস-স্টাফ, কূটনৈতিক পাসপোর্টসহ নানা সুবিধা পাবেন। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেতনের ৭৫ শতাংশ হিসেবে মাসে ৯০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতির বেতন বৃদ্ধি পেলে পেনশনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

২০১৬ সালের রাষ্ট্রপতির অবসরভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইনে বলা হয়েছে, সাবেক রাষ্ট্রপতিরা কী সুবিধা পাবেন। তবে এই সুবিধা পেতে অন্তত ছয় মাস রাষ্ট্রপতি পদে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করা মো. সাহাবুদ্দিন তিন বছর তিন মাস বঙ্গভবনে ছিলেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন কর্মজীবনে জেলা জজ ছিলেন। আইন অনুযায়ী, তিনি যে কোনো একটি পেনশন পাবেন। মৃত্যুর পর তাঁর দুই তৃতীয়াংশ পেনশন সুবিধা কার্যকর হবে।

আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি একজন ব্যক্তিগত সহকারী ও একজন অ্যাটেন্ড্যান্ট এবং অফিস পরিচালনার খরচ পাবেন সরকারের কাছ থেকে। ব্যয় কত হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকার। 

একজন মন্ত্রীর সমান চিকিৎসা-সুবিধা পাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। একজন মন্ত্রী দেশে ও বিদেশে শতভাগ সরকারি খরচে চিকিৎসা সুবিধা পান। রাষ্ট্রপতির স্ত্রীও এই সুবিধা পাবেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিলে বিনা খরচে সরকারি যানবাহন ব্যবহার করতে পারবেন। বাসায় ব্যবহারের জন্য টেলিফোন পাবেন। নির্ধারিত সীমা পর্যন্ত বিল সরকার পরিশোধ করবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর স্ত্রী কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাবেন। তাঁরা দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের সময় সরকারি সার্কিট হাউস বা রেস্ট হাউসে বিনা ভাড়ায় থাকতে পারবেন। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি এইসব সুবিধা পাবেন যদি ভবিষ্যতে কোনো সরকারি পদে অধিষ্ঠিত হন। নৈতিক স্খলনের কারণে দণ্ডিত হলে অবসর সুবিধা বাতিল হবে।

চাইলে মাসিক পেনশনের বদলে এককালীন অর্থও নিতে পারবেন বিদায়ী রাষ্ট্রপতি। তবে এ জন্য অবসরে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইচ্ছাপোষণ করতে হবে।