কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলাম ও সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈন
ঢাকার শ্যামলীতে আলোচিত কিডনি চিকিৎসক কামরুল ইসলামের হাসপাতালে 'চাঁদাবাজির' ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
এই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মঈন এক নম্বর আসামি ছিলেন। আজ সোমবার র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো খুদেবার্তায় মঈনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে।
মঈন ছাড়া আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও তাদের নাম-পরিচয় জানায়নি র্যাব। এর আগে মঈনের চার সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়। ওই চারজন হলেন: মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)।
এর আগে শ্যামলীতে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার ইনচার্জ মো. আবু হানিফ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে এক নম্বর আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিকালে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের শেরেবাংলা নগর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) আক্কাস আলী বলেন, 'হাসপাতালে চাঁদাবাজির ঘটনায় একজনের নাম উল্লেখ ও আরও ৭-৮ জনকে অজ্ঞাত উল্লেখ করে মামলা নেওয়া হয়েছে।'
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, 'মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা দাবি করে আসছে। দাবি করা চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা আমাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ এপ্রিল সকালে শেরেবাংলা নগর থানার শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে আমার বাসার সামনে এসে দরজা খুলতে বলে। আমার স্ত্রী দরজা খুলে দিলে মঈন আমার স্ত্রীকে বলে, চাঁদাবাবদ এখনই তাদের ৫ লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে আমিসহ আমার স্ত্রীর বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির হুমকি দেয়। আমার স্ত্রী চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে।'
এজাহারে আরও বলা হয়, 'এ সময় আমি বাসার অন্য একটি রুমে অবস্থান করি এবং পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কা করে হাসপাতালে অবস্থানরত আমার ছোট ভাই মো. মনির তালুকদারকে (৩৫) বাসায় আসতে ফোন করি। পরে আমার ভাই বাসায় পৌঁছালে মঈনসহ অজ্ঞাত সাত-আট জন ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে আরও লোকজন জড়ো করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক সমবেত করে সিকেডি হাসপাতালের সামনে এসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের সামনে অবস্থান নিয়ে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করে, উচ্চস্বরে স্লোগান দেয়, গালাগালি করে এবং পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালায়।'
মামলায় বাদী আরও অভিযোগ করেন, 'এমনকি তারা সিকেডি হাসপাতালের মালিক মো. কামরুল ইসলামকে হুমকিসূচক স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া তারা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে এবং পুরো ঘটনাটিকে পরিকল্পিতভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা মেডিক্যালের ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্টের সামনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। এর ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।'
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া তিনটার দিকে এনসিপির আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানান।
তিনি লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সিলেটে ফেরার পথে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে আবারও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী।’
সারজিস আলমও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে তিনটার দিকে সারজিস আলম আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।’
এদিকে, সিলেটের পুলিশ জানিয়েছে, গোলাপগঞ্জে কর্মসূচি শেষ করে সিলেটের কানাইঘাটে য়াওয়ার পথে সারজিস আলমের ঘাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙেছে; কেউ হতাহত হননি।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। সে ব্যাপারে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল এনসিপি। যদিও বিএনপি নেতারা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
এদেশে যখনই পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, তখনই প্রাণ দিতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ডিএফপি অডিটোরিয়ামে জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, জুলাইয়ের মূল্যবোধ ধারণ করে পরিবর্তনের চেষ্টা না করলে সন্তানহারা মায়েদের অশ্রু এমনি হারিয়ে যাবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, সরকার গঠনের পাঁচ মাস পার হলেও প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। এখনও ঘুষখোররা ঘুষ নিচ্ছে, তাই জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র ও সমাজে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের মধ্যে এখনো পরিবর্তন না এলেও তারেক রহমান পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিবর্তনের মনোভাব সবার মধ্যে গড়ে তুলতে পারলে আমরা জুলাইয়ের সফলতা দেখতে পাব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা প্রস্তাব তুলে ধরে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্যমান আইন সংশোধন এবং আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রস্তাবটি সরকারের কাছে পাঠানোর আগে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়ার অংশ হিসেবে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিল এবং স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানায় জামায়াত।
জামায়াতের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। অন্যদিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন, নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ এবং ইসি সচিব আখতার আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অযোগ্য করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ‘বৈষম্যমূলক’।
“এর ফলে শিক্ষকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হবে, আমার এ বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা নেই, তাহলে স্থানীয় নির্বাচনে বাধা কেন? এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ জন্য ইসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছি।”
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
বর্তমান বিএনপির সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় নেতাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “স্থানীয় নির্বাচনে পদে থেকে তারা ভোটে প্রভাব ফেলবে এবং দলের পক্ষে কাজ করবে। তাই তাদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত।"
নির্বাচন কমিশনের সাবেক কর্মকর্তা সামসুল আলমকে সম্প্রতি অতিরিক্ত সচিব হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত।
গোলাম পরওয়ার বলেন, “এ কর্মকর্তা ত্রয়োদশ সংসদে সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিএনপির একটি কমিটিতে কাজ করেছে। এমন দলীয় ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে নিয়োগ দেওয়া কোনোভাবেই সঠিক হয়নি।
“নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। এখানে দলীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ায় নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তার নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছি আমরা।”
গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ৩০ জুন আচরণবিধির খসড়ার ওপর জামায়াত যে সাত দফা মতামত দিয়েছিল, তার মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও ছিল।
এর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, “রাজনীতি করে ব্যক্তি, নির্বাচন করাটাও রাজনীতি। সুতরাং তারা যেন অংশ নিতে না পারে।...আমরা ইতোমধ্যে সাতটি দাবি জানিয়েছিলাম ৩০ জুন। এর সাথে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, অতিরিক্ত সচিবের নিয়োগ বাতিলসহ আরও দুই দফা যুক্ত করেছি আজ।”
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি ঘোষণা এবং কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়োগের মত বিষয়ে স্বাধীনভাবে ভূমিকা রাখতে পারছে না।
“নির্বাচন কমিশন বলেছে এ বছরের শেষে স্থানীয় নির্বাচন হবে। এরমধ্যে সরকারের মন্ত্রীরা একেকজন একেক তারিখ জানাচ্ছে। চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য নিয়ে আদালতের রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করে ফেলেছে। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ইসি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না।”
বৈঠকে নির্ধারিত আলোচ্যসূচির বাইরে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান গোলাম পরওয়ার।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দিয়েছি। দল থেকে বহিষ্কারই আমাদের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা। সংসদ সদস্যপদের বিষয়টি সাংবিধানিক; এটি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। আজকের বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।"
জামায়াতের প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার ও অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।
ছবি : সংগৃহীত
হবিগঞ্জে দলীয় ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। কর্মসূচি থেকে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে দলটি। মঙ্গলবার রাতে দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব এ ঘোষণা দেন। বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিল শাহবাগে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এদিকে দলের দপ্তর সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হবিগঞ্জে এনসিপির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে দলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে বিএনপির হামলার ঘটনায় দলটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপির সব মহানগর, জেলা, উপজেলা ও থানা শাখাকে নিজ নিজ এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া এবং নেতাকর্মীদের যথাসময়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে আরিফুল ইসলাম আদীব অভিযোগ করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতা জি কে গউছের অনুসারী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন। এতে দলের অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের দ্রুত আটকের দাবি জানান তিনি।
আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘আমরা দেখছি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে করমর্দন করে শিশুবান্ধব ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। অন্যদিকে হবিগঞ্জে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর রড ও পাইপ দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এর প্রতিবাদে বুধবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। দলটির দাবি, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের কর্মসূচিতে অতর্কিত হামলা চালান।
রাজধানীর বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম, ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মুদাসসিরসহ দলটির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন এই নিয়ে সরকার ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা চলছে। সরকার ও বিএনপির উচ্চ পর্যায় একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিকে এ পদে বেছে নিতে চান।সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে মনোনয়ন নিয়ে এখন পর্যন্ত বিএনপির তরফ থেকে সিদ্ধান্তমূলক কোনো বার্তা পাওনা যায়নি। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার দৌড়ে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আসছে।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, নতুন রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতা আছেন। তারা হলেন– দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান। সাবেক একজন প্রধান বিচারপতির নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন আমলার নাম শুরু থেকে আলোচনায় আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান ব্যবস্থা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে কে তাঁর উত্তরসূরি হবেন– সেটা মূলত প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। তবে এবার যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন তিনি পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের সময় দায়িত্বে থাকবেন। তাই সরকারি দলের কাছে এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিএনপির ভেতরে-বাইরে মির্জা ফখরুলকে নিয়েই বেশি আলোচনা
দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আগামী আগস্ট মাসেই চূড়ান্ত করার চিন্তা করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা চলছে। অনেকের নাম আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাঁকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা দলের ভেতরে-বাইরে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি। সরকার–সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের জন্য অপেক্ষা না করে আগস্টের দ্বিতীয় বা তৃতীয় সপ্তাহেই সম্পন্ন হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এখন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দল ও দলের বাইরের অনেকে মনে করেন, এখন পর্যন্ত তিনিই এ পদের জন্য সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত। তবে তিনি নিজে এ পদে যেতে চান কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দলীয় সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুলের পক্ষে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আসছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তাঁর পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলোর ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিষয়টি স্থায়ী কমিটির আলোচনার মাধ্যমেই আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকে এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন।
সূত্র বলছে, মির্জা ফখরুলের পক্ষে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় আসছে। এক যুগের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, কঠিন রাজনৈতিক সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা, তাঁর পরিচ্ছন্ন রাজনৈতিক ভাবমূর্তি এবং দলীয় গণ্ডির বাইরেও গ্রহণযোগ্যতা তাঁকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে। তবে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে তাঁকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে হবে। পাশাপাশি বিএনপির মহাসচিব পদেও নতুন নেতৃত্ব আনতে হবে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর ঠাকুরগাঁও-১ আসনও শূন্য হবে, ফলে ওই আসনে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হবে।
মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
আরও যারা আলোচনায়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। ১৯৭৯ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। দলটির প্রথম ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। বিভিন্ন সময় দেশে-বিদেশে চিকিৎসা নিয়েছেন তিনি।
ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন। বিএনপির রাজনীতিতে তিনিও অন্যতম জ্যেষ্ঠ নেতা। বয়োজ্যেষ্ঠ এই নেতা সজ্জন হিসেবে দল ও দলের বাইরে পরিচিত। তিনিও বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছেন।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় আছে। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাতি আছে তাঁর। বাকি তিনজন সংসদ সদস্য হলেও তিনি তা নন।
সাবেক এক প্রধান বিচারপতি ও একজন আমলার নামও আলোচনায়
বিএনপির চার জ্যেষ্ঠ নেতার বাইরে একজন আমলার নাম শুরুতে আলোচনায় এসেছে। এর বাইরে অবসরে যাওয়া একজন প্রধান বিচারপতির নাম আলোচনায় যুক্ত হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা দলের জন্য স্যাক্রিফাইস (ত্যাগ) করেন, তারা রাজনীতি বোঝেন। সুতরাং সেখান থেকেই আসা উচিত।’
দিলারা চৌধুরীর মতে, এটা মূলত নির্ভর করবে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর। তিনি কাকে পছন্দ করেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সংসদে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠ। তবে রাষ্ট্রপতি যিনিই হোন, তাতে বিদ্যমান রাষ্ট্রকাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন আসবে না।
প্রসঙ্গত, ২৪ জুলাই শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এখন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে সরকার-সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা গিয়েছিল, সেপ্টেম্বরে জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে নিয়মিত বা বিশেষ সংসদ অধিবেশন ডাকা বাধ্যতামূলক নয়। সংসদ অধিবেশন না থাকলেও আইন অনুযায়ী পৃথক ব্যবস্থায় নির্বাচন করা যায়। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জাতীয় সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে। মঙ্গলবার সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনে কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ হয়নি।
সিইসি আরও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা পাওয়ার পর তফসিল ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর একজন বৈধ প্রার্থী থাকলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল চেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির তরফে এই নিয়োগ ‘বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে দাবি করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে আল-ফালাহ মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দলের এ অবস্থান তুলে ধরেন।
২৩ জুলাই সামসুল আলমকে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন-ইসি সচিবালয়ে এক বছরের চুক্তিতে অতিরিক্ত সচিব পদে নিয়োগ দেওয়ার খবর এসেছে সংবাদ মাধ্যমে। তিনি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব হিসেবে ২০১৮ অবসরে যান। সংসদের বিরোধী দল জামায়াত তার চুক্তিভিক্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করছে।
দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “সামসুল আলমকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যিনি বিএনপির একটি নির্দিষ্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
“এমন একজন সক্রিয় রাজনীতিককে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতি চরম প্রতারণা। এ ধরনের পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও জনগণের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”
অবিলম্বে সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনসহ সব সাংবিধানিক সংস্থায় সর্বজনগ্রাহ্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, “দেশবাসী দেখতে পাচ্ছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ নয়, সবার আগে বিএনপি’। বর্তমানে এই নীতির ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে, যা জাতির সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছু নয়।”
গোলাম পরওয়ার সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয় নেতাদের নিয়োগের সমালোচনা করেন।
জামায়াতের সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মা’ছুম, হামিদুর রহমান আযাদ, আবদুল হালিম, মোয়াযযম হোসাইন হেলাল ও এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান।