চরমোনাই পীর ও জামায়াত আমীর। ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৬:৫২ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি ভোট এক করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে নির্বাচনী জোট। এই জোটের নেতারা বলছেন, এরই মধ্যে জোটের প্রার্থী বাছাই ও আসন বণ্টন অনেকটাই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। তবে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসন নিয়ে জটিলতা কাটেনি। বিশেষ করে বিভাগের অন্য আসনগুলোতে ছাড় দিলেও মর্যাদার আসন বরিশাল সদর নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে চলছে দ্বিমুখী লড়াই। আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের আসন হলেও সেখানে ভাগ বসাতে অনড় জামায়াতে ইসলামী।

জোটের নেতারা বলছেন, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যার জনপ্রিয়তা যেখানে বেশি, সেই আসন দেওয়া হবে সেই দলকে। সে হিসেবে ইসলামী আন্দোলন বরিশাল বিভাগের পিরোজপুরের দুটি বাদে বাকি ১৯টি আসনেই শক্ত অবস্থান রয়েছে বলে দাবি দলটির নেতাদের। এমন পরিস্থিতিতে বিভাগের অন্তত ১৫টি আসন চাইছে ইসলামী আন্দোলন।

আটদলীয় জোটের অন্য দলগুলো হলো খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)। রাজনৈতিক অবস্থানগত দিক থেকে আট দলের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের পর খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং দ্বীপ জেলা ভোলায় বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির ভালো অবস্থান রয়েছে। তবে দলগুলোর মধ্যে শুধু জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনই বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বরিশাল হলো ইসলামী আন্দোলনের ভোট ব্যাংক। এখানে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা জনপ্রিয়তায় এগিয়ে। পিরোজপুরে জামায়াতে ইসলামীর অবস্থান ভালো। সেখানে দুটি আসন জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে মাসুদ সাঈদী ও শামীম সাঈদী আট দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ভোলা-৩ আসন বিডিপির সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ নিজামুল হক নাঈমকে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া বরগুনার দুটি আসনেও ইসলামী আন্দোলন ভালো অবস্থানে আছে। বরগুনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গোলাম সরোয়ার হিরু ১৯৯৬ সাল থেকে ইসলামী ঐক্যজোট থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৯ সালেও তিনি ইসলামী আন্দোলনের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ভালো অবস্থানে ছিলেন। সেই হিসেবে বরগুনার দুটি আসনে ইসলামী আন্দোলন ভালো অবস্থানে আছে।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল আসনটি জামায়াতের প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদকে ছাড় দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। তবে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-২ আসনও চাচ্ছে জামায়াত। ঝালকাঠি-১ আসনে ড. ফয়জুল হক এবং ঝালকাঠি-২ আসনে শেখ নেয়ামুল করীম দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কিন্তু যে কোনো মূল্যে ঝালকাঠি-২ আসন ছাড়তে নারাজ ইসলামী আন্দোলন। সেখানে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির প্রভাবশালী নেতা মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী।

অন্যদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের হয়ে চরমোনাই পীরের তিন ভাই চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুর করীম বরিশাল-৫ (সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে এবং অন্যজন দলের সহকারী মহাসচিব মুফতি সৈয়দ এছহাক মুহাম্মাদ আবুল খায়ের বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা জেলার ছয়টির মধ্যে তিনটি আসন দাবি করছেন। এর মধ্যে বরিশাল সদর এবং হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সদর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে অনেক আগে থেকেই দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চেয়ে প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে আছেন দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল। এ ছাড়া বরিশাল-৪ আসনেও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন জেলার আমির অধ্যাপক আব্দুল জব্বার।

বরিশাল সদর আসনে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল বলেন, চাইলে তো হবে না। ১৯৭০ সাল থেকে এখানে জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করছে। এর অনেক পরে অন্যরা রাজনীতিতে এসেছে। জামায়াতে ইসলামী ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সাল এবং পরে জোটের আমলে নির্বাচন করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা সংগঠনের প্রচার করছি। জনগণের কাছে পর্যন্ত পৌঁছে গেছি। এখন আট দল সিদ্ধান্ত দেবে কার জনপ্রিয়তা এবং অবস্থান ভালো।

অন্যদিকে, সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির ও হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমিরের আসন তো আমি চাইতে পারি না। চাইলে সেটা হবে বোকামি। তেমনিভাবে বরিশাল সদর হলো ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আসন। এই আসন তো জোটের অন্য কেউ চাইতে পারে না। যদি চায়, তাহলে কীসের জোট?



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৩ পিএম

দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।


আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক


মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ


নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:


  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
  • খেলাফত মজলিস
  • বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
  • ইসলামী ঐক্যজোট
  • বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি


জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান


জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’


তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’ 


তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।


হেফাজতে ইসলামের অবস্থান


এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।


সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।


উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।

সর্বশেষ সব খবর

ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’


ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’


ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’


ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’





সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ 


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না। অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’ 


জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।’ 


তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। ৭ মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’


বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সব ক্ষেত্রই দলীয়করণ করছে সরকার।’


তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আওয়ামী আমলের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যের পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার।’


তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নিতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’


ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগও সরকার করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৭ মাসে সরকার লেজে গোবরে জড়িয়ে গেছে।’


বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরোয়ার বলেন, ‘৯ নং দফার বিপরীতে গিয়ে সর্বত্র দলীয়করণ করছে সরকার।’


শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হচ্ছে দাবি করে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।


 

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ এএম

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।


ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’


পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’


এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।


বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।


এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।





জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান


সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৩ পিএম

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।


আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।


মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।


তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম

জামায়াতে ইসলামী কখনোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল মিলে লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।


গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট কি তা ৭ মাসের মধ্যেই ভুলে গেছে বিএনপি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিজ দলের লোক বসানো, জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ বিএনপি তা ধারণ না করে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে।


জামায়াতের এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল গুলিয়ে ফেলছে বিএনপি। দুর্নীতি ও দলীয় কর্মীদের কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, জামায়াত নয়। জুজুর ভয় দেখিয়ে সব বিরোধীদলকে পাল্টা দোষারোপ করেছে।


তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ; বিচার কার্যকরের পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

সর্বশেষ সব খবর