• প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:০৩ এএম

‌‘ভোটকেন্দ্র কোথায় এখনও সেটা জানি না। আগে তো বাসায় স্লিপ দিয়ে যেত। এবার কেউ ভোটার স্লিপ দিয়ে যায়নি। এমনিতে সবসময়ই লেডি দেহলভি স্কুলে ভোট দিয়েছি। হয়তো ওই কেন্দ্রই হবে। সমস্যা নাই, সার্চ করলেই জানা যাবে।’ কথাগুলো বলছিলেন চাঁদপুরের একজন ভোটার সেলিনা আক্তার। 


ভোটারদের এবার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত গণভোটসহ মোট দুইটি ভোট দিতে হবে। আবার ভোটগ্রহণের সময়ও এবার এগিয়ে আনা হয়েছে এবং এক ঘণ্টা সময়ও বাড়ানো হয়েছে।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হতে আর ১৬ ঘণ্টারও কম সময় হাতে রয়েছে। গুগল ও স্যোশাল মিডিয়ায় দেখা গেছে, নির্বাচনের ঠিক আগেভাগে এ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মানুষ। যেমন, ইলেকশন ২০২৬, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি ২০২৬, ভোটার স্লিপ বিডি, ভোটার নম্বর চেক অনলাইন, ভোট সেন্টার চেক, ভোটার নম্বর বের করার নিয়ম এমন নানা শব্দ গুগলে লিখে ভোটের শেষ মুহূর্তে আজ বুধবারও মানুষ এ সম্পর্কিত তথ্য জানতে চাচ্ছেন। 


কেবল দুইটি শব্দ বাংলায় লিখে সার্চ করেছেন বা খুঁজেছেন ভোটাররা। তবে বেশিরভাগ শব্দই ইংরেজিতে লিখে সেটি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। গুগল বা সামাজিক মাধ্যমে মানুষ জানতে চেয়েছেন এমন বেশ কিছু প্রশ্ন ও তার উত্তর এই লেখায় তুলে ধরা হলো।


ইলেকশন ২০২৬


গুগল সার্চের একদম ওপরে রয়েছে এই শব্দটি। জাতীয় নির্বাচন ২০২৬, জাতীয় সংসদ নির্বাচন এরকম আরো কয়েকটি শব্দ দিয়ে মানুষ নির্বাচন সম্পর্কেই বেশি জানতে চেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৫৯ টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৫১ টি দল। 


বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ মোট ৫১ দলের প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র - তরুণদের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিও এবারই প্রথমবার শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিচ্ছে। নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার ভোটে অংশ নিতে পারছে না ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ।


নিবন্ধিত দল হলেও ভোট করছে না এমন আরো কয়েকটি জাসদ, বাংলাদেশ ওয়ার্কাস পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ ইত্যাদি দল। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ ভোটার রয়েছে এবারের নির্বাচনে। সারাদেশের আসনভিত্তিক যে ভোটার তালিকা ইসি প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, এবার ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার। এর মধ্যে পুরুষ ছয় কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার এবং নারী ভোটার ছয় কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার। এছাড়া হিজড়া ভোটার এক হাজার ১২০ জন।


ভোট কখন শুরু, কখন শেষ?


বাংলাদেশে এর আগে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোতে সাধারণত সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হতো। বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারতেন। কিন্তু এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরুর সময় আধা ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন।


ভোট সেন্টার


চাঁদপুরের ভোটার সেলিনা আক্তারের মতো অনেক ভোটারই এবার নিজের ভোটকেন্দ্র নিয়ে এখনও সংশয়ে ভুগছেন। তবে মিজ আক্তারের মতো অনেকেই গুগলে নিজের ভোটকেন্দ্র কোনটি সেটি বের করতে ভোট সেন্টার চেক, ভোট সেন্টার এমন বেশ কিছু শব্দ দিয়ে তথ্য জানতে চাচ্ছেন। 


গুগল ট্রেন্ড ঘেঁটে দেখা যায়, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি সার্চ করা হয়েছে সেটি হলো ভোট সেন্টার চেক বিডি বা ভোট কেন্দ্র চেক। অর্থাৎ ভোটাররা এখনো তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি নিয়ে জানতে চান। এমন ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন এবার অ্যাপ, হটলাইন নম্বর, এসএমএস সেবা চালু করেছে।


এমনকি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়েও ভোটার তার ভোট কেন্দ্র কোনটি সেটি সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইসির ওয়েবসাইটে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র নামে একটি অপশন রয়েছে। সেখানে ভোট কেন্দ্র অনুসন্ধানের জন্য দুইটি তথ্য দিতে হয়। একটি ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর এবং অপরটি জন্ম তারিখ। এই দুই তথ্য লিখে অনুসন্ধানে ক্লিক করলেই দেখা যায় ভোট কেন্দ্রের তথ্যের বিস্তারিত পাওয়া গেছে। ভোটার নম্বর, ক্রমিক নম্বর, লিঙ্গ, ভোট কেন্দ্রের নাম এবং কেন্দ্রের অবস্থানও ম্যাপে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।


স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি ২০২৬


গুগল ট্রেন্ডের সার্চের একেবারে শুরুর দিকে এই শব্দটি পাওয়া যাচ্ছে। মূলত স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি, একটি অ্যাপ যেটি নির্বাচন কমিশন ভোটারদের নানা তথ্য পাওয়ার জন্য চালু করেছে। এই অ্যাপে ঢুকে একজন ভোটার তার ১০ নম্বর অথবা ১৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে সার্চ দিলেই তার ভোটকেন্দ্র পেয়ে যাবেন। আবার ভোটার নম্বরও এই অ্যাপে পাওয়া যাবে।


ভোটার নাম্বার বের করার নিয়ম


ভোটার সিরিয়াল নম্বর চেক, ভোটার নম্বর চেক, ভোটার সিরিয়াল নম্বর বের করার নিয়ম জানতে চেয়ে সার্চ করছেন অনেক ভোটার। এসব তথ্য যাতে ভোটার পূর্ণাঙ্গভাবে পায় সে কারণে নির্বাচন কমিশন নিজেদের ওয়েবসাইট, স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজম্যান্ট বিডি অ্যাপ, এসএমএস, হটলাইন নম্বরে ফোন করে তথ্য পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 


যে কোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫ এ ফোন করে নিজের ভোটকেন্দ্র এবং ভোটার নম্বর বের করতে পারবেন। ১০৫ এ ফোন করে অপারেটরের সাথে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। পরে ভোটারের জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্ম তারিখ দিয়ে ভোটার নম্বর যেমন জানা যাবে তেমনি ভোট কেন্দ্রের নামও জানতে পারবেন ভোটাররা।


ভোটার স্লিপ


গুগল ট্রেন্ডে ঘেঁটে দেখা যায়, ভোটার স্লিপ, ভোটার স্লিপ চেক, ভোটার স্লিপ পিডিএফ ডাউনলোড ২০২৬ এমন শব্দ লিখে ভোটাররা গত সাতদিনে তথ্য খুঁজেছেন। ভোটার স্লিপ হচ্ছে এমন একটি তথ্য সংবলিত কাগজ, যেখানে ভোটারের নামের পাশাপাশি ভোটার নম্বর ও ভোট কেন্দ্র লেখা থাকে। 


বাংলাদেশে সাধারণত বিভিন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেখা গেছে, স্থানীয় ওয়ার্ড কমিশনার, কাউন্সিলর বা প্রার্থীদের পক্ষ থেকে ভোটারের নম্বর, ভোটকেন্দ্র সংবলিত একটি স্লিপ দেওয়া হতো। কিন্তু এই ভোটার স্লিপ আসলে সরকারি কোনো স্লিপ নয়। কিন্তু এবার বেশিরভাগ জায়গাতেই এসব স্লিপ দেওয়া হয়নি। এবার এই স্লিপ ভোটাররা পাননি যেটি বিবিসি বাংলাকে মিজ আক্তারই বলেছিলেন।


ভোটকেন্দ্রে সেলফি তোলা যাবে?


অনেক ভোটার আছেন যারা চান স্মৃতি জমিয়ে রাখতে। আবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রথমবার দেবেন এমন ভোটাররা হয়তো ছবি তুলে রাখতে চাইবেন। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের চারশো গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নেওয়ার ওপর নির্বাচন কমিশন প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দিলেও তীব্র সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নেয়। পরে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটের দিন ভোটার, প্রার্থী, এজেন্ট এবং সাংবাদিকরা ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে যেতে পারবে এবং ছবিও তোলা যাবে। 


কিন্তু কোনোভাবেই গোপন কক্ষের ভেতরে মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করা বা ছবি তোলা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। অর্থাৎ ভোটাররা বুথের যে গোপন কক্ষে ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন সেখানে মোবাইল নিয়ে যাওয়া ও ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে সাধারণ ভোটারদের ভোট কেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢুকে ছবি বা সেলফি তোলার সুযোগ নেই।


মুখের নিকাব খুলতে হবে?


অনেক ভোটার আছেন যারা মুখ ঢেকে পর্দা করেন, তারা কিছুটা শঙ্কায় ভোট দিতে গেলে কী মুখের পর্দা বা নিকাব খুলতে হবে? নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রথম পোলিং অফিসারের দায়িত্বই হলো ভোটারের চেহারার দিকে তাকানো। ওই কর্মকর্তার কাছে থাকা ভোটার তালিকার ছবির সাথে ভোটারের চেহারা মিলিয়ে দেখে তিনি উচ্চস্বরে ভোটারের নাম ও ভোটার নম্বর বলবেন। 


পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক সংবলিত একটি ব্যালট পেপার ও গণভোটের হ্যাঁ, না সংবলিত আরেকটি ব্যালট পেপার দিয়ে আঙ্গুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেবেন নির্বাচনী কর্মকর্তা। কিন্তু যদি পরিচয় গোপন করে বা ছদ্মবেশে জাল ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রে গিয়েছেন এমন বিষয় প্রমাণ হয় তবে ওই কর্মকর্তা তাকে নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সোপর্দ করবেন। তিনি তখন সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিচারের দায়িত্ব পালন করবেন। এমন অপরাধে ছয় মাস পর্যন্ত জেল ও জরিমানাও হতে পারে।


নির্বাচনের দিন যানবাহন চলবে কী?


রাজধানী ঢাকায় এখনো এমন অনেক ভোটার আছেন যারা অন্য জেলার ভোটার, কিন্তু ঢাকা ছেড়ে যাননি। আজ বুধবার বিকেলে বা রাতে ঢাকার বাইরে যেতে কোনো যানবাহন আছে কি না এমন বিষয়ও গুগলে সার্চ করে দেখছেন তারা। এদিকে, নির্বাচন ঘিরে যানবাহন চলাচলে নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন। 


নির্বাচন কমিশনের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১০ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ভোটের পরদিন ১৩ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৭২ ঘণ্টা মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। এই কারণে মঙ্গলবার রাত থেকেই বন্ধ রয়েছে রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মোটরসাইকেল সার্ভিস।


এছাড়া ১১ই ফেব্রুয়ারি, আজ বুধবার মধ্যরাত থেকে ভোটের দিন ১২ই ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত পিকআপ, মাইক্রোবাস, ট্রাক, লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন এই আওতামুক্ত থাকবে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সকল ধরনের যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।


ভোট কেন্দ্রে বাচ্চা নেওয়া যাবে?


সন্তানের বয়স যদি প্রতীক বোঝার মতো না হয় তাহলে যে কোনো মা ভোটার ভোট দেওয়ার গোপন কক্ষেও ওই সন্তানকে নিয়ে যেতে পারবেন। কিন্তু যদি প্রতীক বোঝার মতো বয়সী কোনো সন্তান হয় সেক্ষেত্রে ওই সন্তানকে ভোট কেন্দ্রে নিতে পারলেও তাকে বাইরে রেখেই ভোটারকে ভোট কক্ষে ঢুকতে হবে।


গণভোটের ব্যালট ফেলবো কোন বাক্সে?


সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই সাথে অনুষ্ঠিত হওয়ায় দুটি ব্যালটেই একই সাথে ভোট দিতে হবে। এক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচনের জন্য যে ব্যালট থাকবে সেটি হবে সাদাকালো আর গণভোটের ব্যালট পেপার হবে গোলাপি রংয়ের। দুইটি ব্যালট পেপার এক বাক্সে ফেলবেন কিনা এ বিষয়ে কিছুটা সংশয়ে রয়েছেন অনেক ভোটার। এই বিষয়ে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন একটি পরিপত্র জারি করেছে।


এতে বলা হয়েছে, "জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত, নির্ধারিত এবং সরবারহকৃত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সই গণভোটের বাক্স হিসাবে ব্যবহৃত হবে। ভোটারগণ ভোট প্রদান শেষে জাতীয় সংসদের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালট একই বাক্সে ফেলবেন।" অর্থাৎ, ভোটার জাতীয় নির্বাচনের ব্যালট ও গণভোটের ব্যালটে সিল দেওয়ার পর সেটি একই বাক্সে ফেলবেন।


ভোটের ফলাফল কখন জানা যাবে?


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল কখন জানা যাবে এমন প্রশ্ন রয়েছে। কেননা এবারই প্রথম সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে ভোট গণনা ও ফল প্রকাশে সময় বেশি লাগবে সেটি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দিয়েছে।


ইসির কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আগামী বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা শুরু হবে। কেন্দ্র থেকে গণনার পরে সেই ফলাফল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যায়। সেখান থেকে সেটি জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হয়ে নির্বাচন কমিশনে পৌঁছায়। এরপর সেখান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। 


সাধারণত বাংলাদেশের বেতার ও টেলিভিশনে এসব ফলাফল প্রচার করা হয়। অতীতের সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মধ্যরাত নাগাদ কোন আসনে কোন প্রার্থী এগিয়ে রয়েছে, সেই সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু এবার গণভোট এক সাথে গণনার ফলে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।


তবে, ধারণা করা হচ্ছে, অনানুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ ফলাফল পেতে শুক্রবার দুপুর কিংবা বিকেল হয়ে যেতে পারে। ফলাফল নিয়ে আপত্তি না থাকলে, যাচাই বাছাই শেষে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করে। সেটাই আনুষ্ঠানিক সরকারি ফলাফল। এটা আসতে আসতে শনিবার বা রোববার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যের শপথ পড়ানোর বিধান রয়েছে।


নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন কে?


গত পাঁচই ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, ভোটগ্রহণের তিন দিন পরই নতুন প্রধানমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠান হতে পারে। ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শপথ গ্রহণ করতে পারেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে, যেহেতু জাতীয় সংসদ কার্যকর নেই তাহলে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন কে?


অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সেদিন (পাঁচই ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর পদত্যাগ ও ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেফতার হওয়ায় রাষ্ট্রপতি মনোনীত প্রধান বিচারপতি অথবা তিনদিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারেন। অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা চায় উল্লেখ করে মি. নজরুল জানিয়েছেন, ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তির মাধ্যমে শপথের সম্ভাবনা বেশি।




হেফাজতে ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০০ এএম

পাবনা সদরের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সম্প্রতি স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক শিক্ষককে আটক করে।


এই পরিস্থিতির পর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু নিপীড়ন বা যেকোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড যেমন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, ঠিক তেমনি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়াও মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়।


শনিবার সন্ধ্যায় এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এসব কথা বলেন। সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী গণমাধ্যমকে এই বিবৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও নীতিভ্রষ্টতার অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনটি এই অবস্থান ব্যক্ত করল। উল্লেখ্য, বেশ কিছু কওমি ও সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়েছে।


বিবৃতিতে হেফাজত নেতারা সুস্পষ্টভাবে জানান, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। শিশু নির্যাতনের বিষয়টিকে একটি ‘পুরোনো সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে তারা বলেন, এটি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাধারণ স্কুল, মাদ্রাসা কিংবা সমাজের অন্যান্য স্থানেও কম-বেশি এই সমস্যাটি বিদ্যমান রয়েছে।


নিজস্ব কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্যোগ তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়, চলতি বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ’ দেশের ৬টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ড এবং তাদের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য কঠোর নির্দেশাবলী জারি করেছে।


উক্ত নির্দেশনায় প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে ‘শিক্ষার্থী সুরক্ষা কমিটি’ গঠন বা সক্রিয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো শিশু নির্যাতন বা অনৈতিক আচরণের লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদ্রাসা বোর্ডগুলোতে শক্তিশালী পর্যবেক্ষণ সেল এবং সরাসরি অভিযোগ জানানোর জন্য হটলাইন চালুর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠানে এই সুরক্ষা কমিটি না থাকলে, নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পাওয়া গেলে কিংবা অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে সেই মাদ্রাসার অধিভুক্তি বা সনদ স্থগিত অথবা বাতিল করার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।


পরিশেষে হেফাজত নেতারা জোর দিয়ে বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের শারীরিক নিরাপত্তা ও মানসিক স্বস্তি নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্কুল-মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণের পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো ধরনের নৈতিক পদস্খলনের জন্য দোষীকে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি—উভয় ধরনের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার শিথিলতা বা আপস করা হবে না।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩২ পিএম

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঝটিকা মিছিলের প্রস্তুতিকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১৯ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।


শনিবার সন্ধ্যায় পল্টন থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) নিয়াজ মেহেদী।


তিনি জানান, বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে মিছিলের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছিলেন ১৯ জন। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। এ সময় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পল্টন থানা সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা ভোলা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় এসেছেন। সন্ধ্যার দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় ঝটিকা মিছিল করার উদ্দেশ্যে তারা জড়ো হয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


গ্রেফতারের পর তাদের পল্টন থানায় নেওয়া হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


মিয়া গোলাম পরওয়ার। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৩ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-খতিবদের ভাতা বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি এবং দলীয়করণের তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।


চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের রাজনীতির কঠোর সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিএনপির দিন ফুরিয়ে আসছে। তাদের অতীতের লুটপাট ও ভুয়া ইতিহাস সৃষ্টির অপচেষ্টা এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিএনপি নিয়মিত জামায়াতের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের আয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হলে এ জনপদকে শূন্য করে ফেলা হবে। তাই ঠাকুরগাঁওকে বাঁচাতে হলে আগামী ২৯ তারিখ ব্যা


লট বিপ্লবের মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করে বিএনপিকে ‘লাল কার্ড’ দেখাতে হবে। ১৯৯৬ সালের মাগুরা নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতেও নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে গিয়ে ক্ষমতা হারিয়েছিল। বর্তমান নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপির চেষ্টা করা হলে এ ঠাকুরগাঁও থেকেই সরকার পতনের কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


বিএনপির বিগত সাত মাসের শাসনকালের সমালোচনা করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বিএনপি এই সময়ে টেন্ডারবাজি, সার সিন্ডিকেট ও সার ডিলার নিয়োগসহ সব ক্ষেত্রে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়েছে। 


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বিএনপির প্রার্থীর কঠোর সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ওই প্রার্থী বিগত সময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপস করে রাজনীতি করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা, নির্যাতন বা হয়রানির ইতিহাস নেই। নির্বাচনে কোনো ধরনের টালবাহানা বা কারচুপির চেষ্টা করা হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে জামায়াত নেতারা বলেন, ভোটে কোনো ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা কারচুপি হলে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। প্রয়োজনবোধে ঠাকুরগাঁও আসন থেকেই সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।


ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে এবং জেলা সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীরের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এবং ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ।


এছাড়াও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২৪ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, বাজারে গিয়ে পণ্য কেনেন না রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা। তাদের হয়ে অন্যরা বাজার করেন। ফলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ও পণ্যের দাম সম্পর্কে তাদের যথাযথ ধারণা নেই।


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।


নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা যখন বাজারে যাই, তখন পণ্য কিনতে গিয়ে দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? তিনি বলেন, এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষ যখন ধরে নিয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়, তখন আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও প্রতিবাদ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।


নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, দলীয়করণ হবে না, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা আমাদের বলেছেন, সরকার যেন তাদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে। গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলাম, তেমনি এ সময়ও অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন।


তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না, তাদের ধরা যাবে না, স্পর্শও করা যাবে না। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, বিএনপি সরকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের কোনো জবাবদিহি নেই। সেই অসম্ভবকে আবারও সম্ভব করতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা দেখাতে চাই, বিএনপি সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যায়।


তিনি বলেন, এটি কোনো দলের দাবি নয়। দলমত-নির্বিশেষে ধনী-গরিব সবার দাবি, আমরা পেট ভরে খেতে চাই, সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এবং সবকিছু নিজেদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চাই।


নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, যাদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন, যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, তাদের কাছে এক টাকাও অনেক মূল্যবান। এ কারণেই আমরা যখন বাজারে গিয়ে পণ্য কিনতে চাই, তখন দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।


তিনি জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাবেন তারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।


জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, আমরা চাই না, আপনারা এনসিপিতে যোগ দিন। আপনারা কোন রাজনৈতিক দল করেন, সেটিও আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। আমরা আপনাদের অধিকারের জন্য রাজপথে নেমেছি। নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই আপনাদেরই করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি আপনাদের হয়ে এই লড়াই করে দেবে না।


মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে তিনি এসব কথা বলেন।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৫১ পিএম

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনো ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বসানো হয়েছে। একজন দলীয় লোককে এখানে কেন আনতে হবে?


শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হলরুমে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।


তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, যিনি সংসদের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকেন, তিনি তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন, যে জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবেন না, সেখানে কোনো বরাদ্দ দেওয়া হবে না। এটা লজ্জার বিষয়। এর মাধ্যমে আগেই জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই মাঠ পরিষ্কার করার চেষ্টা করব। যখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাব, তখন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব।


ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি সব মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন। তার প্রধান দায়িত্ব নিজের মন্ত্রণালয়ের লোকদের দেখভাল করা। কিন্তু তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না, সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও পারলেন না। দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই।


তিনি আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে যারা আছেন এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো। এই ‘আগের চেয়ে ভালো’র মাপকাঠি কী, তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না।


জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলীর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আমির আলীর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ।


এর আগে সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মখলিছুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. ইয়ামীর আলী, হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি কাজী মহসিন আহমদ ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ফরিদ উদ্দিনসহ অন্য নেতারা।


পরে পুলিশের একটি চৌকস দল জামায়াতের আমিরকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।


জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা শহর মৌলভীবাজারে এটিই জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের প্রথম সফর। তার সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।


এর আগে সকাল ৮টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মো. ফখরুল ইসলাম, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহেদ আলী, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, সিলেট জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, সিলেট মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজার জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আজিজ আহমদ কিবরিয়া এবং ছাত্রশিবিরের মৌলভীবাজার শহর সভাপতি কাজী দাইয়ান আহমদ।


মতবিনিময় সভা শেষে ডা. শফিকুর রহমান জেলা জামায়াত আয়োজিত ওয়ার্ড দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। বিকালে তিনি রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।


  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৭ পিএম

বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামী ১২ নভেম্বর। এ নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। হাতে সময় মাত্র দুই দিন, এরপরই শুরু হবে প্রার্থিতা যাচাই ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।


ইসির ঘোষিত তপশিল অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ২৮ অক্টোবর আপিল করা যাবে। ২৯ অক্টোবর এসব আপিল নিষ্পত্তি করবে কমিশন।


তপশিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। পরদিন ২ নভেম্বর প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ নভেম্বর। সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় আলোচনায় আসেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। ওই ঘটনার পর বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।


এরপর মিষ্টি পদত্যাগ করলে সংসদ সচিবালয় তার আসন শূন্য ঘোষণা করে। ওই শূন্য আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য উপনির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা থেকে শুরু করে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচনের ভোটপর্ব সম্পন্ন হবে।