বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে ফ্ল্যাট তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন।
রাজধানীর কড়াইলের বস্তিতে বড় বড় ভবন করে তাতে ছোট ছোট ফ্ল্যাট করে বাসিন্দাদের দিতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আজ মঙ্গলবার বিকেলে মহাখালীর টিঅ্যান্ডটি মাঠে কড়াইলবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে একথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান নির্বাচনের প্রসঙ্গ ধরে বলেন, ‘আমি জানি না, এটা নির্বাচন আচরণবিধিতে পড়বে কি না, কেউ ষড়যন্ত্র করবে কি না। কিন্তু আমি যা করতে চাই, আমি আল্লাহর রহমত নিয়ে সবকিছু করতে চাই।’
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে যে ঢাকা-১৭ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান, কড়াইল বস্তিটি ওই নির্বাচনী এলাকায় অন্তর্ভুক্ত। প্রতীক বরাদ্দ শেষে ২২ জানুয়ারি এই নির্বাচনে প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে।
বক্তব্যে বস্তিবাসীর উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা কষ্ট করছেন, থাকার কষ্ট করছেন, সেই কষ্টটি আমরা ধীরে ধীরে সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমরা এখানে উঁচু উঁচু বড় বড় বিল্ডিং করে দিতে চাই আল্লাহর রহমতে। এবং এই খানে যে মানুষগুলো থাকেন, তাঁদের নামে রেজিস্ট্রি করে আমরা প্রতিটি ছোট ফ্ল্যাট করব এবং সেই ফ্ল্যাটগুলো তাঁদের নামে আমরা দিতে চাই।’
গত শতকের নব্বইয়ের দশকে তিনটি সরকারি সংস্থার ৯৩ একর জমি দখল করে গড়ে ওঠে কড়াইল বস্তি। রাজধানীর সবচেয়ে বড় এই বস্তিতে ৪০ হাজারের মতো ঘরে নিম্ন আয়ের মানুষেরা থাকেন।
কড়াইল বস্তির বাসিন্দাদের আবাসনসংকট নিরসনের পাশাপাশি সেখানে বসবাসরতদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা জানি এখানে আপনাদের যে সন্তানেরা আছে, তাদের এখানে লেখাপড়ার সমস্যা আছে। আল্লাহ যদি রহম করেন আমরা এখানে চাই বাচ্চাদের জন্য সুন্দর স্কুল গঠন করব। স্কুলের পাশাপাশি তাদের খেলাধুলার যাতে পরিবেশ থাকে, খেলাধুলার জন্য যাতে মাঠ থাকে, সেই ব্যবস্থাও ইনশা-আল্লাহ আমরা এখানে করতে চাই।’
ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা বিএনপির রয়েছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে যাতে সমস্যা না হয়, আপনাদের যাতে দূরে যেতে না হয়, আপনাদের এলাকার মধ্যে ক্লিনিক থাকবে, হাসপাতাল থাকবে—সবকিছু থাকবে। এইভাবে আমরা আপনাদের এই এলাকাকে গড়ে তুলতে চাই। এইভাবে সাজিয়ে তুলতে চাই।’
দোয়া মাহফিল সঞ্চালনা করেন ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আব্দুস সালাম। এতে তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমানও অংশ নেন।
মোনাজাত শেষে তারেক রহমান আবারও কথা বলেন। তিনি কড়াইলবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের ওপর কেউ যদি কষ্ট দিয়ে থাকে, কেউ যদি অত্যাচার-নির্যাতন করে থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব।’
কড়াইলবাসীর কাছ থেকে জোর করে বিদ্যুৎ বিল, পানির বিল আদায় বন্ধ করার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘যা মিটার বলবে, যা সরকারের থাকবে, আপনারা শুধু সেটাই দেবেন। কিন্তু এই কাজগুলো যদি বাস্তবায়ন করতে হয়, প্রিয় ভাই-বোনেরা আপনাদের এই এলাকার সন্তানকে আপনাদের সহযোগিতা করতে হবে। আপনাদের আমার পাশে থাকতে হবে।’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ও এনসিপির লোগো।
ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মীদের বর্বর হামলা, শারীরিকভাবে হেনস্তা এবং তার সঙ্গে থাকা নিরপরাধ নারী ও শিশুকে আঘাত করার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ, ধিক্কার ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, দেশজুড়ে গণহত্যা ও জুলুম চালিয়ে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটা আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী দেশ থেকে পালিয়ে এখন বিদেশের মাটিতে বসে দেশের জুলাই যোদ্ধাদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলা ছড়ানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। ভেনিসে একজন সুপরিচিত সাংস্কৃতিক কর্মী ও জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলার মতো জঘন্য অপরাধ প্রমাণ করে যে, তাদের হিংস্র খুনে মানসিকতা বিন্দুমাত্র বদলায়নি।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভেনিসে উপস্থিতিতে তার ঘনিষ্ঠ সন্ত্রাসীরাই এই হামলা চালিয়েছে। তার সাথে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্যাডাররাই মূলত ভেনিসের মাটিতে অভিনেত্রী বাঁধন ও তার পরিবারের ওপর এই ন্যক্কারজনক হামলা চালায়। তাকে জোরপূর্বক ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে বাধ্য করে। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, বিদেশে অবস্থানরত পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের শীর্ষ নেতৃত্বের প্রত্যক্ষ মদদ ও উস্কানিতেই এই রাজনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলা পরিচালিত হচ্ছে।
ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের এই অব্যাহত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আবার প্রমাণ করে দিল যে, এই রক্তচোষা ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক রিকনসিলিয়েশন (পুনর্মিলন) সম্ভব নয়। যারা বিদেশের মাটিতেও জুলাই যোদ্ধাদের রক্তাক্ত করতে দ্বিধা করে না, তাদের স্থান কেবল আইনের কাঠগড়ায়। স্বৈরাচার পতন ঘটানো জুলাই যোদ্ধারা আমাদের জাতীয় সম্পদ; বিদেশের মাটিতে সন্ত্রাসী এই সংগঠনের ক্যাডাররা তাদের ওপর হামলা চালানোর যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, তা কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করা হবে না।
বিবৃতিতে এনসিপি নেতারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট বার্তা জানিয়ে বলেন, ইতালিয়ান সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে এই হামলায় জড়িত চিহ্নিত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের ভিসা বাতিল করে বাংলাদেশে ডিপোর্ট (বহিষ্কার) করে আইনের আওতায় আনতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অবস্থানরত সকল জুলাই যোদ্ধা, প্রবাসী বিপ্লবী কর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জনগণের ট্যাক্সে পরিচালিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ভেনিসের এই সন্ত্রাসী হামলায় জড়িতদের কূটনৈতিক ও আইনি মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিপোর্ট করে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মুখোমুখি করা না হলে বর্তমান সরকারকে কঠিন জবাব দিতে হবে। এনসিপি বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব মঞ্চে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
প্রসঙ্গত, ইতালির মেস্ত্রে শহরে জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে করা লাইভে তিনি এ অভিযোগ করেন।
যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) প্রবাসী কর্মীদের জড়িয়ে এই হামলার অভিযোগ তোলেন।
ফেসবুক লাইভে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এখানে আমি আমার ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে পার্কে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের অনেক বাঙালি ভাই এসে আমাকে ‘ফিজিক্যালি হ্যারাস’ করেছে। আমার শরীরে পানি, কোক ছুড়ে মেরেছে। এতে আমি একদম ভিজে যাই।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর লোগো
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে মু. আবু বকর সিদ্দিকী শিপলুকে আহ্বায়ক ও মো. আল-আমীন মিয়াকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে সাতজনকে উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য করা হয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম- এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ড. কে. এম. আই. মন্টি এই কমিটির অনুমোদন দেন। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সাকিবুর রহমান সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য: কমিটিতে উপদেষ্টামণ্ডলীতে রয়েছেন সাতজন। তারা হলেন-
মো. ওবায়দুল হক (নিবাহী পরিচালক অব.)
মো. মোকসুদুজ্জামান (নিবাহী পরিচালক)
মো. শহীদ রেজা (পরিচালক)
স্বপন কুমার গোস্বামী (পরিচালক)
মো. সালাউদ্দিন তপাদার (অতিরিক্ত পরিচালক)
মোহাম্মদ জাকির হোসেন (অতিরিক্ত পরিচালক)
মো. মনজুর মোর্শেদ (অতিরিক্ত পরিচালক অব.)
আহ্বায়ক কমিটি
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিটের ৫২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা হলেন-
মু. আবু বকর সিদ্দিকী (শিপলু) (আহ্বায়ক)
এম. মাহবুবুর রহমান (সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. মোশাররফ হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. শামস তিবরীজ ভুইয়া (যুগ্ম আহ্বায়ক)
শফিউল আযম ফাহিম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. হাবিবুর রহমান (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আশরাফুল ইসলাম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
আসমা বেগম (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আলী হোসেন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
মো. আল-আমীন মিয়া (সদস্য সচিব)
এছাড়া কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন-
মো. রাজু আহমেদ
নূরে আলম জিকু
মো. গোলাম রাব্বী তানভীর
আবদুল্লাহ আল মামুন
জি এম আপেল মাহমুদ
মাহবুব মোর্শেদ
ওয়াসি আহমেদ ইভান
ইসমাইল হাসান
শাহ মো. নেওয়াজ শরীফ
মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার
মো. আলী আসগর
মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মুন্না
মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন যান
মো. হানিফুল ইসলাম
মো. তানজীল হোসেন পলক
শাকিলা সুলতানা
শারমীন সুলতানা তুষা
সাহেলী নার্গিস
মো. শাহীন আলম
মো. এনামুল হক
ড. তানজিমা বেগম মণি
মো. আব্দুল হালিম
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান
মো. শাহজালাল খান
মো. রেজোয়ানুর রহমান
মো. ওমর ফারুক
শায়মা সিদ্দিকী শর্মী
কেশব চন্দ্র শীল
মো. মামুন-উর-রশিদ
আনাস আরাবী
মাহাতীর মো. আবু রায়হান
মো. মাসুম রানা
মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ
মো. এনায়েতউল্লাহ
মো. আলাউদ্দিন
মো. আক্তার হোসেন খান
মো. বাকির ভূঁইয়া
মো. রাজীবুল হাসান
আলফাজ হোসেন
মো. আমীর হোসেন
কাজী নাসিফ মোহাম্মদ
মো. শিফাত-ই- মনজুর
আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও সারজিস আলম
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়া, তাঁর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।
আসিফ মাহমুদ ও সারজিস আলম নিজ নিজ ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পৃথক পোস্টে এই প্রতিক্রিয়া জানান। আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টটি দিয়েছেন আজ মঙ্গলবার সকালে। আর গতকাল দিবাগত রাতে পোস্ট দেন সারজিস আলম।
৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে ইতালিতে গেছেন বাঁধন। গতকাল রাতে ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি ইতালির একটি পার্কে গেলে হামলা-হেনস্তার শিকার হন।
পরে বাঁধন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ তাঁর পোস্টে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সহযোদ্ধা ও অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের হামলা, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করার তীব্র নিন্দা-প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। একটি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিকব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই নিষিদ্ধ ও সন্ত্রাসী সংগঠনের পলাতক নেতা-কর্মীরা এখনো হামলা-সহিংসতা চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনা পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রেরই বহিঃপ্রকাশ।
জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে বাঁধন সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে বাঁধন তাঁর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। তাঁর ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসীশক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি।
হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না বলে উল্লেখ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িতদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে।
বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে এনসিপির মুখপাত্র তাঁর পোস্টে লিখেছেন, জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে তাঁদের অবস্থান স্পষ্ট।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তাঁর পোস্টে বাঁধনকে নিয়ে গর্বিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাঁধনকে উদ্দেশ করে তিনি লিখেছেন, ‘আপনি এই দেশের জন্য লড়াই করেছেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচার থেকে মুক্ত করার জন্য লড়াই করেছেন।’
যারা বাঁধনের ওপর হামলা করেছে, তাদের খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া এক একটা নরপশু হিসেবে অভিহিত করেছেন সারজিস আলম। এদের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু বাঁধনকে আশা না করতে বলেন তিনি।
বাঁধনের উদ্দেশে সারজিস আলম লিখেছেন, ‘আমরা সবাই আপনার সাথে আছি। পুরো বাংলাদেশ আপনার সাথে।’
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরশন থেকে দক্ষিণের ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার হয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে উত্তরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডে ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সামনে রেখে তাঁরা ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন তারা।
এনসিপি গত মার্চে জানিয়েছিল, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট নয় এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকা উত্তরে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব এবং দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ মেয়র প্রার্থী হবেন। দলটির সূত্র জানিয়েছে, ছয় মাস পর এই অবস্থান বদলেছে। দক্ষিণে নাসীর এবং উত্তরে আসিফকে প্রার্থী করার চিন্তা করা হচ্ছে। তাই সোমবার তারা ভোট স্থানান্তর করেছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে নাসীরুদ্দীন হারলেও, ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের সঙ্গে সমানে সমানে লড়াই করেছেন। মির্জা আব্বাসের ৫৯ হাজার ভোটের বিপরীতে ৫৪ হাজার ভোট পান নাসীর। ওই নির্বাচনে তিনি ভোটার ছিলেন উত্তরের ঢাকা-১৮ আসনে। তাই নিজেকে নিজে ভোট দিতে পারেননি।
সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা-৩ থেকে থেকে ঢাকা-১০ আসনের ভোটার হন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পদ ছেড়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়া আসিফ মাহমুদ। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁর নির্বাচন করা হয়নি, জামায়াত জোট প্রার্থী না করায়। এরপর দক্ষিণে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই ছাত্রনেতা। তবে সোমবার দক্ষিণের ধানমন্ডির ১৮ নম্বর ওয়ার্ড ছেড়ে উত্তরের আফতাবনগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার হয়েছেন।
জাতীয় নির্বাচনের ভোটাররা যে কোনো আসেন প্রার্থী হতে পারেন। স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটার হতে হয়। আসিফ মাহমুদ সমকালকে বলেন, দলের পরিচালিত কয়েকটি জরিপে দেখা গেছে, উত্তরে আমার অবস্থান ভালো। দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অবস্থান ভালো। তাই এ চিন্তা থেকেই ভোটার স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রার্থী হচ্ছেন কিনা-প্রশ্নে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ বলেছেন, এটা দল ঠিক করবে। এনসিপি সর্বাত্মক এবং এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দলের যারা পরিচিত মুখ, তাদের ভোট এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, নির্বাচন করবেন কিনা নিশ্চিত নয়। তবে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে, তিনি যাতে দক্ষিণে প্রার্থী হন। আবার যেহেতু ঢাকা-৮ আসনে ইতোমধ্যে নির্বাচন করেছেন, তাই ভবিষ্যত চিন্তায় এই এলাকায় ভোটার হয়েছেন।
জামায়াত ইতোমধ্যে জানিয়েছে স্থানীয় নির্বাচনে কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না। ১১-দলীয় ঐক্যের শরিকরা যে যার মতো অংশ নেবে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে জোট হতে পারে। ঢাকা উত্তরে দলের নির্বাহী পরিষদ মুহাম্মদ সেলিমউদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বাছাই করেছে জামায়াত।
উত্তরের অন্তর্ভূক্ত আটটি আসনের চারটিতে জামায়াত জয়ী হয় সংসদ নির্বাচনে। দক্ষিণের সাতটি আসনের দুটি জিতেছে। জোট সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। সেলিমউদ্দিন সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তিনি আগেভাগে প্রচার শুরু করলেও, কোনো কারণে সিটি নির্বাচন না করলে তাঁকে সংসদীয় রাজনীতিতে রাখা যাবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম ছাত্রনেতা সাদিক কায়েমকে তাঁর নিজ এলাকা খাগড়াছড়ির পরিবর্তে ঢাকার রাজনীতিতে সক্রিয় করতে চায় জামায়াত। এ কারণে দক্ষিণ শরিকদের ছাড়া হবে না। এই সমীকরণ মাথায় রাখছে এনসিপি।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু হবে। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্তরের নির্বাচন হবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, এ হিসাবেও সিটি নির্বাচনে এখনও আট দশ মাস সময় বাকি। তপশিল ঘোষণার পর বলা যাবে কী হবে।
জোট সূত্রের খবর, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে বোঝা যাবে সরকার এবং সরকারি দলের কী আচরণ হবে স্থানীয় নির্বাচনে। যদিও অতীতের মতো ক্ষমতাসীনরা স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি দেখায়, তা দেখে পৌরসভা, উপজেলা, সিটি নির্বাচনে জোট করা না করার সিদ্ধান্ত হবে।
দুইদিনের সফরে নেপালে মামুনুল হক
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক দুদিনের সফরে নেপাল গেছেন। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তার ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায় তিনি নেপালে পৌঁছেছেন। এর আগে রোববার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।
তার ফেসবুক পেজ থেকে জানানো হয়, নেপালে সম্প্রতি ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং দুর্গত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দুদিনের সফরে নেপাল গেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরেজমিনে অবগত হওয়াই এ সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা শোনা, দুর্গত এলাকায় চলমান উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া এবং ভবিষ্যৎ মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া হবে।
সফরকালে মামুনুল হক স্থানীয় আলেম-উলামা, সামাজিক ও মানবিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামর্থ্য অনুযায়ী মানবিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করাই এ সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তারা।
মামুনুল হকের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুক্তরাজ্য শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা শায়খ সালেহ আহমাদ হামিদী এবং জাতীয় উলামা কাউন্সিল বাংলাদেশের সহ-সভাপতি মুফতি মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।
দুদিনের সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর মামুনুল হকের দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক
সরকার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট পার হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।
আজ শনিবার (৫ আগস্ট) শাপলা চত্বরে ১১ দলের উদ্যোগে ছয় দফা দাবি আদায়ে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ‘খলিফা উমর (রা.) একবার খেলাফতকালে মসজিদে নববীতে দাঁড়িয়ে সাহাবিদের উদ্দেশে বলেছিলেন, তিনি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে তাদের আচরণ কেমন হবে। তখন বশীর ইবনে সাদ (রা.) দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আপনি যদি সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হন, তাহলে তীরকে যেভাবে সোজা করে ছেড়ে দেওয়া হয়, উম্মতে মুসলিমাহ সেভাবেই আপনাকে সোজা করে দেবে। তখন উমর (রা.) আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বলেছিলেন, আল্লাহর শুকরিয়া যে, মুসলিম জাতির মধ্যে খলিফাকে সঠিক পথে রাখার মতো মানুষ দিয়ে ভরপুর করে রেখেছেন।’
মামুনুল হক বলেন, ‘আমাদের প্রশ্ন করা হয়, ছয় মাস যেতে পারেনি, আমরা কেন কঠোরতা অবলম্বন করছি? আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই, সরকার যাত্রার শুরুর ছয় মিনিট অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে জাতি উমর (রা.) এর মতো মানুষকেও ভুল করলে ছাড় না দেওয়ার শপথ নেয়, সেই জাতির মসনদে বসে যদি জাতিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে চান, শুরুতে হাতে ধরে, পায়ে ধরে বলবো। এরপরও যদি সঠিক পথে পরিচালিত না হন, তাহলে ঘাড় ধরতে বিন্দুমাত্র হাত কাঁপবে না।’