মাহদী আমিন।
শেরপুরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বিএনপি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই সংঘাত এড়ানো যেত কি না-সে প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই কেন একটি দল সব চেয়ার দখল করে রাখল, কেন সেখানে লাঠিসোঁটা জড়ো করা হলো, সবার সম্মিলিত অনুরোধ উপেক্ষা করে কেন ওই দলের প্রার্থী সংঘাতের পথ বেছে নিলেন- এসব বিষয়ে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বলেন, শেরপুরে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে সব প্রার্থীর অংশগ্রহণে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণার একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। সেখানে প্রতিটি দলের জন্য নির্ধারিত আসন ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ সব আসন দখল করে রাখেন এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের তাদের নির্ধারিত আসনে বসতে বাধা দেন। প্রশাসন বারবার অনুরোধ জানালেও তারা চেয়ার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। চেয়ারে বসার মতো তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে শেরপুরে যে সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর সবার প্রত্যাশা ছিল উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, সংঘাতময় পরিবেশ নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে এবং জনগণের বিশ্বাস অনুযায়ী, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ বিএনপিই বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাবে। তাই নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত থাকে এবং কেউ যেন নির্বাচনকে ঘিরে সংঘাত সৃষ্টি করতে না পারে- এটি আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু শেরপুরের ঘটনা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। কীভাবে এই ঘটনার সূত্রপাত হলো, কারা এতে মদদ দিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন কেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হলো- এসব প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে।
মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীকে পুলিশ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এমনকি বিএনপির নেতাকর্মীরাও হাত জোড় করে অনুরোধ করেছিলেন যেন তিনি ওই রাস্তা দিয়ে না যান। তা সত্ত্বেও তিনি কেন সেই পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন- সে প্রশ্ন থেকেই যায়। ভিডিওতে তাকে বারবার বলতে শোনা গেছে, ‘জান যায় যাক।’
তিনি বলেন, এই সংঘাতে একজন মানুষ নিহত হয়েছেন। তিনি যে দলেরই হোন না কেন, এমন মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। পাশাপাশি বিএনপির ৪০ জনের বেশি নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহত ও আহত সবাইই এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যেখানে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনে কোনো মারামারি বা সংঘাত থাকবে না।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সব পক্ষকে আহ্বান জানাই- কেউ যেন উসকানি না দেয়, উসকানিতে পা না দেয় এবং সবাই মিলে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করে।
তিনি আরও বলেন, শেরপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন দেশের আর কোথাও না ঘটে, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। প্রতিটি রাজনৈতিক দল দায়িত্বশীল ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখবে- এটাই গণমানুষের প্রত্যাশা।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সাম্প্রতিক মিছিল এবং বিএনপিকে জড়িয়ে অপপ্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাস করি, দোষারোপের রাজনীতিতে নয়।
মাহদী আমিন বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার হলো একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য বজায় থাকলে ইনশাআল্লাহ সবাই মিলে গণতন্ত্রকে আরও সুদৃঢ় করতে পারব।
ডা. তাসনিম জারা ও নুসরাত তাবাসসুম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেছেন, আমি তাসনিম জারা আপাকে অনেক সম্মান করি, উনি জোট ঘোষণার পরপর পদত্যাগ করেন। তিনি তখন পিসি (এনসিপির সর্বোচ্চ পরিষদের অংশ) মেম্বার ছিলেন। আমি তখন এক্সিকিউটিভ বোর্ডের মেম্বার ছিলাম। আমি রাগান্বিত ছিলাম কারণ, তার পদত্যাগ নিয়ে কখন কী হয়েছে, সেটি আমাদের কাছে পরিষ্কার করা হয়নি।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাতকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
নুসরাত তাবাসসুম বলেন, জারা আপু জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের আলোচনার অংশ ছিলেন। তিনি আলোচনার পর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তের পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলছি- এই জিনিসটা নিয়ে তার রাজনৈতিক আশা-আকাঙ্ক্ষা, উচ্চাকাঙ্খা ও পরিকল্পনা- যে কারোর থাকতে পারে।
‘তিনি শুধু জামায়াতের সঙ্গে জোটের জন্য পদত্যাগ করেছে- এটা বলা ভুল। আরও অসংখ্য কারণ এখানে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ত্রয়োদেশ জাতীয় নির্বাচনের আগে এনসিপিতে ভাঙন দেখা দেয়। তরুণ মেধাবী ও প্রতিশ্রুতিশীল কিছু নেতা বেরিয়ে যান।
দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ ও যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনসহ সারা দেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে দূরে সরে যান। তখন সামান্তা শারমিনসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতার দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা দল ছাড়েননি। নির্বাচনের পর থেকেই পদত্যাগীদের দলে ফেরানোর চেষ্টা করে আসছে এনসিপি।
সম্প্রতি এনসিপি বেশ কিছু নেতার বক্তব্যে তাদের দলে ফেরানোর বিষয়ে আগ্রহ শোনা যায়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশে এখন কায়দা করে মাদ্রাসাগুলোকে সাধারণ স্কুলে রূপান্তর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, সমাজের একটি পক্ষ চায় না দেশে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটুক। কারণ নৈতিক শিক্ষা না থাকলে খুব সহজেই চাঁদাবাজ ও লুণ্ঠনকারী তৈরি করা যায়।
মেধা ও চরিত্রের সঠিক সমন্বয় না হলে সমাজ জঙ্গলে পরিণত হয়। এ জন্য তিনি দেশের সামগ্রিক সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায়ও বাধ্যতামূলকভাবে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন আয়োজিত দিনব্যাপী ‘১৪তম হিফজুল কোরআন অ্যাওয়ার্ড ও কোরআন উৎসব ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এখন ভূতুড়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এমপিওভুক্ত যেসব মাদ্রাসা আছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো নয়। সিলেবাসকে সংকুচিত করা হয়েছে। মাদ্রাসা নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র যারা করছে, তারা কি আমাজনের জঙ্গল থেকে এসে করছে? না, এ দেশের মানুষেরাই, সন্তানেরাই করছে।
অনুষ্ঠানে সারা দেশ থেকে আগত তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন শাখার কৃতী হাফেজদের মধ্যে বর্ণাঢ্য ‘১৪তম হিফজুল কুরআন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ পদক ও বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। কৃতী শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কোরআনে কারিম হিফজ সম্পন্ন করার পেছনে বাবা-মায়ের অপরিসীম ত্যাগ ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অনুষ্ঠানে উপস্থিত তাঁদের অভিভাবকদেরও বিশেষ ‘অভিভাবক সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও বাংলাদেশ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক কামাল উদ্দীন আবদুল্লাহ জাফরী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম এবং গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান শাহ ওলীউর রহমান চিশতি, ডিরেক্টর আ. ন. মু. রাশিদুল ইসলাম সায়েম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ড. মীম আতিকুল্লাহ প্রমুখ।
মানিকগঞ্জে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার পর আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. তমাল মানিকগঞ্জ সদর থানা ও এনসিপির জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে তমাল বলেন, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে আরিফুল ইসলাম তাঁর কাছ থেকে জামানত হিসেবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন। এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল প্যাডে একটি নিয়োগপত্রও দেওয়া হয়। তবে ওই নিয়োগপত্র নিয়ে হাসপাতালে যোগ দিতে গেলে তাঁর নামে কোনো নিয়োগ হয়নি বলে জানতে পারেন তমাল।
পরে টাকা ফেরত চাইলে আরিফুল নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে টাকা ফেরত না দেওয়ার পাশাপাশি গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তমাল।
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল সরবরাহের কাজ করছে কে এস এফ ট্রেড লিমিটেড। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির মানিকগঞ্জ জেলার দায়িত্বে রয়েছেন আরিফুল ইসলাম। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. শামীম হোসেনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য ও ভিত্তিহীন। যে কেউ অভিযোগ দিলেই তো হয় না। ঘটনার সত্যতা তদন্তে বেরিয়ে আসবে।”
আরিফুল ইসলামের বাবা ও মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, তাঁর ছেলে চাকরি দেওয়ার মতো কোনো পদে নেই। এ ধরনের কোনো বিষয় তাঁর জানা নেই এবং অভিযোগ থাকলে আরিফুল নিজেই তা দেখবেন।
এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি তাঁরা পেয়েছেন। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, ডিউটি অফিসারের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার কথা তিনি শুনেছেন। অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলিজা জামান
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনের উপনির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এলিজা জামান। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পিরোজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মহিলা দলের বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এই উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি। পরে মঈন উদ্দীন খান সাংবাদিকদের জানান, সোমবার মনোনয়নপত্র জমার নির্ধারিত দিনে এলিজা জামান মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এলিজা জামান। সংরক্ষিত আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, মঙ্গলবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হবে। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বুধবার আপিল করার সুযোগ থাকবে।
কেউ আপিল করলে তার নিষ্পত্তি হবে ২৯ অক্টোবর। ১ নভেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর ২ নভেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সব প্রক্রিয়া সেরে ১২ নভেম্বর ভোটের তারিখ রাখা হয়েছে তফসিলে।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনের নিয়ম অনুযায়ী, এ আসনটি বিএনপিই পাবে। ফলে এ আসনে অন্য কোনো দলের প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ নেই। মনোনয়নপত্রে কোনো জটিলতা না থাকলে নিয়ম অনুযায়ী বিএনপির প্রার্থী হিসেবে এলিজা জামানই নির্বাচিত হবেন। সেক্ষেত্রে ভোটের তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হবে না, যাচাই বাছাই ও আপিল নিষ্পত্তির আনুষ্ঠানিকতা সেরেই তাঁকে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠলে ১ অক্টোবর তিনি পদত্যাগ করেন। পরে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয় এবং উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
সেনাবাহিনীর টহল। ছবি: সংগৃহীত
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। এছাড়া এ নির্বাচন বিষয়ে ৯টি অভিযোগ ও ৩টি দাবি নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন দলটির নেতারা। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে।
দলটির অভিযোগ, প্রশাসন নিরপেক্ষ নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী সেখানে নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে করেন।
এসময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ ও ইসির সিনিয়র সচিব উপস্থিত ছিলেন। আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বিকেল ৪টায় এ বৈঠক শুরু হয়ে চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। বৈঠকে আরও উপস্থিতি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন প্রমুখ। বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রশাসন, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আচরণ নিরপেক্ষ নয়। এ পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কেন্দ্রীয় একটি দল শনিবার ঠাকুরগাঁওয়ে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগগুলো জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের পক্ষে ছবি, আহত ব্যক্তিদের ছবি এবং নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণও দেওয়া হয়েছে।’ তার অভিযোগ, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাইরুল ইসলাম একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। ওই কর্মকর্তা রাতে প্রার্থীর বাড়িতে বৈঠক করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণার মতো পোস্ট দিয়েছেন।
এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন, টাকা লেনদেন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগের পরও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়নি।
ঠাকুরগাঁও-১ নির্বাচনি এলাকায় জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে এবং নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন এমন অভিযোগ তুলে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এ বিষয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। মসজিদের ভেতরে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনি সভা, আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন প্রতীক ব্যবহার এবং নির্ধারিত সময়ের আগে মাইক বাজানোর অভিযোগও পাওয়া গেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।’
হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে জামায়াতের এ নেতা বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হিন্দু ভোটারদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ও শিক্ষকদেরও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’
এছাড়া ভোটারদের সেবা দেওয়ার বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিভিন্ন ইউনিয়নে মেডিকেল ক্যাম্প বসিয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ালেই হবে না; দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে।’
১৯৯৪ সালের মাগুরার উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনকে মাগুরার নির্বাচনের মতো পরিস্থিতিতে নিয়ে যাওয়া হলে তার পরিণতি সম্পর্কে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আমাদের আশ্বস্ত করার মতো কোনো দৃঢ় পদক্ষেপের কথা জানাতে পারেনি। তবে জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি। দলটি নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুত এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।’
বৈঠক শেষে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন নিয়ে বলেন, ‘প্রশাসনে যারা আছেন, তারা নিরপেক্ষ নন। তাদের আচরণ ও ভূমিকার মধ্যে আমরা নিরপেক্ষতা দেখতে পাইনি।’
বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাত করেছে বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিএনপি শেখ হাসিনার তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে। আমরাও মনে করি অবৈধ। কিন্তু আইনগতভাবে বলার সুযোগ নাই। কারণ বিএনপি সরকার ওই তিনটি সংসদকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেনি।’
রোববার রাজধানীর মিরপুর-১০ গোলচত্বরে পথসভায় এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবরের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রচারে এই পথসভা করা হয়। নাহিদ ইসলামসহ এনসিপি নেতারা লিফলেট বিতরণ করে।
ভারতের সঙ্গে গোপন আঁতাতে পাহাড়কে অশান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন বিরোধীদলীয় চিফহুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, এই গোপন আঁতাতের ফলেই পাহাড়কে অশান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে নানাভাবে। আমরা জানি পাহাড়ে কারা অস্ত্র দেয়, পাহাড়ে কারা অশান্তি তৈরি করে। পার্শ্ববর্তী দেশ কথিত বন্ধু রাষ্ট্র বাংলাদেশকে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হয় তখন তারা পাহাড়ে অশান্তি তৈরি করে।সমতল থেকে পাহাড়- সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আশান্ত বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পাহাড় অশান্ত কেন- এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য পাচ্ছি না। পাহাড়ে কারা অস্থিতিশীলতা করছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কিভাবে তৎপরতা এবং ষড়যন্ত্র করার চেষ্টা করছে, তা জনগণের সামনে সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এখনো সুযোগ রয়েছে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে বিগত তিনটি অবৈধ সংসদের ধারাবাহিকতা থেকে বের হওয়ার। পুরোনো ধারাবাহিকতা রক্ষা হলে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি যদি সবচেয়ে ভালো সংশোধনীও আনে, ভবিষ্যতে এমন হতে পারে সেই সংশোধনী বাতিল করে বর্তমান সরকার এবং অন্তর্বর্তী সময়টাকে অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করা হবে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, পঞ্চম সংশোধনী বাতিল করে জিয়াউর রহমানকে অবৈধ ক্ষমতা দখলদার হিসেবে আওয়ামী লীগ ইতিহাসে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছিল। ফলে তারেক রহমানের সঙ্গে যে একই কাজ হবে না, এর নিশ্চয়তা নাই।
পথসভায় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য বিএনপি অতীতে আন্দোলন করেছে। অথচ এখন সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে নাটক শুরু করেছে। নিজেদের পছন্দের লোককে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য অতীতে বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানো হয়েছিল। এতে এক এগারোর মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণে সংস্কারের সংলাপে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মুলা প্রস্তাব এসেছিল। যা গণভোটে পাসও হয়েছে। কিন্তু এখন বিএনপি সরকার নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বেছে নেওয়ার পথ তৈরি করেছে। তারা বলছে, স্পিকারকেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা হবে। তাহলে সেই সরকার নির্দলীয় হবে কীভাবে?এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, একসময় চাঁদাবাজি নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা মার্কেটে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন তা গ্রামগঞ্জের অলিগলি, পাড়া মহল্লা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। মহিষের ঘাস খাওয়ানো ও পুকুরে মাছের খাবার দিতেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছে।
পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়বক সারোয়ার তুষার, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য সালেহ উদ্দিন সিফাত, নুসরাত তাবাসসুম প্রমুখ।