সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬, সময় : ১২:৪০ পিএম

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারে ‘কিচেন কেবিনেট’ ছিল বলে উল্লেখ করেছেন ওই সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তবে তিনি এই ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন না বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা। আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ এ কথা বলেন। 


সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের হামলা এবং সমসাময়িক বিষয়ে দলের বক্তব্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।


সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে একজন সাংবাদিক আসিফ মাহমুদের কাছে জানতে চান, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘কিচেন কেবিনেটের’ সদস্য ছিলেন কি না। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘কিচেন কেবিনেট ছিল। কিন্তু আমি সেটার সদস্য ছিলাম না।’


রাষ্ট্র বা সরকার পরিচালনায় কিচেন কেবিনেট বলতে আনুষ্ঠানিক কোনো ফোরাম নেই। এই শব্দবন্ধ দিয়ে কোনো রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানের কিছু বিশ্বস্ত সহকর্মীকে নিয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠীকে বোঝায়, যাদের সঙ্গে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ও সিদ্ধান্ত নেন।


সম্প্রতি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের এক সাক্ষাৎকারের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক এ উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পরিচালনায় সাত সদস্যের একটি কিচেন কেবিনেট সক্রিয় ছিল। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সেখান থেকেই আসত। তাঁরা প্রতি মঙ্গলবার যমুনায় (সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন) বৈঠকে বসতেন। এদের হস্তক্ষেপ ও মন্ত্রণালয়ের কাজে প্রভাব বিস্তারের কারণে তিনি তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারের অস্বস্তির কথা ভেবে তা আর সম্ভব হয়নি।


২০২৪ সালের জুলাই ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র-তরুণদের প্রতিনিধি হিসেবে ওই সরকারে উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। তিনি প্রথমে ক্রীড়া উপদেষ্টা হলেও পরে গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আরেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের সঙ্গে তিনিও অন্তর্বর্তী সরকার থেকে বিদায় নেন। এরপর এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্বে আসেন তিনি।


বাণিজ্যচুক্তি প্রসঙ্গে


সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একেবারে শেষ সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই করা বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে কেউ এনসিপির মতামত নেয়নি বলে উল্লেখ করেছেন আসিফ মাহমুদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, এই চুক্তিটা বিএনপিই করেছে। কিন্তু সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে তাদেরই বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে (খলিলুর রহমান) দিয়ে তারা এটা অন্তর্বর্তী সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়েছে। এখন একটা পলিটিক্যাল ব্লেম গেম (রাজনৈতিক দোষারোপের খেলা) চলছে।’


গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় পায় বিএনপি। এর তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি সই করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেই চুক্তির নেপথ্যে সে সময়ের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের ভূমিকার বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়।


এ বিষয়ে খলিলুর রহমান গত ৪ মার্চ সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের (বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী) সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন। তাঁরাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। সুতরাং এমন নয় যে এটা আমরা অন্ধকারে করেছি।’


খলিলুর রহমানের ওই বক্তব্যের পর গত ৬ মার্চ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ফেসবুক পোস্টে লিখেন, ‘বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরকার কয়েকটি চুক্তি করেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ধরনের কোনো চুক্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা করা হয়নি।’


এরপর ১৫ মে রংপুরে এক অনুষ্ঠানে শফিকুর রহমান আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কেউ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনা করেনি।


এবার চুক্তিটির বিষয়ে মুখ খুললেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের শরিক দল এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘যখন (৯ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হয়, তখন আমি এনসিপির মুখপাত্র ছিলাম। ফলে চুক্তি সম্পর্কে আমার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কিছু জানা সম্ভব নয়।’


সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকেই বলেন, বাণিজ্যচুক্তি সম্পর্কে সব দলকেই জানানো হয়েছে। আমি আমার দলের আহ্বায়কসহ সবার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি, চুক্তির বিষয়ে কেউ এনসিপির কনসার্ন নেয়নি। এটা আমি পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছি।’


সরকারের উদ্দেশে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘চুক্তিটি করেছেন বর্তমান বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। যদি অন্য কিছু হয়, তাহলে আপনারা এ চুক্তিটা পর্যালোচনা করুন, বাতিল করুন। চুক্তির যে যে অংশগুলো বাংলাদেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আলোচনা চালান।’


সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আপনারা বারবার অন্তর্বর্তী সরকার, এনসিপি, জামায়াত—এদের ওপর দায় দিতে চান। কিন্তু চুক্তি করেছে আপনার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ব্লেম গেমের রাজনীতি, মানুষকে ভুলের মধ্যে রাখার চেষ্টা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’


‘মনে হচ্ছে রাজতন্ত্রে বসবাস করছি’

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সারা দেশে বসা কোরবানির পশুর হাটের ইজারা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, এবারের পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের প্রায় সব পশুর হাটের ইজারা বিএনপির লোকজন পেয়েছেন। এবার যাঁরা হাট পাননি, সেই নেতারাও বিভিন্ন জায়গায় পাড়ায় পাড়ায় হাট বসাচ্ছেন। হাসিল আদায় করছেন।


মেট্রোস্টেশনের নিচেও হাটের বরাদ্দ হয়েছে অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই পুরো ব্যবস্থাটা বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে হচ্ছে।


ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ অব্যবস্থাপনার কথাও উল্লেখ করেন এনসিপির মুখপাত্র।


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) পরিবারতন্ত্রের প্রভাবের সমালোচনা করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘মনে হচ্ছে, আমরা একটা রাজতন্ত্রে বসবাস করছি। অথচ এর আগে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের মুখে শোনা গিয়েছিল, তাঁরা ক্রীড়াক্ষেত্রকে দলীয়করণ করবেন না। তাঁরা আসলে সত্যি কথাই বলেছিলেন। তাঁরা দলীয়করণ নয়, পরিবারকরণ করেছেন। এখন সবাই ভয়ে চুপ করে আছে।’


সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:২৩ পিএম

দেশের সাতটি ইসলামি দলের সমন্বয়ে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘সমমনা ইসলামী জোট’। আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওস্থ মাখযানুল উলূম মাদরাসায় দলগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিদের এক বৈঠক শেষে জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন।


আগামী ৫ ডিসেম্বর নীতিমালার বৈঠক


মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন জানান, সাতটি ইসলামি দলের যৌথ উদ্যোগে এই জোট গঠন করা হয়েছে। তবে জোটের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে আগামী ৫ ডিসেম্বর এক নীতি নির্ধারণী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।


জোটে অন্তর্ভুক্ত দলসমূহ


নবগঠিত এই সমমনা জোটে অন্তর্ভুক্ত দলগুলো হলো:


  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
  • খেলাফত মজলিস
  • বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন
  • ইসলামী ঐক্যজোট
  • বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি


জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ও নির্বাচনী অবস্থান


জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন বলেন, ‘বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে জামায়াতের সঙ্গে আমরা রাজপথে থাকলেও জোটগতভাবে এখন এই সাতটি দল এক হয়ে কাজ করবে।’


তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, ‘জামায়াত আমাদের সাথে কোনো পরামর্শ না করেই স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আমরাও এই সাতটি দল একসাথে আগামী স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।’ 


তবে জাতীয় ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রামে সমন্বয় বজায় থাকবে বলে জানান তিনি।


হেফাজতে ইসলামের অবস্থান


এদিকে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানিয়েছেন, ‘সমমনা ইসলামী দল’ প্ল্যাটফর্মের অধীনে সাতটি দল একসাথে পথ চলতে সম্মত হয়েছে। যেসব দল আগে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটে যুক্ত ছিল, তারাও সেই জোট ত্যাগ করে এই নতুন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে একমত পোষণ করেছে।


সাজিদুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, দেশ, জাতি ও ইসলামের বৃহত্তর স্বার্থে ইসলামি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হেফাজতে ইসলাম অনুঘটক হিসেবে ভূমিকা রাখছে। তবে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে হেফাজতে ইসলামের নিজস্ব 'নির্দলীয়' অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।


উল্লেখ্য, আগামী ৫ ডিসেম্বরের বৈঠকে জোটের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা ও নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে। তবে কয়েকটি দলের শীর্ষ নেতারা হুশিয়ারি দিয়েছেন, নীতিমালায় চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্ত থাকলে তারা জোট ছাড়তেও দ্বিধা করবেন না।

সর্বশেষ সব খবর

ইশরাক হোসেন

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৪০ পিএম

প্রধানমন্ত্রী আমাকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়ে এযাবৎকালের সেরা পরামর্শটি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পদত্যাগ করার নির্দেশটি একবাক্যে মেনে নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।


বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে করা এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।


ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল কিন্তু সবার আগে তিনিই পরিষ্কার বুঝে ফেলেছিলেন যে একটি গণমাধ্যম ও কমন স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী আমার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী ও ক্ষতিকর একটি পরিকল্পনা সাজিয়ে রেখেছে। পুরো ছক তৈরি করা হয়েছিল, যার মাধ্যমে একটার পর একটা বিধ্বংসী প্রতিবেদন ও মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আমার চরিত্র হনন করা হতো এবং আমাকে জনগণের তুমুল সমালোচনার মুখে ফেলা হতো।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমার শুভাকাঙ্খী সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে দুরুত্ব তৈরি করে আমাকে একঘরে করে ফেলত। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হতো, যাতে হয়তো আমার রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানতে হতো। একই চক্র অতীতে তার বিরুদ্ধে কী ভয়াবহ অন্যায় পরিকল্পনা করেছিল, সেটাও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন।’


ইশরাক নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অন্ধ বিশ্বাস রাখা একজন কর্মী দাবি করে বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে দেশনায়ক তারেক রহমান আমাকে ছোট ভাইয়ের মতো স্নেহের চোখে দেখেন এবং সবসময় আমার জন্যে কোনটা ভালো সেটি চিন্তায় রাখেন। যার প্রমাণ আমি জীবনে বার বার পেয়েছি।’


ইশরাক হোসেন তার শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি একটি কঠিন কাজ শুরু করতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে সূত্রপাত হওয়া এক ভয়াবহ চক্রান্ত থেকে নিজেকে পাশ কাটিয়ে রক্ষা করতে পেরেছি।’


ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘এই কথাগুলো আমি কেবল একটা স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য বলছি না। সবাই আমার কথাগুলো দেখবে। আমি শুধু অবাক হয়ে কয়েক দিন আগে বলা তার কথাগুলোর সঙ্গে আজকের পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখছি। আর নিজ দলের সুযোগসন্ধানী কেও যদি আঁতাত কারি হয়, প্রমাণ সাপেক্ষে , অনুমতি নিয়েই পা**** চা**** তুলে নিবো। আমরা ঢাকার মানুষ, ক্ষেত খামারির কূটচাল এখানে চলবে না।’





সর্বশেষ সব খবর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে ক্ষমতাসীন বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বিএনপিকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে।’ 


বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে ১১ দলের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির নতুন কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘দেশে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় শ্রমিকদের অবস্থা ভালো না। অথচ চাঁদাবাজি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে বিরোধী দলকে দায় চাপাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।’ 


জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা যে আন্দোলন করছে, আলোচনার মাধ্যমে সরকারের তা মেনে নেওয়া উচিত।’ 


তিনি অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম-খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার। ৭ মাসে সরকার লেজে-গোবরে জড়িয়ে গেছে।’


বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরওয়ার বলেন, ‘৯ নম্বর দফার বিপরীতে গিয়ে সব ক্ষেত্রই দলীয়করণ করছে সরকার।’


তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেন। আওয়ামী আমলের পুলিশ এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যের পরিবর্তন করা হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলে গুম খুন করা গোয়েন্দা বাহিনী দিয়েই চলছে এ সরকার।’


তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, অপরাধ, মাদক, সন্ত্রাস এবং দুর্নিতিকে ঢাকবার আর কোনো পথ নেই বলে দেশপ্রেমিক বিরোধীদলের ওপর দায় চাপাচ্ছেন।’


ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে রাজনীতির সুযোগও সরকার করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘৭ মাসে সরকার লেজে গোবরে জড়িয়ে গেছে।’


বিএনপি নিজেই তাদের ৩১ দফা মানছে না দাবি করে পরোয়ার বলেন, ‘৯ নং দফার বিপরীতে গিয়ে সর্বত্র দলীয়করণ করছে সরকার।’


শ্রমিকদের জীবনধারণ কঠিন হচ্ছে দাবি করে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির দাবি মেনে নেওয়ার আহবান জানান তিনি।


 

সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:০৭ এএম

পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের মালিকানাধীন বাড়ি থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার রাতে নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, জনদুর্ভোগ নিরসন ও অপকর্ম দমনের পরিবর্তে সরকার এখন বিরোধী দলের চরিত্র হননে ব্যস্ত।


ফেসবুক স্ট্যাটাসে জামায়াতের আমির লেখেন, ‘বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন অতিরিক্ত ডিআইজির মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। একই সঙ্গে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ পণ্য (মাদক) উদ্ধার করা হয়েছে।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এখান থেকেই বোঝা যায়, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে। দেশের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলাবিরোধী ও অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চাঁদাবাজির মহোৎসব, ছিনতাই, লুণ্ঠন ও ডাকাতি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।’


পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে এমন ঘটনা প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান লেখেন, ‘স্বয়ং পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের অপকর্ম সংঘটিত হওয়ায় জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’ স্ট্যাটাসের শেষাংশে তরুণদের জাগার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘হায় সেলুকাস! আমাদের এই বাংলাদেশ! তরুণদের আরেকবার জাগতে হবে।’


এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে একই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং বাড়ির মালিক অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।


বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব বলেন, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার মালিকানাধীন বাড়িতে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক। ঘটনার নেপথ্যে যাঁরা জড়িত এবং এ ধরনের অপরাধের যাঁরা পৃষ্ঠপোষকতা করেন, তাঁদেরও খুঁজে বের করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান তিনি।


এ ছাড়া মাদকের বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিভাগ ও দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান জামায়াতের এই নেতা।





জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান


সর্বশেষ সব খবর

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৩ পিএম

ইশরাক হোসেনের পদত্যাগ তাদের দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন বলেই ইশরাক পদত্যাগ করেছেন।


আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সফরে এসে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।


মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক হোসেনের অস্ত্র হাতে নেওয়ার বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, মাদক সমাজদেহকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইশরাকের যা করা দরকার ছিল, তিনি তা করেছেন। ওই অভিযানে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে ইশরাকের হাতে অস্ত্র না থাকলে ভালো হতো বলে মন্তব্য করেন তিনি।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইশরাকের কাজকে সরাসরি নেতিবাচক বলার সুযোগ নেই। তবে একজন জনপ্রতিনিধি বা প্রতিমন্ত্রী প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র বহন করলে কিংবা কাউকে অস্ত্র দিয়ে লক্ষ্য করলে, তার উদ্দেশ্য ভালো হলেও অন্যরা সেটিকে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হিসেবে নিতে পারে।


তিনি বলেন, কোনো কাজের উদ্দেশ্য ভালো হলেই সব ক্ষেত্রে সেই কাজের পদ্ধতি গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। এ ধরনের বিষয় নাগরিক আচরণের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


মাদক নির্মূলের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইন পাস হয়েছে। তবে তাদের লক্ষ্য শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ নয়, তারা মাদক নির্মূল করতে চান। মাদকের বিস্তার রোধে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সর্বশেষ সব খবর

জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৬ পিএম

জামায়াতে ইসলামী কখনোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।


গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতে ইসলামী কখনোই আওয়ামী লীগের সাথে জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে বিএনপির বিরুদ্ধে সব বিরোধী দল মিলে লিয়াজোঁ কমিটি করেছিল।


গোলাম পরওয়ার বলেন, ফ্যাসিস্ট কি তা ৭ মাসের মধ্যেই ভুলে গেছে বিএনপি। চাঁদাবাজি, লুটপাট, নিজ দলের লোক বসানো, জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাই ফ্যাসিবাদ। জামায়াতে ইসলামী জুলাইকে ধারণ করে রাজপথে আন্দোলন করছে। অথচ বিএনপি তা ধারণ না করে দমন-পীড়নের দিকে হাঁটছে।


জামায়াতের এই নেতা বলেন, রাষ্ট্র, সরকার ও সরকারি দল গুলিয়ে ফেলছে বিএনপি। দুর্নীতি ও দলীয় কর্মীদের কথা বললে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হচ্ছে। জুজুর ভয় দেখিয়ে সরকার নিজেই স্বৈরাচারকে ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে, জামায়াত নয়। জুজুর ভয় দেখিয়ে সব বিরোধীদলকে পাল্টা দোষারোপ করেছে।


তিনি আরও বলেন, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ; বিচার কার্যকরের পর সরকারের ঘুম ভেঙেছে। এটি পুরোপুরি বাংলাদেশের কূটনৈতিক ব্যর্থতা।

সর্বশেষ সব খবর