ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যার শিকার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির নামে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রেসিডেন্ট ময়েজ লিমায়েন। তিনি বলেছেন, আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানেও বৃষ্টি ও লিমনকে স্মরণ করা হবে। তাদেরকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ক্যাম্পাসে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হবে।
শুকবার ক্যাম্পাস সংলগ্ন ক্রিসেন্ট হিলে একটি গাছের সামনে শোক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
গাছটির একপাশে বৃষ্টির ছবি, অপর পাশে লিমনের ছবি রেখে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সেখানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা’র নেতারা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। আর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
১৬ এপ্রিল সকাল থেকে তাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের ফোন বন্ধ পেয়ে এবং কোনোভাবে যোগাযোগ করতে না পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
পরে গত ২৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি সেতুর কাছ থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারপর পুলিশ বৃষ্টির পরিবারকে ফোনে জানায়, তাকেও হত্যা করা হয়েছে।
লিমনের লাশ উদ্ধারের পর ওইদিনই তার রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়।
এদিকে বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি চলাকালে স্থানীয় একটি জলাশয় থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। পরীক্ষার পর শুক্রবার পরিবারকে জানানো হয়, ওই দেহাবশেষ বৃষ্টির।
লিমনের ছোট ভাই জুবায়ের আহমেদ বাংলাদেশ থেকে ফ্লোরিডার একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, লিমন ও বৃষ্টির প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে চার বছরের। তারা বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
পরিবারের পক্ষ থেকেও দ্বিমত ছিল না। তবে উচ্চ শিক্ষা শেষ করেই তারা বিয়ের কাজটি সারতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার আগেই ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা।
সম্মাননা অনুষ্ঠানে শাকিল সৈয়দ
বাংলাদেশে সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিশেষ অবদানের জন্য জার্মান সরকারের কাছ থেকে সম্মাননা (এনগেজমেন্ট প্রাইস) পেয়েছেন শাকিল সৈয়দ। তিনি বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিক। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) এই সম্মাননা দেয়। শাকিল সৈয়দসহ মোট সাত ব্যক্তি এবার এই সম্মাননা পেয়েছেন।
জার্মানির বন শহরে বিএমজেডের দপ্তরে আয়োজিত ‘ওপেন ডে’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। সম্মাননা তুলে দেন উন্নয়নমন্ত্রী রিম আলাবালি রাদোভান।
শাকিল সৈয়দ জার্মানির নুরেমবার্গে থাকেন। তিনি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা-পরিচালনাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত আছেন। তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘আশা-বাংলাদেশের জন্য প্রত্যাশা’ নামের সংগঠনের মাধ্যমে সমাজসেবামূলক কাজ করে আসছেন।
বিএমজেডের প্রশংসাপত্রে বলা হয়, শাকিল সৈয়দ তাঁর কাজের মাধ্যমে জার্মানির মানুষের কাছে বাংলাদেশের জনগণের জীবনচিত্র তুলে ধরছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ বোঝার ক্ষেত্রে জার্মানির সঙ্গে সেতুবন্ধন তৈরি করছেন।
উন্নয়নমন্ত্রী রিম আলাবালি রাদোভান বলেন, শাকিল সৈয়দসহ সম্মাননা পাওয়া সাত ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংহতি-সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। বিশেষ করে এই সময়ে তাঁদের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যখন জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদ বাড়ছে। ‘আগে আমরা’ ধরনের মানসিকতা আরও জোরালো হচ্ছে।
সম্মাননা পাওয়া অন্য ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন জার্মানির কোলনের গ্লোরিয়া নিয়াকুয়ে, ডুসেলডর্ফের ইউলিয়ুস লাটজেল, বার্লিনের বাতিয়া ব্লাঙ্কার্স, কারিন ম্লোডক ও নাতালিয়া ফিব্রিগ। এ ছাড়া মরণোত্তর সম্মাননা পেয়েছেন বন শহরের ইয়েন্স মার্টেন্স।
মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নিয়ে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের লিমিটেড এর উদ্যোগে এক জমকালো বিজনেস মিটিং ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের বিভিন্ন পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মামুনুর রশীদ মজুমদার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ডিরেক্টর মার্কেটিং জনাব ফেরদাউস রহমান রুমি।
প্রোগ্রামটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন জনাব তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে বক্তব্য রাখেন জনাব রাশেদ বাদল, জনাব সেলিম উদ্দিন এবং জনাব হারুন অর রশিদ। এছাড়াও বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের বিভিন্ন অংশীদারিত্ব গ্রহণকারী সদস্যবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে প্রকল্পের প্রতি আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
সভায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং একটি সম্ভাবনাময় এগ্রো-ট্যুরিজমভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে প্রকল্পটির সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতান এলাকায় অবস্থিত রাধুনী বিলাস রেস্টুরেন্টে।
বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের কৃষি, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবসায়িক সভা ও মতবিনিময় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট-সমৃদ্ধ কৃষি, সুন্দর প্রকৃতি ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রত্যয়।
রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় সফরে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।
রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ভুটানের সংসদ ভবনের সম্মুখে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপস্থিত ছিলেন তিনি।
আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পঞ্চগড়ের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর এই অংশগ্রহণ পঞ্চগড়বাসীর জন্যও গর্ব ও সম্মানের বিষয়।
নিউ ইয়র্কের কুইন্সে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত বুধবার জামি চৌধুরী নামের ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিন দেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হতে হবে।
মামলার তথ্যের বরাতে প্রাইভেট ডিটেকটিভ শক্তি গুপ্ত জানান, ১৬ অগাস্ট দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৮৯-১৬ ১৭৫ স্ট্রিটের একটি পার্টি হলে জামি চৌধুরীর ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়।
সেখানে ডিজের সরঞ্জাম ও সেবা দেওয়ার জন্য অনুপ কুমার এষকে ১ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার কথা ছিল।
অনুপের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের পর তাকে ৪০০ ডলার দিতে চাইলে তিনি আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে জামি চৌধুরীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।
পারিশ্রমিক দাবি করার পর ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক’ গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
অনুপ বলছেন, তার হিন্দু পরিচয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তার ভাষ্য, পেশাগত সেবার পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ দিয়ে ঘটনার শুরু হলেও পরে একদল লোক এতে জড়িয়ে পড়ে। জামি চৌধুরীসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।
মামলায় বলা হয়, অনুপকে শারীরিকভাবে আক্রমণ, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করার সময়ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
শক্তি গুপ্ত জানান, ৯১১ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। অনুপকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ঘাড়, কান ও পিঠে আঘাত লাগে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আপসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুপ তাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “অন্যায়ভাবে আমাকে মারধর করা হয়েছে, অথচ সেই বিচারও পাব না? আমি আপসে বিশ্বাসী নই, ন্যায়বিচার চাই। কারণ এটি হচ্ছে আমার রুটি-রুজির অবলম্বন।”
অভিযোগের বিষয়ে জামি চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি রেস্তোরাঁয় গুলিতে ইউসুফ রাজু নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে এ ঘটনা ঘটে।
রেস্তোরাঁটির কর্মী ৪৪ বছর বয়সি রাজুর মাথায় গুলি লেগেছিল। আর ৩৯ বছর বয়সি রাজুর পায়ে গুলি লেগেছে বলে তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে।
রাজুকে গুরুতর আহত অবস্থায় কাছের ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভেনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টের’ ভেতরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি তদন্ত করছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।
নিহত রাজু বছর তিনেক আগে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার জন্য দালাল নিয়েছিল ৩০ লাখ টাকা। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। বিবাহিত রাজুর দেশে স্ত্রী, তিন সন্তানসহ ভাই-বোন ও মা-বাবা রয়েছেন।
রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরে। আহত রাসেলের বাড়িও নোয়াখালীতে। তিনিও দালালকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
ব্রুকলিনে বসবাসরত নোয়াখালী কমিউনিটির নেতা শহিদুল্লাহ কাইসার জানান, ওই রেস্তোরাঁয় এক গ্রাহক খাবারের বিল পরিশোধ না করেই চলে যাচ্ছিলেন। তাকে বিল পরিশোধ করতে বলেন রাজু ও রাসেল। এ নিয়ে বাগবতণ্ডার একপর্যায়ে ওই গ্রাহক পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।
নোয়াখালী সোসাইটির নেতা নাজমুল হক মানিক বলেন, রাজুর স্বজনরা বাংলাদেশ থেকে ফোন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় পতাকা
বাংলাদেশে ভ্রমণ নিয়ে দেশের নাগরিকদের সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতার আশঙ্কায় দেশটি বাংলাদেশে ভ্রমণকারীদের উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। সোমবার সর্বশেষ এই সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। কানাডা সরকার এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিয়ে দুই দফা ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছিল। এবারের সতর্কতায়ও বাংলাদেশকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পর্যায়েই রাখা হয়েছে।
কানাডা সরকারের ভ্রমণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সময় বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলে সতর্কতা আরও কঠোর
চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও কঠোর করেছে কানাডা। দেশটির নাগরিকদের ওই এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথাও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশে অবস্থানরত বা ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ভ্রমণের আগে কানাডা সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।