• প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৫ মে, ২০২৬, সময় : ৬:৩৯ এএম

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার এবং মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পরিচিতি সভা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন এই দলের চমকে দেওয়া অনুষ্টানে বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণের বিপুল সংখ‍্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।


গতকাল সোমবার বিকালে পূর্ব লন্ডনের একটি অভিজাত হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের চেয়ারপার্সন মিসেস লিলিয়ান্স কলিন্স। অনুষ্ঠান যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন দলের কাউন্সিলর প্রার্থী সলিসিটর মমতাজ ইসলাম ও ইওয়ান হটন এবং জাহিদ আহমেদ। হল ভর্তি সাপোর্টারদের মুহুর্মুহু করতালির মধ‍্যে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেয়র প্রার্থী জামি আলীসহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তব‍্যের পর টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টির মেয়র প্রার্থী ব্যারিস্টার জামি আলী এবং ৪৩জন কাউন্সিলর প্রার্থীর আনুষ্ঠানিক পরিচিতি ও নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।


নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ কালে জামি আলী বলেন, আমরা আজকে সফল হয়েছি। কমিনিটির সকল পেশার মানুষকে জমায়াতে করতে পেরেছি। তিনি বলেন, ১শত দিনের ভিতরে এনভয় ও সরকারের কন্সান পূরণ করা হবে। ইশতেহার কোন কাগজ নয়, আজকে কি করা হবে সেটা উল্লেখ রয়েছে। গোপনে কোন কিছু করতে চাইনা, সবাইকে নিয়ে খোলামেলা সব করতে চাই। বারার সকল সমস‍্যা ও বদনাম দূর করে ব্রিটিশের মাঝে জায়গা করে নিতে চাই।


অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, এই দলটি বিভিন্ন পেশার মানুষের সমন্বয়ে গঠিত, যা স্থানীয় রাজনীতিতে বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করবে।চেন্জ ছাড়া বারার সমস‍্যা সমাধান হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে এই নতুন উদ্যোগ টাওয়ার হ্যামলেটসের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মার্ক হটন,সৈয়দ আলী আহমেদ, কমিনিটি লিডার ফরিদ আহমেদ রেজা, বিসিএ’র সেক্রেটারী মিটু চৌধুরী, ব্যারিস্টার জন ট্রাসলার, ব্যারিস্টার রাসেল উইলকক্স, সাবেক অক্সফোর্ড ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট জর্জ আব্রানিয়ে, টেরি ম্যাকগ্রেনার (স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী) মোহাম্মদ আলী, বো’র শিখ টেম্পলের জেনারেল সেক্রেটারী গুরপ্রীত সিং বেকার, স্টিফোর্ড সেন্টারের ম‍্যানেজার জয়নুল হক, প্রেশেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়াম‍্যান আব্দুল দয়াস, ফাইন‍্যান্স এডভাইজার আবদি করিম, শিক্ষার্থী হাসান আনাব, সাবেক স্পিকার ও বর্তমান কাউন্সিলর জাহেদ বখত চৌধুরী, কাউন্সিলর কবির হোসেন প্রমূখ।


অনুষ্টানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ। এসময় বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী, কমিউনিটি অ্যাডভোকেট, সমাজকর্মী, স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা।


এবারের নির্বাচনে টাওয়ার হ্যামলেটস ইন্ডিপেনডেন্টস পার্টি থেকে যারা প্রতিদন্দ্বীতা করছেন স্পিটালফিল্ডস ও বাংলা টাউন ওয়ার্ড থেকে কবির হোসেন ও এডভোকেট নুরুল মালিক। আইল্যান্ড গার্ডেনস ইওয়ান হটন ও সলিসিটর কামরুল হাসান। সেন্ট ডান্সস্ট‍্যান্সে ওয়ার্ডে কামরুজ্জামান ও এডভোকেট আমিরুল ইসলাম। ল‍্যান্সবারি ব‍্যবসায়ী রোমনা বেগম-সাবেক স্পিকার জাহেদ বকত চৌধুরী ও পাওয়ার সিস্টেম বিশেষজ্ঞ কাইসুল ইসলাম। মাইল‍্যান্ড ওয়ার্ডের টিচিং অ‍্যাসিস্ট‍্যান্ট ক্রিস্টিয়ানা আগবাবিয়াকা-সাবেক কাউন্সিলার শাহ আলম ও ব‍্যাবসায়ী নওমান ইকবাল।


হোয়াইটচ্যাপেল ওয়ার্ডে ইমিগ্রেশন প্র‍্যাটিশনাক আলী আকবর-এডভোকেট আব্দুল বশির ও ব‍্যারিস্টার মিজানুর রহমান। পপলার ওয়ার্ডে হাউজিং অফিসার ফারহাদ আহমেদ। লাইম হাউস ওয়ার্ডে ব‍্যবসায়ী জাহান ইব্রাহিম। শ্যাডওয়েল ওয়ার্ডে হেলথ এন্ড স‍্যোসাল কেয়ার পেশাজিবী আব্দুস শুকুর। ব্রোমলি নর্থ ওয়ার্ডে এডভোকেট আব্দুল মুমিন ও এডভোকেট শেখ নাশার।


ব্রোমলি সাউথ ওয়ার্ডে হেলথ এন্ড স‍্যোসাল কেয়ার পেশাজিবী লিটন আহমেদ। বেথনালগ্রিন ইস্ট ওয়ার্ডে এডভোকেট মো: সাহিন আহমদ-মো: মুহিবুল হাসান ও নুরুল কামরুজ্জামান। বেথনালগ্রীন ওয়েস্ট ওয়ার্ড এডভোকেট মুহিবুল হক-আবি ইসলাম ও দমকলকর্মী নাসির আহমদ জিলানী। ব্ল্যাকওয়াল ও কউবিট টাউন এয়ার্ডে আইরিন সোবহান ও শাহ নূর মোহাম্মদ এবং জাহিদ আহমেদ।


বো ইস্ট ওয়ার্ডে এডভোকেট সলিম চৌধুরী-দেলোয়ার হিরা ও শফিকুল ইসলাম। বো ওয়েস্ট ওয়ার্ডে সলিসিটর মমতাজ ইসলাম ও এডভোকেট সায়েদা ফাতেমা তুজ জোহরা। সেন্ট ক‍্যাথারিনস এবং ওয়াপিং সলিসিটর মুনশাত হাবিব ও অ‍্যাকাউন্ট‍্যান্ট। ক্যানারি ওয়ার্ফ ওয়ার্ডে মোহাম্মদ আইনজীবি আবোশানাব ও জাহিদ আবু হায়াত। স্টেপনি গ্রীন ওয়ার্ডে আইনজীবি হাবিবুর রহমান ও হাসান মোহাম্মদ দিরিয়ে। উইভার্স ওয়ার্ডে ইমরান হোসেন ও আব্দুল্লাহ নাজিমুদ্দিন।




  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৫ পিএম

মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কমিউনিটিকে নিয়ে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের লিমিটেড এর উদ্যোগে এক জমকালো বিজনেস মিটিং ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের বিভিন্ন পরিকল্পনা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশীদারিত্বের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের ভাইস চেয়ারম্যান জনাব মামুনুর রশীদ মজুমদার, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও ডিরেক্টর মার্কেটিং জনাব ফেরদাউস রহমান রুমি।


প্রোগ্রামটি দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করেন জনাব তাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে বক্তব্য রাখেন জনাব রাশেদ বাদল, জনাব সেলিম উদ্দিন এবং জনাব হারুন অর রশিদ। এছাড়াও বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের বিভিন্ন অংশীদারিত্ব গ্রহণকারী সদস্যবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে প্রকল্পের প্রতি আস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।


সভায় মালয়েশিয়ায় বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং একটি সম্ভাবনাময় এগ্রো-ট্যুরিজমভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে প্রকল্পটির সফলতা কামনা করেন।


অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বুকিত বিনতান এলাকায় অবস্থিত রাধুনী বিলাস রেস্টুরেন্টে।


বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দেশের কৃষি, পর্যটন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবসায়িক সভা ও মতবিনিময় কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।




বাংলাদেশ এগ্রো রিসোর্ট-সমৃদ্ধ কৃষি, সুন্দর প্রকৃতি ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে একসঙ্গে এগিয়ে চলার প্রত্যয়।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০৫ পিএম

রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, যোগ্যতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় সফরে ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির।


রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে ভুটানের সংসদ ভবনের সম্মুখে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটানের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে উপস্থিত ছিলেন তিনি।


আঞ্চলিক সহযোগিতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে এমন আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফর বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পঞ্চগড়ের একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর এই অংশগ্রহণ পঞ্চগড়বাসীর জন্যও গর্ব ও সম্মানের বিষয়।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৩৩ পিএম

নিউ ইয়র্কের কুইন্সে একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে ডিজের পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধের জেরে মারধরের ঘটনায় এক প্রবাসী বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, গত বুধবার জামি চৌধুরী নামের ওই বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জামিন দেন। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর তাকে কুইন্স ক্রিমিনাল কোর্টে হাজির হতে হবে।


মামলার তথ্যের বরাতে প্রাইভেট ডিটেকটিভ শক্তি গুপ্ত জানান, ১৬ অগাস্ট দুপুর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৮৯-১৬ ১৭৫ স্ট্রিটের একটি পার্টি হলে জামি চৌধুরীর ছেলের গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয়।


সেখানে ডিজের সরঞ্জাম ও সেবা দেওয়ার জন্য অনুপ কুমার এষকে ১ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়ার কথা ছিল।


অনুপের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের পর তাকে ৪০০ ডলার দিতে চাইলে তিনি আপত্তি জানান। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে জামি চৌধুরীসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন।


পারিশ্রমিক দাবি করার পর ‘ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক’ গালিগালাজ করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।


অনুপ বলছেন, তার হিন্দু পরিচয় ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।


তার ভাষ্য, পেশাগত সেবার পারিশ্রমিক নিয়ে বিরোধ দিয়ে ঘটনার শুরু হলেও পরে একদল লোক এতে জড়িয়ে পড়ে। জামি চৌধুরীসহ আরও ১০ থেকে ১২ জন এই হামলায় সরাসরি জড়িত ছিলেন।


মামলায় বলা হয়, অনুপকে শারীরিকভাবে আক্রমণ, হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। এমনকি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করার চেষ্টা করার সময়ও তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।


শক্তি গুপ্ত জানান, ৯১১ নম্বরে ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে যায়। অনুপকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার ঘাড়, কান ও পিঠে আঘাত লাগে।


ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আপসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনুপ তাতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “অন্যায়ভাবে আমাকে মারধর করা হয়েছে, অথচ সেই বিচারও পাব না? আমি আপসে বিশ্বাসী নই, ন্যায়বিচার চাই। কারণ এটি হচ্ছে আমার রুটি-রুজির অবলম্বন।”


অভিযোগের বিষয়ে জামি চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে একটি রেস্তোরাঁয় গুলিতে ইউসুফ রাজু নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি। স্থানীয় সময় রোববার ভোরে বাংলাদেশি অধ্যুষিত ব্রুকলিনে এ ঘটনা ঘটে।


রেস্তোরাঁটির কর্মী ৪৪ বছর বয়সি রাজুর মাথায় গুলি লেগেছিল। আর ৩৯ বছর বয়সি রাজুর পায়ে গুলি লেগেছে বলে তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে।


রাজুকে গুরুতর আহত অবস্থায় কাছের ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হসপিটাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়ার পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভেনিউয়ের ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা রেস্টুরেন্টের’ ভেতরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। কী কারণে গুলি চালানো হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।


ঘটনাটি তদন্ত করছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি)। স্থানীয় সময় রোববার রাত ৯টা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি।


নিহত রাজু বছর তিনেক আগে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার জন্য দালাল নিয়েছিল ৩০ লাখ টাকা। তারপর যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন। বিবাহিত রাজুর দেশে স্ত্রী, তিন সন্তানসহ ভাই-বোন ও মা-বাবা রয়েছেন।


রাজুর বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগরে। আহত রাসেলের বাড়িও নোয়াখালীতে। তিনিও দালালকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।


ব্রুকলিনে বসবাসরত নোয়াখালী কমিউনিটির নেতা শহিদুল্লাহ কাইসার জানান, ওই রেস্তোরাঁয় এক গ্রাহক খাবারের বিল পরিশোধ না করেই চলে যাচ্ছিলেন। তাকে বিল পরিশোধ করতে বলেন রাজু ও রাসেল। এ নিয়ে বাগবতণ্ডার একপর্যায়ে ওই গ্রাহক পিস্তল বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়।


নোয়াখালী সোসাইটির নেতা নাজমুল হক মানিক বলেন, রাজুর স্বজনরা বাংলাদেশ থেকে ফোন করে লাশ পাঠিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।


বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় পতাকা

  • প্রকাশ : বুধবার ১২ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:০১ পিএম

বাংলাদেশে ভ্রমণ নিয়ে দেশের নাগরিকদের সতর্কতা হালনাগাদ করেছে কানাডা সরকার। রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিচারিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও জনঅস্থিরতার আশঙ্কায় দেশটি বাংলাদেশে ভ্রমণকারীদের উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। সোমবার সর্বশেষ এই সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। কানাডা সরকার এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিয়ে দুই দফা ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছিল। এবারের সতর্কতায়ও বাংলাদেশকে উচ্চমাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পর্যায়েই রাখা হয়েছে।


কানাডা সরকারের ভ্রমণ সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে যেকোনো সময় বিক্ষোভ ও সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হঠাৎ যান চলাচল বন্ধ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং জনজীবনে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। এ কারণে বাংলাদেশে ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত ও বিক্ষোভ এড়িয়ে চলতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পার্বত্য অঞ্চলে সতর্কতা আরও কঠোর

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও কঠোর করেছে কানাডা। দেশটির নাগরিকদের ওই এলাকায় সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ অঞ্চলে রাজনৈতিক সহিংসতা, অপহরণ ও সংঘর্ষের ঝুঁকির কথাও সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে।


বাংলাদেশে অবস্থানরত বা ভ্রমণরত কানাডীয় নাগরিকদের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকা এবং ভ্রমণের আগে কানাডা সরকারের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১০ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন, সেখানকার বাকি এক কর্মী বেঁচে গেছেন ঘটনার সময় বাইরে থাকায়। স্থানীয় সময় রোববার দুপুরে ঘটা ওই দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশি হলেন হাবিবুর রহমান।


তার বরাতে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, দুপুর দেড়টার দিকে চুল কাটানোর জন্য তিনি সেলুনে যান। ফিরে এসে দেখেন, কারখানায় আগুন জ্বলেছে।


রিয়াদ মহানগরীর শিফা থানারে মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকার ওই কারখানায় দুপুর ২টার দিকে আগুন লাগে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এ দুর্ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


হাবিবুরের কাছ থেকে দূতাবাস জেনেছে, বাংলাদেশি কর্মীদের পরিচালিত কারখানাটিতে মোট ১৭ জন কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন মারা যান।


স্থানীয় সিভিল ডিফেন্সের বরাতে দূতাবাস জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আটজন পুড়ে মারা গেছেন। বাকি আটজন ‘কালো ধোঁয়ায় নিশ্বাস বন্ধ হয়ে’ মারা যান।


দূতাবাস জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রোববার রাত ১১টায় ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। মৃতব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে দূতাবাস।


মৃতদেহ সৌদি আরবে দাফন কিংবা বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য মৃতের পরিবারের লিখিত মতামত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে রিয়াদ দূতাবাস। নিহত ১৬ জনের মধ্যে ১৩ জনেরই বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। দুজনের বাড়ি পাশের নাটোর জেলার নলডাঙ্গায়। অপরজনের বাড়ি আত্রাই লাগোয়া রাজশাহীর বাগমারায়।


আত্রাইয়ের নিহতরা হলেন- উজনপই গ্রামের ফরিদ ,ডুবাই গ্রামের শুভ ও সুমন, গন্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামানিক, একই গ্রামের বজলুর প্রামানিকের ছেলে কলিমউদ্দিন, গুফফার প্রামানিকের ছেলে মোহন ও সুমন; একই থানার মিনহাজ, বোয়ালা গ্রামের হৃদয়, নওগাঁ গ্রামের শাহিন; খরস্রোতা গ্রামের আব্দুল জলিল, একই গ্রামের মজনুর ছেলে মজিদুল, সাদনগর গ্রামের সাগর।


নলডাঙ্গার দুজন হলেন- দিঘীরপাড় গ্রামের শামিম এবং খাজুরা গ্রামের সাকিব। আর রাজশাহীর বাগমারার যিনি মারা গেছেন, সেই শ্যামলের বাড়ি মরুগ্রামে।