মহাকাশে ধান চাষে সফল
কল্পবিজ্ঞানের গল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়ে মহাকাশের কক্ষপথে ধান চাষ করে সফল হয়েছেন চীনের নভোচারীরা। দেশটির নিজস্ব মহাকাশ স্টেশন তিয়ানগংয়ে এই বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করা হয়।
দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ অভিযানে পৃথিবীর ওপর খাদ্যের নির্ভরতা কমিয়ে চাঁদ, মঙ্গল গ্রহ বা গভীর মহাকাশে মানববসতি স্থাপনের গবেষণায় এই অর্জনকে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ মে উৎক্ষেপণ করা শেনঝৌ-২৩ মিশনের মাধ্যমে ধানের বীজ তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনে নেওয়া হয়েছিল। দুই মাসের বেশি সময় ধরে নিবিড় পরিচর্যার পর নভোচারী জু ইয়াংঝু, ঝাং ঝিয়ুয়ান এবং লাই কা-ইং প্রথম ধাপের ধানের নমুনা সংগ্রহ বা ধান কাটার কাজ সম্পন্ন করেছেন। প্রকাশ করা ভিডিওতে নভোচারীদের ধান সংগ্রহ করে গবেষণার জন্য তা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে দেখা গেছে।
এর আগে ২০২২ সালে তিয়ানগং স্টেশনে ১২০ দিনে সম্পূর্ণ জীবনচক্র সম্পন্ন করে ধান উৎপাদনে সফল হয়েছিল চীন। সে সময় উৎপাদিত ৫৯টি স্পেস সিড পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
তবে নতুন এই গবেষণায় মহাকাশে পরপর দুই প্রজন্মের ধান চাষ করার উপায় খুঁজছেন নভোচারীরা। মহাকাশের পরিবেশে ধানের একাধিক প্রজন্ম বড় হলে সেগুলো প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে কি না, তা জানতে বিভিন্ন ধরনের গবেষণাও করছেন তাঁরা।
টিকটক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও দেখার পাশাপাশি পণ্য কেনাকাটার অভিজ্ঞতাও বদলে দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে টিকটক। ব্যবহারকারীদের জন্য এআই-চালিত শপিং অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং এক ক্লিকেই পণ্য কেনার সুবিধা চালু করেছে প্ল্যাটফর্মটি। এর ফলে পণ্য খোঁজা থেকে শুরু করে কেনাকাটা পুরো প্রক্রিয়াটিই টিকটকের ভেতরে সম্পন্ন করা যাবে।
টেক ক্রাঞ্চ থেকে জানা যায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) নতুন ফিচারগুলোর ঘোষণা দেয় টিকটক। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, শপিং অ্যাসিস্ট্যান্টটি একটি কথোপকথনভিত্তিক এআই এজেন্ট, যা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন ও পছন্দ বুঝে পণ্য খুঁজে দিতে পারবে। একই কথোপকথনের ধারাবাহিকতায় ব্যবহারকারীর চাহিদা মনে রেখে সে অনুযায়ী পরামর্শও দেবে।
কোনো পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে এআই সহকারী পণ্যের বৈশিষ্ট্য, আকার, মজুত, শিপিং বা সরবরাহসংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবে। এমনকি পণ্য কেনার প্রক্রিয়াতেও ব্যবহারকারীকে সহায়তা করবে। শুধু পরামর্শ নয়, এবার কেনাকাটার শেষ ধাপটিও সহজ করছে টিকটক।
নতুন ইন-অ্যাপ চেকআউট সুবিধায় ‘ফর ইউ’ ফিডে কোনো ব্র্যান্ডের পণ্য দেখে ব্যবহারকারী এক ক্লিকেই সেটি কিনতে পারবেন। অর্থাৎ পণ্য কেনার জন্য আলাদা ওয়েবসাইট বা অ্যাপে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে টিকটক ব্যবহারকারীর পুরো শপিং-যাত্রার আরও বড় অংশ নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে চাইছে। বিশেষ করে কোনো পণ্য দেখে তাৎক্ষণিক কেনার প্রবণতাকে কাজে লাগাতে এআই সহকারী ও সরাসরি পেমেন্ট সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নতুন ফিচারগুলো তৈরিতে সেলসফোর্স, শপিফাই, শপলাজা ও স্ট্রাইপসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে টিকটক। যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক শপ চালুর পর থেকেই প্ল্যাটফর্মটির ই-কমার্স কার্যক্রম দ্রুত বাড়ছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই-মার্কেটারের হিসাবে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টিকটক শপের বিক্রি প্রায় ১৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট সামাজিক বাণিজ্যের প্রায় ১৮ শতাংশ।
সারাদেশে টেলিকম খাতের মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারিকে আইপিএস (ইনস্ট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই) সিস্টেমে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজ করবে ডিজিটাল অবকাঠামো সেবাদাতা ইডটকো বাংলাদেশ ও টাইগার লিথিয়াম এনার্জি।
অংশীজন বলছেন, পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা, সার্কুলার অর্থনীতির চর্চা ও সামাজিক ক্ষমতায়নের উদ্দেশ্যেই এমন উদ্যোগের অংশ হওয়া।
ইডটকোর ফ্ল্যাগশিপ করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি টাওয়ার টু পাওয়ার প্রকল্পের অধীনে টেলিকম খাতে ব্যবহৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যাটারি থেকে কারিগরি কার্যক্ষম সেল পুনরুদ্ধার করে সেসবকে নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপ বিদ্যুৎ সমাধানে রূপান্তর করা করা হবে। এসব ব্যাকআপ পাওয়ার সিস্টেম দেশের নির্বাচিত গ্রামীণ স্কুল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত স্থানে স্থাপন করা হবে।
এতে শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির কল্যাণ ও জীবনমান উন্নয়নে এমন উদ্যোগ সহায়ক হবে। ইডটকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর আল-বাতুনী মোহাম্মাদ সাঈদ আহমেদ বলেন, টেকসই উন্নয়ন মানে শুধু পরিবেশ সংরক্ষণ নয়; বরং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। টাওয়ার টু পাওয়ার এই অংশীজন উদ্যোগে মেয়াদোত্তীর্ণ ব্যবহৃত টেলিকম ব্যাটারিকে পুনরায় কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করবে।
এর ফলে একদিকে যেমন ইলেকট্রনিক বর্জ্য কমবে, অন্যদিকে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের মানুষ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাকআপ বিদ্যুতের পরিষেবা পাবে। দায়িত্বশীল উদ্ভাবন কীভাবে সমাজের বাস্তব চাহিদা পূরণ করে অর্থবহ পরিবর্তন আনতে পারে, এই উদ্যোগ হবে তারই প্রতিফলন।
ছবি : সংগৃহীত
সারাবিশ্বে যেমন হাজারো অ্যাপের ছড়াছড়ি, তেমনই বাড়ছে ঝুঁকির ব্যাপকতা। সামাজিক মাধ্যমে অনেকের অজান্তে প্রতারণার জাল বুনে চলেছে অপচক্র। আর এ চক্রের অন্যতম কৌশল হয়ে উঠেছে ডক্সিং। প্রথম দিকে একে সাধারণভাবে বিবেচনা করা হতো। এখন এ কৌশলকে হালকা করে দেখার আর অবকাশ নেই। নতুন ধারার এই কৌশলে সামাজিক মাধ্যমে অনেকের তথ্য বাগিয়ে নেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় আর্থিক জালিয়াতি। অবশেষে তা ব্ল্যাকমেইল বা মানসিক হেনস্তার পথে চলে যায়।
কী এই কৌশল
ড্রপিং ডক্স কথা থেকেই ডক্সিং শব্দের আগমন। হ্যাকার চক্রের পরিভাষায় ডক্স বা বিশেষ নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে গত শতকের নব্বই দশকে এর গোড়াপত্তন হয়। প্রধানত যে কারও অনুমতি না নিয়ে তার স্মর্শকাতর, গোপন ও জরুরি তথ্য ইন্টারনেটে সামনে এনে উন্মুক্ত করাকে বলা হয় ডক্সিং।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক আগে ইন্টারনেটে বেনামে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বী হ্যাকার চক্রের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করতে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হতো। তবে চলতি সময়ে সোশ্যাল মিডিয়া, বিশেষত ফেসবুক বা এক্স (আগের টুইটার) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারী এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষত, ডক্সিং পদ্ধতিতে প্রতিদিনই নতুন ও আলাদা কৌশল তৈরি করে সাইবার জালিয়াত চক্র।
অপচক্র বিশেষ কিছু কৌশলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কোনো টার্গেটের ব্যক্তিগত তথ্য বাগিয়ে নেয়। পরে তার গতিবিধি অনুসরণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশেষ নজরদারি, ফিশিং লিঙ্ক, সাইবার স্টকিং, আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাকিং, ডোমেইনের হু-ইজ সার্চ ও ডেটা ব্রোকারের সহায়তায় অনেকের কয়েকটি জরুরি তথ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
এ পদ্ধতি অনুসরণ করে সাধারণত অনেক ধরনের তথ্য নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এর মধ্যে ব্যক্তির ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা অন্যতম। এ দুটি তথ্য জানার পর অবিরাম হয়রানিমূলক ডেলিভারি, স্প্যাম কল, হুমকি কিংবা সশরীর গিয়ে বিচলিত করার ঘটনাও ঢের ঘটেছে।
বিশেষ করে ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্যাদি থেকে, যেমন– ওটিপি কপি, অনুমোদন নেই এমন কেনাবেচা বা আর্থিক ক্ষতি করার পাঁয়তারা করা হয়। এতে অপচক্র সফল হয় বলেই এটি থামানো প্রায় অসম্ভব। থাকতে হবে সতর্ক।
সবার মৌলিক অধিকার
বিশ্বের অনেক দেশে ডক্সিং শব্দের বিরুদ্ধে এখনও আলাদা সুনির্দিষ্ট কোনো আইনের চর্চা হয় না। তবে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ও ন্যায় সংহিতার বেশ কিছু ধারায় এ চর্চার বিরুদ্ধে প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে বহু দেশে। অনেক দেশে এ ধরনের মামলায় আদালত বলেছেন, ডক্সিং পদ্ধতির সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা অনেক দেশের আইনে না থাকলেও এটি সবকটি দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত তথ্য সুরক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে।
যত্রতত্র ছড়ানো পরিচয়পত্র
অনেক কারণে অজ্ঞাতে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, যেমন– আইডেন্টিটি থেফটের মাধ্যমে ফেক ঋণ নেওয়া বা ট্যাক্স জালিয়াতির মতো অনেক ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এমনটা ঘটেছে বিশ্বের বহু দেশে। ব্যক্তিগত ছবি ও বার্তা যেমন স্পর্শকাতর, তেমনি জীবনের সঙ্গে জড়িত তথ্য ছড়ানোর ভীতি দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা অপতথ্য ছড়ানোর হুমকি দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে শত্রুতা, মতভেদ, বিরোধ কিংবা আর্থিক হয়রানির উদ্দেশ্য পূরণে দুর্বল সোশ্যাল মিডিয়াকে লক্ষ্য করা হয়।
কঠোর প্রাইভেসি সেটিংস
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপদ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে সচেতনতাই প্রধান রক্ষাকবচ। এ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নিজের ফোন নম্বর, বাড়ির সঠিক অবস্থান বা রিয়েল টাইম লোকেশন শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সব ধরনের, বিশেষ করে অনলাইনে আর্থিক অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি সেটিংস কঠোর রাখা ও টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন সক্রিয় করা আবশ্যক। অজ্ঞাত ইমেইল বা অ্যাপের চ্যাটবক্সে আসা মেসেজের অজানা লিঙ্কে ক্লিক না করাই শ্রেয়। ডক্সিং বা ব্ল্যাকমেইলে আক্রান্ত হলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রমাণ হিসেবে স্ক্রিনশট বা লিঙ্ক সংরক্ষণ করে অনতিবিলম্বে স্থানীয় সাইবার সেল বা কেন্দ্রীয় সাইবার ক্রাইম বিভাগে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। সুবিধাটি চালু হলে হোয়াটসঅ্যাপে অন্য প্রতিষ্ঠানের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এজেন্ট ব্যবহার করা যাবে। এসব এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করার পাশাপাশি কাজের তালিকা, বার্তার খসড়া এবং প্রতিদিনের কাজের পরিকল্পনাও তৈরি করা সম্ভব হবে।
হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংস থেকেই তৃতীয় পক্ষের তৈরি এআই এজেন্ট ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া যাবে। প্রতিটি এজেন্টের জন্য আলাদা নাম ও প্রোফাইল ছবি নির্ধারণ করা যাবে। এ জন্য এআই এজেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে হোয়াটসঅ্যাপ একটি এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) ‘কি’ দেবে। ওই কি ব্যবহার করে এজেন্টকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত সেবার সঙ্গে যুক্ত করা যাবে।
তবে এসব এআই এজেন্টের সঙ্গে হওয়া কথোপকথন সাধারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের মতো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের আওতায় থাকবে না। কারণ, এজেন্টগুলো পরিচালনা করবে তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান। হোয়াটসঅ্যাপ মূলত বার্তা প্রক্রিয়াকরণের কাজ করবে। ফলে এআই এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করা তথ্য সাধারণ ব্যক্তিগত চ্যাটের মতো একই মাত্রার নিরাপত্তা পাবে না।
নতুন সুবিধা চালু হলে একজন ব্যবহারকারী সর্বোচ্চ পাঁচটি এআই এজেন্ট ব্যবহার করতে পারবেন। তবে এজেন্টগুলো ব্যবহারকারীর পুরো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পাবে না। ব্যবহারকারী যেসব বার্তা বা কনটেন্ট সরাসরি এআই এজেন্টের সঙ্গে শেয়ার করবেন, শুধু সেগুলোই এজেন্ট পড়তে পারবে। অর্থাৎ ব্যক্তিগত চ্যাট, পরিচিত ব্যক্তিদের ফোন নম্বর কিংবা ফোনে থাকা ছবি, ভিডিওসহ অন্যান্য মিডিয়া ফাইল দেখার সুযোগ থাকবে না এআই এজেন্টগুলোর।
ছবি : সংগৃহীত
মোবাইল নম্বরটি আপনি নিয়মিত ব্যবহার করছেন, অথচ কাগজে-কলমে সেটি অন্য কারো নামে, কিংবা আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম অন্য কেউ ব্যবহার করছে এমন ঘটনা একেবারে বিরল নয়। দীর্ঘদিন নিজের নামে ব্যবহার করার পরও সিমের প্রকৃত মালিকানা অন্যের থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই সিমটি নিজের নামে নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশে অপারেটরের নির্ধারিত নিয়ম মেনে সিমের মালিকানা পরিবর্তন বা ওনারশিপ ট্রান্সফার করা যায়।
কেন নিজের নামে সিম নেওয়া জরুরি?
মোবাইল নম্বর এখন শুধু ফোন করা বা ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যম নয়। ব্যাংকিং, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে নম্বরটি যুক্ত থাকতে পারে। ফলে সিমের নিবন্ধিত মালিক এবং প্রকৃত ব্যবহারকারী আলাদা হলে ভবিষ্যতে পরিচয় যাচাই বা সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
মালিকানা পরিবর্তনে কী করতে হবে?
প্রথমে যে অপারেটরের সিম ব্যবহার করছেন, সেই অপারেটরের নির্ধারিত কাস্টমার কেয়ার বা সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে। সাধারণ নিয়মে বর্তমান নিবন্ধিত মালিক এবং নতুন মালিক দুজনকেই উপস্থিত থাকতে হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হয় এবং বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পন্ন করতে হয়।
যেমন-গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে বর্তমান মালিক ও নতুন মালিককে একসঙ্গে গ্রামীণফোন সেন্টার বা এক্সপেরিয়েন্স সেন্টারে উপস্থিত হতে হয়। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য এনআইডি/এসএনআইডিসহ অনুমোদিত পরিচয়পত্র প্রয়োজন। নতুন মালিকের ক্ষেত্রে এনআইডি/এসএনআইডি গ্রহণযোগ্য বলে অপারেটরটি জানিয়েছে।
কত টাকা লাগবে?
মালিকানা পরিবর্তনের খরচ অপারেটরভেদে আলাদা হতে পারে। বর্তমানে গ্রামীণফোনের ওয়েবসাইটে সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের মূল্য ১১৫ টাকা, ভ্যাটসহ উল্লেখ করা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরের বসেই এই সেবাটি নেওয়া যায়। সেক্ষেত্রে হোম ডেলিভারি চার্জ: মূল ফি-এর সাথে এলাকাভেদে ডেলিভারি চার্জ যুক্ত হতে পারে (যেমন: ঢাকা সিটির ভেতরে সাধারণত ৮০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ১৬০ টাকা)। অন্যদিকে রবির সিম সার্ভিস পেজে ওনারশিপ ট্রান্সফার ফ্রি দেখানো হচ্ছে। তাই আপনার সিম যে অপারেটরের, তাদের বর্তমান নির্ধারিত ফি আগে যাচাই করে নেওয়া ভালো।
মৃত ব্যক্তির নামে থাকা সিম উত্তরাধিকারীর নামে নেওয়ার নিয়ম আবার আলাদা। যেমন, গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এ ধরনের মালিকানা পরিবর্তনের জন্য মৃত্যুসনদ, উত্তরাধিকার/ওয়ারিশ সনদ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র লাগে। এই প্রক্রিয়ার ফিও সাধারণ ওনারশিপ ট্রান্সফারের চেয়ে আলাদা।
বর্তমান মালিককে পাওয়া না গেলে যা করবেন
এখানে বিষয়টি কিছুটা জটিল। সাধারণ মালিকানা পরিবর্তনে আগের নিবন্ধিত মালিকের উপস্থিতি ও বায়োমেট্রিক যাচাই প্রয়োজন হতে পারে। তাই আপনি যদি দীর্ঘদিন ধরে অন্যের নামে থাকা কোনো সিম ব্যবহার করেন এবং প্রকৃত মালিককে খুঁজে না পান, সরাসরি নিজের নামে নেওয়া সব ক্ষেত্রে সম্ভব নাও হতে পারে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে আপনার পরিস্থিতি জানানোই নিরাপদ। কোনোভাবেই অন্যের এনআইডি বা পরিচয় ব্যবহার করে সিম নিজের নামে নিবন্ধনের চেষ্টা করা উচিত নয়।
অনলাইনে ঘরে বসে করা যায়?
কিছু অপারেটর এখন নির্দিষ্ট এলাকায় বাড়িতে বসেও সিমের মালিকানা পরিবর্তনের সুবিধা দিচ্ছে। গ্রামীণফোন তাদের অনলাইন শপের মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্ট ও ওনারশিপ ট্রান্সফারের হোম সার্ভিস বর্তমানে ৬৪ জেলার মহানগর/জেলা শহরগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনলাইন বা হোম সার্ভিসের ক্ষেত্রে কী কী কাগজপত্র লাগবে এবং মোট খরচ কত হবে, তা আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট অপারেটরের বর্তমান নির্দেশনা দেখে নেওয়া ভালো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আপনি নিয়মিত যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন, সেটি নিজের এনআইডি-তে নিবন্ধিত কি না আগে যাচাই করুন। অন্যের নামে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বৈধ প্রক্রিয়ায় মালিকানা নিজের নামে নেওয়া নিরাপদ।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে প্রথমবারের মতো রোবট ফোন প্রদর্শন করেছে মোবাইল প্রতিষ্ঠান অনার বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রকাশ করা হয় অনার-এর নতুন ব্র্যান্ড লোগো। গতকাল মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে জমকালো অনুষ্ঠানে প্রথমবারে মতো ওই রোবট ফোন প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও কানেক্টেড টেকনোলজি নিয়ে নিজেদের নতুন পরিকল্পনা ও কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেছে অনার বাংলাদেশ। স্মার্টফোনের পাশাপাশি বড় পরিসরে একটি কানেক্টেড ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনুষ্ঠানে অনারের নতুন স্লোগান ‘ডেয়ার টু বি’র পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তিকে আরও মানুষের চাহিদা উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারকে আরও সহজ করা এ স্লোগানের মূলকথা।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, দেশের বাজারে অনার ম্যাজিক৯ প্রো পাওয়া যাবে আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই। চলতি বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ববাজারে উন্মোচিত এই ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোনটি প্রসিদ্ধ সিনেমা ক্যামেরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যারির সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের আলোচিত চলচ্চিত্র নির্মাতা রায়হান রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফার সুমন সরকার। অনুষ্ঠানে তারা অ্যারি প্রযুক্তি নিয়ে একটি সেশন পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে অনার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের জিটিএম পরিচালক লিও পেই বলেন, ‘বাংলাদেশে অনার স্মার্টফোন ব্র্যান্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল, তবে ফোন এখন আমাদের বিস্তৃত স্মার্ট ডিভাইস ইকোসিস্টেমের একটি অংশমাত্র। আমাদের ফোন, ট্যাবলেট, পরিধানযোগ্য ডিভাইস, ল্যাপটপ ও টিভিগুলো এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এগুলো একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন বুঝে কাজ করতে পারে।’
অনার বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার ল্যাং গুও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এমন ধরনের প্রযুক্তি চায়, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মানিয়ে যায়। ধীরে ধীরে অভ্যস্থ হতে হয় এমন প্রযুক্তি নয়। রোবট ফোন অনারের বৃহৎ ইকোসিস্টেমের একটি অংশমাত্র। সামনে আরও বেশ কিছু সামনে আনা হবে।’
স্মার্ট টেকনোলজিস (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনার বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে ডিভাইস উৎপাদন করছে এবং আমাদের উৎপাদন মান বিশ্বের সেরা কারখানাগুলোর সমমানের। আমরা ধাপে ধাপে অনারের অন্যান্য ডিভাইসও বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে আসবো।’
‘১৯৯৮ সাল থেকে আমরা পার্টনারদের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছি এবং এ পর্যন্ত লাখ লাখ ডিভাইস গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি। আমরা গ্রাহকদের পরামর্শ ও সমালোচনাকে গুরুত্ব দিই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের পরিবর্তন করে এগিয়ে যেতে চাই,’ তিনি যোগ করেন।
অনারের রোবট ফোন হাতে নিয়ে চলচ্চিত্র পরিচালক রায়হান রাফি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা দিয়ে আমি একটা এক্সপেরিমেন্টাল শর্টফিল্ম বানাতে পারবো। ফিল্ম ক্যামেরা অনেক বড় হওয়ায় অনেক শট আমরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিতে পারি না। গাড়ির ভেতরে শট নেওয়া থেকে শুরু করে আরও অনেক কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই ক্যামেরার একটা সুবিধা আমার কাছে মনে হয়েছে, যে কোনো জায়গায় এটি রেখে আমরা শুট করতে পারবো। ক্যামেরার মুভমেন্টও বেশ ইন্টারেস্টিং। কেউ দৌড়ালে, সিনেমাটোগ্রাফারকে আর তার সঙ্গে দৌড়াতে হবে না, ক্যামেরা নিজে থেকেই তা ক্যাপচার করে নেবে।’
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অনার বাংলাদেশের হেড অব বিজনেস আবদুল্লাহ আল মামুন এবং ডিরেক্টর ও হেড অব প্রোডাক্ট অ্যান্ড মার্কেটিং সৈয়দ মো. বদরুল আরেফিন।
বিশ্ব বাজারে ফোনটি এসেছে। বাংলাদেশে এখনো উন্মুক্ত হয়নি। প্রথমবারের মতো দেশে এটি প্রদর্শন করা হয়েছে। ফোনটির দাম কত হতে পারে তাও জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি।