মেহেদী হাসান মিরাজ ও ড. জাকির নায়েক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৬ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৯:১৩ এএম

ছবির ওপরে লেখা, ইন্টারেকশন উইথ মুসলিম স্পোর্টসম্যান। নিচের দিকে পরিচয় লেখা, ‘মেহেদী হাসান মিরাজ, ক্যাপ্টেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্রিকেট টিম’। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তোলা ছবি এভাবেই নিজের ভ্যারিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করলেন জনপ্রিয় ও আলোচিত ইসলামিক স্কলার ড. জাকির নায়েক। ছবির ক্যাপশনেইও লিখেছেন একই কথা।


আজ বিকেলের দিকে প্রথম এই ছবি পোস্ট করেছিলেন জাকির নায়েক। তবে সেখানে খেলোয়াড়ের নাম ভুল লিখেছিলেন। মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গায় লিখেছিলেন, নাজমুল হোসেন শান্ত। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়, ছবিটা ডিলিট করে দেয়া হয়েছে। বোঝাই গেছে যে, ভুল বুঝতে পেরে ছবিটা ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে।


এরপর বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আবারও একই ক্যাপশন ও ছবি দিয়ে পোস্ট করেন ড. জাকির নায়েক। তবে এবার আর ভুল করেননি। মেহেদী হাসান মিরাজের নামই লিখেছেন তিনি।


ড. জাকির নায়েক একজন ভারতীয় হলেও দেশটির সরকারের রোশানলে পড়ে পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে পুত্রজায়ায় বসবাস করেন তিনি। রমজানের শেষ দশকে (পাকিস্তান সিরিজ শেষে) বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক (ওয়ানডে) মেহেদী হাসান মিরাজ ওমরাহ পালন করতে যান সৌদি আরবের মক্কায়।


সেখানেই হয়তো আলোচিত ইসলামিক স্কলার ড. জাকির নায়েকের সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে মিরাজের। যদিও ড. নায়েক মিরাজের সঙ্গে ছবিটা কোথায় তুলেছেন সে ব্যাপারে কিছুই লিখেননি।


তবে ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিরাজের এই ছবিটা রীতিমত ভাইরাল। ৫০ মিনিটেই ৩০ হাজার রিঅ্যাকশন, দেড় হাজার মন্তব্য এবং সাড়ে তিনশর বেশি শেয়ার হতে দেখা গেছে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৮ পিএম

ফুটবল মাঠে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। অনেক সময় ক্যামেরা কিংবা দর্শকদের চোখ এড়াতে মুখ ঢেকেও কথা বলেন ফুটবলাররা। কিন্তু সেই অভ্যাসই এবার বড় বিপদ ডেকে আনল নেইমারের জন্য। প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারের সঙ্গে তর্কের সময় মুখে হাত দেওয়ায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। সেটিও আবার এমন এক নিয়মে, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার স্বদেশি ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নাম।


শনিবার রাতে ব্রাজিলিয়ান লিগের ৩২তম রাউন্ডে নিজেদের মাঠ ভিলা বেলমিরোতে বাহিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল সান্তোস। ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই বাহিয়ার মিডফিল্ডার রদ্রিগো নেস্তরের সঙ্গে একাধিকবার বিবাদে জড়ান নেইমার। বিরতির পর সেই বিতর্কই নতুন মোড় নেয়। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) পরামর্শে নেইমারকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি সাভিও পেরেইরা সাম্পাইও।


ঘটনার শুরু প্রথমার্ধের ৩১ মিনিটে। একটি ফাউলের পর নেস্তরের দিকে বল ছুড়ে মারেন নেইমার। পরে তাকে মাঠ থেকে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে দুই ফুটবলারের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি।


বিরতির সময় সম্প্রচারমাধ্যম স্পোরটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারের আচরণের সমালোচনা করেন নেস্তর। তার দাবি, করমর্দন করতে এগিয়ে গেলেও নেইমার তার শরীরের দিকে বল ছুড়ে মেরেছিলেন। এরপর তাকে উদ্দেশ করে অসম্মানজনক কথাও বলেছেন।


নেস্তর বলেন, ‘আমি তার সঙ্গে হাত মেলাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি আমার দিকে বল ছুড়ে মারেন। এরপর আমাকে অনেক কিছু শুনতে হয়েছে। আমার মা-বাবা আমাকে ভালো শিক্ষা দিয়েছেন। আমি কোথা থেকে উঠে এসেছি, সেটিও জানি। ইতাকেরায় আমার জন্ম। আজকের অবস্থানে পৌঁছানো মোটেও সহজ ছিল না। বাহিয়ার জার্সি পরতে পেরে আমি গর্বিত।’


নেইমারের বলা কথাগুলো নিয়ে নেস্তর আরও বলেন, ‘তিনি জানেন, আমাকে কী বলেছেন। কথাগুলো শুধু আমার জন্য নয়, বাহিয়ার জার্সির জন্যও অসম্মানজনক।’


নেইমারের ফুটবলীয় প্রতিভার প্রশংসা করলেও তার আচরণে হতাশা প্রকাশ করেন বাহিয়ার এই মিডফিল্ডার, ‘ফুটবলার হিসেবে তিনি সবার আদর্শ। কিন্তু আজ মানুষ হিসেবে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। যেভাবে কথা বলেছেন, সেটি ঠিক হয়নি। আমি কখনো কাউকে এমন কথা বলতাম না।’


বিরতির পর মাঠে ফিরে আবারও নেস্তরের সঙ্গে কথা বলতে যান নেইমার। মাঝমাঠে দুজনের মধ্যে কথাবার্তার একপর্যায়ে নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে কিছু বলেন সান্তোসের ১০ নম্বর জার্সিধারী। সঙ্গে সঙ্গেই রেফারির কাছে অভিযোগ জানান নেস্তর।


এরপর ভিএআর থেকে রেফারিকে ঘটনাটি পর্যালোচনার পরামর্শ দেওয়া হয়। মনিটরে নেইমারের মুখ ঢেকে কথা বলার দৃশ্য দেখেই সরাসরি লাল কার্ডের সিদ্ধান্ত নেন রেফারি।


মাঠ ছাড়ার সময় নিজের ভুল স্বীকার করেন নেইমার। তবে নেস্তরের আচরণকে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও অভিযোগ করেন তিনি, ‘আমরা মাঝমাঠে মজা করছিলাম, একে অন্যের সঙ্গে হাসাহাসি করছিলাম। এরপর আমি নেস্তরের সঙ্গে কথা বলতে যাই। মুখে হাত দিয়ে ভুল করেছি, এটা ঠিক। কিন্তু আমি কিছু বলার আগেই সে রেফারির কাছে অভিযোগ জানায়।’


পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় সান্তোসের সমর্থকদের কাছে ক্ষমাও চান তিনি। নেইমার বলেন, ‘প্রথমেই সান্তোসের সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আমাকে নিয়ম অনুযায়ীই লাল কার্ড দেখানো হয়েছে।’


এদিকে নেইমারের লাল কার্ডের সময় ম্যাচে ১-০ গোলে এগিয়ে ছিল বাহিয়া। লুসিয়ানো জুবার গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। একজন কম নিয়ে খেললেও অবশ্য হাল ছাড়েনি সান্তোস। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লুয়ান পেরেসের গোলে ১-১ সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

সর্বশেষ সব খবর

হুলিয়ান আলভারেজ

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৩ পিএম

বিশ্বকাপ চলাকালে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ছেড়ে বার্সেলোনায় যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। কিন্তু তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। ইচ্ছার বিরুদ্ধে থেকে যাওয়ার পর ভক্ত-সমর্থকদের রোষানলে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। 


শনিবার (২৪ অক্টোবর) দেপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে অ্যাতলেতিকো। এই ম্যাচে একমাত্র গোল করেছেন আলভারেজ, লা লিগায় আট মাসে প্রথমবার জালের দেখা পেলেন। এছাড়া ১১ মাসে প্রথমবার ঘরের মাঠে লা লিগা গোল করলেন তিনি।


ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানোতে প্রথম লিগ গোলের পর আলভারেজ তার আগের মন্তব্যগুলোর জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। মুভিস্টারকে তিনি বলেন, ‘আমার কথার জন্য আমাদের ভক্তদের কাছে ক্ষমা চাই। আমার কথা বলার ধরন ও মন্তব্য করার সময় ভুল ছিল। আমি তাদের রাগ বুঝতে পারি। আমি তাদের জায়গায় থাকলে, আমিও রাগ করতাম, বিশেষ করে যেভাবে তারা প্রতিনিয়ত আমাকে সমর্থন দিয়েছে, সেটা বিবেচনা করলে।’


চলতি মৌসুমে প্রথমবার শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া পেয়েছেন আলভারেজ। তিনি বলেন, ‘গত কয়েক সপ্তাহ সমর্থন পেয়েছি অনেক। এখন আমি আমার উন্নতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। এই সময়ে তারা আমার পাশে ছিল এবং এখন সময় এসেছে কঠোর পরিশ্রম করার। কারণ আমাদের সামনে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় আছে।’


সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৬ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৭ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের নতুন প্রধান কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি অলরাউন্ডার কাইরন পোলার্ড। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকা এই ক্যারিবীয় তারকা এবার মাহেলা জয়াবর্ধনের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। প্রধান কোচ হিসেবে এটিই তার প্রথম অভিজ্ঞতা।


খেলোয়াড় হিসেবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের স্বর্ণযুগের অন্যতম নায়ক ছিলেন পোলার্ড। ২০১৩, ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০ সালে মুম্বাইয়ের পাঁচটি আইপিএল শিরোপাজয়ী দলেরই সক্রিয় সদস্য ছিলেন তিনি। 


১৮৯ ম্যাচে ১৪৭.৩২ স্ট্রাইক রেটে ৩৪১২ রান এবং ৬৯ উইকেট নিয়ে আইপিএলে অসামান্য পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন এই ক্যারিবীয় মহাতারকা।


২০২২ মৌসুমে খেলোয়াড় হিসেবে সর্বশেষ আইপিএল খেলার পর ২০২৩ সালে মুম্বাইয়ের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব নেন পোলার্ড। টানা চার মৌসুম সফলতার সঙ্গে ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পালনের পর এবার তাকে ডাগআউটের শীর্ষ পদে নিয়ে এল আইপিএলের অন্যতম সেরা ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।


নতুন এই দায়িত্ব পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন পোলার্ড, ‘মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের প্রধান কোচের দায়িত্ব পাওয়া আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের। মুম্বাই আমার জীবন ও ক্যারিয়ারের একটি বিশাল অংশ। এই দল, খেলোয়াড়েরা এবং পল্টনের সঙ্গে আমার যে বন্ধন, তা আমার কাছে অনেক মূল্যবান। খেলোয়াড় ও পরে কোচ হিসেবে এই যাত্রার অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানি, মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কীসের প্রতিনিধিত্ব করে এবং দলের নীল ও সোনালি জার্সি গায়ে জড়ানোর সঙ্গে কী ধরনের দায়িত্ব জড়িয়ে আছে।’


দলের ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রতিভার বিকাশে কাজ করতে মুখিয়ে পোলার্ড, ‘খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে, দলের ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিতে, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সহায়তা করতে এবং পল্টনকে উদ্‌যাপনের আরও অনেক উপলক্ষ এনে দিতে আমি মুখিয়ে আছি।’


পোলার্ডের এই নতুন পদোন্নতিতে বেশ আনন্দিত মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের মালিক নীতা আম্বানিও। 


তিনি বলেন, ‘মাত্র ২২ বছর বয়সে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে যোগ দিয়েছিল পোলার্ড। গত ১৬ বছরে সে আমাদের পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। খেলোয়াড় হিসেবে সে আমাদের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। আর কোচ হিসেবে ভাগাভাগি করে চলেছে নিজের অভিজ্ঞতা, আবেগ এবং খেলা সম্পর্কে গভীর জ্ঞান।’

সর্বশেষ সব খবর

ফর্টিজ এফসি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৪৫ পিএম

পিছিয়ে পড়েও তাজিকিস্তানের ক্লাব এফসি রেগার-তাদাজকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দারুণ এক জয় দিয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ মিশন শেষ করেছে বাংলাদেশের ফর্টিজ এফসি। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই দুর্দান্ত জয়ের পরও টুর্নামেন্টের পরবম্যাচের শুরুতেই ধাক্কা খায় ফর্টিজ। ১২ মিনিটের মাথায় এনদোঙ্গো ফোয়ের বুদ্ধিদীপ্ত বাড়ানো বল থেকে ডান প্রান্ত দিয়ে সুযোগ নেন শেরজোদ মাখামাদিয়েভ। মুনির আলমকে কাটিয়ে তার নেওয়া শটে পরাস্ত হন ফর্টিজের লঙ্কান গোলরক্ষক সুজন পেরেরা। ফর্টিজ অফসাইড ও অবস্ট্যাকলের দাবি জানালেও তাতে সাড়া দেননি রেফারি, ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে যায় তাজিক ক্লাবটি।


তবে ১৭ মিনিটে ঘটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া ঘটনা। রেগার-তাদাজের মার্টিন আকো আসোমোর দুর্বল ব্যাক পাস ধরে দ্রুত গতিতে এগোতে থাকেন ফর্টিজের নোরিকি আকাদা। বক্সের ঠিক বাইরে তাকে বাজেভাবে ফাউল করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় রেগারের গোলরক্ষক সেভেরিন তাকামকে। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া রেগার বদলি গোলরক্ষক হিসেবে নামায় শাখোবুদ্দিন মাখমুদজোদাকে।


মাঠে নেমেই পা ওমরের নেওয়া বিপজ্জনক বাঁকানো ফ্রি-কিক দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এই নতুন গোলরক্ষক।র্তী রাউন্ডে ওঠা সম্ভব হয়নি দলটির; বিদায় নিতে হয়েছে গ্রুপ পর্যায় থেকেই। একজন বেশি নিয়ে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ায় ফর্টিজ। ৩৫ মিনিটে অধিনায়ক পা ওমরের পাস বুকে নামিয়ে বক্সের ভেতর থেকে শট নেন আকাদা, কিন্তু বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয়।


দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম থাকা সত্ত্বেও রেগার-তাদাজের প্রধান কোচ আলিশের তুখতায়েভ ডিফেন্সিভ কৌশল না নেওয়ায় দুই পক্ষই আক্রমণাত্মক ফুটবলে মেতে ওঠে। ৬৩ মিনিটে ফর্টিজ কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার মাঠে নামান জাপানি বংশোদ্ভূত ফুটবলার সুকিকে, আর তাতেই যেন বদলে যায় খেলার গতি।  মাঠে নামার চার মিনিটের মধ্যেই সমতা ফেরাতে ভূমিকা রাখেন সুকি। তাকে আটকাতে গিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রেগার গোলরক্ষক, কিন্তু বল চলে যায় পা ওমরের পায়ে। ওমরের বাড়ানো বলে দূর পোস্টে থাকা রাফায়েল টুডু চোখধাঁধানো এক ব্যাকহিল ফিনিশে বল জালে জড়ান (১-১)।


সমতায় ফিরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা ফর্টিজকে এগিয়ে যেতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। চার মিনিট পর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ভাসানো ক্রসে অনন্ত তামাং হেডে বল বাড়িয়ে দেন শিয়ান কাওয়াসাকির দিকে। চমৎকার এক ভলিতে ফর্টিজকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কাওয়াসাকি।


ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ফর্টিজের জয় সুনিশ্চিত করেন সুকি নিজেই। পা ওমরের সুন্দর পাস ধরে নিখুঁত সাইড-ফুটেড বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি, ফলে ৩-১ গোলের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের ক্লাবটি।


এই রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনের পরও শেষ রক্ষা হয়নি ফর্টিজের। তিন ম্যাচ শেষে ফর্টিজ ও তাজিক ক্লাব রেগার—উভয় দলেরই পয়েন্ট ৩ এবং গোল ব্যবধান -২। অন্যদিকে কুয়েতের ক্লাব কাদসিয়ার পয়েন্ট ৬ হওয়ায় আগেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারিত হয়ে যায়। অন্য গ্রুপগুলোতে রানার্স-আপ দলগুলোর পয়েন্ট ৩-এর বেশি থাকায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে ফর্টিজকে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৫৯ পিএম

ম্যান সিটি ৫ : ১ এইকে এথেন্স


লিভারপুল ৪ : ৩ ভিয়ারিয়াল


চ্যাম্পিয়নস লিগে একই রাতে দেখা গেল দুই রকম গল্প। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ফিল ফোডেনের হ্যাটট্রিকে, প্রায় বিনা চাপে, ৫-১ গোলে। লিভারপুল দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ভিয়ারিয়ালকে হারিয়েছে ৪-৩ গোলে। সেখানে নায়ক লিভারপুলের আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও ১৮ বছর বয়সী রিও এনগুমোহা। আগে সিটির কথা। গত সপ্তাহেই ঘরের মাঠে পিএসজির কাছে ৪-২ গোলে হেরেছিল দলটি। সেই ধাক্কা কাটিয়ে জয়ে ফিরতে এনজো মারেসকার দল দল বেছে নিল এইকে এথেন্সকে।


ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় সিটি। গ্রীষ্মে দলে আসা এনজো ফার্নান্দেজের ফ্রি-কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে বল জালে ঠেলে দেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। একটু পরে অ্যালানের শট আটকে যায় পোস্টে।


ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফোডেন। রিকো লুইসের পাস থেকে দারুণ এক শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। গত সপ্তাহান্তে ডিসেম্বরের পর প্রথম গোল পেয়েছিলেন এই ইংলিশ তারকা। এবার পেলেন একসঙ্গে তিন গোল!


বিরতির পর ব্যবধান কমায় এথেন্স। লক্ষ্যে রাখা প্রথম শটেই সিটির রক্ষণ ভেদ করেন স্ট্যাভ্রোস পিলিওস। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি সিটি। ফোডেনের পাস থেকে ট্রেডমার্ক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ান রায়ান শেরকি। এরপর ফোডেনের অনবদ্য এক ভলি। প্রথম স্পর্শেই বল পাঠান পোস্টের কোনায়। ১১ মিনিট পর কাছ থেকে জাল খুঁজে নিয়ে পূরণ করেন নিজের হ্যাটট্রিকও। তিন গোল করার সঙ্গে একটিতে সহায়তা, সব মিলিয়ে ইতিহাদে একেবারে ফোডেনের রাত।


অ্যানফিল্ডের ছবি ছিল একেবারে আলাদা। খেলার আধা ঘণ্টার মধ্যে ভিয়ারিয়ালের কাছে দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে বিপদে পড়ে যায় আন্দোনি ইরাওলার দল।


ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে ছয়টি পরিবর্তন এনেছিলেন ইরাওলা। আলেক্সান্দার ইসাক, ব্র্যাডলি বারকোলা ও ফ্লোরিয়ান ভির্টৎসকে রেখেছিলেন বেঞ্চে। এর মাশুল দিতে হয় শুরুতেই। রেনাতো ভেইগার লম্বা বল সামলাতে ভুল করেন অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। আলিসনকে লক্ষ্য করে বাড়ানো তাঁর দুর্বল হেড কেড়ে নিয়ে গোল করেন জর্জেস মিকাউতাদজে। এরপর নাথান সালিবার সহজ পাস ধরে ভিয়ারিয়ালকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন সের্হি কার্দোনা।


দুই গোল হজম করার পর ঘুম ভাঙে লিভারপুলের। ৩৬ মিনিটে কনস্তান্তিনোস সিমিকাসের কর্নার থেকে হেডে ব্যবধান কমান অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। বিরতির ঠিক আগে এনগুমোহার চমৎকার চিপে পা ছুঁইয়ে সমতা ফেরান রোনাল্ড আরাউহো।


দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আরাউহোর জায়গায় ভির্টৎসকে নামান ইরাওলা। রায়ান গ্রাভেনবার্চকে পাঠান রাইট ব্যাক পজিশনে। এরপর মাঠে কার্যত রাজত্ব করে লিভারপুল।


কার্দোনাকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে ম্যাক অ্যালিস্টারের সামনে ফাঁকা জালের সুযোগ বানিয়ে দেন এনগুমোহা। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় লিভারপুল। একটু পর বাঁ পায়ের ফিনিশিংয়ে ক্লাবের হয়ে প্রথম গোল পান ভির্টৎস, ৪-২।


শেষ দিকে আইওজে পেরেসের পাস থেকে তানি ওলুওয়াসেই গোল করে আশা জাগিয়েছিলেন ভিয়ারিয়ালের সমর্থকদের। শেষ রক্ষা হয়নি। ৪-৩ গোলের নাটকীয় জয়ে মাঠ ছাড়ে লিভারপুল।

সর্বশেষ সব খবর

শারজাহতে আফগানদের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরের সঙ্গে পরামর্শ করছেন পেসার হাসান মাহমুদ

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারের পর দলের ভেতরে একটা গুমোট পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ক্রিকেটারদের বের করে আনা ছিল চ্যালেঞ্জিং। সোমবার সকালের টিম মিটিংয়ে খোলামেলা কথা বলে তার একটা সমাধান করা গেছে বলে জানান কোচ ফিল সিমন্স। মিটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি ছিল ক্রিকেটারদের দিক থেকে। এই প্রতিশ্রুতি টিম মিটিংয়ের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ। মিডিয়ার সামনে এসে আশার কথা শোনাননি দলীয় প্রতিনিধিদের কেউই। সোমবারের ভিডিও বার্তায় কোচ সিমন্স জোর দেন ছোট ছোট ভুল শুধরে নেওয়ার ওপর। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কোচের মন্ত্র এটি। গতকাল মঙ্গলবার ম্যাচ ভেন্যু শারজাহতে পৌঁছে ওপেনার তানজিদ হাসান সাহস নিয়ে মিডিয়ার সামনে বলতে পারেননি আজ আফগানদের হারিয়ে ফাইনাল খেলতে চান ত্রিদেশীয় সিরিজের। তবে বাংলাদেশ যে জয়ের জন্যই খেলবে, এতে সন্দেহ নেই। আর সে জয় হতে হবে যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলিয়ে।


সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ১৫৮ রানে জিতে যাওয়ায় কিছু সমীকরণের মুখে পড়ে গেছে বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করলে জিততে হবে ৪১ রানের ব্যবধানে। আর রান তাড়া করতে হলে ৮.৩ ওভার হাতে রেখে জিততে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে ব্যাট করতে পারলে ৪১ রানে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বেশি। তাই ফাইনালে উন্নীত হওয়ার স্বপ্নপূরণে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে ম্যাচ জিততে টসেও পেতে হবে জয়। যাতে করে শারজাহ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে অলরাউন্ড ক্রিকেট খেলার ওপর জোর দেন তানজিদ, ‘আমরা ঘরের মাঠে যে রকমভাবে খেলি, আমরা যদি একই মানসিকতা নিয়ে, দেশের বাইরেও একই প্রস্তুতি, সবকিছু পুরোপুরি গুছিয়ে নিয়ে যদি খেলতে পারি, একটি দল হিসেবে খেলতে পারি, তাহলে আমার কাছে মনে হয় খুব ভালো হবে। আমার কাছে মনে হয়, আমাদের খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছে দলীয় সভায়। তো ইতিবাচক কিছু হবে সামনে।’ 


বাংলাদেশ সাত বছর পর আরেকটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে নামার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আরেকটি শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখেছিলেন লিটন দাস। টাইগারদের সে স্বপ্নে প্রথম আঘাত করে জিম্বাবুয়ে। এতে সুতায় ঝুলছে স্বপ্নপূরণের প্রত্যাশা। আফগানিস্তানকে কাঙ্ক্ষিত ব্যবধানে হারাতে পারলে স্বপ্ন বেঁচে থাকবে। আর হেরে গেলে দেশে ফেরার বিমান ধরতে হবে তাওহীদ হৃদয়দের। অভীষ্ট লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে হলে আজ সামর্থ্যের চূড়ান্ত দিয়ে খেলতে হবে তানজিদদের। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং– উজাড় করে দিতে হবে তিন বিভাগে। তাই ব্যাটার তানজিদ জোর দেন ধারাবাহিকতার ওপর, ‘আমার কাছে মনে হয়, ধারাবাহিকতাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ এখানে। আর মানসিকতা, এই দুটোর সমন্বয় যখন আমাদের ভালো হবে, তখন আমরা চাপের পরিস্থিতিতে ভালো কিছু করতে পারব।’ 


আবুধাবিতে ২৭১ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ওই রান তাড়া করতে গিয়ে ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। পরিচিত কন্ডিশনে ব্যাটিং ব্যর্থতা বড় হয়ে ধরা দেয়। ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তাই ব্যাটারদের দিকে আঙুল তোলেন পেসার তাসকিন আহমেদ, ‘মুস্তাফিজ ও আমাকে কেন ব্যাটিংয়ে যেতে হবে এতগুলো ব্যাটার থাকতে।’ তাসকিনের দাবির সঙ্গে একমত তানজিদ। তিনি চান ব্যাটাররা ভালো ক্রিকেট খেলে দলের জয় নিশ্চিত করুক। যদিও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সাদা বলের ক্রিকেটে এ মুহূর্তে জয় পাওয়া কঠিন। কারণ ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে ভালো ক্রিকেট খেলছে তারা। ২০২৪ সালে শারজাহ স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে। গত বছর আবুধাবিতে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে লিটন দাসদের। এ ছাড়া এ দুই দল ২২টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলে ১১টি করে জিতেছে। তাই লিগের শেষ ম্যাচে ফেভারিটের তকমা জয়ের ছন্দে থাকা আফগানিস্তানের। 


বাঁচা-মরার এই ম্যাচের একাদশে পরিবর্তন আনা হতে পারে। মেহেদী হাসান মিরাজ জ্বর থেকে সেরে উঠেছেন। এক দিন অনুশীলনও করেছেন তিনি। তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান জুটি বাঁধতে পারেন ওপেনিংয়ে। বিশ্রাম দেওয়া হতে পারে সৌম্য সরকারকে। নাজমুল হোসেন শান্ত, রিশাদ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী মিরাজকে নিয়ে সাজাতে হত পারে ব্যাটিং লাইনআপ। বাকি চার বোলারের তিনজন পেসার ও একজন বাঁহাতি স্পিনার। মুস্তাফিজুর রহমানের জায়গায় হাসান মাহমুদ খেলতে পারেন।

সর্বশেষ সব খবর