ছবি : সংগৃহীত
সিলেট টেস্টে ৪৩৭ রানের পর্বতসম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অলৌকিক কিছু ঘটিয়ে রীতিমতো ইতিহাস গড়তে হতো পাকিস্তানকে। সফরকারীরা সেই অসম্ভব ইতিহাস গড়তে না পারলেও সিলেটের চেনা মাঠে নতুন এক ইতিহাস লিখেছে বাংলাদেশ।
পঞ্চম দিনের প্রথম সেশনেই পাকিস্তানকে ৩৫৮ রানে অলআউট করে ৭৮ রানের অবিস্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আর এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ নিজেদের করে নিল টাইগাররা।
নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে এবারই প্রথম ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনো টেস্ট সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট জয়ের নতুন রেকর্ডও গড়ল শান্তর দল। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে আর কোনো দলের বিপক্ষে টানা এত ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। এছাড়া পাকিস্তানকে টানা দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পেল বাংলাদেশ। দুই বছর আগে রাওয়ালপিন্ডিতেও হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পেয়েছিল টাইগাররা।
৪৩৭ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান করেছিল পাকিস্তান। শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল মাত্র ৩ উইকেট, অন্যদিকে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১২১ রান। পঞ্চম দিনের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দিনের শুরুতেই এই জুটি ভাঙার সুযোগ এসেছিল। নাহিদ রানার বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন রিজওয়ান, কিন্তু সেই সহজ ক্যাচটি মিস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
জীবন পেয়ে সাজিদ খানকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশিদের কিছুটা ভোগাতে থাকেন রিজওয়ান। এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করে পাকিস্তান যখন জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই আঘাত হানেন তাইজুল ইসলাম। সাজিদ খানকে আউট করার মাধ্যমে ইনিংসে নিজের পঞ্চম উইকেটপূর্ণ করেন এই বাঁহাতি স্পিনার। টেস্টে এ নিয়ে ১৮ তম বার ইনিংসে ন্যূনতম ৫ উইকেট নিলেন।আউট হওয়ার আগে ৩৬ বলে ২৮ রান করেন সাজিদ।
সাজিদের বিদায়ের পরের ওভারেই বড় ধাক্কা খায় পাকিস্তান। শরীফুলের বলে মিরাজের হাতে ক্যাচ দেন ৯৪ রান করা রিজওয়ান। ১৬৬ বলের ইনিংসে তিনি মারেন ১০টি চার। তার বিদায়ের পরই কার্যত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়ে যায়।
শেষদিকে আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি পাকিস্তান। পাকিস্তানের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন সেই তাইজুলই। শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন খুররাম শাহজাদ। তাইজুলের একটি শর্ট বল মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন খুররাম, কিন্তু টাইমিং মেলাতে পারেননি। সীমানায় ফিল্ডিংয়ে থাকা অভিষিক্ত তানজিদ হাসান তামিম সহজ ক্যাচটি লুফে নিতেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ধসিয়ে দিতে একাই ৬ উইকেট শিকার করেন তাইজুল ইসলাম। পাকিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ৯৪ রান করেন মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং ৭১ রান আসে অধিনায়ক শান মাসুদের ব্যাট থেকে।
ঐতিহাসিক এই জয়ের ভিত মূলত তৈরি হয়েছিল ম্যাচের প্রথম ইনিংস থেকেই। লিটন দাসের ১২৬ রানের ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশি বোলারদের তোপে ২৩২ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান। ৪৬ রানের লিড নিয়ে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকুর রহিমের ১৩৭ রানে ৩৯০ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের কঠিন পর্বত।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন থেকেই পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ছিল লড়াইয়ের ছাপ। তবে ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলকে (৬) দ্রুত ফিরিয়ে প্রথম ব্রেক-থ্রু এনে দেন নাহিদ রানা। আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকেও (২১) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মিরাজ। দুই ওপেনার দ্রুত ফিরলেও বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ মিলে তৃতীয় উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন। বিপজ্জনক হয়ে ওঠা এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৪৭ রান করা বাবরকে ফেরান লিটনের ক্যাচ বানিয়ে। এরপর নাহিদ রানার গতিতে পরাস্ত হয়ে মাত্র ৬ রানে সাজঘরে ফেরেন সৌদ শাকিল। থিতু হওয়া অধিনায়ক শান মাসুদকেও (৭১) জয়ের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় করেন তাইজুল।
১৬২ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর রিজওয়ান ও সালমান মিলে ১৩৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলে দিয়েছিলেন। এই জুটির কল্যাণেই ম্যাচ বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। তবে নতুন বল আসতেই খোলস ছেড়ে বের হন তাইজুল। ৭১ রান করা সালমান আগাকে বোল্ড করে এই প্রতিরোধ ভাঙেন তিনি। পরের বলেই হাসান আলীকেও শূন্য রানে ফেরান এই বাঁহাতি স্পিনার। পঞ্চম দিনের সকালে রিজওয়ান (৯৪) ও সাজিদ খানের প্রতিরোধ ভাঙার পর শেষ ব্যাটার খুররাম শাহজাদকে আউট করে পাকিস্তানের ইনিংস ৩৫৮ রানে থামিয়ে দেন তাইজুল। শেষ পর্যন্ত ৭৮ রানের অবিস্মরণীয় জয় ও হোয়াইটওয়াশের ইতিহাস নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
রিজওয়ানকে ফেরালেন শরীফুল, জয় থেকে ১ উইকেট দূরে বাংলাদেশ
সিলেট টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনে রোমাঞ্চকর এক জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাওয়া রিজওয়ানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের শেষ প্রতিরোধ ভেঙে দেন শরীফুল ইসলাম। ম্যাচে এটাই তার প্রথম উইকেট। ৯৪ রানে রিজওয়ানের ফেরার পাকিস্তানের শেষ জুটির উইকেট উপড়ে ফেলার অপেক্ষায় টাইগাররা। জয় পেতে আর এক উইকেটের অপেক্ষা বাংলাদেশের। অন্যদিকে ম্যাচ জিততে সফরকারী পাকিস্তানের এখনো চাই ৭৯ রান।
আজ পঞ্চম দিনের খেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানি লোয়ার অর্ডারকে ভাঙতে মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। অবশেষে খেলা শুরুর ৫০ মিনিট পর বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন তাইজুল ইসলাম। তার ডেলিভারিতে পরাস্ত হন আমির জামাল (৯)। এটি ম্যাচে তাইজুলের পঞ্চম শিকার।
রিজওয়ানের বিদায়ের পর পাকিস্তানের স্কোর দাঁড়িয়েছে ৯ উইকেটে ৩৫৮ রান। ক্রিজে শেষ ব্যাটার হিসেবে মোহাম্মদ আব্বাস যুক্ত হয়েছেন নাসিম শাহর সঙ্গে।
বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে পাকিস্তান
সকাল থেকে চেষ্টা করেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের উইকেট নিতে পারেনি বাংলাদেশ। উল্টো দিনের প্রথম ৫ ওভারে ২৯ রান তুলে বাংলাদেশকে চাপে রেখেছে পাকিস্তান। শুরুটা ভালো করতে পারেননি বাংলাদেশের বোলাররা। ম্যাচ জিততে আরও ৮৪ রান দরকার পাকিস্তানের। ক্রিজে আছেন পাকিস্তানের দুই ব্যাটার রিজওয়ান ও সাজিদ খান।
পাকিস্তানকে হারাতে তিন উইকেট চাই বাংলাদেশের
সিলেট টেস্টে আজ শেষ দিনে খেলা শুরুর নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ১০টা। কিন্তু ভেজা আউট ফিল্ডের কারণে ম্যাচ শুরু হতে ১৫ মিনিট বিলম্ব করা হয়েছে। ১০.১৫ তে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম ও শেষ দিনের খেলা। ম্যাচ জিততে আর তিন উইকেট দরকার স্বাগতিকদের। অপরদিকে পাকিস্তানের দরকার ১২১ রান। ৮৬ ওভারে সাত উইকেটে ৩১৬ রান করেছে দলটি। ১৭৪ বলে ৭৫ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরদিকে ৯ বলে আট রানে ব্যাটিংয়ে আছেন সাজিদ খান।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ব ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনা আবারও মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বহুল প্রতীক্ষিত ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচটি চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছে ইএসপিএন আর্জেন্টিনার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মার্টিন আরেভালো।
ফিনালিসিমা হলো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন (উয়েফা ইউরো বিজয়ী) ও দক্ষিণ আমেরিকার চ্যাম্পিয়ন (কোপা আমেরিকা বিজয়ী) দলের মধ্যকার আন্তঃমহাদেশীয় শিরোপা লড়াই।
সর্বশেষ ২০২২ সালে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা।
মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে স্পেন ও আর্জেন্টিনার এই ম্যাচটি কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ম্যাচটি স্থগিত করা হয়। পরে মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাবেউ স্টেডিয়াম কিংবা দুই দেশের হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ম্যাচ আয়োজনের বিকল্প প্রস্তাব এলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
তবে মার্টিন আরেভালোর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ম্যাচটি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে আয়োজনের বিষয়ে নতুন করে অগ্রগতি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কাতার সরকার ইতোমধ্যে ম্যাচটি আয়োজনের স্বত্ব পেয়েছে।
যদিও এ বিষয়ে এখনো উয়েফা কিংবা কনমেবলের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি, তবুও প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিনালিসিমা স্থগিত হওয়ায় ভাগ্যের পরিহাসে দুই দল ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালেই মুখোমুখি হয়েছিল। সেই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে স্পেন। ম্যাচে এর কিছুক্ষণ আগে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে শেষ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হারের পর সম্ভাব্য ফিনালিসিমা ম্যাচটি আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিশোধের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে স্পেন চাইবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে নিজেদের আধিপত্য আরও একবার প্রমাণ করতে।
সূত্র: ওয়ার্ল্ড সকার টক
সংগৃহীত ছবি
ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে কী ঘটেছিল? কেন লিওনেল মেসি ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের সবকিছু ভুলে যেতে বলেছিলেন? সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো একটি ভিডিওতে মেসির বলা কথায় এসব প্রশ্নের উদ্রেক করছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। যা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। আর্জেন্টাইন সমর্থকদের শঙ্কা ড্রেসিংরুমে অবশ্যই কিছু একটা হয়েছিল। যার প্রভাব মাঠে পড়েছিল বলেই তাদের বিশ্বাস। না হলে পুরো টুর্নামেন্টে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখা দলটি ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের পোস্টে একটি শটও নিতে পারবে না? আর্জেন্টাইন গণমাধ্যমগুলো এ নিয়ে প্রতিবেদন করেছে।
টিওয়াইসি স্পোর্টস জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের বলছেন, ‘সবাই শান্ত হও। আসল বিষয় হলো আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’ এ পর্যন্ত সব ঠিকই ছিল। আলোড়ন তুলেছে মেসির পরের কথাগুলো, ‘এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।’ ভিডিওতে দেখা গেছে, ড্রেসিংরুমের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে মেসি কথাগুলো বলার সময় তাঁর সতীর্থরা সবাই শান্ত ছিল। প্রশ্নটা এখানেই, মেসি কী ভুলে যেতে বলছিলেন তখন?
৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার কী ইঙ্গিত করেছিলেন, তা স্পষ্ট না হলেও ফাইনালের আগে সমালোচনার মুখে পড়েছিল আর্জেন্টিনা দল। প্রতিপক্ষ স্পেন তাদের বিরুদ্ধে রেফারির কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলে। এসব নিয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রেসিডেন্ট ক্লডিও তাপিয়া এবং কনমেবল প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো ডমিঙ্গেজ মেসি-মার্তিনেজদের কিছু বলেছেন কিনা, তা নিয়ে একটা শঙ্কা রয়েছে।
আর্জেন্টাইন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ফাইনাল শুরুর আগে এ দুজনকে আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।
আর ফাইনালের আগে স্পেনের ডিফেন্ডার আইমেরিক লাপোর্তে বলেছিলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে রেফারিং নিয়ে এমন কিছু ঘটনা দেখেছি, যা সত্যিই বিস্মিত করেছে। কিছু ঘটনায় কোনো শাস্তিই দেওয়া হয়নি, বিশেষ করে আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে। তারা প্রতিপক্ষের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে। ফুটবলে, বিশেষ করে এত বড় প্রতিযোগিতায় এসব কখনও অনুমোদন করা উচিত নয়। কারণ, এতে প্রতিপক্ষের মনোযোগ নষ্ট হয় এবং হতাশা তৈরি হয়।’
নিউইয়র্কের ফাইনালে ১-০ গোলে জিতে ১৬ বছর পর আবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেস জয়সূচক গোলটি করেন। ফাইনালে রেফারিং নিয়ে তেমন বিতর্ক না হলেও শেষ বাঁশির পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফের সঙ্গে স্পেনের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ বাধে। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফিফা।
ছবি : সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ জয়ের পর বিশ্বজুড়ে উদযাপনের কোনো কমতি রাখেননি স্পেনের ভক্তরা। নানা স্লোগানে, গানে ও পতাকা হাতে তারা নেমে আসেন রাস্তায়। তবে এই উদযাপনের মধ্যেও তারা ভুলে যাননি ফিলিস্তিনকে। বিশ্বের বহু স্থানে তাদের হাতে স্পেনের পতাকার পাশাপাশি ছিল ফিলিস্তিনের পতাকাও। অনেকে উদযাপনের মধ্যেই স্লোগান দেন– ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। একবারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার থেকে শুরু করে ব্রাসেলস, বার্সেলোনার মতো ইউরোপীয় শহরগুলোতেও স্পেন ভক্তদের উদযাপনে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের উপস্থিতি।
অন্যদিকে আরব বিশ্ব তো স্পেনের সমর্থনে গলা মিলিয়েছেই। যে ফিলিস্তিন ও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে এত জোর আলোচনা, গতকাল তাদের চোখও ছিল পর্দায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় তারাও দেখেছেন স্পেনের বিজয়; উল্লাসে ও উদযাপনে ফেটে পড়েন তারাও।
নিউইয়র্ক
স্পেনের বিজয়ের পর দলটির ভক্তরা চলে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারের রাস্তায়। এ সময় তাদের হাতে দেখা যায় ফিলিস্তিনের পতাকা। তারা উদযাপনের ফাঁকেই স্লোগান দিতে শুরু করেন ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’। এরই মধ্যে ওই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে। বহু মানুষ সাধুবাদ জানাতে ভোলেননি তাদের।
বিশ্বের বহু নিরপেক্ষ ব্যক্তি ও মানবাধিকার সমর্থকের জন্য স্পেন ভিন্ন অর্থ বহন করছে। তাদের কাছে এটি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। স্পেনের ফিলিস্তিনকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি নজর কেড়েছে তাদের। আর এ কারণেই এই উন্মাদনা।
ব্রাসেলস
বেলজিয়ামের ব্রাসেলসের রাস্তায়ও নেমে এসেছিলেন ভক্তরা। আনাদোলু এজেন্সির এক ভিডিওতে দেখা যায়, শহরের রাস্তার মোড়ে জড়ো হয়েছেন বহু ভক্ত। আর ওই মোড়ে থাকা এক ভবনের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি বড় পতাকা নাড়ছেন এক তরুণ।
শুধু ওই এক স্থানে নয়; ব্রাসেলসের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় স্পেনের জয় উদযাপনের ফাঁকে উড়তে দেখা গেছে ফিলিস্তিনের পতাকা। কাউকে দেখা গেছে জয়ের আনন্দে চিৎকার করতে করতেই সে পতাকা নাড়তে। কাউকে আবার দেখা যায় স্পেন ও ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে লোহার সীমানার ওপর উঠে যেতে। শুধু পুরুষ নয়, নারীদের হাতেও ছিল ফিলিস্তিনের পতাকা।
বার্সেলোনা
স্পেনের ভেতরেও বিজয় উদযাপনে ফিলিস্তিনের পতাকার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শহরটিতে হাজারো মানুষের ভিড়ে এক প্ল্যাটফর্মের ওপর দাঁড়ানো একগুচ্ছ তরুণকে দেখা যায় ফিলিস্তিনি ও স্পেনের পতাকা নেড়ে সবাইকে দেখাতে, যেন ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য নজির স্থাপন করছে তারা।
প্রসঙ্গত, এর আগে স্পেনের তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল লা লিগায় বার্সেলোনার জয়ের পর উদযাপন চলাকালে ফিলিস্তিনের পতাকা নেড়ে আলোচনায় এসেছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ১৩ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলে ফিরেছেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়ন। সর্বশেষ অ্যাশেজে চোটের কারণে এই তিন অভিজ্ঞ বোলার নিয়মিত খেলতে পারেননি। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট থেকে সেরে ওঠার সময় অ্যাকিলিসে চোট পেয়ে পুরো অ্যাশেজ মিস করেন হ্যাজলউড। অ্যাডিলেডে তৃতীয় টেস্টে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়ায় অস্ত্রোপচার করাতে হয় লায়নকে।
কামিন্স খেলেছিলেন শুধু অ্যাডিলেড টেস্টে। সেটিই ছিল পিঠের নিচের অংশের চোট কাটিয়ে তাঁর প্রত্যাবর্তনের ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ ধরে রাখা নিশ্চিত হওয়ায় পরের দুই টেস্টেও তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়।
কামিন্স ও হ্যাজলউড খেলতে পারেননি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও। যদিও দুজনই মাঠে ফেরেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর শুরু হওয়া আইপিএলে। কামিন্সরা ফেরায় দল থেকে বাদ পড়েছেন মাইকেল নেসার ও ব্রেন্ডন ডগেট।
কামিন্স ও হ্যাজলউডের পেস বোলিং বিভাগে আরও আছেন মিচেল স্টার্ক ও স্কট বোল্যান্ড। এ ছাড়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন ও বো ওয়েবস্টারও একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে থাকবেন।
টপ অর্ডারে কোনো পরিবর্তন আনেনি অস্ট্রেলিয়া। অ্যাশেজে অভিষিক্তি জেক ওয়েদারাল্ডের ওপরই আস্থা রেখেছে দল। তাঁরই ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ইনিংস উদ্বোধন করার কথা। ছন্দে না থাকলেও মারনাস লাবুশেনকে দলে রেখেছে অস্ট্রেলিয়া।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে এই দুই টেস্ট হবে ডারউইন (১৩-১৭ আগস্ট) ও ম্যাকাইয়ে (২২-২৬ আগস্ট)। বর্তমানে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। আট ম্যাচে সাত জয় নিয়ে তাদের পয়েন্ট ৮৭.৫০।
লিওনেল মেসি
বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের পর সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে গতকাল একটি বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। গত রোববার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারে আর্জেন্টিনা।
নিজের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে স্প্যানিশ ভাষায় একটি পোস্ট করেন মেসি, ‘কষ্টটা অনেক বেশি এবং এই ক্ষত শুকাতে সময় লাগবে। তবে ভালো লাগার বিষয়গুলোকেও আমি লালন করছি। আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর ম্যাচগুলো, মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেওয়া, যা চিরকাল স্মৃতিতে থেকে যাবে। পুরো দেশের সমর্থন, যা এই দলটির কঠোর পরিশ্রম ও চেষ্টার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমাদের আবারও বিশ্বের সেরাদের কাতারে নিয়ে গেছে।’
পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘প্রতিটি শুভেচ্ছা ও বার্তার জন্য হৃদয় নিংড়ানো ধন্যবাদ। আরও একবার আমরা এক হয়ে দেশকে একসুতোয় গাঁথতে পেরেছি, আর্জেন্টাইন হওয়ার অসীম গর্ব ভাগাভাগি করে নিতে পেরেছি। একই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্পেনকেও অভিনন্দন।’
আর্জেন্টিনার হয়ে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা জিতেছেন মেসি। এর মাঝে জিতেছেন ২০২২ বিশ্বকাপ। এবার বিশ্বকাপে মেসি ৮ গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করলেও ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারতে হয়।
জাতীয় দলে অসামান্য অবদানের জন্য গত রোববার আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া মেসিকে প্রশংসায় ভাসান। ফাইনালের ভেন্যু মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসির একটি ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘এই গল্প অমর হয়ে থাকবে। অধিনায়ক, তুমি আমাদের যা কিছু দিয়েছ, সে জন্য কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো কোনো শব্দ অভিধানে নেই। তোমার খেলা, মাঠ ও মাঠের বাইরে অনন্য নেতৃত্ব এবং শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত লড়াইয়ের স্বপ্ন দেখতে শেখানোর জন্য পুরো এক জাতির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ।’
তাপিয়ার পোস্টে আরও লেখা হয়, ‘আমাদের হৃদয়ে আনন্দ আর অনুভূতির প্রতিটি মুহূর্ত এঁকে দেওয়ার জন্য, প্রতিটি গর্বের অশ্রুর জন্য এবং আমাদের পতাকাকে বিশ্বের সর্বোচ্চ চূড়ায় তুলে ধরার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। লিও, তুমি অমর। তুমি মহানায়ক। তুমি আমাদের বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশে পরিণত করেছ। আর এই ঘর—তোমার নিজের ঘর—তোমাকে ভালোবেসে যাবে চিরকাল। অনেক ধন্যবাদ। তুমি চিরকাল আমাদেরই।’
আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ অভিযান উদ্যাপনে জাতীয় ছুটির দিন ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। ছুটিটি কোন দিন হবে, তা বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনা দলকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা পোস্টে এ ঘোষণা দেন মিলেই।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি, এমনকি কান্নায় ভেঙে পড়ে মাঝপথেই শেষ করেন সংবাদ সম্মেলন।
স্কালোনি জানান, আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চুক্তির দায়িত্ব পালন করবেন, এরপর নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত আমার চুক্তি পূরণ করব। এরপর কী হবে, সেটা দেখব।’
এরপর দীর্ঘদিনের সফল যাত্রার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে এই অবস্থানে পৌঁছাব। সামনে এগিয়ে যেতে অনেক কিছু দরকার। আবার নতুন করে শুরু করতে হবে, নতুন একটি দল গড়তে হবে। কিন্তু এমন একটি দল, এমন একটি গ্রুপ হয়তো আর কখনো তৈরি হবে না। বিষয়টি আমাকে ভীষণ কষ্ট দিচ্ছে। আমি দুঃখিত।’
এই কথাগুলো বলার পরই আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্কালোনি। চোখের পানি সামলাতে না পেরে সংবাদ সম্মেলন মাঝপথেই শেষ করে উঠে যান তিনি।
২০২২ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকার শিরোপা জয়ী এই কোচের এমন মন্তব্য আর্জেন্টিনা ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। এখন ডিসেম্বরের পর তিনি দায়িত্বে থাকবেন কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।