ছবি : সংগৃহীত
প্রথম ইনিংসে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের পর তানজিদ হাসান তামিমের সেঞ্চুরি। ব্যাটে-বলে দুই দাপুটে পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়া সফরে আসার আগে জয়ের স্বপ্ন না দেখা বাংলাদেশ দল ও ভক্ত-সমর্থকরা আশা করতে শুরু করে ঐতিহাসিক কিছুর। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তাই। ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ ৯ উইকেটে।
প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট করার পর ২২৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ করে ৪২৬ রানে। তানজিদের ১০১, নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ এবং ইতিহাস গড়তে মাঝপথে কাজটা সহজ করে দেন মেহেদী হাসান অলরাউন্ড নৈপুণ্যে। ৬৫ রানের অনবদ্য ইনিংসের পর বল হাতে ফাইফার। দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে হাজার রান ও ১০০ উইকেটেরও মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ক্যামেরন গ্রিন ১০৪ রান করলেও মিরাজের তোপে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে ৫৬ রানের বেশি লিড নিতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
ক্ষুদ্র এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হলেও জয় পেতে কষ্ট করতে হয়নি সফরকারীদের। জশ হ্যাজেলউডের বলে বোল্ড হয়ে তামিম সাজঘরে ফেরেন ডাক মেরে। দলীয় ৪ রানে বোল্ড হন তিনি।
কিন্তু সাদমান ইসলাম ২৫ ও মুমিনুল হক ৩০ রানে অপরাজিত থেকে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন বীরের বেশে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়
এর আগে, তৃতীয় দিন শেষে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। ৬৭ রানে পিছিয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ দিনের শুরুটাও করে নড়বড়ে। ব্যাট হাতে ফিফটি করার পর বল হাতেও অজিদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
৪ উইকেটে ১৬১ রান নিয়ে দিন শেষ করা অস্ট্রেলিয়া হারায় আরও ৩ উইকেট লাঞ্চের আগেই।
চতুর্থ দিন হলুদ জার্সিধারিদের সেই ৩ উইকেটই তুলে নেন মিরাজ। ৩০ রান করার অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরান দলীয় ১৭৮ রানে। পতন হয় পঞ্চম উইকেটের। ক্যাচ নেন লিটন কুমার দাস।
এরপর ৫ রান করা ওয়েবস্টার বোল্ড হলে ১৯৩ রানে ৬ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া।
সপ্তম উইকেটের পতন হয় অধিনাক প্যাট কামিন্স ৮ রান করে মিরাজের বলে সাদমানকে ক্যাচ দিলে। দলীয় ২০৭ রানে আউট হন কামিন্স।
লাঞ্চের পর তাসকিনের বলে উইকেটের পেছনে লিটন কুমার দাসের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন স্টার্ক ১৮ রান করে। ২৫০ রানে ৮ উইকেট হারায় অজিরা।
স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি আদায় করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ক্যামেরন গ্রিন। দলের বিপদের সময় ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন গ্রিন। টেস্ট ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন ধীরসুস্থে খেলে ৪টি চার ও এক ছক্কায়। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি তার ছিল তার প্রথম সেঞ্চুরি। কিন্তু ১০৪ রানে প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরেছেন তিনি। ফলে ৯ উইকেট হারিয়ে বড় লিডের আশা শেষ হয় অজিদের।
শেষ উইকেট হিসেবে নাথান লায়নকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়েও তাতে কোনো লাভ হয়নি তার। লায়নকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৪ রানে অলআউট করেন মিরাজ।
অলআউট হওয়ার আগে ৫৬ রানের লিড জমা হয় স্বাগতিকদের বোর্ডে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জিততে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ৫৭ রান। যে লক্ষ্য সহজেই তাড়া করে ৯ উইকেটে জিতে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় এবং সবমিলিয়ে দ্বিতীয়।
সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট শুরু হবে ম্যাকায়।
লিওনেল মেসি
আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষ ম্যাচ খেলার চার দিন পরই ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। ফেরার ম্যাচটা স্মরণীয় করে রাখলেন জোড়া গোলে। তার দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজও করলেন দুই গোল। দুই তারকার নৈপুণ্যে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) ডিসি ইউনাইটেডকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মায়ামি। একই সঙ্গে পাঁচ ম্যাচের জয়খরাও কাটিয়েছে ফ্লোরিডার ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল মায়ামি। মাত্র তৃতীয় মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন সুয়ারেজ। ৩৯ মিনিটে মেসির শট প্রতিহত হলে ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন উরুগুইয়ান ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই দুই গোলের লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা।
বিরতির পর গোলের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন মেসি। ৪৭ মিনিটে সুয়ারেজের বাড়ানো বল এক স্পর্শে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এরপর ৬০ মিনিটে আসে তার দ্বিতীয় গোল। রদ্রিগো ডি পলের পাস পেয়ে ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়কে কাটিয়ে গোলরক্ষক সিন জনসনকে পরাস্ত করেন তিনি। তাতে ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় মায়ামির।
এই জোড়া গোলে চলতি এমএলএস মৌসুমে মেসির গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩, যা লিগে সর্বোচ্চ। গত মৌসুমে ২৮ ম্যাচে ২৯ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করে বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি। এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা দুবার এমভিপি হওয়া মেসি এবারও রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে।
মায়ামির জন্য জয়টি ছিল বিশেষ স্বস্তির। আগের পাঁচ ম্যাচে চারটি ড্র ও একটি হারের পর অবশেষে জয়ের দেখা পেল দলটি। গত ২৯ আগস্ট সিএফ মন্ট্রিলকে ৭-১ গোলে হারানোর পর এটিই তাদের প্রথম জয়।
হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন
পুরনো বলে তেমন কিছু হচ্ছিল না, ৮০ ওভারের পর নতুন বল নিতেই জ্বলে উঠলেন বাংলাদেশের পেসাররা। বিশেষ করে হাসান মাহমুদ দেখালেন বেশি ঝাঁজ। টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম কোনো পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিক করে ইতিহাস গড়লেন তিনি। ৮৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ইসমাত আলমকে বোল্ড করে দেন হাসান। পরের বলে কাইস আহমেদ ক্রিজে এসে আউটসাইড এজে ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে। দুর্দান্ত ক্ষিপ্রতায় সেই ক্যাচ গ্লাভসে জমান লিটন দাস। পরের বলেই জিয়াউর রহমানকেও পরাস্ত করেছিলেন। জোরালো আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দিলে রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। তাতে দেখা যায় এলবিডব্লিউ হয়েছেন জিয়া।
আগের দিনে আফগানিস্তানের প্রতিরোধে হতাশা বাড়ছিল বাংলাদেশের। তবে তৃতীয় দিনে নেমে দ্রুতই ম্যাচের লাগাম নিজেদের কব্জায় নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন বল নিতেই শুরুতে সাফল্য আনেন ইবাদত হোসেন। ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে ইকরাম আখিলকে বোল্ড করে দেন তিনি।
এক পাশে রহমত শাহ টিকে থাকলেও টেল খুলে যাওয়ায় হাসান হয়ে ওঠেন বিপজ্জনক। এক ওভারেই তিন উইকেট নিয়ে ধস নামান তিনি। ৪ উইকেটে ২১৯ থেকে ১ রানের ভেতর আরও ৪ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
আবুধাবি টেস্টে এখন তাই বড় লিড নেওয়ার পথে বাংলাদেশ।
হাসান মাহমুদের ফাইফার উদযাপন
দ্বিতীয় দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল আফগানিস্তানের হাতেই। তবে তৃতীয় দিনের শুরুতেই তাদের ইনিংস গুঁড়িয়ে দিল বাংলাদেশ। পেসার হাসান মাহমুদ ও এবাদত হোসেনের তোপে ২১১ থেকে ২৪০ রানেই অলআউট হয়েছে আফগানিস্তান। মাত্র ২৯ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়েছে তারা। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে করা ৩৪৬ রানের সুবাদে ১০৬ রানের লিড পেয়েছে শান্তর দল।
আগের দিন ৪ উইকেটে ২১১ রান নিয়ে খেলা শেষ করেছিল আফগানিস্তান। দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের ইনিংসের ইতি টানার পথ দেখান এবাদত। তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন ইকরাম আলিখিল। ১০৩ বলে ৩২ রান করেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এতে রহমত শাহর সঙ্গে তার ৮০ রানের জুটি ভাঙে।
এরপরই শুরু হয় হাসান মাহমুদের দাপট। ইনিংসের ৮৩তম ওভারের শেষ তিন বলে ইসমত আলম, কাইস আহমেদ ও জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে টেস্টে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। ইসমতকে বোল্ড করার পর কাইসকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন হাসান। হ্যাটট্রিক বলে জিয়াউরের বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন করেন তিনি। আম্পায়ার সাড়া না দিলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর রিভিউয়ে বদলে যায় সিদ্ধান্ত।
বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে টেস্টে প্রথম হ্যাটট্রিকের কীর্তি গড়লেন হাসান। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের তৃতীয় বোলার হিসেবে টেস্টে হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। এর আগে অলক কাপালি ও সোহাগ গাজী এই কীর্তি গড়েছিলেন। হ্যাটট্রিকের পরও থামেননি হাসান। ইয়ামিন আহমদজাইকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি হাসানের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও ছুঁয়েছেন তিনি। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে এর আগে মাশরাফি বিন মর্তুজা ও তাসকিন আহমেদ টেস্টে ৫০ বা তার বেশি উইকেট নিয়েছেন।
আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক রহমত শাহ সর্বোচ্চ ১০৯ রান করেন। অধিনায়ক হিসেবে নিজের প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া রহমত বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ শতক পেয়েছেন। তবে তার সেঞ্চুরিও দলকে বড় লিড এনে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২৪০ রানেই থামে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
এর আগে প্রথম ইনিংসে ৩৪৬ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম দিন ২ উইকেটে ২২১ রান তুলে শক্ত অবস্থানে থাকলেও পরে ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি। তানজিদ হাসান তামিমের ৮৩, সাদমান ইসলামের ৬৭ ও লিটন দাসের ৫৩ রানের ইনিংসে বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি হয়েছিল। কিন্তু শেষ ৮ উইকেটে মাত্র ১২৫ রান যোগ করতে পারে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ সালিম সাফি নেন ৪ উইকেট, ইয়ামিন আহমদজাই ৩টি।
বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলদাতা অ্যান্থনি গর্ডনকে ঘিরে সতীর্থদের উল্লাস
লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। আন্তর্জাতিক বিরতির পর মাঠে ফিরেই গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল। ঘরের মাঠ কাম্প নউয়ে শনিবার লিগ ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে শিরোপাধারীরা।
অ্যান্থনি গর্ডন শুরুতে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ান গাব্রিয়েল জেসুস। দ্বিতীয়ার্ধে তৃতীয় গোলটি করেন জুল কুন্দে। প্রথম আট ম্যাচের সবকটি জিতে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে আছে বার্সেলোনা। সমান ম্যাচে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
নিজেদের ইতিহাসে লা লিগায় সবচেয়ে ভালো শুরুর নজির স্পর্শ করল বার্সেলোনা। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে জেরার্দো মার্তিনোর কোচিংয়েও লিগে প্রথম আট ম্যাচে জিতেছিল কাতালান ক্লাবটি। ফ্লিকের দল এই আট ম্যাচে গোল করল মোট ৩৪টি।
হালকা চোটে সতর্কতার অংশ হিসেবে বাইরে থাকা অধিনায়ক রাফিনিয়াকে ছাড়া খেলতে নেমে দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের বাধা এড়িয়ে শট নেন গর্ডন, বল এক ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ায়।
বার্সেলোনার হয়ে এই ইংলিশ উইঙ্গারের প্রথম গোল এটি। এবারের লা লিগায় তার অ্যাসিস্ট আছে চারটি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে সবশেষ চার ম্যাচের সবকটিতে গোল করলেন তিনি। বেশিরভাগ সময় বল দখলে রেখে বারবার গেতাফের রক্ষণে হানা দিতে থাকে বার্সেলোনা।
৩০তম মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফেলে তারা। সফরকারী ডিফেন্ডার রোমেরো ডি-বক্সের সীমানায় ড্রিবল করতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে বল হারিয়ে ফেলেন; আর সেটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে দারুণ নৈপুণ্যে জোরাল শটে জালে পাঠান জেসুস।
বার্সেলোনার জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পাঁচ ম্যাচে এই ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকারের গোল হলো তিনটি। আর্সেনাল ছেড়ে এই মৌসুমে কাম্প নউয়ে পাড়ি জমান তিনি। ৫৩তম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ানোর ভালো একটি সুযোগ পান জেসুস। কিন্তু জেরার্দ মার্তিনের ক্রসে হেড লক্ষ্যে রাখতে পারেননি তিনি। চার মিনিট পর দানি ওলমোর নিচু শট ফিরিয়ে দেন গেতাফে গোলরক্ষক।
৭৩তম মিনিটে স্কোরশিটে নাম লেখান কুন্দে। ডান দিক থেকে লামিন ইয়ামালের ক্রসে কাছ থেকে পা ছুঁয়ে বল জালে পাঠান এই ফরাসি ডিফেন্ডার। নির্ধারিত সময়ের শেষ দিকে অল্পের জন্য গোল পাননি ইয়ামাল। বক্সের বাইরে থেকে বিশ্বকাপজয়ী তারকার বাঁ পায়ের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে যায়।
নেইমার ও লিওনেল মেসি
বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উদ্যাপনের একটি ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ করে বিতর্কে পড়েছেন নেইমার। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে তার সেই উদ্যাপনের ভিডিওতে তিনজনকে মদ্যপ অবস্থায় নাচতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর নেইমারের এমন সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
নেইমারের নেটফ্লিক্স প্রামাণ্যচিত্র ‘নেইমার: দ্য পারফেক্ট ক্যাওস’-এ পুরোনো ভিডিও দেখার সময় ফুটেজটি সামনে আসে।
নিজের ফোনে সংরক্ষিত ভিডিও ঘাঁটতে ঘাঁটতেই সেই মুহূর্তটি আবার দেখেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তবে ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সবাই বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি।বিশেষ করে মেসি সাধারণত পার্টি কিংবা অনুপযুক্ত আচরণসংক্রান্ত বিতর্কে জড়ান না বলে তার এমন ব্যক্তিগত মুহূর্ত প্রকাশ করাকে অনেকে ভালো সিদ্ধান্ত মনে করছেন না।
সমালোচকদের মতে, ভিডিওটি সে সময় প্রকাশ্যে এলে তিন ফুটবলারকেই কঠোর সমালোচনার মুখে পড়তে হতো।
উদ্যাপনের সময় তাদের এমন অবস্থার কারণে বার্সেলোনার ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত বলে মনে করেন কেউ কেউ। অবশ্য ভিন্ন মতও রয়েছে। অনেক সমর্থকের মতে, একটি বড় শিরোপা জয়ের পর ফুটবলারদের উদ্যাপনের দৃশ্যকে অযথা বিতর্কিত করা হচ্ছে। তাদের যুক্তি, তিনজনই হয়তো একটু বেশি মদ্যপান করেছিলেন, কিন্তু তাতে তারা এমন কিছু করেননি যা নিয়ে এত সমালোচনার প্রয়োজন আছে।
তবে ভিডিওটির সমালোচকদের কাছে মূল প্রশ্ন মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজের উদ্যাপনের ধরন নয়। বরং তাদের ব্যক্তিগত মুহূর্তটি জনসমক্ষে প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি। সেই কারণেই পুরোনো ভিডিওটি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
নেইমার
প্রায় ভুলে যাওয়ার মতো একটা বিশ্বকাপ কাটিয়েছেন নেইমার। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরলেও পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় প্রথম দুই ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পরে ফিট হলেও নেইমার দুই ম্যাচে মাঠে ছিলেন মোটে ৩৭ মিনিট! তাতে তেমন কিছুই করতে পারেননি ৩৪ বছর বয়সী এ ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলও বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকে।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর পোকার টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করে আরও বেশি সমালোচিত হতে থাকেন নেইমার। তবে মাঠে ফিরেই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্রাজিল তারকা। জোড়া গোল করে ক্লাব সান্তোসের হার ঠেকিয়েছেন তিনি।
বিশ্বকাপের পর গতকাল শনিবার রাতে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন নেইমার। ব্রাজিলিয়ান সেরি আ-র ম্যাচে চাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচের ৩৬ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন নেইমার। তাতে সান্তোস এগিয়ে যায় ১-০ গোলে।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ৫১ ও ৬২ মিনিটে দুই গোল ফেরত দিয়ে লিড নেয় চাপেকোয়েন্স। বহু চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারছিল না সান্তোস। ম্যাচটা নেইমাররা হেরে যাবেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি পায় সান্তোস। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে নেওয়া ওই পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে সান্তোসকে এক পয়েন্ট এনে দেন নেইমার। ম্যাচটাও শেষ হয় ২-২ সমতায়।
এ ড্রতে লিগে খেলা ২০ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১৪ নম্বরে আছে সান্তোস। সমান ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে (২০ নম্বরে) চাপেকোয়েন্স।
এদিকে গতকাল ম্যাচের প্রথম গোলের পর ব্যতিক্রমী উদযাপন করে নেইমার। সতীর্থ বারেলের সঙ্গে ওয়ান-টু-ওয়ান করে বক্সের ভেতর থেকে নিখুঁত ফিনিশিং দেন ব্রাজিলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। নেইমারের শট এতটাই নিখুঁত ছিল যে, চাপেকোয়েন্স গোলকিপার মাতেউস অরেলিওর কোনো সুযোগই পাননি।
গোলের পর নিজের স্বভাবজাত উদযাপনের পর কানে হাত দিয়ে সমালোচকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে থাকেন নেইমার। এরপর পোকার খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত অঙ্গভঙ্গিও করেন।
সম্প্রতি নেইমারের পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া নিয়ে যে সমালোচনা শুরু হয়েছিল, এই উদযাপনের মাধ্যমে নেইমার সেটাকেই ইঙ্গিত করেছেন বলে উল্লেখ করেছে বেশ কয়েকটি ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম।