বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের দুই তারকা মেসি-ইয়ামালের লড়াই দেখার অপেক্ষায় বিশ্ব
বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ক্রীড়া আসর বিশ্বকাপ ফুটবলের আরো একটি আয়োজন শেষ হতে চলেছে। আগামী চার বছরের জন্য কে হতে যাচ্ছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন- তা জানতে এখন কেবল ঘণ্টা গুনে অপেক্ষার পালা। রোববার দিন শেষে রাত একটায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে গতবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন।
দক্ষিণ আমেরিকার দল আর্জেন্টিনা জিতলে ১৯৭৮, ১৯৮৬, ২০২২ সালের পর চতুর্থবারের মতো শিরোপা জিতে নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ীদের তালিকায় জার্মানি ও ইতালির সাথে স্থান করে নেবে। ইতালি ও পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের মতো টানা দুইবার বিশ্বকাপ জেতার গৌরবও অর্জন করবে তারা। অন্যদিকে ২০১০ সালে শিরোপাজয়ী স্পেন জিতলে তা হবে তাদের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয় এবং ফাইনাল গেলে জয়ী হওয়ার তাদের রেকর্ড শতভাগ অক্ষুণ্ন রাখবে।দুই দলই এই টুর্নামেন্টে অপরাজিত থেকে ফাইনালে উঠেছে।
আর্জেন্টিনা এই টুর্নামেন্টের নক আউট ম্যাচগুলোর প্রায় প্রতিটিতে ফিরে আসার দারুণ গল্প লিখে চলেছে। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও মেসির অসাধারণ নেতৃত্বে এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে আনে, এর আগে শেষ ষোলোতেও মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে ফিরে আসার মতো নাটকীয়তা দেখায়।
বিশেষত শেষ ১৫ মিনিটে প্রায় প্রতি ম্যাচেই একাধিক গোল দিয়ে আর্জেন্টিনা নিজেদের দৃঢ় মানসিকতা ও জয়ের তীব্র ইচ্ছার প্রতিফল ঘটিয়েই চলছে। এখনো পর্যন্ত সাত ম্যাচে আর্জেন্টিনা ১৯টি গোল দিয়েছে যা দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং এই পরিসংখ্যান দলটির দারুণ আক্রমণভাগের প্রমাণ দেয়। টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলতে থাকা সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারিয়ে মাটিতে নামিয়েছে ফ্রান্সকে। সেইদিনও স্পেন পুরো খেলা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর আগের ম্যাচগুলোতে পর্তুগালকে শেষ মুহূর্তের একমাত্র গোলে এবং বেলজিয়ামকে শেষমুহূর্তের দেওয়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হারায় তারা এবং দুটি ম্যাচেই স্পেনের আধিপত্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
এখন পর্যন্ত সাত ম্যাচ খেলে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে। এই বিশ্বকাপের সাত ম্যাচসহ টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থাকা স্পেন দলের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, দলটির রক্ষণভাগ সন্দেহাতীতভাবে এই টুর্নামেন্টের সেরা। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, বিশ্বকাপের ফাইনালটি হতে যাচ্ছে সেরা আক্রমণ বনাম সেরা রক্ষণভাগের মধ্যে।
তবে, দুই দলেরই প্রধান শক্তি মাঝমাঠ দখল করে খেলা। এখন পর্যন্ত খেলাগুলোতে উভয় দলই গড়ে ৬০ ভাগ করে বলের দখল রেখেছে, আর নিজেদের মধ্যে সর্বাধিক পাস দিয়েছে (আর্জেন্টিনা ৪৭৭২, আর স্পেন ৪৫৯২) । লিওনেল স্কালোনির অধীনে আর্জেন্টিনাও ৪-৩-৩ ছকে খেলছে, যেখানে সামনে মেসি কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। স্কালোনি লেয়ান্দ্রো পারেদেসকে মধ্য মাঝমাঠে খেলাচ্ছেন, তার পাশে আছেন আলেক্সিস মাক এলিস্টার, এনজো ফের্নান্দেজ ও রদ্রিগো দে পাউল, যারা মাঝমাঠ দিয়ে খেলা গড়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে উইংয়েও সরে যেতে পারেন।
আক্রমণভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। হুলিয়ান আলভারেজের তীব্র রক্ষণাত্মক প্রেসিং ক্ষমতার কারণে তিনি লাউতারো মার্তিনেজের চেয়ে এগিয়ে থেকে শুরুর একাদশে জায়গা ধরে রাখতে পারেন, কারণ স্পেনের গভীর থেকে বল বাড়ানোর ধরন ভাঙতে এই প্রেসিং জরুরি। তবে, কৌশল ছাপিয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি গত টুর্নামেন্টের মতো একজোট হয়ে খেলা। এই দলটি মেসিকে কেন্দ্র করে নিজেদের উজাড় করে খেলে। খেলার অবস্থা যতোই প্রতিকূলে থাক, এই দলটি প্রয়োজনীয় গোল বের করে ফেলে। বক্সের ভেতর প্রতিপক্ষের একগাদা খেলোয়াড় থাকলে বক্সের বাইরে থেকেই দৃষ্টিনন্দন শটে অথবা এমনকি অপেক্ষাকৃত লম্বা খেলোয়াড়দের বিপক্ষেও দারুণ হেডে কিংবা অবিশ্বাস্য রক্ষণ চেরা পাসে।
দলটির খেলা দেখে মনে হয় মেসিকে বিশ্বকাপ পাইয়ে দিতে প্রতিটি সদস্য নিজেদের সর্বশেষটুকু দিতেও প্রস্তুত। যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা ফুটবল মাঠ যেখানেই হোক, জয়ের জন্য যারা এইরকম মনোভাব ধরে রাখতে পারে সাধারণত জয়টা তাদেরই হয়। আর, ৩৯ বছর বয়সী মেসি যেন দিন দিন নিজেকে ছাপিয়েই যাচ্ছেন। ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ আট গোল দিয়েছেন মেসি, করেছেন চারটি গোলে সহায়তা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২১টি গোল করেও তিনি শীর্ষে। মেসির নেতৃত্ব এবং মেসিকে ঘিরে থাকা আর্জেন্টিনা দলটি যেন আবেগ ও সংহতির এক চূড়ান্ত মাত্রা প্রদর্শন করছে।
অন্যদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে স্পেন ৪-৩-৩ ছকে খেলছে। আক্রমণে মিকেল ওইয়ারসাবাল, দুই উইংয়ে লামিন ইয়ামাল ও আলেক্স বেইনা এবং মাঝমাঠে রদ্রি, ফাবিয়ান রুইজ ও দানি ওলমো। রক্ষণভাগে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির নেতৃত্বাধীন স্পেনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামো যেন একটি দুর্দান্ত দক্ষ যন্ত্র। দলের মূল কৌশলগত দর্শন হলো বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ধৈর্য হারাতে বাধ্য করা। রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজ মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর দানি ওলমো, আলেক্স বেইনা ও লামিন ইয়ামাল আক্রমণ গড়া ও রক্ষণাত্মক কাজ দুটোতেই সাহায্য করছেন।
স্পেন দলটির প্রতিটি খেলোয়াড় অপরের খেলা সমন্ধে ওয়াকবিহাল। বল যখন নিয়ন্ত্রণে থাকে তখন তারা এমন জায়গায় পাস দেয় যেখানে একজন খেলোয়াড় থাকবেন বলে আশা করা যায়। এবং বেশিরভাগ সময়ে কেউ না কেউ সেইখানে পৌঁছে যান। স্পেনের গোলগুলোর বেশিরভাগই দলীয় আক্রমণের ফল। দেখে মনে হয় দলটি মাঠে নিখুঁত ফুটবল বিজ্ঞানের চর্চা করে সাফল্য অর্জন করে। এই দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের স্ব-স্ব ভূমিকা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছেন।
সেই হিসেবে বলা যেতে পারে যে, ফাইনালটি হতে যাচ্ছে একদল তীব্র আবেগী, একজোট শৈল্পিক দলের বিপক্ষে নিখুঁত বৈজ্ঞানিক ও শৃঙ্খলা মেনে চলা একটি দলের।
আর্জেন্টিনা-স্পেন দ্বৈরথের ইতিহাস সমানে সমান। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচসহ সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে উভয় দলই ৬টি করে ম্যাচ জিতেছে এবং বাকি ২টি ড্র হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের সাক্ষাৎ অত্যন্ত বিরল। দুই দল বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র একবারই মুখোমুখি হয়েছিল, আর সেটা এতটাই পুরনো যে বর্তমান কোনো খেলোয়াড়ই তখনো জন্মাননি — এমনকি আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনিরও জন্ম হয়নি, আর দে লা ফুয়েন্তের বয়স তখন মাত্র পাঁচ। সেই ম্যাচটি ছিল ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব, যেখানে আর্জেন্টিনা ২-১ গোলে জিতেছিল। অর্থাৎ, রোববারের ফাইনালই হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের প্রথম নকআউট পর্বের সাক্ষাৎ এবং স্বাভাবিকভাবেই তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মঞ্চের লড়াই।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বর্তমান ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন দল ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে। এছাড়াও, আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা ঘটছে ৯৬ বছর পর। সেই প্রথম বিশ্বকাপে ১৯৩০ সালে ফাইনালে উঠেছিলো একই ভাষাভাষী দেশ উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এরপর এবারই প্রথম একই ভাষাভাষী দুইটি দেশ ফাইনালে খেলছে। কাকতালীয়ভাবে, এবারও দুইটি দেশের ভাষা স্প্যানিশ। উপনিবেশিক আমলের কথা বিবেচনা করলে এই ফাইনালটা ভীষণ আবেগী হয়ে উঠতে পারে।
এই ফাইনালের আরেকটি বড় আবেগীয় দিকটি হলো মেসি-ইয়ামাল মুখোমুখি হওয়া। লামিন ইয়ামালের পরিবার একটি দাতব্য র্যাফেলে জিতে ছোটবেলায় লিওনেল মেসির সঙ্গে প্রচারণামূলক ফটোশুটে অংশ নিয়েছিল এবং সেই ছবিটি ২০২৪ ইউরোর পর ইয়ামালের বাবার শেয়ার করার পর ভাইরাল হয়েছিল। ২০০৭ সালে তোলা সেই ছবির প্রায় ১৯ বছর পর সেইদিনের শিশু থেকে জাতীয় দলের তারকা হয়ে উঠা ইয়ামাল এবং সেইদিনের তরুণ থেকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম কিংবদন্তি হয়ে উঠা মেসি আন্তর্জাতিক মঞ্চে একে অপরের প্রতিপক্ষ।
মেসি এবং ইয়ামাল যেন একই সাথে দুই দলের প্রতীকও। আর্জেন্টিনা গত আসরের বেশিরভাগ খেলোয়াড় নিয়ে এসেছে এবারও। দলটির সদস্যদের গড় বয়স ২৮.৬২ যা নিয়ে ৪৮টি দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার অবস্থান ৪০। স্পেনের খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৬.১৯ এবং ৪৮ দলের মধ্যে দেশটির অবস্থান ষষ্ঠ। সেই হিসেবে বলা যেতে পারে, এই ফাইনালটি হতে যাচ্ছে টুর্নামেন্টের অন্যতম বয়স্ক বনাম অন্যতম তরুণ দলের মধ্যে। লড়াইটা তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার।
এই যাবতকালে সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের (৪৮ দল, ১০৪টি ম্যাচ) ফাইনাল ঘিরেও থাকছে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা। ফাইনালের ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে সমাপনী অনুষ্ঠান, যেখানে হেডলাইনার হিসেবে থাকছেন পোস্ট ম্যালোন। পাশাপাশি টম ক্রুজ, লরা পাউসিনি, নিকোল শেরজিঙ্গার, রবি উইলিয়ামস ও ইউটিউবার আইশোস্পিডও থাকবেন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে। প্রাক-ম্যাচ মার্কিন জাতীয় সংগীত গাইবেন জেনিফার হাডসন।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো হাফটাইম শো অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে কোল্ডপ্লের ক্রিস মার্টিনের কিউরেট করা এই শো-তে হেডলাইনার থাকছেন ম্যাডোনা, শাকিরা, বিটিএস ও জাস্টিন বিবার, সঙ্গে থাকছে দ্য মাপেটসের চরিত্রও। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মাঠে না গেলেও ফাইনালে তার উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে অতি অবশ্যই মূল আকর্ষণ হবে মাঠের খেলা। সারা দুনিয়ার চোখ থাকবে রক্ষণ বনাম আক্রমণ, আবেগ বনাম শৃঙ্খলা, তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতার লড়াইয়ে; দুনিয়ার সবচেয়ে বড় আসরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে।
আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে, কে হতে যাচ্ছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন?
বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল
এশিয়া কাপের প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে ছিলেন শারমিন আক্তার সুপ্তা আর রাবেয়া খান। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের ওপর ভরসা করেছিল টাইগ্রেসরা। সেই ভরসার প্রতিদান দিলেন দুজনই। একজন দায়িত্ব নিলেন ব্যাটিংয়ে। আরেকজন ছড়ি ঘুরালেন বলহাতে। তাদের দারুণ নেপূণ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার (৭ সেপ্টেম্বর) নারী এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান করেছিল। জবাব দিতে নেমে ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে মোটে ৬৯ রান করতে পেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। টাইগ্রেসরা জয় পেয়েছে ৩৪ রানের।
‘বি’ গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচের সবগুলো জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে শ্রীলঙ্কা। আর সমান ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে গেল বাংলাদেশ। যেখানে আগে থেকেই নিগার সুলতানা জ্যোতিদের জন্য অপেক্ষা করছে ভারত।
আগের দুই ম্যাচের মতো আরব আমিরাতের বিপক্ষেও ব্যাটিংটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ব্যর্থ হয়েছেন টপঅর্ডার ব্যাটাররা। এরপর নিজের কাধে দায়িত্ব তুলে নেন চলমান এশিয়া কাপে প্রথমবার একাদশে জায়গা পাওয়া শারমিন আক্তার সুপ্তা। তার ৩১ বলে ৪৮ রানের ইনিংসে ভর করেই লড়াইয়ের পুঁজি পায় বাংলাদেশ।
স্বল্প রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আরব আমিরাতের শুরুটা ভালো হয়নি। টাইগ্রেস পেসার মারুফা আক্তারের তোপের মুখে পড়ে স্বাতিকরা। ১৩ রানের মধ্যেই টপঅর্ডারের দুই ব্যাটারকে ফেরত পাঠান তিনি। ওপেনার ঈশা ওজা (৪ বলে ২) আর তিন নম্বরে নামা সামাইরা ধারনিধারকা (১৯ বলে ৮) ফিরে যান মারুফার শিকার হয়ে।
এরপরই নিজের স্পিন ঘূর্ণিতে স্বাগতিক ব্যাটারদের চোখে সরষে ফুল দেখান প্রথমবার একাদশে সুযোগ পাওয়া রাবেয়া খান। এই লেগস্পিনারের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি আরব আমিরাতের কোনো ব্যাটার। মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটার রিনিথা রাজিথ (১২ বলে ৫) আর হেনা হটচান্দানিকে (১৯ বলে ১৮) ফিরিয়ে কোমড় ভেঙে দেন আরব আমিরাতের ব্যাটিং লাইনের। পরে ধরেন আরও এক শিকার।
আরবে আমিরাতের পুরো ইনিংসে মাত্র দুজন ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পোঁছাতে পেরেছেন। বাংলাদেশের বোলারদের তোপের মুখে বাকিরা সবাই ফিরেছেন সিঙ্গেল ডিজিটেই। থেমেছে ৬৯ রানেই।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট পেয়েছেন রাবেয়া খান। দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মারুফা আক্তার আর নাহিদা আক্তার। একটি করে উইকেট গেছে সুলতানা খাতুন আর ফাহিমা খাতুনের ঝুঁলিতে।
এর আগে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় সংযুক্ত আরব আমিরাত। শুরুটা প্রত্যাশা মতো না হলেও শেষদিকে শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে একশ পেরোয় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে কার্যকর ব্যাটিং করেছেন শারমিন আক্তার। ৩১ বলে ৩৮ রান করে দলের ইনিংসের ভিত গড়ে দেন তিনি। শারমিন আক্তার ১৮.৫ ওভারে ৯৭ রানের মাথায় আউট হন। তার বিদায়ের পর শেষ দিকে নাহিদা আক্তার ও রাবেয়া খান মিলে ইনিংস শেষ করেন। নাহিদা আক্তার অপরাজিত থাকেন ২৬ বলে ১৬ রান করে। অন্য প্রান্তে রাবেয়া খান ৪ বলে করেন ৩ রান।
শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৩৩ রান, যেখানে হারিয়েছে মাত্র একটি উইকেট। ফলে শেষ দিকে কিছুটা গতি পেয়ে ২০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৩ রান।
আমিরাতের বোলারদের মধ্যে জানানি থিরুক্কুমারান সবচেয়ে সফল। ১ ওভারে মাত্র ৫ রান দিয়ে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট। হিনা হটচান্দানির ৪ ওভারে এসেছে ১৯ রান, তবে কোনো উইকেট পাননি।
লামিনে ইয়ামাল
স্বপ্নের মতো একটি বছর কেটেছে লামিনে ইয়ামালের। টিনএজ এ ফুটবলার কদিন আগে স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছেন, বার্সেলোনাকে জিতিয়েছেন লা লিগা। এ দুই অর্জনের জন্য ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। এর পরও তাঁর একটি স্বপ্ন নাকি এখনও অপূর্ণ। সেটা হলো ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা। আজ ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে ডাচ ক্লাব ফেনুয়ার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই স্বপ্ন ছোঁয়ার অভিযান শুরু করবেন ইয়ামাল।
আসরের টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজিও আজ মাঠে নামছে। ঘরের মাঠে আজ তাদের প্রতিপক্ষ দুর্বল স্লোভান ব্রাতিস্লাভা। গতবারের ফাইনালিস্ট আর্সেনালও শুরু করছে আজ। ইতালির ক্লাব নাপোলির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু করবে মিকেল আর্তেতার দল। আজ রাতের বিগ ম্যাচটা হবে অ্যানফিল্ডে। স্বাগতিক লিভারপুলের মুখোমুখি হবে স্প্যানিশ জায়ান্ট অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ।
বার্সা সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছিল ১১ বছর আগে। ২০১৫ সালে লিওনেল মেসি, নেইমার ও লুইস সুয়ারেজ– এই ত্রয়ীর নৈপুণ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। বর্তমান কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের অধীনে ২০২৫ সালে সেমিফাইনাল ও গত বছর কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিল তারা। এবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে ‘ভেরি স্পেশাল’ মর্যাদা দিয়েছেন ইয়ামাল। ১৯ বছর বয়সী এ তারকা এই ট্রফি জিততে মরিয়া চেষ্টা করবেন বলেও দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন, ‘এই বছর জাতীয় দল ও ক্লাবের হয়ে যা কিছু করেছি তার জন্য ভীষণ গর্বিত। আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি, ক্লাবের হয়ে লা লিগা জিতেছি। এর চেয়ে বেশি কিছু আসলে চাওয়ার নেই।’ এরপরই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন তিনি, ‘এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগটা আমার কাছে ভেরি স্পেশাল। সবকিছু জেতা হয়েছে। শুধু এটাই বাকি।’ এ কথাতেই বোঝা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিয়ে কতটা সিরিয়াস এ টিনএজার।
বার্সার কোচও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিততে মরিয়া, ‘প্রতিটি বড় ক্লাব এই ট্রফি নিয়ে স্বপ্ন দেখে। কারণ এটাই সেরা টুর্নামেন্ট। এই ট্রফি জেতার সামর্থ্য আমাদের আছে। তবে অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে।’ ইয়ামালেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন এই জার্মান কোচ। এই স্প্যানিশ মাঠে সময়টা ভীষণ উপভোগ করছেন বলেও জানান তিনি, ‘লামিনে হলো এমন একজন ফুটবলার, যে কিনা মুহূর্তের মধ্যে একটি ম্যাচ নির্ধারণ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটা দুর্দান্ত বিষয়। প্রতিদিন আপনি দেখতে পাবেন সে মাঠে কতটা উপভোগ করছে ফুটবল। আমার জন্য তাকে এভাবে দেখতে পারাটাই সবচেয়ে আনন্দের বিষয়।’
লিভারপুল-অ্যাথ. মাদ্রিদ
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আজ সবচেয়ে জমজমাট লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা অ্যানফিল্ডে। আন্দোনি ইরাওলার অধীনে আজ প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলতে নামছে লিভারপুল। তাদের প্রতিপক্ষ অভিজ্ঞ দিয়াগো সিমিওনির অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদ। ঘরোয়া লিগে দুই দল এখনও সেরা ছন্দে পৌঁছাতে পারেনি। প্রিমিয়ার লিগে সর্বশেষ ম্যাচে লিভারপুল ২-০ গোলে জিতলেও আগের দুই ম্যাচে ড্র করেছে।
আর আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজের দলবদল নিয়ে তিক্ত সময় পার করা অ্যাথলেটিকো তো লা লিগায় গত শনিবার অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের কাছে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই দলের পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে লিভারপুল। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে তিনটি জিতেছে লিভারপুল ও দুটি জিতেছে স্প্যানিশ ক্লাবটি। তবে আজ ম্যাচ অ্যানফিল্ডে বলেই কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবে অলরেডরা।
সিটির জয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুম। নতুন কোচের অধীনে ম্যানচেস্টার সিটিরও নতুন শুরু। তবে পোর্তোর বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে নায়ক সেই পুরোনো একজনই। আর্লিং হলান্ড।
নতুন মৌসুমে সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন এনজো মারেসকা। পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ অধ্যায়ের পর তাঁর সামনে কাজটা কঠিনই। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে সেই চাপের ছাপ খুব একটা দেখা গেল না। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে সিটি। আর শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন হলান্ড। তবে প্রথমার্ধে তাঁকে আটকে রেখেছিলেন পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা। একবার দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে হলান্ডের শক্তিশালী হেড ফিরিয়েছেন । পরে আবারও নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে হতাশ করেছেন জোড়া সেভে। প্রথম ৪৫ মিনিটে গোল না পেলেও সিটি তখনই বুঝিয়ে দিয়েছিল, পোর্তোর দুর্গে ধাক্কা আসছে।
বিরতির পর আর অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হলান্ডের হেড। খুব জোরালো ছিল না শটটি, কিন্তু কস্তাকে ভুল পায়ে ফেলে বল গড়িয়ে গেল নিচের কোণায়। ১-০।
গোল খেয়ে যেন ঘুম ভাঙল পোর্তোর। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে স্বাগতিকেরা। উল্টো সিটির রক্ষণেও দেখা দেয় অস্বস্তি। একবার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফেলে দিয়েছিলেন। অফসাইড না থাকলে সেটি পোর্তোর পেনাল্টি হতে পারত। পরে তাঁর একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোল হয়নি।
তবু শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব চেষ্টা ব্যর্থ। কারণ রাতটা ছিল হলান্ডের।
যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির ক্রস পেয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠালেন তিনি। ২-০। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে হলান্ডের গোলও হয়ে গেল ৫৯টি।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ ও ৫০ গোলের রেকর্ড আগেই নিজের করে নিয়েছেন তিনি। এবার তাঁর সামনে দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি। যে জায়গায় পৌঁছাতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির লেগেছিল অনেক বেশি ম্যাচ, সেখানে হলান্ড ছুটছেন নিজের গতিতে।
সিটির হয়ে এটিই ছিল তাঁর ১৬৭তম গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় উঠে গেলেন তৃতীয় স্থানে।
ম্যাচ শেষে হলান্ড বলেছেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’
আর চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের গুরুত্ব বোঝাতে তাঁর উপলব্ধি, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’
ইমরান খান ও ওয়াসিম আকরাম
কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরাম। ইমরানের সঙ্গে তিন বছর ধরে কথা না হলেও তাঁকে ভীষণ মিস করেন তিনি।
ইমরানের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের আপস না করার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক এই ক্রিকেটার। দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকরাম বলেন, ‘সে আমার বন্ধু। আমি তাকে অনেক মিস করি। তিন বছর ধরে তার সঙ্গে আমার কথা হয়নি। রাজনৈতিকভাবে তার সঙ্গে যা ঘটছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আদালতের বিষয় আদালতেই থাকুক। কিন্তু তার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে কোনো আপস হতে পারে না।’
ইমরানের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছেন আকরাম। অবসর নেওয়ার পরও তাঁদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। আকরাম বলেন, ‘আমরা অবসর নেওয়ার পরও সে আর আমি নিয়মিত যোগাযোগ রাখতাম। আমি তার কাছে যেতাম, সময় কাটাতাম। আমি তার সঙ্গে কথা বলা মিস করি। একজন বন্ধু হিসেবে আমি তাকে মিস করি-রাজনীতি বাদ দিয়েই বলছি।’
আকরামের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে ইমরানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইমরান তাঁকে গড়ে তুলতে ও খেলার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আকরামও বহুবার ইমরানকে নিজের গুরু হিসেবে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
ইমরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়ে আকরাম বলেন, ‘ইমরানের অবস্থার উন্নতির দাবিতে ইংল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় একটি আন্দোলন হচ্ছে। কিন্তু এখানে, পাকিস্তানে? আমি নিশ্চিত নই। আমি একজন মানুষ হিসেবে তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে হৃদয় থেকে কথাগুলো বলছি। সে দোষী সাব্যস্ত হোক বা না হোক। কারাগারে থাকুক বা না থাকুক। তার স্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই হবে।’
ইমরানের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে-সরকারের এমন বক্তব্য নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন আকরাম। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি না সেখানে কী ঘটছে। সরকার বলছে, তার স্বাস্থ্য নাকি ভালো আছে। কিন্তু আমি উদ্বিগ্ন। আমি তাকে অনেক মিস করি।’
ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে আলোচনায় আসে লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের ঘটনা। মধ্যাহ্নবিরতিতে স্কাই স্পোর্টস ইমরানের দুই ছেলে সুলেমান ও কাসিমের সাক্ষাৎকার প্রচার করে। সেখানে তাঁরা কারাগারে বাবার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। ওই সাক্ষাৎকার নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) আপত্তির খবর প্রকাশিত হয়। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে পাকিস্তান দলের মাঠে না নামার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই মাঠে নামে পাকিস্তান।
কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ
জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২১ নারী হকি দলের জয়রথ ছুটেই চলছে। চায়নিজ তাইপে ও পাকিস্তানের পর এবার কাজাখস্তানকেও হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। আজ কাজাখস্তানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। আগামীকাল নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই জয়ে চ্যালেঞ্জার পুলে ৯ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। কাজাখস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছেন সারিকা রিমন। অন্য দুটি গোলের একটি করেছেন মোসাম্মত লিমা, অন্যটি লিজা আক্তার।
চীনের মোকি ট্রেনিং গ্রাউন্ডে ম্যাচের শুরু থেকেই কাজাখস্তানকে চাপে রাখে বাংলাদেশ। ম্যাচের মাত্র তৃতীয় মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সারিকা। এরপর ১৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিজা। প্রথম কোয়ার্টারেই ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।
দুই গোল হজম করার পর কাজাখস্তান কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। কয়েকটি আক্রমণও তৈরি করে তারা। তবে বাংলাদেশের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি কাজাখস্তান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় কোয়ার্টারে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানেই এগিয়ে থাকে বাংলাদেশ।
চতুর্থ কোয়ার্টারে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বাংলাদেশের মেয়েরা। সেই সুযোগে আরও দুটি গোল আদায় করে নেয় তারা। ৪৬ মিনিটে ফিল্ড গোল করে ব্যবধান ৩-০ করেন লিমা। এরপর ৫১ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন সারিকা। তাতে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
এবারই দ্বিতীয়বারের মতো জুনিয়র এশিয়া কাপে খেলছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে ২০২৩ সালের আসরে অংশ নিয়ে নবম হয়েছিল বাংলাদেশ। মেয়েদের জুনিয়র এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত।
দশ দলের এই টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জার পুলে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে কাজাখস্তান, পাকিস্তান, চায়নিজ তাইপে ও হংকং। অন্যদিকে এলিট পুলে স্বাগতিক চীনের সঙ্গে রয়েছে জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়া।
চ্যালেঞ্জার পুলের শীর্ষ তিন দল এবং এলিট পুলের পাঁচ দল খেলবে কোয়ার্টার ফাইনালে। আর চ্যালেঞ্জার পুলের চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকা দল দুটি খেলবে নবম-দশম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে।
ফুটবলার কাভান সুলিভান
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন ফুটবলার কাভান সুলিভান। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের এই ফরোয়ার্ড এবার এমএলএসের ইতিহাসে প্রথম টিনেজার হিসেবে টানা পাঁচ ম্যাচে গোলে সরাসরি অবদান রাখার কীর্তি গড়েছেন। রোববার সিএফ মন্ট্রিলের বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়ার ২-০ গোলের জয়ে একটি গোল করেন ১৬ বছর বয়সী কাভান।
দলের হয়ে ৫৭ মিনিটে ড্যানলে জিন জ্যাকেস গোল করার পর ৭৫ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুলিভান। কাভানের গোলটি আসে দারুণ ফিনিশিংয়ে। বক্সের ভেতর সতীর্থের শটের পর বলের গতিপথ বুঝে দ্রুত এগিয়ে যান তিনি। একাধিক প্রতিপক্ষের বাধা এড়িয়ে এক শটেই বল জালে পাঠান তরুণ ফরোয়ার্ড।
এই গোলের ফলে চলতি মৌসুমে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে কাভানের গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে চারটি। এর সঙ্গে রয়েছে সাতটি অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ মাত্র ১৬ বছর বয়সেই চলতি মৌসুমে ১১টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন তিনি।
এমএলএসে ১৬ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড়দের মধ্যে এক মৌসুমে গোলে অবদানের নতুন রেকর্ডও এখন কাভানের। এর আগে এই রেকর্ড ছিল সাবেক মার্কিন তারকা ফ্রেডি আদুর দখলে। ২০০৫ সালে ১৬ বছর বয়সে চার গোল ও ছয় অ্যাসিস্ট মিলিয়ে ১০টি গোলে অবদান রেখেছিলেন আদু।
এর আগে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখার সময়ও রেকর্ড গড়েছিলেন কাভান। ১৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে তিনি এমএলএসের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে টানা চার ম্যাচে গোলে অবদান রাখেন। এবার সেই কীর্তিকে আরও এক ম্যাচ বাড়িয়ে পাঁচে নিয়ে গেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ। মাত্র ১৬ বছর বয়সেই এমন পারফরম্যান্সে কাভানকে ঘিরে পুরো এমএলএসেই প্রত্যাশা বাড়ছে।