সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ
দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশে ফিরছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আজ ঘোষিত টুর্নামেন্টের সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আগামী ৫ নভেম্বর ভুটানের বিপক্ষে। দ্বিতীয় ম্যাচে ১১ নভেম্বর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে স্বাগতিকেরা। দুটি ম্যাচই হবে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে। ম্যাচ শুরুর সময় রাত ৮টা।
বাংলাদেশ রয়েছে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে একই গ্রুপে। অন্য গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান। গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুই দল উঠবে সেমিফাইনালে।
১৪ নভেম্বর হবে দুটি সেমিফাইনাল। ১৭ নভেম্বর ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে টুর্নামেন্টের। তবে বাংলাদেশের গ্রুপ এখনো চূড়ান্ত নয়।
নেপালের ওপর ফিফার নিষেধাজ্ঞা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উঠে গেলে তারা বাংলাদেশের গ্রুপে যোগ দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে সূচিতে পরিবর্তন আসবে।
২০১৮ সালের পর এবার আবারও দেশের মাটিতে সাফ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। ঘরের মাঠে খেলার সুবিধা কাজে লাগিয়ে ভালো করার লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিক দলের।
বাংলাদেশ সাফে একবারই জিতেছে, সেটা ২০০৩ সালে স্বাগতিক হয়ে।
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের আদিয়ালা কারাগারে বন্দী দেশটির সাবেক অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সেখানে তাঁর এই বন্দিজীবন নিয়ে মানবিক উদ্বেগ প্রকাশ করতে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন দেশটির সাতজন সাবেক অধিনায়ক। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন অ্যালান বোর্ডার, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, কিম হিউজ, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ। তাঁরা সবাই অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক।
সবাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তাঁরা ‘কূটনীতিক বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে নন; বরং সাবেক অধিনায়ক হিসেবে কথা বলার তাগিদ অনুভব করেই এই চিঠি লিখেছেন’।
চিঠিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, ‘এই (সাবেক অধিনায়কদের) দল জনাব খানের বিরুদ্ধে চলা আইনি বা রাজনৈতিক মামলার বিষয়ে কোনো পক্ষ নিচ্ছে না।’ বিষয়টি সম্পূর্ণ পাকিস্তানের নিজস্ব ব্যাপার। চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, মূল উদ্বেগের বিষয় হলো, কারাবন্দী যেকোনো ব্যক্তির সঙ্গে কেমন আচরণ করা হচ্ছে, তা নিয়ে এবং ‘রাজনীতি যা–ই হোক না কেন, এটি মানবতার মৌলিক বিষয়’।
অধিনায়ক হিসেবে পাকিস্তানকে ১৯৯২ বিশ্বকাপ জেতানো ইমরানের পক্ষে খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের তরফ থেকে আসা এটিই সর্বশেষ আবেদন।
গত ২৩ আগস্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ২২ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে চিঠি পাঠিয়ে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, বর্তমান চিকিৎসাসেবা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার তুলনায় অপ্রতুল।
সেই চিঠিতে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়—১. সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড—যাতে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরাও অন্তর্ভুক্ত আছেন—তাঁকে পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া, বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা। ২. আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুনর্বহাল হওয়া সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎকারের সুযোগ কোনো ধরনের বাধা বা প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই নিশ্চিত করা। ৩. স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফল যা-ই হোক না কেন, সে অনুযায়ী চিকিৎসকদের প্রস্তাবিত চিকিৎসা অবিলম্বে প্রদান করা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়কের স্বাক্ষরে পাঠানো প্রথম চিঠির ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় চিঠি পাঠানোর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরপর পাকিস্তানের সাবেকদের মধ্যে জাভেদ মিয়াঁদাদ, ওয়াসিম আকরাম ও মইন খান ইমরানের সুচিকিৎসা ও মুক্তির আহ্বান জানান। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারা ও মাইকেল হোল্ডিংও ইমরান খানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
নতুন এ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অপর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর বিধিনিষেধ, আইনি সহায়তার সীমিত সুযোগসহ কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য ও তাঁর প্রতি আচরণের বিষয়টি নিয়ে তাঁর ছেলে ও বোনেরা কয়েক মাস ধরে জনসমক্ষে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন।
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক সাতজন অধিনায়কের এই দলের পক্ষে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য গত মাসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওংয়ের সঙ্গে একটি বৈঠকের অনুরোধ করেছিলেন গ্রেগ চ্যাপেল, তবে এখন পর্যন্ত তিনি কোনো জবাব পাননি।
১৯৯২ বিশ্বকাপ জয়ের পর খেলা ছেড়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ইমরান খান এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ক্ষমতা থেকে অপসারিত হওয়ার পর দুর্নীতি ও অন্যান্য মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে তিনি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
নেইমার জুনিয়র
ব্রাজিল জাতীয় দলে নেইমারের অধ্যায় শেষ হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নরওয়ের কাছে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন নেইমার। এবার আনচেলত্তির বক্তব্যে তার বিদায়ের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেইমারের অবসরের খবর জানিয়েছিলেন ইতালিয়ান সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো। পরে পরবর্তী ফিফা উইন্ডোর জন্য ব্রাজিলের দল ঘোষণা করেন আনচেলত্তি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ দুটির স্কোয়াডে জায়গা হয়নি নেইমারের।
সিএনএন স্পোর্তেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি বলেন, জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তটি নেইমারের নিজের। বিশ্বকাপের দলে তাকে রাখার সিদ্ধান্তও যথার্থ ছিল বলে মনে করেন ব্রাজিলের কোচ।
আনচেলত্তি বলেন, ‘নেইমার ইতোমধ্যেই নিশ্চিত করেছে যে সে জাতীয় দলে ফিরতে চায় না। তার মানের কারণেই বিশ্বকাপের দলে থাকার যোগ্যতা ছিল। নেইমারের কোনো বিকল্প হয় না, কারণ সে অসাধারণ ও অনন্য প্রতিভা। সে একজন অপরিহার্য খেলোয়াড়।’
ইনজুরি ও ফিটনেস সমস্যায় গত কয়েক বছর নিয়মিত মাঠে থাকতে পারেননি নেইমার। বিশ্বকাপের আগে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পরও আনচেলত্তি তাকে দলে রেখেছিলেন। তবে টুর্নামেন্টে শুরুর একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাননি ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। মাত্র দুটি ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি।
২০১০ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর ব্রাজিলের হয়ে চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। জাতীয় দলের জার্সিতে ১২৯ ম্যাচে ৮০ গোল করে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ গোলদাতা। ২০১২ সালের অলিম্পিকে রৌপ্য জয়ের পর ২০১৬ সালে ব্রাজিলকে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক এনে দেন এই তারকা।
নরওয়ের বিপক্ষে বিদায়ী ম্যাচে যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। সেই ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছিলাম, সত্যিই চেষ্টা করেছিলাম। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, আর আজ এখানেই শেষ করলাম। সবকিছু এখন শেষ।’
ছবি : সংগৃহীত
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে আর্লিং হালান্ডের জয়সূচক গোলটি দেওয়া ঠিক হয়নি বলে স্বীকার করেছে ইংল্যান্ডের রেফারিদের সংগঠন প্রফেশনাল গেম ম্যাচ অফিসিয়ালস (প্রো রেফ)।
সংগঠনটি জানিয়েছে, গোলের সময় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড় এনজো ফার্নান্দেজের অবস্থান রক্ষণে প্রভাব ফেলেছিল। ফলে সিদ্ধান্তটি পর্যালোচনার জন্য মাঠের রেফারিকে ডাকা উচিত ছিল।
রোববার ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ১-০ গোলে হারায় ম্যানচেস্টার সিটি। ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পর জোসকো জিভার্দিওলের ক্রস থেকে গোল করেন হালান্ড। শুরুতে সহকারী রেফারি অফসাইডের সংকেত দিয়ে গোলটি বাতিল করেন। পরে দীর্ঘ ভিএআর পর্যালোচনার পর হালান্ডকে অনসাইডে বিবেচনা করে গোল বহাল রাখা হয়।
প্রিমিয়ার লিগের প্রাথমিক ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, ভিএআর পর্যালোচনায় হালান্ডকে বৈধ অবস্থানে পাওয়া গেছে। কিন্তু পরে প্রো রেফ জানায়, একই আক্রমণে ফার্নান্দেজের অবস্থানও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
প্রো রেফের এক মুখপাত্র বলেন, ‘ফার্নান্দেজ বল স্পর্শ করেননি। এ কারণে হালান্ডের অফসাইডের বিষয়টি রেফারির বিবেচনার ওপর নির্ভর করছিল। তবে ফার্নান্দেজের অবস্থান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণে কী প্রভাব ফেলেছে, ভিএআর তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে মাঠের রেফারিকে ঘটনাটি পর্যালোচনার সুপারিশ করা উচিত ছিল। আমরা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বীকার করেছি, এটি আমাদের বিচার-বিবেচনার ভুল ছিল। বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।’
জো রুট
পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস দিয়ে শুরু সিরিজ। পরের তিন ইনিংসে সর্বোচ্চ রান ২৪। শেষটা আবার ফিফটি দিয়েই করতে পারলেন জো রুট। তাতে একটি রেকর্ডের তালিকায় তিনি চূড়ায় উঠে গেলেন এককভাবে। টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ফিফটির রেকর্ডে রুট পেছনে ফেলে দিয়েছেন কিংবদন্তি সাচিন টেন্ডুলকারকে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে রান তাড়ায় অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফেরেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে তার ৬৯তম ফিফটি এটি।
সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির (৫১) রেকর্ডধারী টেন্ডুলকার ২০০ ম্যাচে ৬৮টি ফিফটি নিয়ে শেষ করেন ক্যারিয়ার। তার চেয়ে ৩১ ম্যাচ কম খেলে রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন রুট। হেডিংলিতে প্রথম টেস্টে ৬৬ রানের ইনিংসে টেন্ডুলকারের পাশে বসেছিলেন তিনি।
এই তালিকায় তাদের পরে আছেন শিবনারাইন চান্দারপল (৬৬), অ্যালান বোর্ডার (৬৩), রাহুল দ্রাবিড় (৬৩) ও রিকি পন্টিং (৬২)।
টেস্টে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসের রেকর্ড এখনও টেন্ডুলকারের, ১১৯টি (৫১টি সেঞ্চুরি ও ৬৮টি ফিফটি)। এখানে দুই নম্বরে আছেন রুট, ১১০টি (৪১টি সেঞ্চুরি ও ৬৯টি ফিফটি)। জ্যাক ক্যালিস ও পন্টিংয়ের আছে ১০৩টি করে, দ্রাবিড়ের ৯৯টি।
এ দিন প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এজবাস্টনে এক হাজার টেস্ট রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন রুট। এই মাঠে ১১ টেস্টে তার রান এখন এক হাজার ১৮। এখানে ১০ টেস্টে ৮৬৯ রান নিয়ে দুইয়ে আছেন অ্যালেস্টার কুক।
ইংল্যান্ডের সফলতম ব্যাটসম্যান রুট এখন দেশের ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে টেস্টে অন্তত হাজার রান করলেন। লর্ডসে তার রান দুই হাজার ২০৩, ম্যানচেস্টারে এক হাজার ১২৮, ওভালে এক হাজার ৫০।
ভিন্ন চারটি ভেন্যুতে হাজার রান আছে আর কেবল ক্যালিস ও পন্টিংয়ের।
এই সংস্করণে রুটের মোট রান এখন ১৪ হাজার ২৭৮। টেন্ডুলকারের রেকর্ড ১৫ হাজার ৯২১ রানের পেছনে ছুটছেন ৩৫ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি
উগান্ডার ঐতিহ্যবাহী তোড়ো রাজ্যের সিংহাসনে বসার দারুণ সুযোগ এসেছিল জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসির সামনে। কিন্তু রাজমুকুটের চেয়ে নিজের বর্তমান জীবন এবং ফুটবল মাঠকেই বেছে নিয়েছেন ইংল্যান্ডের নবম স্তরের ফুটবল ক্লাব এসই ডনসের ৩৬ বছর বয়সী এই গোলকিপার ও অধিনায়ক।
রয়টার্স ও উগান্ডার সংবাদমাধ্যম পালস উগান্ডা জানিয়েছে, তোড়ো রাজ্যের পরবর্তী রাজা হওয়ার জন্য রয়্যাল সাকসেশন কমিটির প্রথম পছন্দ ছিলেন জর্জ ডেসমন্ড কামুরাসি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। রয়্যাল সাকসেশন কমিটির সদস্য ফাদার ড. চার্লস ওয়ো জানিয়েছেন, কামুরাসি বলেছেন, তার অন্য দায়িত্ব রয়েছে এবং তিনি রাজা হওয়ার দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
কামুরাসি ছিলেন প্রয়াত রাজা ওয়ো নাইমবা কাবাম্বা ইগুরু রুকিদি চতুর্থের চাচাতো ভাই। গত ২৭ আগস্ট ৩৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যানসারে মারা যান ওয়ো। ১৯৯৫ সালে মাত্র তিন বছর বয়সে সিংহাসনে বসে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী জীবিত রাজা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন তিনি। তার মৃত্যুর পরই নতুন রাজা বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়।
প্রথমে কামুরাসিকেই বেছে নিয়েছিল উত্তরাধিকার কমিটি। তবে তিনি সরে দাঁড়ানোর পর নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সাবেক টেলিভিশন সংবাদ উপস্থাপক প্রিন্স এডওয়ার্ড রুকিদি কিজানাঙ্গোমাকে তোড়োর নতুন রাজা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার কামুরাসি ইংল্যান্ডের নন-লিগ ফুটবলে ‘বিগ জি’ নামে বিশেষভাবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয় ক্লাব এসই ডনসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ তিনি। রাজকীয় প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে তিনি এখন পুরোপুরি ক্লাবের হয়েই মাঠে মনোযোগ দিচ্ছেন।
এসই ডনস এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এফএ কাপে অংশ নিচ্ছে। গত শনিবার এরিথ টাউনকে ২-০ গোলে হারিয়ে তারা দ্বিতীয় বাছাইপর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চিচেস্টার সিটির বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচ। সিংহাসন প্রত্যাখ্যান করে কামুরাসির সমস্ত লক্ষ্য এখন এই ম্যাচসহ ইংল্যান্ডের ফুটবলের দিকেই।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারত
একবার, দুবার নয়, চার চারবার জীবন পেলেন শেফালি ভার্মা। এরপর যা হওয়ার, হলো তা-ই। ভারতের ওপেনার খেললেন ঝড়ো ইনিংস। দল পৌঁছে গেল দেড়শর কাছে। সেই স্কোর তাড়া করার শক্তি তো বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের নেই। অভাবনীয় কিছু তারা করতেও পারেনি।
অনুমিতভাবেই ভারতের কাছে পাত্তা না পেয়ে আবারও সেমি-ফাইনালেও শেষ নিগার সুলতানার দলের পথচলা।
দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেছিলেন, সেমি-ফাইনালে ভারতকে এড়াতে চান তারা। গ্রুপে রানার্স হওয়ায় সেই এড়ানো হয়ে ওঠেনি। নিগারের দল পারেনি চমকপ্রদ কোনো গল্প লিখতে। ৪০ রানের জয়ের উইমেন’স এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠে গেছে সাতবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
দুবাইয়ে বৃহস্পতিবার ভারতের ১৪৯ রানের জবাবে বাংলাদেশ আটকে যায় ১০৯ রানে। গত এশিয়া কাপে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ভারতের কাছে ১০ উইকেটে হেরেছিল বাংলাদেশ।
৬ ও ১১ রানে জীবন পেয়ে শেফালি ফিফটি করেন ৩৫ বলে। এরপর রান আউটের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি, ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান আবার। শেষ পর্যন্ত আউট হন ৪০ বলে ৬৪ রান করে। ২২ বছর বয়সেই তার টি-টোয়েন্টি ফিফটি হয়ে গেল ২০টি! ৭ চার ও ৩ ছক্কার ইনিংসের পর চার ওভার আঁটসাঁট বোলিংয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।
টস জিতে বোলিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারেই শুরু করে ক্যাচ ছাড়ার পালা। সুলতানা খাতুনের বলে শেফালির ক্যাচ ফেলে দেন ফাহিমা খাতুন।
ওই ওভারেই অবশ্য ধরা দেয় প্রথম উইকেট। উড়িয়ে মারার চেষ্টায় স্বর্ণা আক্তারের হাতে ধরা পড়েন ভারতের সেরা ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানা।
ভারতকে আরও চাপে ফেলা যেত পরের ওভারেই। কিন্তু মারুফা আক্তারের বলে এবার শেফালির ক্যাচ ছাড়েন নাহিদা আক্তার। আগ্রাসী ব্যাটার এর খেসারত বুঝিয়ে দেন পুরোপুরি। পরের ওভারেই টানা দুটি ছক্কা মারেন তিনি সুলতানাকে। আরেক পাশে প্রাতিকা রাওয়াল একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও খুব গতিময় হতে পারেননি।
পাওয়ার প্লে শেষে নাহিদা, ফাহিমা, রাবেয়াদের স্পিনে ভারতের রানের গতি যায় কমে। টানা চার ওভারে আসেনি বাউন্ডারি। এর মধ্যেই প্রাতিকা (৪ বলে ২০) ফেরেন রাবেয়ার বলে।
১০ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ৫৯। দ্বিতীয় স্পেলে ফেরা মারুফার বলে টানা দুটি বাউন্ডারিতে রানের গতিতে আবার দম দেন শেফালি। অধিনায় হারমানপ্রিত নেমেও ভুগছিলেন রান করতে।
তবে শেফালির ব্যাটে ছুটতে থাকে ভারত। সুলতানাকে টানা তিন বলে এক ছক্কা দুই চার মেরে পরের বলে আবার বড় শটের চেষ্টায় শেষ হয় তার ইনিংস।
এরপরও ভারতকে আবার চেপে ধরতে পারত বাংলাদেশ। কিন্তু ক্যাচ নিতে পারলে তো! রিচা ঘোষের ক্যাচ নিতে না পেরে ছক্কা বানিয়ে দেন ফাহিমা। এই কিপার-ব্যাটার পরে ছক্কা মারেন আরেকটি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।
হারমানপ্রিতের রান এক পর্যায়ে ছিল ১৮ বলে ৬। পরে দুটি ছক্কা মেরে অপরাজিত থাকেন ২৮ বলে ২৪ করে। শেষ দিকে দীপ্তি শার্মার ব্যাট থেকেও আসে ছক্কা ও চার। শেষ ১০ ওভারে ভারত তোলে ৯০ রান।
দেড়শ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশের ধরাছোঁয়ার বাইরেই ছিল। ম্যাচ জমিয়ে তুলতে হলে প্রয়োজন ছিল শুরুতে দ্রুত রান। কিন্তু হয় উল্টো। পাওয়ার প্লেতে রান ওঠে মোটে ২৬।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারটি উইকেট মেডেন নেন ভারতের এই সময়ের সবচেয়ে ধারাাহিক বোলার শ্রী চারনি। টি-টোয়েন্টিতে ৫০ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি জুয়ায়রিয়া ফেরদৌসকে আউট করে। ১৮ বল খেলে বাংলাদেশের ওপেনার করতে পারেন কেবল ১৪ রান।
আরেক ওপেনার দিলারা আক্তার ২৬ বলে করেন মোটে ২১ রান।
ম্যাচে বাংলাদেশের লড়াইয়ের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায় সেখানেই। পরের ব্যাটাররাও পারেননি উল্লেখযোগ্য কিছু করতে। তিনে নেমে সোবহানা মোস্তারি ১৮ রান করতে বল খেলেন ২৪টি। একটি করে ছক্কা ও চার মারলেও অধিনায়ক নিগার ১৭ বলে করেন ১৯।
স্বর্ণার ১৮ বলে অপরাজিত ২২ রান দলকে কোনোরকমে একশ পার করায়। কিন্তু রান তাড়ায় একবারও মনে হয়নি, জয়ের ইচ্ছে আছে বাংলাদেশের। দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে শুক্রবার লড়বে পাকিস্তান ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (মান্ধানা ২, শেফালি ৬৪, প্রাতিকা ২০, হারমানপ্রিত ২৪*, চিরা ২১, দীপ্তি ১৩, ফুলমালি ০; মারুফা ৪-০-৪০-১, সুলতানা ৩-০-৩০-২, নাহিদা ৪-০-২৫-১, রাবেয়া ৪-০-২২-১, ফাহিমা ৪-০-২১-০, স্বর্ণা ১-০-১০-০)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (জুয়ায়রিয়া ১৪, দিলারা ২১, সোবহানা ১৮, নিগার ১৯, স্বর্ণা ২২*, শারমিন ১, ফাহিমা ১৪, রাবেয়া ০; ক্রান্তি ২-০-১৩-০, নান্দিনি ২-০-১০-২, শ্রী চারনি ৪-১-১৪-১, শেফালি ৪-০-২৫-০, প্রেমা ৪-০-২১-১, দীপ্তি ৪-০-২৬-৩ )।
ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী।
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: শেফালি ভার্মা।