আর্জেন্টিনা দল
আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে লিওনেল মেসির অবসরের পর প্রথম স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি। উরুগুয়ে ও কোস্টা রিকার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য দলে ফিরেছেন গন্সালো মনতিয়েল ও মারিয়ানো ত্রোলিও। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন চেলসির ডিফেন্ডার আরন আনসেলমিনো।
বছরের শেষ আন্তর্জাতিক বিরতির দুটি ম্যাচের জন্য মঙ্গলবার ২৮ সদস্যের দল দিয়েছেন স্কালোনি। চোটের কারণে দলে নেই নতুন অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্তিনেস ও নিকোলা হন্সালেস। রদ্রিগো দে পল ও শিওভানি লো সোলসোকে দলে রাখা হয়নি। দলে পরিচিত অনেক নামের ভিড়ে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এমিলিয়ানো মার্তিনেসের উপস্থিতি। গত মাসে চোয়ালের ভয়াবহ চোটের কারণে অস্ত্রোপচারের পর ক্লাব চেলসির হয়ে এখনও মাঠে নামার সুযোগ পাননি এই গোলরক্ষক। তাকে না পাওয়ার সম্ভাবনার কথা মাথায় রেখেই হয়তো স্কালোনি আরও তিন জন গোলরক্ষককে দলে ডেকেছেন- খেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো ও সান্তিয়াগো বেলত্রান।
দলের একমাত্র নতুন মুখ ২১ বছর বয়সি আনসেলমিনো। বোকা জুনিয়র্সের যুব পর্যায় থেকে উঠে আসা এই সেন্টার-ব্যাককে আর্জেন্টিনার ফুটবলের উজ্জ্বল প্রতিভাদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বদেশের ক্লাবটির হয়ে ২০টিরও কম ম্যাচ খেলার পরই, ২০২৪ সালের অগাস্টে সাত বছরের চুক্তিতে চেলসিতে যোগ দেন তিনি।
তবে চোটের কারণে নিজের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারেননি এই তরুণ। ইংলিশ ক্লাবটি থেকে ধারে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডে গিয়ে তিনি ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেন। পরবর্তীতে স্ত্রাসবুর আরও একটি সংক্ষিপ্ত সময় ধারে কাটানোর পর চেলসিতে ফিরে আসেন। কিন্তু মালয়েশিয়ার জোহরের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে তিনি আবারও চোটে পড়েন এবং এখন পর্যন্ত শাবি আলোন্সোর দলের হয়ে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
আরেক সেন্টার-ব্যাক ২৩ বছর বয়সি ত্রোলিও দ্বিতীয়বার জাতীয় দলে ডাক পেলেন। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে চিলি ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচের জন্য তাকে দলে ডেকেছিলেন স্কালোনি; তবে সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি।
আর ২৯ বছর বয়সি রাইট-ব্যাক মনতিয়েল গত বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর এই প্রথম দলে জায়গা পেলেন। সোমবার সুপারক্লাসিকোতে রিবার প্লেইতের হারের ম্যাচে লাল কার্ড দেখেন বিশ্বকাপজয়ী এই ডিফেন্ডার।
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক মেসি গত ৬ অক্টোবর বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জাতীয় দলের হয়ে বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় যাত্রার ইতি টানেন। তারপর প্রথমবার খেলতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা।
আগামী ১৩ নভেম্বর বুয়েনস আইরেসের লা বোম্বোনেরা স্টেডিয়ামে উরুগুয়ের মুখোমুখি হবে তিনবারের বিশ্বকাপজয়ীরা। আর কর্দোবায় মারিও আলবের্তো কেম্পেস স্টেডিয়ামে কোস্টা রিকার বিপক্ষে ম্যাচটি হবে ১৭ নভেম্বর।
আর্জেন্টিনা স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্তিনেস, খেরোনিমো রুলি, হুয়ান মুসো, সান্তিয়াগো বেলত্রান
ডিফেন্ডার: গন্সালো মনতিয়েল, আগুস্তিন চিয়াই, আরন আনসেলমিনো, মারিয়ানো ত্রোলিও, লিওনার্দো বালের্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেস, ফাকুন্দো মেদিনা, নিকোলাস তালিয়াফিকো, রোমান ভেগা
মিডফিল্ডার: এসেকিয়েল ফের্নান্দেস, মাক্সিমো পেরোনে, এসেকিয়েল পালাসিওস, ভালেন্তিন বার্কো, আলেক্সিস মাক আলিস্তের, এন্সো ফের্নান্দেস, নিকো পাহ, মাতিয়াস সুলে, ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়োনো, থিয়াগো আলমাদা
ফরোয়ার্ড: জুলিয়ানো সিমেওনে, জানলুকা প্রেস্তিয়ানি, হোসে মানুয়েল লোপেস, সান্তিয়াগো কাস্ত্রো, হুলিয়ান আলভারেস।
প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগে শুরুতেই বার্সেলোনাকে এগিয়ে নিলেন লামিন ইয়ামাল। পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার সমতায় ফেরার খুব কাছে গেল অ্যাস্টন ভিলা। জমে উঠল লড়াই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল হজমের পর আর পাত্তা পেল না ইংলিশ ক্লাবটি। দারুণ জয়ের আনন্দে মাঠ ছাড়ল হান্সি ফ্লিকের দল। কাম্প নউয়ে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধে জোড়া গোল করেছেন অধিনায়ক হাফিনিয়া।
আগের রাউন্ডে পিএসজির মাঠে ৪-২ গোলে হেরেছিল বার্সেলোনা। পরে লা লিগায় ফিরে তারা ক্লাসিকোয় হেরে যায় রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে। দুই দিন আগে আলাভেসকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে ঘরোয়া লিগে জয়ে ফেরার পর, এবার ইউরোপ সেরার মঞ্চেও জয়ের পথে ফিরল স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা।
এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় নবম থেকে এল লাফে দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে বার্সেলোনা। চার ম্যাচে তিন জয়ে আরও পাঁচ দলের সমান ৯ পয়েন্ট তাদের।
সমান পয়েন্ট নিয়ে বার্সেলোনার পরই আছে ভিলা। টানা তিন জয়ের পর আসরে প্রথম হারের স্বাদ পেল উনাই এমেরির দল।
ম্যাচে বল দখলের পাশাপাশি আক্রমণেও এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। গোলের জন্য ১৫ শটের ছয়টি লক্ষ্যে রাখতে পারে তারা। ভিলার সাত শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।
স্পেনে সম্প্রতি ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও সোমবার দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর হাসপাতালে মারা যাওয়া ফুটবলার হেসুস দে মিয়েলের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় ম্যাচ শুরুর আগে।
ম্যাচ শুরুর আগে থেকে ছিল বৃষ্টি। পঞ্চম মিনিটে প্রথম আক্রমণ শাণায় বার্সেলোনা। ইয়ামালের চমৎকার পাস খুঁজে নেয় ফের্মিন লোপেসকে। তার পাসে বক্সে অ্যান্থনি গর্ডনের শট আটকে দেন ভিলার এক ডিফেন্ডার।
পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হাফিনিয়ার ফ্রি-কিক লক্ষ্যে থাকেনি। এরপরই বার্সেলোনার তীব্র চাপের মুখে পড়ে বক্সে ইয়ামালকে বল দিয়ে বসেন ভিলার মিডফিল্ডার জুয়াও গোমেজ। একটু জায়গা বানিয়ে প্রতিপক্ষের দুই খেলোয়াড়ের মাঝ দিয়ে বাঁ পায়ের শটে জালে পাঠান বিশ্বকাপজয়ী তারকা।
এর মধ্য দিয়ে কিলিয়ান এমবাপেকে (১৩) ছাড়িয়ে ২০ বছর বয়সের আগে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিলেন ইয়ামাল (১৪টি)। এই তালিকায় তিন নম্বরে আছে আর্লিং হলান্ড (১০টি)।
নবম মিনিটে দুটি ভালো সুযোগ পায় ভিলা। প্রথমে ম্যাটি ক্যাশের জোরাল ভলি পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়, এরপর গোমেজের প্রচেষ্টা রুখে দেন বার্সেলোনা ডিফেন্ডার জুয়াও কান্সেলো।
অষ্টাদশ মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করে সফরকারীরা। নিকোলাস জ্যাকসনের পাস পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন জোয়ান মানজাম্বি। দুই মিনিট পর পোস্ট ছেড়ে ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে এসে জ্যাকসনের সামনে থেকে বল বিপদমুক্ত করেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক জোয়ান গার্সিয়া।
২৫তম মিনিটে গোলরক্ষক সুজুকির ভুলে বিপদে পড়তে বসেছিল ভিলা। ছোট পাসের চেষ্টায় প্রতিপক্ষের পায়ে বল তুলে দেন তিনি। কাছ থেকে গর্ডনের নেওয়া শট অবশ্য আটকে দেন জাপানের এই গোলরক্ষক।
৩১তম মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে মানজাম্বির শট ফিরিয়ে দেন গার্সিয়া। প্রথমার্ধের শেষ দিকে পাউ কুবার্সির পা মাড়িয়ে দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন জ্যাকসন।
দ্বিতীয়ার্ধের সপ্তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হাফিনিয়া। লোপেসের পাস বক্সের মুখে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।
৬৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান আরও বাড়ান হাফিনিয়া। বাঁ দিকে প্রতিপক্ষের একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে এগিয়ে চমৎকার এক পাস দেন কান্সেলো, আর ছুটে গিয়ে ছয় গজ বক্সের মুখ থেকে প্রথম স্পর্শে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।
এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তিন ম্যাচে হাফিনিয়ার গোল হলো চারটি। আর মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৩ ম্যাচে তার গোল এখন ১৯টি।
শেষ দিকে ইয়ামালের চমৎকার শট ঝাঁপিয়ে পড়া গোলরক্ষকের হাত ছুঁয়ে বাইরে গেলে ব্যবধান আর বাড়েনি।
ছবি : সংগৃহীত
৯-১৭, ঘড়ির কাঁটায় এই আট মিনিট ভিয়ারেয়ালের জন্য যেন অভিশাপ হয়ে আসে। এই সময়েই চার গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ মুঠোয় নেয় পিএসজি। ম্যাচের গতিপথে বদল আনার মতো কিছুই করতে পারেনি স্প্যানিশ দলটি। বরং পরে আরও দুটি গোল করে বিশাল জয় তুলে নেয় ইউরোপ চ্যাম্পিয়নরা।
প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ৬-০ গোলে জিতেছে পিএসজি। ফাবিয়া রুইস করেন জোড়া গোল। একবার করে জালের দেখা পান জুয়াও নেভ্স, দেজিরে দুয়ে, সেনি মায়ুলু ও ডেভিড বুলি।
এবারের আসরে প্রথম চার রাউন্ডের প্রতিটিতে অন্তত চারটি করে গোল করল পিএসজি। স্লোভান ব্রাতিস্লাভাকে ৬-১ গোলে হারিয়ে আসর শুরুর পর, তারা ম্যানচেস্টার সিটি ও বার্সেলোনার বিপক্ষে দুই ম্যাচেই জিতে ৪-২ ব্যবধানে।
চার ম্যাচেই তারা করল ২০টি গোল!
টেবিলে শীর্ষস্থানও আরও মজবুত হলো পিএসজির, চার ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১২।
আরও পাঁচ দলের সমান ৯ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে এগিয়ে দুইয়ে আছে বার্সেলোনা।
আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রথম পাঁচ মিনিটে প্রতিপক্ষের রক্ষণে বল ধরে রাখল ভিয়ারেয়াল। এরপরই সবকিছু দ্রুত বদলে গেল। পরের মিনিটে প্রথম আক্রমণে ওঠে পিএসজি এবং পরের কয়েক মিনিটে গোলের ঝড় বইয়ে দেয় তারা।
প্রথম গোলটি হয় নবম মিনিটে, সেটপিসে। কর্নারে উড়ে আসা বল ছয় গজ বক্সে জটলার মধ্যে পেয়েই জোরাল শটে দলকে এগিয়ে নেন জুয়াও নেভ্স। এরপর এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, ভিয়ারেয়ালের ডি-বক্সে বল ঢুকলেই জড়াচ্ছিল জালে!
দ্বাদশ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটির পুরো দায় ভিয়ারেয়াল গোলরক্ষক গুলাসির। হাস্যকরভাবে তিনি বল তুলে দেন ডি-বক্সের মুখে মাহনেস আকিউসের পায়ে, এই মিডফিল্ডার বল বাড়ান সেনি মায়ুলুকে এবং তার থেকে কাটব্যাক পেয়ে আকিউস কাটব্যাক করেন দুয়েকে, আর অরক্ষিত এই ফরোয়ার্ড জোরাল শটে খুঁজে নেন ঠিকানা।
পরের মিনিটে আবার গোল! নেভ্সের জোরাল শট ডি-বক্সে প্রতিহত হওয়ার পর, ছয় গজ বক্সের মুখে ফাঁকায় বল পেয়ে, জোরাল শটে জালে পাঠান তরুণ মিডফিল্ডার মায়ুলু।
দিশেহারা ভিয়ারেয়াল আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে ১৭তম মিনিটে। এবার তাদের রক্ষণ গড়বড় পাকায়। তাদের অর্ধে তাদের ভুলে পজেশন পেয়ে আক্রমণ শাণায় পিএসজি। ডি-বক্সে আকিউসের পাস একদম ফাঁকায় পেয়ে জোরাল শটে চতুর্থ গোলটি করেন রুইস।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে ম্যাচের শুরু থেকে সবচেয়ে কম সময়ের মধ্যে চার গোল করার রেকর্ড গড়ল পিএসজি, ১৬ মিনিট দুই সেকেন্ডে।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ে। বাঁ দিক থেকে ভিতিনিয়ার লম্বা করে বাড়ানো বল ধরে, ডি-বক্সে দারুণ এক ছোঁয়ায় একজনকে কাটিয়ে আলতো শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রুইস।
এরপর মাঝেমধ্যেই পাল্টা আক্রমণে উঠতে থাকে ভিয়ারেয়াল। ভালো কিছু সুযোগও তৈরি করে তারা; কিন্তু কাজের কাজ কিছু করতে পারেনি।
উল্টো শেষদিকে আরেকটি গোল হজম করে দলটি। ৭৪তম মিনিটে আশরাফ হাকিমির বদলি নামার চার মিনিটের মধ্যে স্কোরলাইনে নাম লেখান ডেভিড বুলি। নেভ্সের পাস ধরে ডান দিক দিয়ে এগিয়ে জোরাল শট নেন ১৭ বছর বয়সি এই সেন্টার-ব্যাক, বল ভেইগার পায়ে লেগে দিক পাল্টে জালে জড়ায়।
দাপুটে জয়ে দারুণ এক কীর্তিও গড়ল পিএসজি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এই নিয়ে ১৪ ম্যাচ (৯ জয় ও ৪ ড্র) অপরাজিত রইল তারা, স্পর্শ করল ইউরোপিয়ান কাপ কিংবা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে কোনো ফরাসি ক্লাবের টানা সর্বাধিক ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড। ২০০৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০০৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে টানা ১৪ ম্যাচ অপরাজিত থেকে প্রথম রেকর্ডটি গড়েছিল লিওঁ।
হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল সৌদি আরবে এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে। শেষ পর্যন্ত সেই শঙ্কাই সত্যি হলো। নিরাপত্তা ও ভ্রমণসংক্রান্ত জটিলতার আশঙ্কায় ২০২৭ সালের এশিয়ান কাপ স্থগিত করেছে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)। নতুন সূচি অনুযায়ী, টুর্নামেন্টটি শুরু হবে ২০২৭ সালের ২৩ ডিসেম্বর, চলবে ২০২৮ সালের ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
আগের সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হওয়ার কথা ছিল এশিয়ার জাতীয় দলগুলোর সবচেয়ে বড় এই ফুটবল প্রতিযোগিতা। তবে নতুন তারিখ চূড়ান্ত করতে ফিফার অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এএফসি জানিয়েছে, প্রস্তাবিত সূচি অনুমোদনের জন্য ফিফার কাছে পাঠানো হবে।প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপ আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে সৌদি আরব। ২০৩৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপও দেশটিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এশিয়ান কাপের জন্য নির্ধারিত আটটি স্টেডিয়ামের পাঁচটিই রিয়াদে। ফাইনালসহ মোট ৫১ ম্যাচের মধ্যে ৩০টি আয়োজনের কথা ছিল এই শহরে।
তবে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে রিয়াদসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক স্থানে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা হয়েছে। এসব হামলায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এসেছে।
মঙ্গলবার বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এএফসি জানায়, অঞ্চলের ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির কারণে লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা ও ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। অংশগ্রহণকারী দল, কর্মকর্তা, দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে এএফসি আরও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী প্রতিযোগিতা আয়োজনের ক্ষেত্রে বিশেষ চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তাই সব পক্ষের নিরাপত্তা ও স্বার্থ বিবেচনায় টুর্নামেন্ট পেছানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত বাড়লেও এশিয়ান কাপ আয়োজন নিয়ে আশাবাদী ছিলেন এএফসি সভাপতি শেখ সালমান। গত মাসেও তিনি জানিয়েছিলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রস্তুতি পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়েই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। তবে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সেই অবস্থান থেকে সরে এল এএফসি।
গ্লেন ম্যাক্সওয়েল
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। অস্ট্রেলিয়ার ৩৮ বছর এই বয়সী ক্রিকেটার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট এবং লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ থেকেও বিদায় নিচ্ছেন। তবে ২০২৭-২৮ মৌসুম পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করায় মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে তাঁকে বিগ ব্যাশে (বিবিএল) খেলতে দেখা যাবে। ম্যাক্সওয়েল গত বছর জুনে ওয়ানডে ক্রিকেট ছাড়লেও খেলেন এ বছর টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়া এই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব পার হতে পারেনি। পাল্লেকেল্লেতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওমানের বিপক্ষে ম্যাচটিই হয়ে রইল অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ‘ফাইনাল ওয়ার্ড' পডকাস্টকে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এবং পরে আমাদের মধ্যে বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। আর বিষয়টি বেশ খোলামেলা ছিল। ওই দিক থেকে (অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট) কোনো চাপ ছিল না। সামনে কয়েকটি সিরিজ ছিল, যেখানে তারা ভবিষ্যতের কথা ভেবে দল সাজাতে চেয়েছে। আমরা বাংলাদেশে সেটাই দেখেছি, যেখানে তরুণরা সুযোগ পেয়ে দারুণ পারফরম্যান্স করেছে।’
‘বিগ শো’খ্যাত ম্যাক্সওয়েল তিনটি বিশ্বকাপ জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে। ২০১৫ ও ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের মাঝে ২০২১ সালে জেতেন টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিদায়বেলায় একটি আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন ম্যাক্সওয়েল।
নিজের হোম ভেন্যুতে দেশের হয়ে শেষবারের মতো মাঠে নামতে না পারার আক্ষেপ জানিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এমসিজি) একটা বিদায়ী ম্যাচ খেলার ছোট্ট আশা বা আলোচনা ছিল। তবে এই দলটা যে পথ ধরে এগোচ্ছে, তা আমি বুঝতে পারছি।’
ম্যাক্সওয়েল এরপর বলেন, ‘সামনে অলিম্পিক (২০২৮ সালে) আছে, সে কারণে আমি মনে করি আগামী ১২ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসবে। তাই নতুন কিছু তরুণ খেলোয়াড়কে দলে ভিড়িয়ে তাদের ওপর নজর রাখা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচের চাপের সঙ্গে তাদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া দলের জন্য জরুরি, যা সব সময় বিগ ব্যাশ লিগের (বিবিএল) ম্যাচ থেকে পাওয়া যায় না।’
ম্যাক্সওয়েল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত। গত সেপ্টেম্বরে ইউরোপিয়ান টি-টোয়েন্টি প্রিমিয়ার লিগে বেলফাস্ট উলভসকে ফাইনালে নেতৃত্ব দেন। এর পাঁচ দিন পর ওয়ানডে কাপে ভিক্টোরিয়ার হয়ে দুটি ম্যাচ খেলেন।
এ নিয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘ভিক্টোরিয়ার হয়ে শেষ ওয়ানডে ম্যাচের পর সতীর্থদের জানানো যে সেটাই ওই দলটির হয়ে আমার শেষ ম্যাচ—বিষয়টি আমার ভাবনার চেয়েও কঠিন ছিল...হ্যাঁ, সবার সামনে কথা বলতে গিয়ে আমার গলা কিছুটা ধরে এসেছিল। তবে হ্যাঁ, ক্যারিয়ারে বাকি কয়েকটি টুর্নামেন্ট ঠিকঠাক শেষ করতে এখন শরীরকে ফিট রাখতে একটু বেশি যত্ন দেওয়া দরকার।’
চলতি মাসেই সাদা বলের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় যাবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। টি–টুয়েন্টি সিরিজে মেলবোর্নে একটি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচ খেলে বিদায় নেওয়ার ইচ্ছা ছিল ম্যাক্সওয়েলের।
কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ না হওয়ার বিষয়ে ম্যাক্সওয়েল বলেন, ‘সুযোগটা ছিল, তবে আমি বিগ ব্যাশের জন্য তৈরি হতে হাঁটুতে ইনজেকশন নিতেও প্রস্তুত ছিলাম। তাই দুই দিকেই ইতিবাচক ব্যাপার ছিল। আর দরজাটা (মেলবোর্নে খেলার) বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি নিজের শরীরের যত্ন নেওয়ারও সুযোগ পেয়েছি।’
ম্যাক্সওয়েল এরপর বলেন, ‘হিরো বা আইডলদের ক্ষেত্রে যেমন রূপকথার মতো শেষ হতে দেখা যায়, হয়তো মনের অজান্তে আমার মাথায়ও তেমন একটা ভাবনা এসেছিল। ১৫ বছর ধরে এই সংস্করণকে যেহেতু নিজের মনে হয়েছে, তাই অন্য কোনো সংস্করণে নয়, শুধু এটার জন্যই হয়তো আমি এমন একটা বিদায়ের কথা ভেবেছিলাম।’
ম্যাক্সওয়েল অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩০ টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ১৫৪.৪২ স্ট্রাইক রেটে ২৮৯৭ রান করেন। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এ সংস্করণে ম্যাক্সওয়েল তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। স্পিন বোলিংয়েও আছে ৫১টি উইকেট। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তাঁর পাঁচটি সেঞ্চুরি রোহিত শর্মার সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব রেকর্ড। ৭টি টেস্ট ম্যাচে ৩৩৯ রান করার পথে একটি সেঞ্চুরিও আছে। ১৪৯ ওয়ানডেতে ৩৩.৮১ গড়ে ৪ সেঞ্চুরিসহ ৩৯৯০ রান করেন ম্যাক্সওয়েল।
ছবি : সংগৃহীত
পুনর্গঠিত আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লিগের (এপিএল) আসরকে সামনে রেখে প্রকাশ করা হয়েছে খেলোয়াড়দের ড্রাফট তালিকা। এতে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসানসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নাম রয়েছে। ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে এই ড্রাফট।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) বরাত দিয়ে ক্রিকইনফো জানিয়েছে, প্রায় ১,৫০০ দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের নিবন্ধন থেকে চূড়ান্ত ড্রাফটের জন্য ৪৬২ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। আগামী ২৭ ডিসেম্বর থেকে মাঠে গড়াবে পাঁচ দলের এই টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তবে চূড়ান্ত ভেন্যু না জানানো হলেও আসরটি আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।
ড্রাফটে সাকিবসহ আছেন যেসব বাংলাদেশি
এপিএলের ড্রাফটে ডায়মন্ড ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে প্ল্যাটিনাম ক্যাটাগরিতে জায়গা করে নিয়েছেন পাঁচ বাংলাদেশি—মুশফিকুর রহিম, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও রিশাদ হোসেন।
আছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা। এছাড়াও আফিফ হোসেন, সাইফ হাসান, শামীম হোসেন, তানজিম হাসান সাকিব, তানজিদ হাসান তামিম, পারভেজ হোসেন ইমন, মাহমুদুল্লাহ, হাসান মাহমুদ, জাকের আলী অনিক, শেখ মেহেদী হাসান, তাইজুল ইসলাম এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন গোল্ড ক্যাটাগরিতে নাম নিবন্ধন করেছেন।
ভারতীয় ও পাকিস্তানি তারকাদের ভিড়
আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ক্রিকেট থেকে সব সংস্করণে অবসর নেওয়া ভারতীয় অলরাউন্ডার বিজয় শংকর নাম লিখিয়েছেন এই ড্রাফটে। তার সঙ্গে নিবন্ধিত অন্য দুই ভারতীয় ক্রিকেটার হলেন আয়ান খান ও মুরুগান অশ্বিন।
পাকিস্তান থেকে সর্বোচ্চ ২৯ জন ক্রিকেটার নাম জমা দিয়েছেন। তালিকায় সাইম আইয়ুব, আরাফাত মিনহাস, হাসান নওয়াজ, ফখর জামান, ইমাম-উল-হক, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নাসিম শাহ ও ফাহিম আশরাফদের মতো তারকারা রয়েছেন। যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী সাবেক পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমিরও এই ড্রাফটের তালিকায় আছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ পাসপোর্ট নিয়ে ড্রাফটে নাম দিয়েছেন।
এছাড়া ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, রিজা হেনড্রিকস, রোমারিও শেফার্ড, রভম্যান পাওয়েল, ইমরান তাহির ও আকিল হোসেনের মতো আন্তর্জাতিক তারকারাও ড্রাফটের ড্রয়ে থাকছেন।
দলগুলোর অধিনায়ক, কোচ ও মেন্টর
এসিবি ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের পাঁচ দলের অধিনায়ক, হেড কোচ ও মেন্টরদের নাম ঘোষণা করেছে। ক্রিকইনফো জানিয়েছে, একটি 'লিডার্স ড্রাফটে'র মাধ্যমে দলগুলোর অধিনায়ক ও কোচ চূড়ান্ত করেন মেন্টররা।
> কান্দাহার ওয়ারিয়র্স: রশিদ খান (অধিনায়ক), রবি বোপারা (হেড কোচ), ইরফান পাঠান (মেন্টর)।
> আকসেল ইউনাইটেড কাবুল: আজমতউল্লাহ ওমরজাই (অধিনায়ক), শেন ম্যাকডারমট (হেড কোচ), নিখিল চোপড়া (মেন্টর)।
> নঙ্গরহার দল: রহমানউল্লাহ গুরবাজ (অধিনায়ক), টবি র্যাডফোর্ড (হেড কোচ), মার্ক বাউচার (মেন্টর)।
> পাকতিয়া দল: রহমত শাহ (অধিনায়ক), আজহার মাহমুদ (হেড কোচ), ওয়াকার ইউনিস (মেন্টর)।
> বলখ দল: ইব্রাহিম জাদরান (অধিনায়ক), মিকি আর্থার (হেড কোচ), তিলকারত্নে দিলশান (মেন্টর)।
ড্রাফট ও স্কোয়াডের নিয়মাবলী
প্রতিটি ফ্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ ৭ লাখ ২৫ হাজার মার্কিন ডলার স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের বেতন বাবদ খরচ করতে পারবে। নিয়ম অনুযায়ী:
> প্রতি দলে ১৯ জন 'অ্যাক্টিভ' ক্রিকেটার থাকবেন—১৭ জন মূল ড্রাফট থেকে এবং ২ জন সাপ্লিমেন্টারি রাউন্ড থেকে।
> একাদশে অন্তত ৭ জন আফগান ক্রিকেটার (যার মধ্যে ১ জন ইমার্জিং) এবং সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি ক্রিকেটার খেলতে পারবেন।
>প্রথম ৯ জন ড্রাফট পিকিংয়ের মধ্যে অন্তত ৩ জন বিদেশি ক্রিকেটার থাকতে হবে।
২০১৮ সালে এপিএলের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে আর্থিক অনিয়ম ও শৃঙ্খলাজনিত উদ্বেগের কারণে প্রথম আসরের পর টুর্নামেন্টটি স্থগিত রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন আঙ্গিকে ফিরছে আফগানদের এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ।
লিওনেল মেসি
লিওনেল মেসির গোল ও অ্যাসিস্টের নৈপুণ্যে ঘুরে দাঁড়িয়ে নিউ ইংল্যান্ড রেভল্যুশনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইন্টার মিয়ামি। রোববার রাতে নিউ ইংল্যান্ডের মাঠে পিছিয়ে পড়েও জয় তুলে নেয় মায়ামি। দ্বিতীয়ার্ধে প্রথমে সতীর্থের গোলে অবদান রাখেন মেসি, পরে নিজেই করেন জয়সূচক গোল। এই জয়ে এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে ইন্টার মিয়ামি। এক ম্যাচ হাতে রেখে নিউ ইংল্যান্ডকে এক পয়েন্টে পেছনে ফেলেছে দলটি। চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে এটি মিয়ামির দশম জয়, যা লিগের অন্য যেকোনো দলের চেয়ে তিনটি বেশি।
জয়ের সুবাদে আগামী বছরের কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপেও জায়গা নিশ্চিত করেছে মিয়ামি।
প্রথমার্ধে কোনো দলই গোল করতে পারেনি। বিরতির পর ৫৩ মিনিটে ড্যানিয়েল গাজদাগের গোলে এগিয়ে যায় নিউ ইংল্যান্ড। ইলাই ফেইনগোল্ড ও পেটন মিলারের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের শটে মায়ামির গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ারকে পরাস্ত করেন তিনি। চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে এটি গাজদাগের দ্বিতীয় গোল।
এই গোলে অবদান রাখা ফেইনগোল্ডের এটি মৌসুমের পঞ্চম অ্যাসিস্ট। ১৮ বছর বয়সী মিলারের অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়ায় ৯টিতে। দুজনের জন্যই এটি ক্যারিয়ারসেরা অর্জন।
পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালায় মায়ামি। ৬৯ মিনিটে সেই প্রচেষ্টায় সফল হয় তারা। মেসি ও তেলাসকো সেগোভিয়ার সমন্বয়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন জার্মান বের্তেরামে। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে মায়ামি।
তিন ম্যাচ পর গোল বা অ্যাসিস্টের খাতায় নাম লেখালেন মেসি। অন্যদিকে এমএলএসে নিজের প্রথম মৌসুমেই ১০টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্টের কীর্তি গড়েছেন বের্তেরামে।
সমতায় ফেরার পর জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে মায়ামি। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত গোলটি এনে দেন মেসি। সেগোভিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে জালে পাঠান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। এটি চলতি লিগে তার ২৬তম গোল, যা এখন পর্যন্ত প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ।
সেগোভিয়ার জন্যও এই অ্যাসিস্ট বিশেষ অর্জন। চলতি মৌসুমে তার অ্যাসিস্টের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২টিতে, যা তার ক্যারিয়ারসেরা। অন্যদিকে চলতি মৌসুমে ১৬টি অ্যাসিস্ট নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছেন মেসি। গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে তার অবদান ৪২টি, যা দ্বিতীয় স্থানে থাকা খেলোয়াড়ের চেয়ে নয়টি বেশি।
মায়ামির হয়ে গোলরক্ষক ডেইন সেন্ট ক্লেয়ার তিনটি সেভ করেন। প্রতিপক্ষের মাঠে চলতি মৌসুমে দলটির রেকর্ড এখন ১০ জয়, ৪ হার ও ৩ ড্র। নিউ ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাট টার্নারও তিনটি শট ঠেকান।
এই হারে নিউ ইংল্যান্ডের টানা চার জয়ের ধারা থেমেছে। নিজেদের মাঠে চলতি মৌসুমে তাদের রেকর্ড এখন ১১ জয়, ৪ হার ও ২ ড্র। প্রথমার্ধে সেন্ট ক্লেয়ার দুটি এবং টার্নার একটি সেভ করেন। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। এর আগে এপ্রিলের শেষ দিকে মায়ামির মাঠে দুই দল ১-১ গোলে ড্র করেছিল।
নিয়মিত মৌসুমের শেষ ম্যাচে আগামী ৭ নভেম্বর শার্লট এফসির মুখোমুখি হবে ইন্টার মিয়ামি। এমএলএসের ‘ডিসিশন ডে’তে নিউ ইংল্যান্ড খেলবে অরল্যান্ডো সিটির মাঠে।