কালুরঘাট ফেরিঘাটের নতুন ইজারা কার্যক্রম নিয়ে আইনি জটিলতা
চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম কালুরঘাট ফেরিঘাটের নতুন ইজারা কার্যক্রম নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত ফেরিঘাটের ইজারা সংক্রান্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (Writ Petition No. 5977 of 2026) দায়ের করা হয়।
রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ উক্ত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ (Stay Order) প্রদান করেন। একই সঙ্গে কেন বিজ্ঞপ্তিটি অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল নিশি জারি করেন আদালত।
আদালতের আদেশের প্রত্যয়িত অনুলিপি ইতোমধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কালুরঘাট সেতু চালুর পর ফেরির ওপর নির্ভরতা আগের তুলনায় কমে গেছে। ছোট ও মাঝারি যানবাহন সেতু ব্যবহার করায় ফেরি পারাপারের চাপ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাশাপাশি জোয়ার-ভাটার কারণে নিয়মিত ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়া, গ্যাংওয়ে ও পল্টুনের অবকাঠামোগত সমস্যাসহ নদীতে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরিঘাট পরিচালনায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বর্তমান ইজারাদার।
তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও বোয়ালখালী ও পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলের ভারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সচল রাখতে ফেরি সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। একই সঙ্গে ইজারার কিস্তি ও অন্যান্য আর্থিক দায়বদ্ধতা নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে বলেও জানা যায়।
এদিকে আদালতের নির্দেশনা ও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বর্তমান ইজারাদার কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। আবেদনে আদালতের আদেশ অনুযায়ী টেন্ডারের পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশ বহাল থাকা অবস্থায় টেন্ডার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আইনি জটিলতা থাকতে পারে। ফলে পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।
নোয়াখালীর সেনবাগে বোনকে দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আবুল কাশেম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনবাগ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নাগুনি গ্রামের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবুল কাশেম উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির মৃত নুর মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার ২৩ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় আবুল কাশেম সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে হাতে ক্যানোলা লাগানো অবস্থায় তিনি বিন্নাগুনি গ্রামে তার বোনের বাড়িতে বোনকে দেখতে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ডোবার পাশ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, বোনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আবুল কাশেম নিখোঁজ ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জ জেলার হাটে হাটে বিক্রি হচ্ছে নতুন পাট। দামও মিলছে ভালো। এতে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন চাষিরা। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মণপ্রতি পাটের দাম মিলছে গড়ে চার হাজার টাকা। জেলার হাওরাঞ্চলের নিচু জমিতে পাটের আবাদ হয় না। সাধারণত জেলার দুই ফসলি ও তিন ফসলি উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে পাটের চাষ করেন কৃষকরা। বোরো ধানের মৌসুমেই তারা পাটের আবাদ করেন। গত বৃহস্পতিবার কটিয়াদী উপজেলার সহস্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকায় দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে কাঁচা পাট শুকানো হচ্ছে। জেলার কৃষিপ্রধান এলাকার প্রায় সব সেতুই এখন কাঁচা পাটে ঢাকা।
কয়েক দিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন অগভীর জলাশয়ের ধারে পচা পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে সেগুলো রোদে শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে পরিমাপ করে আলাদা আলাদা বান্ডেল করে বেঁধে রাখা হচ্ছে। হাটের দিন আশপাশের এলাকার কৃষকরা পাট নিয়ে আসছেন বিক্রির জন্য।
কটিয়াদীর গাগলাইল গ্রামের কৃষক নূরুল হকের সঙ্গে কথা হয় গত বৃহস্পতিবার। চলতি মৌসুমে তিনি এক একর জমিতে পাটের চাষ করেন। এতে ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তাঁর জমিতে পাট হয়েছে অন্তত ১৫ মণ। নূরুল হক বলেন, এখন বাজারে প্রতিমণ পাট চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে চার হাজার টাকা মণ হলেও পাট যত পুরোনো হবে, দাম ততই বাড়তে থাকবে। তিনি অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয়ের আশা করছেন।
করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মুড়িকান্দি গ্রামের কৃষক মাজহারুল ইসলাম। তিনি এবার পাটের আবাদ করেছেন দেড় একর জমিতে। গত শনিবার তিনি বলেন, তাঁর এলাকার কয়েক দিন আগে চার হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছে। তবে এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা দরে। কিছু দিনের মধ্যে দাম আবারও বাড়তে পারে।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জে এবার প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ বেল।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক দামও ভালো পাচ্ছেন। এবার পাটের জাগ দেওয়ার পানির সংকট ছিল না। কিছু অসচেতন কৃষক আছেন, ছোট ডোবায় অগভীর পানিতে পাট জাগ দেন। এর ফলে তাদের পাটের মান কিছুটা খারাপ হয়। চাষিদের বেশি পানিতে ও স্বচ্ছ পানিতে পাট জাগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এতে পাটের মান ভালো হবে।
আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হওয়ার দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পটুয়াখালী পৌর বিএনপি ও দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন।
মোঃ কামাল হোসেন ১৯৮০ সালে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ১৯৯০ এবং ১৯৯৩ সালে তিনি পর পর দুই বার কাউন্সিলের মাধ্যমে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি (২০২১-২০২২) সাল সততার সাথে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।এছাড়াও তিনি একোয়ারস্টেট নূরানী মাদ্রাসার সভাপতি,চরপাড়া জামে মসজিদ এর সাধারণ সম্পাদক ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি।
তার পিতা আলহাজ্ব মোঃ আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া যিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ২ বারের আহবায়ক।তার বড় ভাই মুহাম্মদ মুনির হোসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক।
২০০৬-২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর আগ পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবার দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ সতেরো বছর আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি অসংখ্য বার আওয়ামীলীগ এর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।তাকে একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয়েছে এবং এই মিথ্যা মামলায় তাকে অনেক হয়রানি হতে হয়েছে। একাধিকবার তার বাসা, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে।২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে তিনি উত্তরার আজমপুরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
মোঃ কামাল হোসেন খুবই সৎ এবং দয়াবান ও একজন মানুষ। তিনি সবসময়ই গরিব-দুঃখী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন।দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর রাজনীতিতে তিনি নিজের এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।
জেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে মোঃ কামাল হোসেন নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।তারা মনে করেন আসন্ন পৌর নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে দলটির সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গভীর জনসম্পৃক্ততার কারণে মোঃ কামাল হোসেন আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন দৈনিক নওরোজকে জানান, তিনি পটুয়াখালীকে একটি মাদকমুক্ত,সন্ত্রাসমুক্ত,আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পৌরসভা হিসেবে গড়তে চান।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ প্রকৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবারের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২৬ জুলাই রবিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।
আয়োজকরা জানান, টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবার শুধু উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সুরক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং নির্মল বাতাস, পরিবেশের ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা।
টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবার—উদ্যোক্তা উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ।
এসময় উপস্থিত ছিলেন,মোঃ আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের,মোঃ রফিকুল ইসলাম,রোখসানা পারভীন,উর্মি আক্তার পরী,খাইরুন্নেসা সেতু,সামসুন্নাহার সালমা,লাকি খান,মাজেদা আক্তার,আরো অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নুর নবী হোসেন (৩০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত নুর নবী হোসেনের বাবার নাম আব্দুর রব এবং মায়ের নাম আঞ্জু বেগম। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মনসাদ বাড়ী এলাকায়। নদীভাঙনের পর পরিবারটি ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও নুর নবী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন। পরে দাগনভূঞা উপজেলার মৃত বেলাল হোসেনের মেয়ে বিবি ফাতেমার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি বিয়ে করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বোতল কুড়িয়ে বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাতে তারা মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেই ঘুমাতেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২৬ জুলাই) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নুর নবী ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় একই স্থানে বসবাসকারী শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেন বিবি ফাতেমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। এতে নুর নবীর ঘুম ভেঙে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও পরে মারামারি শুরু হয়।
একপর্যায়ে নুর নবী অভিযুক্তকে ঘুষি মারলে শাহ পরান তার সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে ফেনী পৌরসভার হাজারী রোড এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২৬ জুলাই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সোমবার (২৭ জুলাই) ফেনী মডেল থানার মামলা নম্বর-৫৫ হিসেবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় রুজু করা হয়।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার ফেনীর সার্বিক নির্দেশনায়, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) এবং দাগনভূঞা থানা পুলিশের সহায়তায় ফেনী মডেল থানার একটি দল অভিযান চালায়। পরে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাগনভূঞা থানা এলাকা থেকে পলাতক শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকু উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।
স্ত্রী হত্যার দায়ে ঘাতক স্বামী ফরহাদ হোসেনকে আটক করা হয়
নওগাঁর ধামইরহাটে পারিবারিক কলহের জের ধরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে স্ত্রীকে হত্যা করলো পাষন্ড স্বামী। স্থানীয়রা ঘাতক স্বামীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। নিহত স্ত্রী মনিরা বেগম (২৬) উপজেলার উমার ইউনিয়নের অমরপুর গ্রামের মাসুদ হোসেনের মেয়ে, আর ঘাতক স্বামী জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আটুল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেন। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ধামইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে এ হত্যাকান্ড ঘটে।
নিহতের বোন মহসিনা বেগম বলেন, তার বোন মনিরা ও দুলাভাই ফরহাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসছিল। ফরহাদ ঢাকায় গিয়ে রিক্সা চালান, আর মনিরা বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার ভোরে ফরহাদ মনিরার বাবার বাড়িতে আসেন। সকালে মনিরা ও মহসিনা দুই বোন চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে ফরহাদ গিয়ে মনিরার সাথে কথা কাটাকাটিতে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে ফরহাদ ধারালো ছুরি দিয়ে মনিরার বুকে ও পেটের বাম পাশে এলাপাথারি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে আটক করেন। স্থানীয়রা মারাত্মক আহত মনিরাকে উদ্ধার করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ধামইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিন্টু রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।