সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে।
পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেন্ট মার্টিন দ্বীপে আগামীকাল রোববার থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ থাকছে।
আজ শনিবার চলতি মৌসুমের শেষদিনে শেষবারের মতো পর্যটকবাহী জাহাজ দ্বীপে যাতায়াত করছে। এরপর নতুন নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এতে দ্বীপের পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও পরিবহন খাতের মানুষের মধ্যে নতুন করে জীবিকা সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপে পর্যটক ভ্রমণের অনুমতি থাকে। তবে এবার সরকার সময়সীমা কমিয়ে নভেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। নভেম্বর মাসে দ্বীপে পর্যটকদের রাতযাপনও নিষিদ্ধ ছিল।
দ্বীপবাসীর দাবি, সময় কমিয়ে দেওয়ায় পর্যটনের ভরা মৌসুমেও তারা প্রত্যাশিত আয় করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ ৯ মাস পর্যটন বন্ধ থাকায় দ্বীপের মানুষের সামনে চরম দুর্ভোগ নেমে আসবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক গেলেও আয় হয়নি
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার পর্যটক করে চলতি মৌসুমে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পর্যটক কক্সবাজার থেকে জাহাজে সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ করেছেন। কিন্তু এবার দ্বীপের স্থানীয় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীরা তেমন কোনো আয়-রোজগার করতে পারেননি।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, ‘আজ সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ সব পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করবে। কাল থেকে আর কোনো পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে না। সরকার পরে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
‘লাভ তো দূরের কথা, লোকসানে পড়েছি’
সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহমান বলেন, ‘অনেক মানুষ সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। অধিকাংশ ব্যবসায়ী লাভের চেয়ে লোকসানে পড়েছেন। অতীতে দ্বীপে এমন সংকট দেখা যায়নি। কাল থেকে পর্যটক আসা বন্ধ হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ শুরু হবে। নির্বাচন শেষে যদি আবার পর্যটন চালু করা হয়, তাহলে ব্যবসায়ীরা কিছুটা হলেও লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।’
সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের প্রায় সবাই পর্যটনখাতের সঙ্গে জড়িত। হঠাৎ করে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবার মধ্যে হতাশা কাজ করছে। সময়টা আর একটু বাড়ানো গেলে আগামী নয় মাস পার করা সহজ হতো।’
ঋণ করেছি, এখন শোধ করব কীভাবে’
দ্বীপের রিকশাচালক নুর আজিম বলেন, ‘আজ থেকে পর্যটক আসা বন্ধ। কাল থেকে আমাকে আবার মাছ ধরতে যেতে হবে। রিকশা কেনার জন্য ঋণ নিয়েছি, কিন্তু দুই মাসেও সেই টাকা তুলতে পারিনি। এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব।’
দ্বীপের কটেজ ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘এবার আমরা কোনো আয় করতে পারিনি। জাহাজ কর্তৃপক্ষ, ঢাকার কিছু বিনিয়োগকারী, হোটেল ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট গলাকাটা বাণিজ্য করেছে। তার ওপর সরকারের বিধি-নিষেধে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে স্থানীয়দের ওপর। এখন ৯ মাস পর্যটক বন্ধ থাকলে দ্বীপবাসীর দুর্দিন আরও বাড়বে।’
কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের
দ্বীপের ব্যবসায়ীরা জানান, ‘পর্যটনখাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষ জড়িত। মানবিক দিক বিবেচনায় অন্তত আরও চার মাস বা কমপক্ষে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।’
কড়াকড়ি নির্দেশনা বহাল
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেন্ট মার্টিনে রাতে সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চশব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
এছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক-ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ সব ধরনের মোটরচালিত যান চলাচলও নিষিদ্ধ থাকবে। পর্যটকদের পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব পানির ফ্লাক্স সঙ্গে রাখার পরামর্শও রয়েছে।
কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু তুহিনের বাবা পুলিশ কনস্টেবল শামসুল হক
একটি ফোনকল—সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র নিহত। প্রতিদিনের মতোই দায়িত্ব পালন করতে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে ছুটে যায় পুলিশের টহলদল। সেই দলে ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার গাড়িচালক পুলিশ সদস্য শামসুল হকও। কিন্তু তিনি জানতেন না, কয়েক মিনিট পর জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ সত্যের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত নিথর শিশুটির মুখের দিকে তাকাতেই বুকফাটা আর্তনাদে ভেঙে পড়েন তিনি। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে পড়ে থাকা শিশুটি আর কেউ নয়—তারই আদরের ছেলে, দশ বছরের তুহিন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরের গাইটাল জনতা স্কুল রোড এলাকায় এ হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ ওসি স্যার ফোন দিয়ে বলেন, “সার্কিট হাউসের দিকে একটি সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে, টহল পুলিশ নিয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছাও।”’ নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই সেখানে ছুটে যাই। ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের চোখকেই যেন নিজে বিশ্বাস করতে পারছি না। কে জানত নিথর শিশু আমার নিজেরই আদরের সন্তান। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের ছেলের এমন করুণ মৃত্যু দেখতে হবে, সেটা কখনো কল্পনা করিনি। এই কষ্ট কাউকে বলে বোঝাতে পারব না, কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছার ওপর তো কারও হাত নেই। কী আর করব?’
অতিকষ্টে কথাগুলো বলছিলেন কিশোরগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিশু মোহাম্মদ তুহিনের (১০) বাবা পুলিশ সদস্য শামসুল হক। আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের জনতা স্কুল রোড এলাকায় সিমেন্টবোঝাই ট্রাকের চাপায় মারা যায় তাঁর ছেলে। সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দায়িত্ব পালনে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছিল কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানা–পুলিশের একটি টহল দল। ওই দলে গাড়িচালক ছিলেন শামসুল হক।
নিহত তুহিন গাইটাল জনতা স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের পাশেই ভাড়া বাসায় বাবা–মা ও আরও দুই ভাইয়ের সঙ্গে থাকত সে। ভাইদের মধ্যে তুহিন ছিল মেজ। তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে।
পুলিশের ওই টহল দলের নেতৃত্বে ছিলেন উপপরিদর্শক ফজলে রাব্বি। তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই হৃদয়বিদারক। দুর্ঘটনার খবর পেলেই বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যাই আমরা। চালক শামসুল হকই নিয়ে যান আমাদের নিয়ে। তবে এবার ভিন্ন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমাদের। ঘটনাস্থলে গিয়ে যখন দেখলাম সড়ক দুর্ঘটনার শিকার শিশুটি আমাদের সঙ্গে যাওয়া গাড়ি চালক শামসুল হকের ছেলে। তখন তাঁকে কী বলে যে সান্ত্বনা দেব, ভাষা আমরা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শুধু আমরা না, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনও এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়ে শামসুল হককে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে গাইটাল এলাকার বাসা থেকে সাইকেল নিয়ে জনতা স্কুল রোড এলাকায় ঘুরতে বের হয় তুহিন। এ সময় একটি সিমেন্টবোঝাই ট্রাক চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম ভূঞা জানান, তুহিনের মরদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্বজনেরা জানান, জুমার নামাজের পর কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে তুহিনের প্রথম জানাজা হয়। এরপর মরদেহ নেত্রকোনায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
রূপগঞ্জে
রূপগঞ্জে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জ, রূপগঞ্জ, সাবেক এমপি, জমি দখলের অভিযোগ, উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে জামিয়া মনির উদ্দিন বেপারী কওমি মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে মাদ্রাসার জমিটি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীরের দখলে রয়েছে। পাঁচ গ্রামের মানুষের অবিলম্বে ওই জমি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং সংশ্লিষ্ট
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন, মহসিন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মো. সিরাজুল ইসলাম প্রধান, মো. ওবায়দুল হক ভূঁইয়া, আব্দুল হালিম ভূঁইয়া, মো. কামরুল ইসলাম, মো. মোখলেছুর রহমান এবং হাজী মো. নুরুজ্জামান ভূঁইয়াসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে মাদ্রাসার ১৫ শতাংশ জমি সাবেক সংসদ সদস্য গাজী গোলাম দস্তগীর দখল করে রেখেছেন। মামলা হামলার ভয়ে তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী কথা বলতে পারে নাই। এসব নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত এবং মাদ্রাসার জমি উদ্ধার করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার ও আলাল খন্দকার। মানববন্ধন শেষে ঢাকা - সিলেট মহাসড়কে রূপসী এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বৃক্ষরোপন সংরক্ষনের যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মসুচি নিয়েছিলেন তারই ধারা বাহিকতায় পঞ্চগড় জেলায় আজকে বৃক্ষরোপন অভিযান ও ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।
আজ শুক্রবার(২৪জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বনবিভাগ এর আয়োজনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পঞ্চগড় সড়কারী অডিটোরিয়ামে এসে বেলুন উড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বৃক্ষমেলা পরিদর্শন করেন।
তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের সাথে নদীর সম্পর্ক আছে। পঞ্চগড়ে করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ বিভিন্ন নদী রয়েছে। এসব রক্ষায় গাছ লাগানো আবশ্যক।
তিনি আরও বলেন, আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। পাশাপাশি একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের।
এসময় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম, দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সদস্য সচিব ফাহিম ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম চাচ্চু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল আলী হাওলাদারের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান।
এজাহারে বলা হয়, ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা
"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।
এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ।
শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।
বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ
নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।
শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’
আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’
জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’