• প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ২:৪৩ পিএম

রংপুরের পীরগাছায় গুজব রটিয়ে হেযবুত তওহীদ সদস্যদের ৮টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় এক বছর পেরিয়েও দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না হওয়ায় উদ্বাস্তু অবস্থায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব রংপুরের হলরুমে ন্যায়বিচার অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের বিভাগীয় সভাপতি ভুক্তভোগী আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, পীরগাছা উপজেলার ছিদামহাট এলাকায় গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তার বাড়িতে আয়োজিত একটি প্রীতিভোজ অনুষ্ঠানকে বানচাল করতে জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতির নেতৃত্বে মিথ্যা গুজব ছড়ানো হয়। পরে ওইদিন সকাল দশটায় এক কিলোমিটার দূরে পার্শ্ববর্তী নাগদাহ এলাকা থেকে ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি নূর আলমের নেতৃত্বে একটি উগ্রবাদী মিছিল নিয়ে এসে মব সৃষ্টি করে তার বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। সময় তাদের পরিবারের চারটি বাড়ি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, লুটপাট অগ্নিসংযোগ করা হয়। লুটপাট চালানো হয় বাড়িতে থাকা সমস্ত মালামাল। এতে আব্দুল কুদ্দুস শামীমসহ পরিবারের ১৫ জন আহত হন। তাদের মধ্যে এখনো দুইজন পঙ্গুত্ববরণ করেছেন বলেও জানান তিনি।

 

তিনি দাবি করেন, ঘটনার দিন একই সময়ে ওই এলাকায় বসবাসরত সংগঠনের আরও চারটি পরিবারের বাড়িতেও একইভাবে হামলা লুটপাট চালানো হয় সেসময়। ভাঙচুরের পর আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় ২৩টি মোটরসাইকেল। সময় স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ এবং বাড়ির খামারে থাকা ১২টি বিদেশি জাতের গরু দিবালোকে লুট করে নিয়ে যায় তারা। ঘটনায় প্রায় দুই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের। যার ফায়ার সার্ভিস প্রতিবেদনেও এই ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান আব্দুল কুদ্দুস শামীম। এতে নিমিষেই নিঃস্ব হয়ে পড়েন ১২টি পরিবারের প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। যারা এখনো উদ্বাস্তু অবস্থায় মানবতার জীবনযাপন করছেন।

 

আব্দুল কুদ্দুস শামীম বলেন, ঘটনায় থানা আদালতে ছয়টি মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। উল্টো অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বছর পেরিয়েও পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

 

তিনি আরও বলেন, থানায় দায়ের করা মামলার এক বছর পার হলেও সমাধানের কথা বলে এখনো প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। অপরদিকে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে আদালতে দায়ের করা পাঁচটি মামলারও দীর্ঘদিন কোনো আইনি অগ্রগতি ছিল না। তবে গত সপ্তাহে আদালত থেকে দুটি মামলার হাজিরার নোটিশ জারি করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর পর থেকে আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে এমন অভিযোগ করেন শামীম।

 

সংবাদ সম্মেলনে শামীম সরকারের কাছে চার দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলোথানায় দায়ের করা মামলার দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি পরিবারের ক্ষতিপূরণ, আসামিদের পক্ষ থেকে করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং পঙ্গুত্ববরণকারীদে চিকিৎসা ব্যয় বহনসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

সময় ভুক্তভোগী পঙ্গুত্ববরণ করা আবুল কালাম, হাসানুর রহমান সাদ্দাম জাফরুল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে পারুল ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর ৩নং ওয়ার্ড সভাপতি নূর আলম বলেন, আমাকে জড়িয়ে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মিথ্যা অপপ্রচার। মূলত উত্তেজিত এলাকাবাসী সেখানে গেলে আমি তাদেরকে থামাতে চেষ্টা করেছি। কিন্তু প্রচার করা হয়েছে আমার নেতৃত্বে নাকি হামলা-অগ্নিসংযোগ হয়েছে। আর এখন ভয়ভীতি দেখানোর যে অভিযোগ তুলেছে সেটাও মিথ্যা।

 

তিনি আরও বলেন, হেযবুত তওহীদের সদস্যরা ইসলামের নামে আমাদের গ্রামের সহজ সরল মানুষদের বিভ্রান্ত করছে। তারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ইসলাম বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এসব কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে বিক্ষুদ্ধ মানুষেরা তাদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আমাদের গ্রামে ধরণের ঘটনা ঘটেছে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তবে ভিলেজ পলিটিক্সের কারণে আমাকে জড়িয়ে বেশি অপপ্রচার চালানো হয়েছে, এখনো হচ্ছে। ঘটনার সাথে জামায়াতে ইসলামীর কিংবা আমাদের দলের নেতাকর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

 

অন্যদিকে, পীরগাছা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বজলুর রশিদ মুকুলের সাথে  যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনকল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

বিষয়ে পীরগাছা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিব্বুল ইসলাম জানান, থানায় আমি নতুন এসেছি। বিষয়গুলো নিয়ে অবগত হয়েছি। এখন মামলাগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করা হবে। এছাড়াও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে হুমকি-ধামকি দিলে তাদের পক্ষ থেকে থানায় এসে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৩:০৭ পিএম

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকার বাসভবনের সামনে বিক্ষোভে নেমেছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। এ সময় এমপির বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এ বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান বিক্ষুব্ধ জনতা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নীলগঞ্জ এলাকার আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও সংশ্লিষ্ট মসজিদকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জের ধরে মঙ্গলবার সকালে এমপি গোলাম রসুল ও তার মেয়ে অনন্যা বিরুদ্ধে মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী আয়ান এবং রেক্সনা নামে এক নারীর ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এতে ওই নারীর মাথা ফেটে যায় বলে দাবি করেন স্থানীয়রা।


জানা যায়, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার রাতে দুই পক্ষের মধ্যে মীমাংসা হয়। তবে মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসা খুললে গোলাম রসুল তা বন্ধ রাখতে বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপরই স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রতিবাদে সকাল ১০টার দিকে তারা একত্রিত হয়ে এমপির বাড়ির সামনে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন।


বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি, সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সব সময়ই গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ে খারাপ আচরণ করে আসছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভ চলাকালে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিষয়টি মীমাংসার উদ্দেশ্যে গোলাম রসুলের এক স্বজন ঘটনাস্থলে এলে বিক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তাঁর ওপর চড়াও হয়। এ সময় তাঁকে মারধরের ঘটনাও ঘটে। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীরা যশোর-নড়াইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। তারা এমপি গোলাম রসুল ও তাঁর মেয়ের বিচারের দাবিতে দীর্ঘ সময় সড়কে অবস্থান করেন।


খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। তিনি জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সংবাদপত্রের সাবস্ক্রিপশন


সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এমপির বাড়ির সামনে স্থানীয়দের অবস্থান অব্যাহত ছিল এবং মহাসড়কে যান চলাচল আংশিকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।


এ বিষয়ে যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের স্ত্রী শারমিন ভিনা জানান, তার মেয়ে মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। তিনি বলেন, মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও সেখানে শিশুরা বিভিন্ন সময় এসে গোলযোগ সৃষ্টি করে। এর প্রতিবাদ করেছিলেন তাঁর মেয়ে অন্যনা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের সঙ্গে শত্রুতা তৈরি হয়েছে। এখন অহেতুকভাবে তাদের বাড়িতে হামলা করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে বোনকে দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর আবুল কাশেম (৬০) নামে এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনবাগ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিন্নাগুনি গ্রামের একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।


নিহত আবুল কাশেম উপজেলার ৪ নম্বর কাদরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপুর গ্রামের রমিজ উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়ির মৃত নুর মিয়ার ছেলে।


পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার ২৩ জুলাই অসুস্থ অবস্থায় আবুল কাশেম সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে হাতে ক্যানোলা লাগানো অবস্থায় তিনি বিন্নাগুনি গ্রামে তার বোনের বাড়িতে বোনকে দেখতে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা ডোবার পাশ থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে সেখানে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।


সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম সরকার বলেন, বোনের বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আবুল কাশেম নিখোঁজ ছিলেন। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:৪৬ পিএম

কিশোরগঞ্জ জেলার হাটে হাটে বিক্রি হচ্ছে নতুন পাট। দামও মিলছে ভালো। এতে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন চাষিরা। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, মণপ্রতি পাটের দাম মিলছে গড়ে চার হাজার টাকা। জেলার হাওরাঞ্চলের নিচু জমিতে পাটের আবাদ হয় না। সাধারণত জেলার দুই ফসলি ও তিন ফসলি উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে পাটের চাষ করেন কৃষকরা। বোরো ধানের মৌসুমেই তারা পাটের আবাদ করেন। গত বৃহস্পতিবার কটিয়াদী উপজেলার সহস্রাম ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকায় দেখা গেছে, সেতুর দুই পাশের রেলিংয়ে কাঁচা পাট শুকানো হচ্ছে। জেলার কৃষিপ্রধান এলাকার প্রায় সব সেতুই এখন কাঁচা পাটে ঢাকা।


কয়েক দিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন অগভীর জলাশয়ের ধারে পচা পাট থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন শ্রমিকরা। অন্যদিকে সেগুলো রোদে শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে পরিমাপ করে আলাদা আলাদা বান্ডেল করে বেঁধে রাখা হচ্ছে। হাটের দিন আশপাশের এলাকার কৃষকরা পাট নিয়ে আসছেন বিক্রির জন্য।


কটিয়াদীর গাগলাইল গ্রামের কৃষক নূরুল হকের সঙ্গে কথা হয় গত বৃহস্পতিবার। চলতি মৌসুমে তিনি এক একর জমিতে পাটের চাষ করেন। এতে ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। তাঁর জমিতে পাট হয়েছে অন্তত ১৫ মণ। নূরুল হক বলেন, এখন বাজারে প্রতিমণ পাট চার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে চার হাজার টাকা মণ হলেও পাট যত পুরোনো হবে, দাম ততই বাড়তে থাকবে। তিনি অর্ধলক্ষাধিক টাকা আয়ের আশা করছেন।


করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মুড়িকান্দি গ্রামের কৃষক মাজহারুল ইসলাম। তিনি এবার পাটের আবাদ করেছেন দেড় একর জমিতে। গত শনিবার তিনি বলেন, তাঁর এলাকার কয়েক দিন আগে চার হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হয়েছে। তবে এখন বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮০০ টাকা দরে। কিছু দিনের মধ্যে দাম আবারও বাড়তে পারে। 


কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, কিশোরগঞ্জে এবার প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে দুই লাখ বেল।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাদিকুর রহমান বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। কৃষক দামও ভালো পাচ্ছেন। এবার পাটের জাগ দেওয়ার পানির সংকট ছিল না। কিছু অসচেতন কৃষক আছেন, ছোট ডোবায় অগভীর পানিতে পাট জাগ দেন। এর ফলে তাদের পাটের মান কিছুটা খারাপ হয়। চাষিদের বেশি পানিতে ও স্বচ্ছ পানিতে পাট জাগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এতে পাটের মান ভালো হবে। 

বিষয় : পাট


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৩৭ পিএম

আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হওয়ার দৌড়ে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পটুয়াখালী পৌর বিএনপি ও দি-পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন।


মোঃ কামাল হোসেন ১৯৮০ সালে পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক হওয়ার মধ্যে দিয়ে তার রাজনৈতিক কর্মজীবন শুরু করেন এবং ১৯৮৪-১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।এরপর ১৯৯০ এবং ১৯৯৩ সালে তিনি পর পর দুই বার কাউন্সিলের মাধ্যমে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি (২০২১-২০২২) সাল সততার সাথে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।এছাড়াও তিনি একোয়ারস্টেট নূরানী মাদ্রাসার সভাপতি,চরপাড়া জামে মসজিদ এর সাধারণ সম্পাদক ও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি।


তার পিতা আলহাজ্ব মোঃ আবদুর রশিদ চুন্নু মিয়া যিনি পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক ২ বারের আহবায়ক।তার বড় ভাই মুহাম্মদ মুনির হোসেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক।


২০০৬-২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর আগ পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবার দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। দীর্ঘ সতেরো বছর আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি অসংখ্য বার আওয়ামীলীগ এর সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।তাকে একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী হতে হয়েছে এবং এই মিথ্যা মামলায় তাকে অনেক হয়রানি হতে হয়েছে। একাধিকবার তার বাসা, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়েছে।২০২৪ এর জুলাই আন্দোলনে তিনি উত্তরার আজমপুরে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।


মোঃ কামাল হোসেন খুবই সৎ এবং দয়াবান ও একজন মানুষ। তিনি সবসময়ই গরিব-দুঃখী মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন।দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রাম ও জনসম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীর রাজনীতিতে তিনি নিজের এক শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।


জেলা ও পৌর বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মতে, দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং কর্মীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার কারণে মোঃ কামাল হোসেন নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।তারা মনে করেন আসন্ন পৌর নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে দলটির সবচেয়ে যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী।


স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক ঐতিহ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও গভীর জনসম্পৃক্ততার কারণে মোঃ কামাল হোসেন আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার দৌড়ে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।


আসন্ন পটুয়াখালী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন দৈনিক নওরোজকে জানান, তিনি পটুয়াখালীকে একটি মাদকমুক্ত,সন্ত্রাসমুক্ত,আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পৌরসভা হিসেবে গড়তে চান।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩৩ পিএম

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজ প্রকৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবারের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২৬ জুলাই রবিবার  অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে সংগঠনের সদস্য ও উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন।


আয়োজকরা জানান, টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবার শুধু উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; সমাজ ও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেও বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশ সুরক্ষা ও আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি গাছ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বৃদ্ধি করে না, বরং নির্মল বাতাস, পরিবেশের ভারসাম্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ অবস্থান থেকে বেশি করে গাছ লাগানো এবং গাছের পরিচর্যা করা।


টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক, সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তারা সবাইকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


টাঙ্গাইল উদ্যোক্তা পরিবার—উদ্যোক্তা উন্নয়নের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতায়ও অঙ্গীকারবদ্ধ।


এসময় উপস্থিত ছিলেন,মোঃ আব্দুল্লাহ আল জোবায়ের,মোঃ রফিকুল ইসলাম,রোখসানা পারভীন,উর্মি আক্তার পরী,খাইরুন্নেসা সেতু,সামসুন্নাহার সালমা,লাকি খান,মাজেদা আক্তার,আরো অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:১২ পিএম

ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে নুর নবী হোসেন (৩০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করে অভিযুক্ত মো. শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকুটিও উদ্ধার করা হয়েছে।



পুলিশ জানায়, নিহত নুর নবী হোসেনের বাবার নাম আব্দুর রব এবং মায়ের নাম আঞ্জু বেগম। তার গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মনসাদ বাড়ী এলাকায়। নদীভাঙনের পর পরিবারটি ঢাকায় বসবাস শুরু করলেও নুর নবী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ফেনীর মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে ভাসমান অবস্থায় বসবাস করতেন। পরে দাগনভূঞা উপজেলার মৃত বেলাল হোসেনের মেয়ে বিবি ফাতেমার সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে তিনি বিয়ে করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই বোতল কুড়িয়ে বিক্রি এবং বিভিন্ন ধরনের দিনমজুরির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রাতে তারা মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচেই ঘুমাতেন।



পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার (২৬ জুলাই) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে নুর নবী ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় একই স্থানে বসবাসকারী শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেন বিবি ফাতেমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করে উত্ত্যক্ত করার চেষ্টা করেন। এতে নুর নবীর ঘুম ভেঙে গেলে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও পরে মারামারি শুরু হয়।


একপর্যায়ে নুর নবী অভিযুক্তকে ঘুষি মারলে শাহ পরান তার সঙ্গে থাকা ধারালো চাকু দিয়ে নুর নবীর পেটের দুই পাশে ছুরিকাঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।


স্থানীয়দের সহায়তায় প্রথমে তাকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে ফেনী পৌরসভার হাজারী রোড এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে ২৬ জুলাই সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি সোমবার (২৭ জুলাই) ফেনী মডেল থানার মামলা নম্বর-৫৫ হিসেবে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় রুজু করা হয়।


মামলা দায়েরের পর পুলিশ সুপার ফেনীর সার্বিক নির্দেশনায়, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সোনাগাজী সার্কেল) এবং দাগনভূঞা থানা পুলিশের সহায়তায় ফেনী মডেল থানার একটি দল অভিযান চালায়। পরে সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দাগনভূঞা থানা এলাকা থেকে পলাতক শাহ পরান ওরফে ফয়সাল ওরফে সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে একটি পরিত্যক্ত গর্ত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকু উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও মাদকসহ মোট সাতটি মামলা রয়েছে।