ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১২:৫৫ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) সোমবার রাতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীর মধ্যে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় দু’পক্ষের মধ্যে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।


গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত  ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চলছিল।


ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঘটনার সূত্রপাত। পরে রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। এসময় ক্যাম্পাস ছাত্রশিবিরের দখলে ছিল। তাদের হাতে ছিল লাঠি ও ধারালো অস্ত্র। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাস থেকে সহস্রাধিক গজ দূরে দেশীয় অস্ত্র হাতে অবস্থান করছিল।


প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দিনভর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী চলছিল। প্রদর্শনীতে বিচারিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে জামায়াত নেতাদের ছবি ও ‘সাকা চৌধুরীর বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার’ লেখা ব্যানার সরিয়ে নিতে বলেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।


বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক বলেন, জুডিশিয়াল কিলিংয়ের যেসব ছবি আমরা লাগিয়েছি, ছাত্রদল সেগুলো সরিয়ে ফেলতে বলে। আমরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। কিন্তু তারা প্রশাসনের সঙ্গে কথা না বলে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।


তিনি দাবি করেন, ছাত্রদলের হামলায় তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরে আবার লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে হামলা হলে তাঁরা তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যক্তিদের ছবি খালেদা জিয়ার ছবির পাশে টাঙানো হয়েছিল। আমরা সেগুলো অপসারণ করতে বলি। এরপর তারা চেয়ার নিক্ষেপ ও ধাক্কাধাক্কি করে। এতে আমাদের একজন আহত হন।


তিনি দাবি করেন, ছাত্রশিবির বহিরাগতদের নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের বিষয়ে আমরা আপস করব না। জুলাই নিয়েও কোনো আপস করব না।


প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, মারামারির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেই। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত আছে।


উপাচার্য ড. শওকত আলী বলেন, জুলাই যেন আমরা ভুলে না যাই। আর কোনো শিক্ষার্থী যেন আহত না হয়। এ জন্য সব পক্ষকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। ছাত্ররাজনীতি এই ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ। নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন এখানে কর্মসূচি করতে আসে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আবেদন করা হলে সেই আবেদনের ভিত্তিতে কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া হয়।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:৪৪ পিএম

শরীয়তপুরে নিম্ন আয়ের ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ত্রাণসামগ্রী ও বৃক্ষের চারা বিতরণ করেছেন, শরীয়তপুর পৌরসভা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী ইদ্রিস মোল্লা। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বেশি বেশি গাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।


আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১১টায় শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের প্রায় ২০০ টি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।


কর্মসূচিটি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা মহিলা দলের সাবেক সভাপতি ও বিনোদপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রাজিয়া সুলতানা রানী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল হক ঢালী, পৌরসভা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি নাসির ঢালী এবং পৌরসভা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন হাওলাদার।


এতে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।


এ সময় বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এমন মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানান।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৩:০০ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বরপা এলাকায় অবস্থিত প্রিমিয়ার স্টিল মিল। ২০২০  সালে গলিত লোহা ছিটকে ৬ শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনায় আলোচনায় আসে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে আগের নামেই উৎপাদন কার্যক্রম চলছে। এদিকে কারখানার চিমনি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, পরিবেশ দূষণ, শ্রমিক নিরাপত্তাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে আবারও আলোচনায় এসেছে কারখানাটি।


স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন কারখানার চিমনি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। ধোঁয়ার কারণে বাতাস ভারী হয়ে পড়ে, ঘরবাড়ি ও গাছপালায় কালো ধুলার আস্তরণ জমে। এলাকাবাসীর দাবি, কারখানাটির কালো ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন জটিল রোগসহ স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়ছে।


এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, প্রিমিয়ার স্টিল মিল দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায়ও কারখানা থেকে কালো ধোঁয়া নির্গত হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।


এই কারখানাটিই কয়েক বছর আগে ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়। রাতের শিফটে কাজ করার সময় উত্তপ্ত গলিত লোহা ছিটকে পড়ে গুরুতর দগ্ধ হন ছয় শ্রমিক। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শ্রমিক মিজানুর রহমান, শাকিল, ফাহিম, রফিক মিয়া, রাজু ও আবু সিদ্দিক মিয়া। দুর্ঘটনার পর শ্রমিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।


স্থানীয়দের ভাষ্য, ভারী শিল্পকারখানায় আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারির ঘাটতি রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।


স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ জানান, কারখানার নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদন্ত দাবি করেছেন।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন কালো ধোয়ার কারণে শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির (অ্যাজমা) প্রকোপ বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী ব্রংকাইটিহ, সিওপিডি (COPD), ফুসফুসের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, চোখ জ্বালাপোড়া, লাল হওয়া ও পানি পড়া, নাক ও গলায় জ্বালাপোড়া, কাশি মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, হৃদ্‌রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি, দীর্ঘ মেয়াদে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া

কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বিষাক্ত ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকলে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।


পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন জানান,‌ শিল্পায়ন দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও শ্রমিকের জীবন ও পরিবেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সেই উন্নয়ন টেকসই হয় না। অতীতের প্রাণহানির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নিয়মিত পরিদর্শন, নির্গমন পর্যবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।


প্রিমিয়ার স্টিল মিলের জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম বলেন, কারখানাটি বন্ধ রয়েছে। আমাদের কারখানার কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে না ও পরিবেশ দূষিত হচ্ছে না। 


নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এএইচএম রাশেদ বলেন, প্রিমিয়ার স্টিল মিলের কালো ধোয়া ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ পিএম

সিরাজগঞ্জ যমুনা সেতু পশ্চিম শহীদ এম মনসুর আলী রেল স্টেশনে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।


মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বেলা ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটনা ঘটে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার যাত্রী।


দুর্ভোগের শিকার যাত্রী রিফাত খন্দকার বলেন, রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেনে রওনা হয়েছি। কিন্তু ট্রেনটি শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে প্রবেশ করা মাত্রই বিকট শব্দে বগিটি লাইনচ্যুত হয়। এতে সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


তিনি বলেন, দুপুর দেড় থেকে দুইটার মধ্যে আমার ঢাকায় ফেরার কথা। কিন্তু সিরাজগঞ্জেই সেই সময় হয়ে গেছে। এখন ঈশ্বরদী থেকে রিলিফ ট্রেন আসতে আরও সময় লাগবে, ভাবছি ট্রেনের অপেক্ষায় বসে না থেকে বাসেই চলে যাবো।


শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনের বুকিং সহকারী হাফিজুর রহমান জানান, রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি ট্রেনটি সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে স্টেশন এলাকার রেললাইনের একটি পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় বিকট শব্দে ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। পরে চালক বুঝতে পেরে দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বগির টলি সেটআপ একদম ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।


যমুনা সেতু পশ্চিম সয়দাবাদ রেলস্টেশন মাস্টার মনিরুজ্জামান বলেন, উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে, ঈশ্বরদী থেকে আসতে আরও দুয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করতে বেশি সময় লাগবে না। এটি উদ্ধার হলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে।


সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিওআই) আহসানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি উদ্ধারের জন্য ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন রওনা হয়েছে। আর এই দুর্ঘটনার কারণে নীলফামারীগামী নীলসাগর ট্রেনটি যমুনা সেতুর পশ্চিম সায়দাবাদ স্টেশনে দুই হাজার যাত্রী নিয়ে আটকা পড়েছে। এটি স্বাভাবিক হতে অন্তত আরও তিন ঘণ্টা সময় লাগবে।

সর্বশেষ সব খবর

সৃষ্টি মাল্টিপারপাসের মালিক লিটন দাশ

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৪২ পিএম

ক্ষুদ্রঋণের নামে উচ্চ সুদের কারবার, ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ এবং পরে সেই চেক ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করে মামলা করার অভিযোগ উঠেছে সৃষ্টি মাল্টিপারপাস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক লিটন দাশের বিরুদ্ধে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জরুরি প্রয়োজনে তারা প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে স্বল্প পরিমাণ অর্থ ঋণ নেন। ঋণ দেওয়ার সময় নিরাপত্তার অজুহাতে তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা ব্ল্যাংক চেক নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ঋণ পরিশোধ করার পরও কিছু ক্ষেত্রে সেই চেক ব্যবহার করে প্রকৃত পাওনার চেয়ে অনেক বেশি টাকার দাবি তুলে আদালতে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।


অভিযোগকারীদের দাবি, বর্তমানে লিটন দাশ নিজেই বাদী হয়ে আদালতে ৭০ থেকে ৮০টিরও বেশি চেক সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছেন। এছাড়া একাধিক ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, অতীতেও এ ধরনের মামলার মাধ্যমে অসহায় মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় এসব মামলার রায় আদায় করে অনেক পরিবারকে নিঃস্ব করা হয়েছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদক সরেজমিনে অনুসন্ধান চালিয়ে আদালতে লিটন দাশের নামে একাধিক চলমান মামলার তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে পারেন। তবে মামলাগুলোর অভিযোগের সত্যতা আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।


এ বিষয়ে লিটন দাশের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।


এ ঘটনায় অভিযোগকারীরা বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সর্বশেষ সব খবর

ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১:৪১ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলার শ্রীপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে সংঘটিত সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির ভাগের নগদ ৩৯ হাজার টাকা, একটি লোহার স্টিক এবং ডাকাতির ঘটনায় ব্যবহৃত ও ঘটনাস্থলে ফেলে যাওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন।  


গ্রেপ্তারকৃত ডাকাতরা হলেন, সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পূর্ব লক্ষ্মীনারায়ণপুর ধনু মেস্ত্রী বাড়ির মো. ইব্রাহিমের ছেলে বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২), একই ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের আব্দুল মালেক মোস্তফার ছেলে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮), অশ্বদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম নিরঞ্জনপুর সামছুল হকের বাড়ির মজিবুল হকের দুই ছেলে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) এবং মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫)।

 

পুলিশ জানায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে শ্রীপুর এলাকার মোশারফ হোসেন ফরহাদের বাড়ির কলাপসিবল গেটের তালা ও কাঠের দরজা ভেঙে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরে প্রবেশ করে। পরে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন, লকেট ও আংটি, একটি রুপার ব্রেসলেট, ছয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা লুট করে পালিয়ে যায়।


ঘটনার খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোশারফ হোসেন ফরহাদ বাদী হয়ে সুধারাম মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে গঠিত বিশেষ আভিযানিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের শনাক্ত করে।


গত ২ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরের খুলশী থানার লালখান বাজার এলাকার মতিঝর্ণা থেকে বাকের হোসেন ওরফে অনু (৩২) কে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।


একই দিন বিকেলে নোয়াখালীর দরবেশপুর এলাকা থেকে কোরবান আলী ওরফে দুলাল (৪৮) এবং পশ্চিম নিরঞ্জনপুর এলাকা থেকে সাইদুল হক ওরফে আরিফ (২১) ও মহিবুল ইসলাম আসিফ (২৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাইদুল হকের কাছ থেকে এক হাজার টাকার দুটি নোট ও ৫০০ টাকার ৭৪টি নোটসহ মোট ৩৯ হাজার টাকা এবং একটি লোহার স্টিক উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া টাকা ডাকাতির ঘটনায় তার ভাগে পাওয়া অর্থ।


প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জানিয়েছেন, ডাকাত দলে মোট আটজন সদস্য ছিল। ডাকাতির আগে তারা সাইদুল হকের একটি প্রকল্পে জড়ো হয়ে পরিকল্পনা করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঘটনাস্থলে গিয়ে ডাকাতি সংঘটিত করে।


পুলিশ সুপার (এসপি) এন এম নাসিরুদ্দিন আরও জানায়, গ্রেপ্তার চারজনের বিরুদ্ধেই ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের মধ্যে বাকের হোসেনের বিরুদ্ধে ৩টি, কোরবান আলীর বিরুদ্ধে ১২টি, সাইদুল হকের বিরুদ্ধে ১১টি এবং মহিবুল ইসলাম আসিফের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা রয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ডাকাতদের ফেলে যাওয়া একটি কোরাবারি ও একটি ভাঙা তালাও উদ্ধার করেছে। গ্রেপ্তার আসামিদের ডাকাতির মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

মো. ইমন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে ‘পিস্তল’ দেখিয়ে স্ত্রীকে ভয় দেখানো ও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মো. ইমন (২৩) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 


এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ‘পিস্তল’ দেখিয়ে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায় পুলিশ। ইমন শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ গ্রামের দায়পাড়া এলাকার বাসিন্দা।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ইমন ‘পিস্তল’ দেখিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করে নিজের টিকটক আইডিতে ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি গাজীপুর জেলা পুলিশের নজরে এলে পুলিশের একটি দল তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ভিডিওতে দেখানো পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়। পরে পরীক্ষা করে দেখা যায়, উদ্ধার করা বস্তুটি আসল আগ্নেয়াস্ত্র নয়; এটি একটি ‘পিস্তলসদৃশ লাইটার’।


অভিযোগ আছে, এই লাইটার দেখিয়েই ইমন এলাকায় ভীতি সৃষ্টি করতেন এবং স্ত্রীকে নিয়মিত ভয় দেখিয়ে যৌতুক দাবি করতেন। এ ঘটনায় ইমনের স্ত্রী মোছা. তাহমিনা (২২) বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় যৌতুকের দাবিতে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, টিকটকে অস্ত্রসদৃশ লাইটার দেখিয়ে তিনি ভিডিও প্রচার করতেন। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। পরে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর