• প্রকাশ : শনিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫, সময় : ৯:২৩ এএম

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ উসমান হাদির উপর হামলা করে গুলিবিদ্ধ করা এবং চট্রগ্রাম মহানগড় বিএনপি’র আহবায়ক এরশাদ উল্লাহকে গুুলিবিদ্ধ্ করার প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে জেলা বিএনপি’র আয়োজনে বিক্ষোভ মিছিল প্রতিবাদ সমাবেশ কর্মসুচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি কার্য্যালয় থেকে জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ফরাহাদ হোসেন আজাদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতাকর্মীরা। এ সময় সাবেক মহিলা সংসদ সদস্য এডভোকেট রিনা পারভিন জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহবায়ক মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল, জেলা যুবদলের সভাপতি ফেরদৌস ওয়াহিদ রাসেল, সাধারন সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু সহ  সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল,মহিলা দল,শ্রমিক দল সহ বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।

মিছিলটি জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে আবারও দলীয় কার্য্যালয়ে শেষ হয়। পরে সেখানেই প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়। প্রতিবাদ সমাবেশে বিএনপি’র পল্লী উন্নয়ক বিষয়ক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন আজাদ সহ বিএনপি ছাত্রদল যুবদলের সভাপতি সাধারন সম্পাদকগণ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জানান আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্থ করতে উদ্দেশ্যপ্রনোদীতভাবে উসমান হাদি এবং এরশাদউল্লাহকে গুলিবিদ্ধ করা হয়েছে। অতি দ্রুত এই ঘটনায় জড়িতদের বের করে শাস্তির আওতায় আনতে অন্তর্বতি সরকারের প্রতি আহবান জানান।

বিষয় : পঞ্চগড়



বরগুনার ছয় উপজেলার ২৯৩ চিকিৎসক পদের ২১৬টিই শূন্য

প্রতিনিয়ত চিঠি চালাচালিতেও মিলছে না কোনো ফলাফল


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৩৬ পিএম

বরগুনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে পৌঁছেছে। জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে ২১৬টি পদ। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ। 


ফলে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিনগুণ শিশু রোগী ভর্তি হলেও স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এতে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।


এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে চিকিৎসক সংকট দূর করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ।  


জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী- বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১৮ জন। এ ছাড়াও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসে ১৩ জনের বিপরীতে ৫, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জনের বিপরীতে ১৭, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জনের বিপরীতে ৮, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ জনের বিপরীতে ৬, বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জনের বিপরীতে ১২, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০ জনের বিপরীতে ৯ এবং সিভিল সার্জন অফিসে ৩ জনের বিপরীতে ২ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন।


এ অবস্থায় জেলার অন্তত ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় প্রধান ভরসার জায়গা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের পদই রয়েছে শূন্য। এতে হাসপাতালটিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা। 


বিশেষ করে বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারছেন না কর্মরত চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা। 


স্বজনদের দাবি- হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে যেতে হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে। এ ছাড়াও একটু বেশি অসুস্থ হলেই শিশুদের রেফার করা হচ্ছে বরিশালে। এতে একদিকে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, অপরদিকে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তির।


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে হামের প্রকোপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু রোগী। হামের উপসর্গ ও জ্বর, সর্দি, কাশি এবং নিউমোনিয়া নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু। ফলে এতসংখ্যক শিশু ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবায় বর্তমানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দাবি চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগীর অভিভাবকদের। অনেক সময় বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।


২৮ দিন বয়সী মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. মিজান বলেন- হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী ভর্তি তার বিপরীতে যে কজন চিকিৎসক আছেন, তাতে ঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। দিনে একবার এসে কোনোরকম রোগী দেখে চলে যান চিকিৎসকরা। একজন রোগীকে বলতে গেলে এক মিনিটও সময় দিতে পারেন না তারা। 


শিশু মরিয়মের মা মোসা. কুলসুম বলেন- আমার ছোট মেয়ে অসুস্থ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যদি বাইরের ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়, তাহলে এই সরকারি হাসপাতালের প্রয়োজন কী? হাসপাতালে যদি ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকত তাহলে আর সমস্যা হত না। 


বর্তমানে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি ও সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন- হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। অসুস্থ হয়ে যে রোগীরা হাসপাতালে যায়, তারা সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। কারণ বর্তমানে হাসপাতালে চারভাগের একভাগও জনবল নেই। পদায়নকৃত চিকিৎসকদের অনেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে আসেন না। হাসপাতালে আসা রোগীদের অবস্থা একটু খারাপ হলেই রেফার করে দেওয়া হয় বরিশাল অথবা ঢাকায়। এ অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।


শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায়, একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে শিশু ওয়ার্ড পরিচালনা করছে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জানিয়ে হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা আক্তার বলেন- প্রতিদিনই হাসপাতালে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু রোগী ভর্তি থাকে। 


যতদিন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেহেদী পারভেজ স্যার ছিলেন, তিনি রোগী দেখতেন। আমরাও তার সঙ্গে থাকতাম। তিনি চলে যাওয়ার পর আমাকে একাই রোগী দেখতে হচ্ছে। এ কারণে এতসংখ্যক রোগী দেখতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ কয়েকজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হলে আমাদের জন্য সুবিধা হত।


বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন- বরগুনায় ২৯৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ৭৭ জন চিকিৎসক আছেন। এই স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই হটস্পট বা বিভিন্ন রোগে প্রাদুর্ভাব প্রবণ এলাকার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু চিকিৎসক, যারা তাদের কর্মস্থলে অনিয়মিত অথবা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন ১৩ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এটি অন্য চিকিৎসকদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। এ অঞ্চলের চিকিৎসক যারা আছেন, তারা তাদের দায়বদ্ধতা এবং মানবিক গুণাবলি থেকেই চিকিৎসা সেবা চালাতে হবে। 


বরগুনায় চিকিৎসক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যোগদানের প্রথম থেকেই চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অনেক চিকিৎসক পদায়নও হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুর হটস্পট হওয়ার পর একসঙ্গে ১০ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা আবার এখান থেকে চলে গেছেন। এ ছাড়াও জেনারেল হাসপাতালে যিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনি সহকারী অধ্যাপক হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাওয়ায় ওই পদটি শূন্য রয়েছে। জেলার চিকিৎসক সংকটসহ শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসনও কাজ করছেন। পাশাপাশি আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৫ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় শ্রেণিকক্ষে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে ১৬ শিক্ষার্থী। পরে তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে উপজেলার তমরদ্দি জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।


হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে ফাতেমা বেগম (১২), নিপা আক্তার (১২), মেহেরাব উদ্দিন (১১), ফারহানা আক্তার (১২), জামেলা বেগম (১৪), সুরাইয়া আক্তার (১৩) ও পারভিন আক্তার (১৫)। তাদের সবার বাড়ি তমরদ্দি জোড়খালী গ্রামে।


বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয়টির নিয়মিত পাঠদান শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর হঠাৎ সপ্তম শ্রেণির চারজন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে তাদের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হলে তারা সুস্থ হয়ে উঠে। এর কিছুক্ষণ পর দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীসহ ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির আরও ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের মধ্যে ১৩ জনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।


জোড়খালী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জসীম উদ্দিন বলেন,  মোট ১৩ জন শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। অনেকেই এখন সুস্থ রয়েছে। স্যালাইন শেষ হলে তারা বাড়িতে ফিরে যেতে পারবে। তবে কী কারণে শিক্ষার্থীরা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।


হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে শ্রেণিকক্ষে কোনো ঝাঁজালো গন্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়তে পারে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরি পাইপগান, একটি কার্তুজ ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মো. জাবেদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ পেয়ার। এর আগে, রোববার দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর এলাকার কালা মিয়ার বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।


গ্রেপ্তার জাবেদ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের বিষ্ণপুর গ্রামের মো.সিরাজ উদ্দিন মিন্টুর ছেলে।  


পুলিশ জানায়, নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে সেনবাগ থানা পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানকালে জাবেদ হোসেনের বসতঘরের শয়নকক্ষে তোষকের নিচ থেকে একটি দেশীয় তৈরি লোহা ও কাঠ সংযুক্ত পাইপগান, একটি কার্তুজ এবং দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। পরে অবৈধ অস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগে জাবেদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) আহমেদ আরও পেয়ার জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সেনবাগ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২১ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ায় পুলিশের অভিযানে ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে ১ হাজার ৮০০ লিটার চোরাই ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত তেল ও মবিলের আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন। এর আগে, শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালিয়ে তেল গুলো জব্দ করা হয়।  




গ্রেপ্তার মো. জাকের উদ্দিন (৩৫) উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের তালুকদার গ্রামের তালুকদার গ্রামের তালুকদার বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে।  


পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার চরঈশ্বর ইউনিয়নের নলচিরা ঘাটের পূর্ব পাশে ফেরির পন্টুনে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানের সময় শাহেদ উদ্দিন প্রকাশ তেল শাহেদ (২৮), মো. রিয়াজ উদ্দিন (৩২)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন পালিয়ে যায়। অভিযানে চারটি টিনের বড় ড্রামে ৭২০ লিটার, ৩০টি প্লাস্টিকের জারিকেনে ৯০০ লিটার এবং ৯টি জারিকেনে ১৮০ লিটার ডিজেল। এছাড়া একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেলের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ২০০ লিটার মবিলের আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।


হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন আরও বলেন, গ্রেপ্তার আসামির হেফাজত থেকে বৈধ কাগজপত্রবিহীন ১ হাজার ৮০০ লিটার ডিজেল ও ২০০ লিটার মবিল উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় হাতিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৫ পিএম

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় নিখোঁজের ২৫ দিন পর রাশেদুল ইসলাম (১৯) নামের এক তরুণের কঙ্কাল, পরনের প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত রাশেদুল ফুলপুর উপজেলার কৃষ্ণ মহেশপট্টি গ্রামের মো. শাহজাহানের ছেলে। পেশায় তিনি একজন শ্রমিক ছিলেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে পুলিশ প্রধান আসামিসহ তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। 


তারা হলেন, ফুলপুর উপজেলার কুকাইল গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৪), মো. ছাবেদ আলী ওরফে মিঠুর ছেলে রফিক ওরফে রফিদ (২৮) এবং মৃত আ. রহিমের ছেলে মোজাম্মেল (২৭)।


পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিহত রাশেদুল তার বাবার সঙ্গে ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। কাজ না থাকায় দেড় মাস ধরে তিনি বাড়িতেই ছিলেন। এ সময় পাশের এলাকার তিন যুবক- জসিম, রফিক ও মোজাম্মেলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তাদের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকের কাজ করতেন রাশেদুল। ১২ আগস্ট রাত ৯টার দিকে জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে রাশেদুলকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।


পরদিন ১৩ আগস্ট সকালে রাশেদুলের মুঠোফোন থেকে তার বাবার কাছে একটি কল আসে। এক নারীর কণ্ঠে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর কয়েক দফা ফোন ও খুদেবার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলে ওই দিনই ফুলপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন রাশেদুলের বাবা।


অপহরণের পর প্রধান আসামি জসিম এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২৫ আগস্ট ফুলপুর থানায় জসিমকে প্রধান আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়।


তদন্তের একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্য ও ডিজিটাল যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে রোববার দুপুরে নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকা থেকে প্রধান আসামি জসিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে নিজ এলাকা থেকে অপর দুই আসামি রফিক ও মোজাম্মেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তার জসিমের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রোববার রাত সাড় ১০টার দিকে উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ‘গারোর ভিটা’ এলাকার জঙ্গলে অভিযান চালায় ফুলপুর থানা পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাথার খুলিসহ শরীরের বিভিন্ন হাড় এবং রাশেদুলের পরিধেয় একটি প্যান্ট ও গেঞ্জি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে পরনের পোশাক দেখে কঙ্কালটি রাশেদুলের বলে শনাক্ত করেন তার বাবা শাহজাহান।


এ ব্যাপারে শাহজাহান জানান, কিছুদিন আগে রাশেদুল, রফিক ও মোজাম্মেল একসঙ্গে একটি শসাখেতে কাজ করেছিলেন। কাজের পারিশ্রমিক বাবদ রফিক ৫০০ টাকা পেলেও রাশেদুলকে দেওয়া হয় মাত্র ১০০ টাকা। বাকি টাকা দিয়ে রফিক ইয়াবা কিনে সেবন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এই বিরোধের জের ধরেই তিনজনে মিলে রাশেদুলকে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে বলে পরিবারের দাবি।


ফুলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, উদ্ধার দেহাবশেষের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ডিএনএ আলামত সংরক্ষণ এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য হাড় ও আলামত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কিনা তা জানতে তদন্ত চলবে। 


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ৫ নম্বর ধাওয়া ইউনিয়নে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান। সভায় বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, দীর্ঘদিন জমে থাকা পানি অপসারণ এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. হাসিবুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক পর্যায়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশে কোনো পাত্র বা স্থানে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণের পাশাপাশি পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।


ইউএনও আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি, ইমাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারও মধ্যে ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি আহ্বান জানান।সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. নাজমুল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, ইউপি সদস্য এম এ কাইয়ুম জামান, মাহমুদুল ইসলাম রুবেল, প্রধান শিক্ষক মুজিবুর রহমান, ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী আবদুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ রেজাউল করিম, সাবেক সভাপতি আবদুর রশিদ খান ও ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. মাসুম বিল্লাহসহ অনেকে।


সভাটি সঞ্চালনা করেন ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা মো. আবদুল জলিল ফকির। সভায় উপস্থিত বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।