নরসিংদী জেলার মাধবদী উপজেলার ভগিরথপুর (নয়াপাড়া) এলাকায় একটি কারখানার ( মাসুম ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল) বিরুদ্ধে কালো ধোঁয়া ও শব্দদূষণের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে পরিবেশ অধিদপ্তর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া ও অতিরিক্ত শব্দের কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর সমাধান না হওয়ায় তারা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পরিবেশ দূষণের কারণে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। এখানে আরো উল্লেখ থাকে যে কারখানা সংলগ্ন একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে যা স্বাভাবিক পাঠদান কে ব্যাহত করে।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিযোগকারীরা। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি যাচাই করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মাসুম ভূঁইয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গিয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
সেনবাগ থানা
নোয়াখালীর সেনবাগে বাড়ির পাশের খেত থেকে সবজি আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চন্দ্রবানু (৫২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মেয়ে ডলি (২৬) বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের মতইন গ্রামের মনু মেম্বারের বাড়ির পাশে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের খেত থেকে সবজি আনতে গিয়ে সেচপাম্পের তারে পা পড়লে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন চন্দ্রবানু। এ সময় মাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মেয়ে ডলিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে দুজনকে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চন্দ্রবানুকে মৃত ঘোষণা করেন। ডলির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
সেনবাগ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) হযরত আলী মিলন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
উখিয়ার হলদিয়া পালং আবু তাহের সিকদারের ডেরায় বন বিভাগের অভিযান, মাটিভর্তি ডাম্পার ও চালক আটক করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে দোছড়ি বিট কর্মকর্তা ইমদাদুল হাসান রনি, ইসমাইল, ইলিয়াস ও আলীসহ একদল বনকর্মী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ভোর ৬ ঘটিকার সময় রেঞ্জের আওতাধীন হলদিয়া পালং বনবিটের পশ্চিম হলদিয়া পালং এলাকার মৃত সালামত উল্লাহ সিকদারের ছেলে আবু তাহের সিকদারের ডেরায় অভিযান চালিয়ে একটি মাটিভর্তি ডাম্পার গাড়ি জব্দ করেছে বন বিভাগ।
এসময় উক্ত পাহাড় কাটার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে একই এলাকার আমির হোসেন এর ছেলে ডাম্পার চালক আবুল কাশেম ড্রাইভারকে আটক করতে সক্ষম হলেও আন্ডার গ্রাউন্ডে থাকা শীর্ষ পাহাড় কেখো আবু তাহের সিকদার অভিযানের কবল থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বলে জানা গেছে।
উখিয়া বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান, মাটিভর্তি ডাম্পার গাড়ি জব্দ ও ডাম্পার চালককে আটকের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলার রুজু করে জেল হাজতে প্রেরন করা হবে বলে তিনি জানান।
বনভূমি দখল পাহাড় কাটা বালু উত্তোলন গাছ কাটা পরিবেশ ধ্বংসকারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান এ বনবিভাগের কর্মকর্তা।
রফিকুল ইসলাম মাদানী
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতের কবলে পড়েছেন ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। রোববার দিবাগত রাতে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় তিনি ডাকাতের কবলে পড়েন।
তবে তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি বলে ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক।
জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম মাদানি ডাকাতের কবলে পড়েন। তাৎক্ষণিক তিনি ফেসবুক লাইভে এসে তাঁকে রক্ষা করার আকুতি জানান।
তিনি লাইভে জানান, সড়কের মধ্যে বড় বড় পাথর ফেলে গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করা হচ্ছে। তাঁর গাড়ি একটু দূরে থাকায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন। ডাকাতরা রামদা নিয়ে ডাকাতি করছেন। এ সময় অন্য একটি গাড়ির চালকের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।
তিনি আরও জানান, ডাকাতদের দেখে তাঁর গাড়ি চালক গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে তারা রক্ষা পেয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান এসব তথ্য জানান।
ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই তদন্ত চলছে। আজও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিশু আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর সফিউদ্দিন রোডের মধ্য আউচপাড়ার অভিযান-১৯৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আহমদকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশু আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, রোববার আসামিপক্ষ থেকে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর দায়ের করা পৃথক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একদল লোক মাদরাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। ওই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত করছে পুলিশ।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তিনি আইনিভাবে মামলাটি মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে নিপীড়িত হয়েছে। আমি বিচার চাই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, রোববার দুপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, পুলিশ আছে। এখন কথা বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসিফ আকবর । ছবি - সংগৃহীত