ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৫৮ পিএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সিঁড়ি দিয়ে নামতে গিয়ে পড়ে ও পদদলিত হয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার আগে হাসপাতালের লিফটের কন্ট্রোল রুম থেকে আগুন লাগে। ধোঁয়া দেখে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সবাই সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে।


এ সময় ছয়জন পদদলিত হয়ে মারা গেছেন বলে কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাসপাতালে প্রতিদিন কিছু রোগী মারা যায়। এই মৃত্যুগুলো তেমনই।


হাসপাতাল সূত্রে এদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় জানা গেছে। এরা হলেন নেত্রকোনার পূর্বধলার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) এবং তারাকান্দার কুলসুমা (৩৫)। এ ছাড়া এক বছর  বয়সী শিশুর মৃত্যু হলেও পরিচয় মেলেনি।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আবদুল্লাহ আল-মামুন অবশ্য বলেছেন, পদদলিত হয়ে এই ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন।


তবে পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি জাহিদুল হাসান ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এখনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাইনি। যাদের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তথ্য নিশ্চিত হলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হবে।’ 


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম এদিন রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত আগুনে সরাসরি মৃত্যুর ঘটনা স্বীকার করেননি।


তবে হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বেসরকারি এক কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে এবং ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে ছয়জন মারা গেছে এবং ২০ জনের মতো আহত হয়েছে।


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, এদিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে নতুন আটতলা ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে আগুন লাগে। কন্ট্রোলার মেশিনের বোর্ডে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত উত্তাপের কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। কন্ট্রোল রুম থেকে বের হওয়া ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়লে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।


তিনি বলেন, খবর পেয়ে ময়মনসিংহ সদর, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ত্রিশাল, ঈশ্বরগঞ্জ স্টেশনসহ পাঁচটি স্টেশনের ১০টি ইউনিটকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের প্রতিটি তলায় তল্লাশি চালিয়ে আগুনের অবস্থান শনাক্ত করেন এবং পৌনে ৭টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।


ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, আগুন লাগার কারণ ও সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।








রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:৩৫ পিএম

সিলেটে পৌঁছে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এর আগে সকাল ১১টা ২৭ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা।


পরে সিলেট বিমানবন্দর থেকে রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর সিলেট সার্কিট হাউসের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে তাঁকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতি হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের উদ্দেশে রওনা হন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তার সেখানে পৌঁছে মাজার জিয়ারত করেন। এরপর তিনি হজরত শাহপরান (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন।


রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সিলেট নগরে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস এবং মাজার দুটির পথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর চলাচলের সময় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।


রাষ্ট্রপতির সফরসূচি অনুযায়ী, মাজার জিয়ারত শেষে তিনি সার্কিট হাউসে ফিরে কিছু সময় বিশ্রাম নেবেন। বিকেলে নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যায় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ছাড়ার কথা রয়েছে।

বাঞ্ছারামপুরে শিক্ষিকার বেত্রাঘাতে ছাত্রীর হাত ভাঙার অভিযোগ

‘পড়া পারেনি, তাই একটু শাসন করেছি’—দাবি অভিযুক্ত শিক্ষিকার


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:২৭ পিএম

‘পড়া পারেনি, তাই একটু শাসন করেছি’—শিক্ষিকার এমন ‘শাসনের’ পর নয় বছরের শিশু ইকরা মনির ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে প্লাস্টার করা হাত নিয়ে ব্যথা ও আতঙ্কে দিন কাটছে দ্বিতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর।


ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চর মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।


আহত শিক্ষার্থী ইকরা মনি ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী।


পরিবার ও ইকরা মনির ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন শ্রেণিকক্ষে পড়া চলাকালে রিডিং পড়া নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগম ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তিনি শ্রেণিকক্ষে থাকা বেত দিয়ে ইকরাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। বেতের আঘাতে পিঠ ও হাতে গুরুতর ব্যথা পেয়ে একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যায় শিশুটি। পরে সহপাঠী ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।


হাসপাতালে এক্স-রে করার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ভেঙে গেছে। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তার পুরো হাতে প্লাস্টার করা হয়।


শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি ঘটনার পর থেকে ইকরা ভীত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চর মানিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শামসুন্নাহার বেগম মুঠোফোনে বলেন, “পড়া পারেনি, তাই একটু শাসনের ব্যবস্থা করেছি। তাতেই হাত ভেঙে গেছে। ওটা ঠিক হয়ে যাবে। এসব নিয়ে সাংবাদিকদের টেনশন না করলেও চলবে। আমি অনিয়ম করলে স্কুল কমিটি দেখবে।”


তার বক্তব্যে শিশুটির হাত ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলেও ঘটনার জন্য কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।


এলাকাবাসী ও কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, অভিযুক্ত শিক্ষিকার আচরণ নিয়ে আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি ছিল। সামান্য ভুল বা পড়া না পারার কারণে শিক্ষার্থীদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অনেক অভিভাবক বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পাননি বলে দাবি করেছেন তারা।


এবার নয় বছরের এক শিক্ষার্থীর হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।


এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা শিশুটির পরিবারকে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ না করতে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


সন্তানের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন ইকরা মনির মা-বাবা। অটোরিকশাচালক বাবা-মায়ের কণ্ঠে ছিল অসহায়ত্ব আর ক্ষোভ।


তারা বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। গরিবের কে-বা বিচার করবে এই দেশে! মাস্টার-ম্যাডাম যদি অন্যায় করে থাকে, তাহলে ওপরওয়ালা আল্লাহই এর বিচার করবেন।”


ঘটনার বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ বলেন, “এটি খুবই বাজে করেছেন। আমি আগে জানিনি। এখন জানলাম। আমি এক্ষুনি খোঁজ নিচ্ছি। কালই একটা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৭ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে বেপরোয়া গতিতে চলার সময় ‘বাঁধন’ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে উল্টে গেছে। এতে বাসের প্রায় ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন।


সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সোয়া ২টার দিকে সোনাপুর–সুবর্ণচর সড়কের হারিছ চৌধুরী বাজারের উত্তর পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘বাঁধন’ পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রাম থেকে হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সোনাপুর–সুবর্ণচর সড়কে প্রবেশের পর বাসটির গতি ছিল অনেক বেশি। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে উল্টে খাদে পড়ে যায়।


দুর্ঘটনার পর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের উদ্ধার করে। তবে ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।


দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী দাবি করেন, সোনাপুর–সুবর্ণচর সড়কে প্রবেশের পর বাসটির গতি অনেক বেশি ছিল। একপর্যায়ে হেলপার বাসটি চালাচ্ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। অতিরিক্ত গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায় ।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত ৪-৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কামাল হোসেন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ২:১৩ পিএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা থেকে কামাল হোসেন (৪৬) নামে এক কাঠমিস্ত্রি ১৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। তবে নিখোঁজের পরদিন ঢাকার শাহবাগ থানা এলাকায় তার ব্যবহৃত মুঠোফোন পাওয়া গেছে।


নিখোঁজ কামাল হোসেন সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও ইউনিয়নের কাশীপুর গ্রামের ফেঞ্জু ব্যাপারী বাড়ির মো. রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় কাঠমিস্ত্রি।


পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কাশীপুর এলাকায় নিজ বাড়ির পাশ থেকে কামাল নিখোঁজ হন। এরপর স্বজনরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।


পরিবারের দাবি, নিখোঁজের পরদিন ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহবাগ থানা এলাকায় কামালের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি পাওয়া যায়। এরপর বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে পরিবার। এ ঘটনায় কামালের ভাই শাকিব সোনাইমুড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। কামালের সন্ধান পেলে তার ভাই শাকিবের সঙ্গে ০১৬৪০৭২৯১২১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।


সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কবির হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম
  • আপডেট : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম


আলাউদ্দিন নগর তহিরন হাসপাতালে বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা নিতে রোগীর ভিড়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:২৯ পিএম

‘গত বছর এক চোখের ছানি অপারেশন করছিলাম। এখানে টাকা-পয়সা লাগে না। সেবার মানও ভালো। আরেক চোখে ঝাপসা দেখছি। তাই আবার আসছি।’ কথাগুলো বলছিলেন ষাটোর্ধ্ব আজাহার আলী। চোখের চিকিৎসা করাতে তিনি এসেছেন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার আলাউদ্দিন নগরের তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এখানে আজাহার আলীর মতো অনেকেই বিনামূল্যে চিকিৎসা করিয়েছেন। প্রায় ২২ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে চক্ষুসেবা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।


গত রোববার হাসপাতালের সামনে দেখা যায়, কেউ লাঠি হাতে, কেউ আবার সন্তানের কাঁধে ভর দিয়ে এসেছেন। চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা, ছানি কিংবা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যায় চিকিৎসা নিতে হাসপাতাল চত্বরে ভিড়  মানুষের। তাদের কেউ এসেছেন মাইকের প্রচার শুনে। আবার কেউ এসেছেন সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে খবর দেখে।


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০০৪ সাল থেকে চক্ষুসেবা দেওয়া হচ্ছে। এখানে প্রতিবছরের মতো এবারও দুই দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে সহযোগিতা করছে আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশন, দ্য ফ্রেড হলোজ ফাউন্ডেশন ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল। দুই দিনে প্রায় চার হাজার মানুষ সেবা নিয়েছেন। তার মধ্যে অন্তত দুই হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হবে। এখানে ধনী-গরিব সব শ্রেণির মানুষই চিকিৎসা নিতে আসেন।


ফেসবুকে বিনামূল্যে চিকিৎসার খবর দেখে কুষ্টিয়ার জগতি থেকে এসেছেন গৃহিণী জেসমিন বেগম। তিনি বলেন, ‘ছানি কাটতে এক ক্লিনিক ৬০ হাজার টাকা চায়ছে। সবাই বলল আলাউদ্দিন নগরের বিনামূল্যের চিকিৎসা ভালো। সেজন্য আসছি। এখানে অনেক ভিড় দেখে মনে হচ্ছে চিকিৎসা ভালোই হয়।’


কুমারখালীর চাঁদপুর ইউনিয়নের মোহননগর পশ্চিমপাড়ার কৃষক ওহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মাইকে শুনে সকাল ৬টার দিকে এসেছি। ডাক্তার দেখানো, পরীক্ষা-নিরীক্ষা সব ফ্রি। একটা চশমাও দিয়েছে ফ্রি। যত্ন করে গাড়িতে খুলনা নিয়ে যায়, চিকিৎসা শেষে আবার কুমারখালী রেখে যায়।’ কুষ্টিয়ার উদিবাড়ি থেকে আসা মঞ্জুয়ারা খাতুন বলেন, ‘চোখে ছানি পড়েছে। বাইরের ডাক্তার ২৫-৩০ হাজার টাকা চায়ছে। কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ ফ্রি।’


তহিরন নেছা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জানান, অর্থের অভাবে যেন কোনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চোখের আলো নিভে না যায়, সেজন্য আলাউদ্দিন আহমেদ বিনামূল্যে এমন ক্যাম্পেইন চালিয়ে আসছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে বিনামূল্যে চক্ষুসেবা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ২২ হাজার ছানি অপারেশনের রোগী রয়েছেন। এ বছর প্রায় চার হাজার রোগীকে সেবাদানের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। তার মধ্যে দুই হাজার রোগীর ছানি অপারেশন করা হবে।


চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি রোগীদের নিবন্ধন, লাইনে শৃঙ্খলা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তায় কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। এমন মানবিক কর্মসূচিতে যুক্ত থাকতে পেরে আনন্দিত রুমা খাতুন। খুলনা বিএনএসবি হাসপাতালের সহকারী সার্জন ডা. মো. বাপ্পী বলেন, প্রতিবছরের মতো বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশনের ক্যাম্পেইন চলছে। এখানে বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি। 


আলাউদ্দিন আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ আলম জানান, ‘বাছাই করা রোগীদের খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হয়। থাকা, খাওয়া, যাতায়াত, চিকিৎসা সবই বিনামূল্যে। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন আয়োজন করা হবে।’


আলাউদ্দিন আহমেদ কলেজের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দানবীর আলাউদ্দিন আহমেদ মানুষের কল্যাণে মহৎ কাজ করে চলেছেন। এ রকম আরও কয়েকজন এগিয়ে এলে কেউ আর চোখের জ্যোতি হারাবে না।’






প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:০৭ পিএম

চট্টগ্রামে আন্তর্জাতিক অনলাইন প্রতারক চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৬৩ বিদেশি নাগরিকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন। সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়েছিল কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিসি)। শুনানি শেষে আদালত দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


কোর্ট পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব কান্তি দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।


গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে নগরের দক্ষিণ খুলশীর ২ নম্বর সড়কের বিশ্রাম ভবনের নিচতলায় স্টেড ফাস্ট কুরিয়ার লিমিটেডের কার্যালয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান।


কুরিয়ার সার্ভিসে বুকিং থাকা মালামাল তল্লাশি করে দুটি পলিব্যাগ থেকে ১১৮ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়। এর মধ্যে একটিতে ৬০ গ্রাম ও অন্যটিতে ৫৮ গ্রাম কোকেন ছিল। উদ্ধার করা কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।


এ ঘটনায় চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জের আব্দুর ওউফের ছেলে রিয়াদুল আহম্মেদ এবং ঢাকার দক্ষিণখানের কলিল বক্স রোডের মো. আলমগীরকে আসামি করে খুলশী থানায় মামলা করা হয়। পরে গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ এলাকার বাসিন্দা এস এম মহসিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।


কোকেনের চালান আটকের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। একপর্যায়ে এলআইসি শাখার গোয়েন্দারা খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি আটতলা ভবনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পান।


পাঁচ দিন গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর থানা-পুলিশ, কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট, এলআইসি শাখা, র‍্যাবসহ বিভিন্ন জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ওই ভবনে অভিযান চালান।


অভিযানে ভবনের প্রতিটি তলায় তৈরি করা সার্ভার স্টেশনে অনলাইন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস পাওয়া যায়। সেগুলো জব্দ করা হয়।


অভিযানে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কারও কাছে পাসপোর্ট পাওয়া যায়নি।


পরে তাদের সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার তাঁদের রিমান্ড শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।