একটি ফৌজদারি মামলার ঘটনায় ইতোমধ্যেই হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তদন্তকারী কর্মকর্তার (আই.ও) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও শৃঙ্খলাজনিত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছে।
আদেশে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আনোয়ার হোসেন পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন তদন্তটি গুরুতর অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ রেখেছে। যার ফলে আটক ব্যক্তির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে এবং তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের অধীনে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বেতাগী থানায় এক ব্যক্তির জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চাওয়ার ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছিল, যদিও সরকারি নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে ওই ব্যক্তি তখন কারাগারে ছিলেন।
অভিযুক্ত মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বনি আমিনকে ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি বরগুনা থানায় দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি ২০২৫ সালের ২০ মে পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে জেল হেফাজতে ছিলেন।
জেল হেফাজতে থাকা একজন ব্যক্তি কীভাবে কথিত অপরাধে অংশ নিতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি বিচারিক পর্যালোচনার আওতায় আসে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে আদালত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বেতাগী থানার উপ-পরিদর্শক মো. নজরুল ইসলামকে আপাত অসঙ্গতির ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেন এবং তাকে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের সামনে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে বলেন, তিনি তার সূত্রের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কাজ করেছেন, যার ফলে এই ত্রুটি ঘটেছে এবং এটি একটি সরল বিশ্বাসজনিত ভুল।
কিন্তু আদালত পর্যবেক্ষণ করে দেখেছে এটি কেবল একটি পদ্ধতিগত অনিয়ম নয়, বরং একটি মৌলিক ত্রুটি, যা বিষয়টির একেবারে মূলে আঘাত করে এবং দোষী পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক।
আদালত বরগুনার পুলিশ সুপারকে ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার (তদন্তকারী কর্মকর্তা) বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
পরবর্তী শুনানির জন্য মামলাটি ২৯ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে এবং এর মধ্যে বরগুনার পুলিশ সুপারকে (এসপি) আদালতে একটি সম্মতি প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’ উদযাপন উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলায় আলোচনা সভা ও দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের সব পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-২০২৭ আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে এ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না, উপজেলা প্রকৌশলী মফিজুর রহমান, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বীরেন্দ্রনাথ রায়, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রোকনুজ্জামান বকুল এবং ডিমলা থানার ওসি (তদন্ত) দিবাকর অধিকারীসহ অন্যান্য অতিথি।
আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসামান্য সাহিত্যকর্ম, দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও বিদ্রোহী চেতনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও দর্শন বাঙালির সাংস্কৃতিক ও জাতীয় জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিচর্চার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির হোসেন বলেন, মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। একটা ছেলে মাদকে জড়ালে শুধু সে নষ্ট হয় না, তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন, তার ভবিষ্যৎ সব শেষ হয়ে যায়। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। গাজীপুরের কালীগঞ্জে দক্ষিণ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে “মা সমাবেশ ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ” এসব বলেন।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে দক্ষিণ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আয়োজনে বিদ্যালয় পরিচালনা এডহক কমিটির জমিদাতা সদস্য মো. আল-আমিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন। প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেমিন আক্তার। তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবিদা সুলতানা। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইরশাদ মিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান ও তুমলিয়া ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. হামিদুর রহমান।
উদ্বোধনকালে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া বলেন, লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। নিয়মিত খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে ওঠে। তাই বিদ্যালয়ে খেলাধুলার পরিবেশ তৈরি সহ সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তুলতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম রহমান দক্ষিণ সোম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুশৃঙ্খলভাবে বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেমিন আক্তার বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
পরিশেষে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, খেলাধুলায় উৎসাহ প্রদান এবং ক্রীড়া কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে দক্ষিণ সোম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করা হয়। বিতরণ করা ক্রীড়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, বল, স্টাম্পসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার সরঞ্জাম। এসব সামগ্রী পেয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এ সময় বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রুস্তম আলী, ডা. মো. ইয়ামিন খান, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. সেলিম রেজা, ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস, শিক্ষক মন্ডলী, শতাধিক শিক্ষার্থী অভিভাবক সহ স্থাণীয় অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম
বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারি ও তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামকে সুসময়ে ধানকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান দলটির স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।
দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিভিন্ন প্রতিকূল সময়ে দলের পাশে থাকার কারণে তৃণমূল পর্যায়ে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামের একটি গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করছেন তাঁর সমর্থকরা। তাদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে থেকে নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন, সুসময়ে তাদের মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রত্যাশা, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম ধানকাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন, সাধারণ মানুষের সেবা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।
তাই আগামী দিনে ধানকাটি ইউনিয়নের নেতৃত্বে অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলামকে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তাঁর সমর্থকরা।
প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ভেঙে বেকার যুবক কোটিপতি
কক্সবাজার পর্যটন জোনের শরণ আবাসিক প্রকল্পে অবস্থিত ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’-এর ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরি, বিশ্বাসভঙ্গ, আমানত খেয়ানত এবং গেস্ট হাউসকে কেন্দ্র করে অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার মতো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। প্রবাসী বন্ধুর বিশ্বাস ও সহযোগিতাকে পুঁজি করে দীর্ঘদিন গেস্ট হাউসটি ভোগদখলে রেখে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নজরুল কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গেস্ট হাউসের মালিক কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর বাসিন্দা ফরিদুল আলম ভাড়াটিয়া নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন।
দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, নজরুল ইসলাম গেস্ট হাউসটি ভাড়া নেওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে সেখানে অবৈধ দেহব্যবসা ও প্রকাশ্যে ইয়াবার বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। এসব কর্মকাণ্ড সাংবাদিকদের নজরে আসার পর বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় একাধিক দৈনিকে একাধিকবার সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
বিষয়টি নজরে আসার পর গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে নজরুলকে গেস্ট হাউস ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। তবে ভাড়ার মেয়াদ শেষ না হওয়ার অজুহাতে দখল ছাড়তে আপত্তি জানান ভাড়াটিয়া। ২০২৫ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি গেস্ট হাউসের দখল ছাড়েননি বলে অভিযোগ। বরং লাঠিয়াল ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গেস্ট হাউসটি স্থায়ীভাবে দখলে রাখার চেষ্টা এবং প্রকৃত মালিকের ওপর বিভিন্ন মহলের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
এরই মধ্যে পূর্বের ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে কয়েকজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার অনুরোধে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত আরও ছয় মাসের জন্য বিশেষ শর্তে চতুর্থবারের মতো চুক্তি সম্পাদন করা হয়। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়-কোনো অবস্থাতেই বা কোনো অজুহাতে নজরুল ইসলামের সঙ্গে আর নতুন করে চুক্তি করা হবে না। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে পূর্বের বকেয়া প্রায় ৬ লাখ টাকা গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমকে পরিশোধ করার শর্তও দেওয়া হয়।
গেস্ট হাউস মালিক একাধিকবার বকেয়া টাকা পরিশোধ করে গেস্ট হাউসের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য ভাড়াটিয়াকে তাগাদা দিলেও নজরুল দখল ছাড়তে নানা তালবাহানা শুরু করেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত ভাড়ার মেয়াদ বাড়িয়ে মালিকের স্বাক্ষর জাল করে নতুন স্ট্যাম্প ও চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। এ সময় কতিপয় সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করে মালিক ফরিদুল আলমকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করা হয়েছে।
অবশেষে গত ১৩ আগস্ট গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমের উদ্যোগে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নজরুল ইসলামের কাছে থাকা চুক্তিপত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং সেটি জাল বলে অভিযোগ উত্থাপিত হয়। একই বৈঠকে গেস্ট হাউস মালিকের প্রায় ৬ লাখ টাকা পাওনা থাকার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরবর্তীতে নজরুল ইসলামকে গেস্ট হাউসের দখল ছেড়ে দিতে হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
তবে পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে এর আগেই রাতের আঁধারে গেস্ট হাউসের টেলিভিশন, চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন মালিকপক্ষ।
এরপর গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজার সদর মডেল থানায় উল্টো গেস্ট হাউসের মালিক ফরিদুল আলমসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন নজরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, নগদ টাকা, মোটরসাইকেল ও ৪ লাখ টাকার একটি চেকসহ তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গেস্ট হাউস থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, এসব ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবে গেস্ট হাউস মালিক ফরিদুল আলম ও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে পড়লেও অভিযোগগুলোর বিষয়ে সন্তোষজনক জবাব দিতে না পেরে একপর্যায়ে কৌশলে সংবাদ সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৬-১৭ বছর ধরে প্রবাসী বন্ধু ফরিদুল আলমের মালিকানাধীন গেস্ট হাউসটি নামমাত্র ভাড়ায় ভোগদখল করে আসছেন নজরুল ইসলাম। ২০১৭ সালে বছরে ৫ লাখ টাকা ভাড়ায় প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়। এরও প্রায় সাত বছর আগে থেকে গেস্ট হাউসের মালিক বিদেশে অবস্থান করায় বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে নজরুলকে গেস্ট হাউসটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলে মালিকপক্ষের দাবি।
প্রথম চুক্তিপত্রে প্রথম বছরের ভাড়া ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তী প্রতিটি বছর মূল ভাড়ার সঙ্গে আরও ৫০ হাজার টাকা করে যোগ হওয়ার শর্ত ছিল।
মালিকপক্ষের অভিযোগ, ওই চুক্তিপত্রে থাকা ফরিদুল আলমের স্বাক্ষর নকল করে পরবর্তীতে একাধিক চুক্তিপত্র তৈরি করা হয় এবং এভাবে গেস্ট হাউসের ভাড়ার মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এর মাধ্যমে বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘সাগর কান্তা গেস্ট হাউস’কে কেন্দ্র করে পর্যটকদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধভাবে প্রতারণারও অভিযোগ রয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, পতিতা ও হিজড়াদের ভাড়া করে সমুদ্রসৈকতে পাঠানো হতো। সেখানে উঠতি বয়সী পর্যটক ও যুবকদের বিভিন্নভাবে প্রলোভিত করে গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হতো। পরে তাদের রুমে নিয়ে গিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আবার কোনো কোনো পর্যটককে ইয়াবা দিয়ে প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করার ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গেস্ট হাউসটিকে একটি অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত করে বিপুল অর্থ উপার্জনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ মালিকপক্ষের।
তবে নজরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অন্যদিকে মালিকপক্ষের অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য এবং অন্যান্য নথিপত্রে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও বিশ্বাসের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া একটি গেস্ট হাউস পরিচালনার দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত ভাড়াটিয়া-মালিকের মধ্যে বিরোধ, চুক্তিপত্র জালিয়াতি, দখল নিয়ে টানাপোড়েন এবং অনৈতিক ব্যবসার অভিযোগে গড়িয়েছে। মালিকপক্ষের দাবি, বেকার যুবক নজরুল ইসলাম ওই গেস্ট হাউসকে ব্যবহার করে অনৈতিক ব্যবসার মাধ্যমে রাতারাতি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন।
ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দায়-দায়িত্ব নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
লালপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে লালপুরের ১০টি ইউনিয়ন ও গোপালপুর পৌরসভার উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে স্থানীয় কার্যালয়ে ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী হোসেন, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরীফুল ইসলাম, লালপুর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা ফয়সাল আহমেদ, ২ নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মুনছুর আলী মন্ডল, রেজাউল করিম রাঙ্গা, কামরুল ইসলাম, ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফেজ্জল হোসেন, আব্দুল মমিন প্রমুখ।
দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বিলমাড়ীয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা সুলতান মাহমুদ সাঈফী। লালপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে বিকেলে লালপুর শ্রী সুন্দরী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, নাটোর ১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল।
ঢাকার সাভারে ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি থেকে নেওয়া ঋণের ৩০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়ায় আহসান উল্লাহ স্বপন (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে জখম ও তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত স্বপন সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার এ ঘটনায় স্বপনের পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
স্বপন সাভার পৌর এলাকার বক্তারপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় বংশী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেডের সহ-সভাপতি।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে বক্তারপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন বংশী ক্ষুদ্র সমবায় সমিতি লিমিটেড থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নেন। চুক্তি অনুযায়ী, ১২০ দিনের মধ্যে ওই ঋণ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও তিনি টাকা পরিশোধ করেননি।অভিযোগে বলা হয়, ঋণের টাকা ফেরত চাইলে ফারুক ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে স্বপনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্বপনের পরিবারের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে এলাকায় লোডশেডিং চলাকালে স্বপন বাড়ির গেটের সামনে হাঁটাহাঁটি করছিলেন। এ সময় ফারুকসহ অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সেখানে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান।রফিক নামের একজন পেছন থেকে সুইচগিয়ার দিয়ে স্বপনের ঘাড়ে আঘাত করেন। পরে নজরুল ও কুট্টি মোল্লা নামের দুই ব্যক্তি রামদা দিয়ে তাঁর মাথা, বাম গাল ও বাম হাতে আঘাত করেন।
স্বপনের ছেলে মেহেদী হাসান শ্রাবণ জানান, হামলার একপর্যায়ে তাঁর বাবা মাটিতে পড়ে গেলে ফারুক ও তাঁর ছেলে ফয়সাল ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুরুষাঙ্গ কেটে দেন। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা তাঁদেরও মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।
মেহেদী হাসান শ্রাবণ আরও জানান, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর বাবাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
যোগাযোগ করা হলে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা বলেন, আহসান উল্লাহ স্বপন নামের এক রোগী তাঁদের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াহাব বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তখন অস্ত্রোপচারকক্ষে তাঁর অস্ত্রোপচার চলছিল। তাই বিস্তারিত জানতে পারিনি। তবে প্রাথমিকভাবে পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকদের কাছ থেকে জেনেছি, স্বপনের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্রঋণ সমিতি থেকে নেওয়া ৩০ হাজার টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে আহসান উল্লাহ স্বপনের ওপর হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।