মোহাম্মদ আলম
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চার হাজার পিস ইয়াবাসহ মোহাম্মদ আলম (৩৫) নামের এক রোহিঙ্গা যুবককে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১১-এর ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-৩ (এসআরবি-১১, সিপিসি-৩)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, কক্সবাজারের টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির থেকে ইয়াবা নিয়ে তিনি নোয়াখালীর হাতিয়ায় যাচ্ছিলেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা জামে মসজিদের পূর্ব পাশে শফিউল্লাহর চা-পান-সিগারেটের দোকানের সামনে সড়কে এ অভিযান চালানো হয়।
গ্রেপ্তার মোহাম্মদ আলম কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার লেদা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরের মো. আলী হোসেনের ছেলে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিএনসি ও এসআরবি-১১, সিপিসি-৩-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন মোহাম্মদ আলমকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তার কাছ থেকে চার হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। আসামির ভাষ্য অনুযায়ী, শরণার্থী শিবির থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে হাতিয়ায় নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি রওনা হয়েছিলেন। তবে ইয়াবাগুলো কার কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং হাতিয়ায় কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদকের উৎস ও এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সংশ্লিষ্ট সারণির ১০(খ) ও ২৬ (১) ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
গাজীপুরের সফিপুরে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আজ শনিবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসে আগুন লাগে। তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
সারা দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করায় উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ে ১৭ অক্টোবর (শনিবার) দুপুরে বকশীবাজারস্থ মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা'র চেয়ারম্যান এর দপ্তরে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এর চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু ও সাধারন সম্পাদক মো: সেলিম মিয়ার সাথে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এর মত বিনিময় করেন।
নেতৃদ্বয় সাম্প্রতিককালে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা সংক্রান্ত জারি করা পরিপত্র দ্রুত প্রত্যাহার করে সারাদেশে স্কুল, কলেজের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ঘোষণার দাবি জানান। অন্যথায় অভিভাবকরা আইনগত পদক্ষেপসহ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে।
এর জবাবে চেয়ারম্যান মহোদয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন যে, বিগত সরকারের আমলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার প্রবিধানমালার সংস্কার কার্যক্রম চলছে এবং এ সংক্রান্ত সংশোধনীয় প্রবিধানমালা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রায় দেড়মাস আগে দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দের ব্যস্ততায় সংশোধিত প্রবিধানমালা চুড়ান্ত করতে না পারায় নির্বাচন স্থগিতের পরিপত্র জারি করতে বাধ্য হয়েছি। সরকার অতিদ্রুত এ বিষয়টি চুড়ান্ত করে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি অভিভাবক ঐক্য ফোরাম এর নেতৃবৃন্দের দায়িত্বশীল কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রের অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার পরামর্শ দেন।
এ সময় অভিভাবক ঐক্য ফোরাম সভাপতি বোর্ড চেয়ারম্যান এর নিকট বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা প্রবিধানমালায় অনিয়ম দূর্নীতির কারনে গভর্নিং বডির ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ সদস্যগনের শাস্তির বিধান চালু করা, নির্বাচিত ও এডহক কমিটিতে অভিভাবক সদস্যের ক্ষেত্রে (৫ম, ১০ম, দ্বাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা নির্বাচিত/মনোনীত হতে পারবে না, এমপিও ব্যতীত শিক্ষকগন শিক্ষক প্রতিনিধি হতে পারবে না, এডহক কমিটির সভাপতি ও সদস্যগন চলমান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে না এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান। তারা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডিকে অনিয়ম দূর্নীতি করলে বিভিন্ন মেয়াদী শাস্তির আওতায় আনতেও অনুরোধ জানান।
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চিত্রকোট ইউনিয়নে গিরিনগরে শিশুদের খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে প্রায় ৫০০ গ্রামবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সারে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেও ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধনে চিত্রকোট ইউনিযনের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওযার্ডের সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন।
শিশুদের খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে প্রতিবাদ করায় বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে গিরিনগর জোনাকি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল মোল্লার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদও করেছেন এ মানববন্ধন।
মানববন্ধনে এলাকাবাসী বলেন, প্রায় ৬৪ বছর ধরে গিরিনগর জোনাকি সংসদের খেলার মাঠটি তিন গ্রামের শিশু-কিশোর ও সাধারণ মানুষ ব্যবহার করে আসছেন। মাঠটি এলাকার শিশুদের খেলাধুলা, বিনোদন এবং সামাজিক কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এ মাঠ রক্ষা করা শুধু একটি জায়গা রক্ষা নয়, বরং আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়।
তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহৃত জায়গাটি দখলের চেষ্টা চলছে। যারা মাঠের মালিকানা দাবি করছেন, তাঁদের বৈধ কাগজপত্র দেখানোর আহ্বান জানান এলাকাবাসী। তাঁরা বলেন, বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা হলে বিষয়টি মেনে নেওয়া হবে। অন্যথায় বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জমির মূল্য পরিশোধ করে মাঠটি রক্ষার বিষয়েও তাঁরা আগ্রহী।
চিত্রকোট ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও এলাকার অভিভাবক মোঃ খোরশেদ আলম বলেন, আমাদের সন্তানদের খেলাধুলার জন্য এই মাঠটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে তারা এখানে খেলাধুলা করে আসছে। মাঠটি দখল হয়ে গেলে শিশুদের খেলার জায়গা থাকবে না। আমরা চাই, মাঠটি রক্ষা করা হোক এবং বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধান করা হোক।
আরেক অভিভাবক চিত্রকোট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিনবলেন, প্রায় ৬৪ বছর ধরে তিন গ্রামের মানুষ এই মাঠ ব্যবহার করছেন। মাঠটি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। কুদ্দুস বেপারী, মোঃ বাদল, নাসির বেপারী, মাহমুদুল হাসান মৃদুল, আফসানা ইনাম আশা, ফেরদৌস বেপারী, মোঃ বাঁধনসহ যাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র দেখান। কাগজপত্র যাচাই করে ন্যায়সংগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক।
শহিদুল ইসলাম বাবু ও মাসুদ রানা বিপ্লব দুইজন অভিভাবক বলেন, আমরা কোনো ধরনের সংঘাত চাই না। আমরা চাই, প্রশাসন জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত বিষয়টি উদ্ঘাটন করুক। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ভূমিকা কামনা করছি।
গিরিনগর জোনাকি সংসদের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল মোল্লাা বলেন, এই মাঠের সঙ্গে তিন গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। প্রায় ৬৪ বছর ধরে মাঠটি এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মাঠ রক্ষার দাবিতে কথা বলায় আমাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা চাই, প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরা হোক এবং কোনো পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া না হোক।
যাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন, তাঁরা বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করুন। কাগজপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ সমাধান হোক। আমাদের উদ্দেশ্য কারও সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করা নয়; আমরা চাই, শিশুদের খেলার মাঠটি রক্ষা পাক এবং এলাকার মানুষ ন্যায়বিচার পান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা মাঠটির মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠটি রক্ষার দাবি জানান তাঁরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান। গতকালশুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর উপজেলার গয়াবাড়ি ইউনিয়নের কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় মন্দির, বড় হরিসভা পাড়া, ঝুমঝুম পাড়াসহ কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি পূজার সার্বিক পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন।
সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্যাপন নিশ্চিত করতে বিজিবির পক্ষ থেকে এ নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পূজামণ্ডপে আগত ভক্ত-দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ডিমলা উপজেলার সীমান্ত থেকে আট কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত ১১টি পূজামণ্ডপ রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর থানারহাট কোম্পানির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এসব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় চার প্লাটুনে মোট ১২০ জন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, নিয়মিত নজরদারি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
৫১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমানের নেতৃত্বে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে থানারহাট বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি ও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন এসআইপি সিপাহি শিব্বির আহম্মদ।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, “শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫১ বিজিবি সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে সবাই শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।”
গয়াবাড়ি ইউনিয়নের শুটিবাড়ি বাজার সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি শ্রী কনাই লাল কর্মকার বলেন, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিজিবি সদস্যদের তৎপরতা ও পূজামণ্ডপ পরিদর্শন আমাদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ে আস্থা বাড়িয়েছে। আমরা চাই, সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপন করুক। এ জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির এ তৎপরতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের পারস্পরিক সহযোগিতায় ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়িয়াপুর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে উপজেলার ঘাগোয়া ইউনিয়নের হাট দাড়িয়াপুর এলাকায় হাট বাজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়েছে। উক্ত আয়োজনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, গ্রাম পুলিশ, শিক্ষার্থী ও স্কাউটস সদস্যসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সবুজ কুমার বসাক, উপজেলা কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম, সহকারী কমিশনার(ভূমি) নাজমুস শাহাদাত ফাহিম, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মারজান সরকার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পিটন, ঘাগোয়া ইউপি চেয়ারম্যান(ভারপ্রাপ্ত) শফিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় বক্তারা উপস্থিত জনতা ও পথচারীদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বসবাসের স্থানগুলো যেন সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখা হয় সে বিষয়ে আহবান করা হয়।
মির্জা ফয়সল আমিন
ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঠাকুরগাঁও এক আসনের ধানের শীষের সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিন। তিনি বলেন বিরোধী দলকে ভোট দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে তাই আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন।
আজ শনিবার (১৭অক্টোবর) রায়পুর ইউনিয়নের মৌলানি-চুনিহারি বাজার সংলগ্ন এলাকায় নির্বাচনী পথসভায় কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফয়সল বলেন বিরোধী দলকে সরকার বেশি উন্নয়নমূলক কাজ দিতে চায় না। কারণ তারা সরকারকে সব সময় গালিগালাজ করে। সরকারের বিপক্ষে লেগে থাকে। তাই এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন। এ সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাস হয়েছে এই ছয় মাসেই ঠাকুরগাঁও পঞ্চগড় দিনাজপুরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ হচ্ছে। তিনি আরোও বলেন ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, একটি ইপিজেড একটি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালু সহ অনেক অনেক বড় বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। রাস্তাঘাট ও মসজিদ মন্দিরে অনেক অনদান দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্প গুলো কাজ শেষ করতে পারলে ঠাকুরগাঁয়ের হাজার হাজার বেকার লোকদের কর্মসংস্থান হবে তাই না? তাই এই এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে আপনারা সবাই ধানের শীষে ভোট দিবেন তো? একথা বলেন তিনি।
প্রচারণায় মির্জা ফয়সল আমিন বলেন, সরকারি দলের প্রার্থী হিসেবে তিনি ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন। তাকে নির্বাচিত করে সংসদে পাঠানো হলে এলাকার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি হবে। বিরোধী দল নির্বাচিত হলে উন্নয়নকাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগিয়ে নেওয়া কঠিন হতে পারে।
এসময় তিনি এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন। স্থানীয় মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার কথা শোনার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপ-নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের প্রচারণা চলছে। ভোটারদের সমর্থন আদায়ে প্রার্থীরা নিজেদের পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। প্রচারণাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রমও গতি পাচ্ছে।