কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত
কুমিল্লার লাকসামে নাওটি রেলওয়ে স্টেশনের আউটারে কর্ণফুলী কমিউটার ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা অভিমুখী আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে ডাউনলাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক আছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ট্রেনটির যাত্রীরা।
দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজিব চন্দ্র কর। তিনি জানান, ট্রেনটির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ওসি আরও জানান, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধারে রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর কাজ শুরু করা যাবে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আপলাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। ডাউনলাইনে চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন-সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য’ বিষয়ক সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় তেঁতুলিয়া উপজেলা সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। সভাপতিত্ব করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন। এসময় সভায় বক্তব্য রাখেন তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহরাব আলী।
প্রশিক্ষক ও রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর।
সেমিনারে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার মধ্যে সমন্বয় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা, আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়ানোর পাশাপাশি নৈতিক, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নোয়াখালীর সুবর্ণচরে সিম খেতের ঘাস পরিষ্কার করার কাজ করতে গিয়ে মো. সাহেদ (১৭) নামে এক কিশোর দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চর নোমান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সাহেদ একই গ্রামের মো. খলিলের ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
নিহতের মামা জাকের আহমেদ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাড়ির পাশের মনির নামে এক ব্যক্তির সিম খেতে ঘাস পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন সাহেদ। সকাল ১০টার দিকে খেতের মালিকের স্বজনেরা তার জন্য নাশতা নিয়ে যান। এ সময় তারা সাহেদকে খেতের মধ্যে হাঁটুপানিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি সাহেদকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্বজনদের প্রাথমিক ধারণা, কাজ করার সময় স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের সজনগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুসকে গ্রেপ্তারের জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার গ্রামের বাড়ি সজনগাঁওয়ে অভিযান চালায় ভালুকা মডেল থানা-পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে গ্রেপ্তারের পর আব্দুল কুদ্দুস নিজেকে জামিনে রয়েছেন বলে দাবি করেন। এ সময় পুলিশ তার কাছে জামিনের কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে গড়িমসি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে আব্দুল কুদ্দুসের স্বজনরা পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা বাধা দিলে তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আব্দুল কুদ্দুসকে ছিনিয়ে নিয়ে যান তারা।
এ ঘটনায় পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল বাকিরুল আহত হন। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করেন। পরে রাত ৯টার দিকে তাদের ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত এএসআই রাহিদুল ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, মাদক মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের দুই সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে আহতদের উদ্ধার করা হয়েছে। তারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১ হাজার পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উদ্ধার করা এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক জব্দমূল্য ২ লাখ টাকা।
বুধবার (২১ অক্টোবর ২০২৬) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ফকিরগঞ্জ বিওপির সদস্যরা সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতব্যাপী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ১ হাজার পিস ভারতীয় নেশাজাতীয় ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার করা ট্যাবলেটের জব্দমূল্য ২ লাখ টাকা। এ ঘটনায় উদ্ধার করা মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালানমুক্ত সীমান্ত গড়ে তুলতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।
সীমান্ত অপরাধ দমনে ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নিয়মিত বিশেষ অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারী আরও জোরদার করা হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অপরাধ দমনের পাশাপাশি সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊনি-১ শাখার উপসচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক এক আদেশে তার বিষয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়। আদেশ জারির পর মঙ্গলবারই (২০ অক্টোবর) রাজশাহী ছেড়েছেন ইউসুফ আলী। আর ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রেজাউল আলম সরকারকে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগে তাকে সরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকালে রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে প্রটোকল দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে।
প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের উদ্দেশে রাজশাহী ত্যাগ করার পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিভাগীয় কমিশনারের প্রটোকল ভঙ্গের চেষ্টার ভিডিও। যেটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা হয়।
পরে সরকারি প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গজনিত কারণে রাতেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। যদিও আদেশে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। উল্লেখ্য, ২০ আগস্ট অতিরিক্ত সচিব মো. ইউসুফ আলীকে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রংপুরের কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার বিকাল ৩টার দিকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরে নামেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সফরসঙ্গীরা। এ সময় রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকের বাইরে উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতাকর্মীসহ উর্ধ্বতন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক এক করে হাত মেলান। ওই সময় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. ইউসুফ আলী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মেলানোর পর তার সঙ্গে কোলাকুলির (জড়িয়ে ধরা) চেষ্টা করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই সুযোগ না দিয়ে সরিয়ে দেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এই প্রটোকল ও শিষ্ঠাচার ভঙ্গের চেষ্টায় প্রটোকলের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা ক্ষুব্ধ হন। উপস্থিত দলীয় নেতাকর্মী ও সংসদ সদস্যগণও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের আদেশ হাতে পেয়ে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী ঢাকার উদ্দেশে রাজশাহী ছাড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান।
অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একজন মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় কমিশনার একজন সরকারি কর্মকর্তা। সরকারি প্রটোকল তার জানা থাকার কথা। কিন্তু তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করার চেষ্টা করেন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় কমিশনারকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়।
মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই ইকো রিসোর্টের নামে এভাবে হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে
পর্যটকের ঢল আছে, কিন্তু নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতের ব্যবস্থা নেই– দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজারের চিত্র অনেকটা এমনই। যত্রতত্র হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ নির্মাণ, নিয়মনীতি না মানা এবং প্রশাসনের দুর্বল নজরদারিতে বাড়ছে ঝুঁকি। ইনানীতে টুপটুপ রিসোর্টে আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু নিরাপত্তা ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার ঘাটতিকে জোরালোভাবে সামনে এনেছে। দক্ষিণ এশিয়ার নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা ছাড়াও বিশ্বের বহু দেশের অর্থনীতির ভিত্তির অন্যতম স্তম্ভ পর্যটন খাত। কিন্তু দেশের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা কক্সবাজার সেই স্তরে পৌঁছাতে পারছে না। একটি আদর্শ পর্যটন শহরে যা কিছু বিদ্যমান থাকার কথা, তার অধিকাংশ কক্সবাজারে অনুপস্থিত।
অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির অভাব রয়েছে। কারণ দর্শানোর নোটিশ ও জরিমানার মধ্য দিয়ে অনেকে পার পেয়ে যায়। কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন বলছে, অনুমোদনহীন হোটেল, রিসোর্টের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সমন্বিত অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। পূজার ছুটির পর সব সংস্থা মিলে এটি শুরু হবে। এর আগে শনিবার হোটেল, রিসোর্ট মালিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবে স্থানীয় প্রশাসন। নিরাপদ পর্যটনের জন্য করণীয় বিষয়ে সেখানে উঠে আসবে। টুপটুপ ট্র্যাজেডির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজারে ঠিক কতগুলো হোটেল রিসোর্ট রয়েছে এটা বলা কঠিন। কারণ, আমরা প্রতিদিন সার্ভে করি না। কিন্তু অনেকে রাতারাতি হোটেল, রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন। তবে কক্সবাজারে সব মিলিয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ হোটেল, রিসোর্ট ও মোটেল রয়েছে। অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে অভিযান চালানো হয়। পূজার ছুটির পর আমরা বড় পরিসরে অভিযান চালাব।’
তিনি বলেন, ইকো রিসোর্টের প্রতি পর্যটকের আগ্রহ বেশি। চাহিদা বেশি থাকায় অনেকে রাতারাতি ইকো রিসোর্ট তৈরি করে ফেলেন।
তিনি বলেন, কক্সবাজার শহরের বাইরে বাস টার্মিনাল থাকলে অনেক সময় পর্যটকদের অনুরোধের কারণে যাত্রীদের নিয়ে বাসগুলো শহরে প্রবেশ করে। পর্যটকরা তাদের হোটেলের সামনে বা কাছাকাছি স্থান থেকে বাসে উঠতে চান।
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড়-বাইশারী সড়কে সোমবার যানবাহন থামিয়ে দুই দফায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দুপুর ও বিকেলে হিমছড়ি ঢালা এলাকায় প্রায় ৫০টি যানবাহনের যাত্রীরা ডাকাতদের কবলে পড়েন। ভুক্তভোগীরা জানান, ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়। কয়েকজন যাত্রীকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে মারধর করে। ১০ থেকে ১২ জনের মুখোশ পরা এক দল সশস্ত্র ডাকাত সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল থামিয়ে যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। কক্সবাজারে এই ঘটনায় পর্যটকদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কক্সবাজারে অনিরাপদ পর্যটনের পেছনে বেশ কিছু কারণ দায়ী। এর মধ্যে আছে, সৈকতসহ পুরো শহরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব। পর্যটকদের টার্গেট করে একের পর এক গড়ে উঠেছে হোটেল, রিসোর্ট ও কটেজ। অগ্নিনিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে পর্যটকরা সেখানে রাত কাটাচ্ছেন। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে গড়ে উঠেছে খাবার হোটেল। মেরিন ড্রাইভের পাশে জমি কিনছেন প্রভাবশারীরা। এখানকার প্রায় ৯০ শতাংশ আবাসনে বৈধ ফায়ার লাইসেন্স নেই। সৈকতজুড়ে প্লাস্টিক বর্জ্য, চিপসের প্যাকেট ও নানা আবর্জনা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। বেশির ভাগ হোটেল ও রেস্তোরাঁর কোনো সুনির্দিষ্ট পয়োনিষ্কাশন ও তরল বর্জ্য শোধনাগার নেই। এ ছাড়া মেরিন ড্রাইভের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) অবৈধভাবে বহু রিসোর্ট গড়ে উঠেছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও পর্যটন জোনিংয়ের অভাব কক্সবাজারের কলাতলী থেকে লাবনী পয়েন্ট পর্যন্ত এলাকা এখন একটি ‘কংক্রিটের জঙ্গলে’ পরিণত হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট কোনো পর্যটন জোনিং বা মহাপরিকল্পনা না থাকায় যত্রতত্র বহুতল ভবন উঠছে। পাহাড় কাটা, বালিয়াড়ি দখল এবং বাঁকখালী নদী ভরাটের মতো পরিবেশবিধ্বংশী কর্মকাণ্ড শহরের স্বাভাবিক প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। সৈকতে হকার, ভিক্ষুক এবং অপেশাদার গাইডদের কারণে পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন। ছুটির দিনগুলোতে পর্যটকের চাপে মেরিন ড্রাইভ সড়ক এবং শহরের মূল পয়েন্টগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। হাজার হাজার অটোরিকশা হয়ে উঠছে দুর্ঘটনার কারণ। আবার পর্যটকদের জন্য খোলা গাড়ি শহরের ভেতরে যেখানে সেখানে পার্কিং করে রাখা হচ্ছে।
সমুদ্র সৈকতের চোরাবালি ও অদৃশ্য গর্তে ডুবে প্রতিবছরই পর্যটকের মৃত্যু হচ্ছে। কক্সবাজার সমুদ্রে ভাটার সময় লাল পতাকা বা বিপৎসংকেত থাকার পরও অনেক পর্যটক তা মানছেন না, আর সেখানে লাইফগার্ডের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। ছুটির দিনগুলোতে বা পর্যটনের ভরা মৌসুমে হোটেল ভাড়া কয়েকগুণ করা হয়। এর জন্য একটি কার্যকর ভাড়ার রেগুলেটরি বোর্ড থাকা প্রয়োজন। কতজন পর্যটক আসছেন, তার সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা ডেটাবেজ আমাদের কাছে নেই। তথ্যের অভাবে কোনো সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। গত চার-পাঁচ দিনে সৈকতের সুগন্ধা, লাবণি ও কলাতলী পয়েন্টে চার শতাধিক দোকান-রেস্তোরাঁ বসানো হয়েছে। সৈকতের ঝাউবাগান ও অন্যান্য বালিয়াড়ি দখল করে আরও দোকান নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, দেশে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন ১৩টি এলাকার একটি কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে এমন যে কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন, মাটি, পানি ও বায়ুর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন বা নষ্ট করতে পারে– এমন সব কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান মুজিবুল হক বলেন, কক্সবাজার সৈকতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ না করা এবং স্থায়ী ও অস্থায়ীভাবে নির্মিত সব স্থাপনা ভেঙে ফেলার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া ২০১৩ সালে কক্সবাজারে একটি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করে সরকার।
তিনি বলেন, এ মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী কক্সবাজার পৌরসভা এলাকার জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে সৈকতসংলগ্ন প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জোনে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এর পরও সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হচ্ছে, যা দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
শহরের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোন এলাকায় রাস্তার পূর্ব পাশে নয়তলা বিশিষ্ট তারকা মানের আবাসিক হোটেল ‘উইন্ডি টেরেস’। ২০১২ সালের ২২ জানুয়ারি এ হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ছাড়পত্রবিষয়ক কমিটির ৯৪তম সভার সিদ্ধান্ত মতে ১২ শর্তে এ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল, স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট অর্থাৎ পয়োবর্জ্য শোধনাগার স্থাপন করে এর নকশা এবং কার্যকারিতা প্ল্যান পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। এ ছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ ইমারত নির্মাণ বিধিমালার আলোকে ভবন নির্মাণ করতে হবে। এসব শর্তে ভবন নির্মাণ কাজ শেষ করে আবাসিক হোটেল হিসেবে পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৯ জানুয়ারি ২০২৫ সাল পর্যন্ত পরিবেশ ছাড়পত্রের নবায়নও করা হয়। কিন্তু ২০২৫ সালের পর এ হোটেলের পরিবেশ ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
২০ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয় থেকে হোটেল উইন্ডি টেরেস কর্তৃপক্ষকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়, পয়োবর্জ্য শোধনাগারের ড্রয়িং, ডিজাইন ও ক্যালকুলেশন, হালনাগাদ আয়কর প্রত্যয়নপত্র এবং এসটিপি নির্মাণের অগ্রগতির কাগজপত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, পাঁচ কার্যদিবসের পর ৯ মাস পার হলেও তারা কোনো কাগজপত্র পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেয়নি। এসব কাগজপত্র জমা দিতে না পারলে পরিবেশ ছাড়পত্র আর নবায়ন করা হবে না। পরে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৪৪টি আবাসিক হোটেলকে পরিবেশ ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শর্তপূরণ করতে না পারায় ২৯ হোটেলের ছাড়পত্র নবায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। বর্তমানে ১৫টি হোটেলে পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। কক্সবাজার পৌরসভার ১১ কিলোমিটার সড়কে ২৩ হাজারের বেশি তিন চাকার যান চলাচল করে। এর বাইরে দূরপাল্লার আরও চার শতাধিক গণপরিবহন, পাঁচ হাজারের বেশি মিনিবাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কার-জিপ চলাচল করে। টানা কয়েক দিনের ছুটিতে যখন কক্সবাজারে পাঁচ থেকে ছয় লাখ পর্যটকের সমাগম ঘটে, তখন যানবাহনের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বেড়ে যায়। কক্সবাজার শহরে তিন হাজার ইজিবাইক চলতে পারে। কিন্তু এখন চলছে ২৩ হাজার। গত এক বছরে লাফিয়ে লাফিয়ে এসব যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। শহরের বাইরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে মাত্র দুই শতাধিক বাস রাখার জায়গা রয়েছে। অবশিষ্ট গাড়ি ফেলে রাখা হয় বাইপাস, কলাতলী ও সৈকত সড়কের দুই পাশে।
পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছৈয়দুল হক আজাদ বলেন, এক যুগ আগে শহরে চলাচলের জন্য পৌরসভা কর্তৃপক্ষ তিন হাজার ইজিবাইকের লাইসেন্স দিয়েছিল। সম্প্রতি আরও ৫০০ ইজিবাইকের লাইসেন্স দেওয়া হয়। কিন্তু শহরের অভ্যন্তরে চলাচল করছে ২০ হাজারের বেশি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ইজিবাইক জব্দ করা হলেও গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের গণি জানান, কক্সবাজার শহরে চলাচল করা তিন চাকার গাড়িগুলোয় ব্যাটারি চার্জ দিতে দৈনিক দুই থেকে তিন মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। শহরের নানা জায়গায় গ্যারেজে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়।
কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, তিন চাকার যান এতই বেড়েছে যে সড়কে হাঁটার জায়গাও পাওয়া যায় না। শহরের লালদীঘিরপাড় থেকে বার্মিজ মার্কেট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার সড়ক যেতে দুই থেকে তিন ঘণ্টা লেগে যায়। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় অ্যাম্বুলেন্সও আটকা পড়ে। যানজটের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।