গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ ৫১নং ওয়ার্ড বিএনপির একটি পার্টি অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও কুপিয়ে জখমের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত মোঃ মোজাম্মেল লস্কর (৪৯) টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মোজাম্মেল লস্কর সাতাইশ এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী। গত কয়েক মাস ধরে মোঃ বেলাল খান (৩৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৩২)-এর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। স্থানীয়রা জানান, বেলাল খান নিজেকে যুবদলের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গতকাল শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে সাতাইশ স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসে বসা অবস্থায় বেলাল খান ও আশরাফুল ইসলাম ১৫-২০ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অফিসে প্রবেশ করে। তারা অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে মোজাম্মেল লস্করকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে বেলাল খান চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দিলে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। আশরাফুল ইসলাম লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে এবং তার পকেটে থাকা ব্যবসার নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীরা এসএস পাইপ ও লোহার রড দিয়েও আঘাত করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে।
পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রতিবেশী রনি খান, মামুনুর রশিদ ও তার বড় ভাই তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মাথায় আটটি সেলাই দেন। এ ঘটনায় মোজাম্মেল লস্কর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অধীন টঙ্গী পশ্চিম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত বেলাল খানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এবিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহবায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিনকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন খান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় যাতে কোনো ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রোববার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান এসব তথ্য জানান।
ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই তদন্ত চলছে। আজও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিশু আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর সফিউদ্দিন রোডের মধ্য আউচপাড়ার অভিযান-১৯৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আহমদকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশু আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, রোববার আসামিপক্ষ থেকে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
অন্যদিকে, মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর দায়ের করা পৃথক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একদল লোক মাদরাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। ওই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত করছে পুলিশ।
নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তিনি আইনিভাবে মামলাটি মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে নিপীড়িত হয়েছে। আমি বিচার চাই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
অন্যদিকে, রোববার দুপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, পুলিশ আছে। এখন কথা বলা সম্ভব নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসিফ আকবর । ছবি - সংগৃহীত
মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সাভারের বিরুলিয়া কালিয়াকৈরের আলোচিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। পরিদশন শেষে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দাবি জানান সাজিদুর রহমান।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালকের বাসস্থানের আসবাবপত্র তছনছ করাসহ প্রতিষ্ঠানটির দরজা, জানালা, লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ওয়াশরুমের ঝরনা, কল এবং ইলেকট্রিক লাইনের সব তারসহ ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র আমরা দেখেছি। এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।
আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনিপন্থা। এসময় বেফাক মহাসচিব ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা কোনো নিয়ম হতে পারে না। এ দেশে ইসলামী আইনের শাস্তি হয় না, আমরা দাবি করব এই ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হোক।’
কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত অথবা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ পরিচালক দম্পতির ব্যক্তিগত অর্থকড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের নিরপরাধ স্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ‘মব কালচার’ ও মাদ্রাসার ওপর আঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে এক ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই মব কালচারের বিরুদ্ধে দেশের সব নাগরিককে সচেতন হতে হবে। মানুষের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষায় সরকারকেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে মানুষকে বিমুখ করার জন্য এটি কিছু চক্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভক্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি খোদাদ্রোহী ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নাজমুল হাসান, ঢাকা জেলা উত্তরের উপদেষ্টা মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আলী আকবার কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম, মুফতী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা আহমাদ আল হাবিব, মাওলানা আলী আকরাম প্রমুখ।
আটক তরুণী ও জামায়াত নেতার ছেলে। ছবি : সংগৃহীত
আটক নারী উদ্যাক্তা সাথী আক্তার।
ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার ও দলটির নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে মন্তব্য করার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
সাথী আক্তার ওই এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক।
জানা গেছে, রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে সাথী জানান, তার দুটি শোরুম ও আশপাশের কয়েকটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, এসির তার এবং বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। চুরির ঘটনায় ব্যবসার নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সাথী।
এ সময় ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা করে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতে রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকাবাসী তার পার্লারে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দিলে এবং পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায় পুলিশ।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, পার্লারে হামলার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফেসবুক লাইভে সমালোচনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।