ধসে পড়া নির্মাণাধীন ফটক

  • প্রকাশ : সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ৩:১২ এএম

কিশোরগঞ্জ শিল্পনগরী বিসিকে নির্মানাধীন প্রধান ফটক ভেঙে চাপা পড়ে রাসেল (২৭) নামে এক রড মিস্ত্রি নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪ নির্মাণ শ্রমিক আহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সদর উপজেলা মারিয়া এলাকার শিল্পনগরী বিসিকে এ ঘটনা ঘটে। 


নিহত রাসেল মারিয়া ইউনিয়নের সল্পমারিয়া এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে। আহত ৪ নির্মাণ শ্রমিককে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ শিল্পনগরী বিসিকের প্রধান ফটক নির্মাণের কাজ চলছিল। সন্ধ্যার দিকে ফটকের উপরের অংশে ঢালাই দেয়া হচ্ছিল। ঢালাই শেষ হওয়ার পরপরই ধসে পড়ে ৫ নির্মাণ শ্রমিক চাপা পড়ে। প্রথমে এলাকাবাসী উদ্ধার অবিরন চালিয়ে ৪জনকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট উদ্ধার অভিযানে আসে তারা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রালেম নামে একজনকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। 


নির্মাণ শ্রমিক খোকন মিয়া জানান, বিসিকের প্রধান ফটকের উপরে অংশে ঢালাই দেয়া হচ্ছিল। হঠাৎ ভেঙে পড়ে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এসে চাপা পড়া লোকজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।


কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিস মোহাম্মদ আবু খালিদ জানান, “আমরা সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে অ্যাম্বুলেন্সসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। এসে দেখি যে স্থানীয় লোকজন অলরেডি উদ্ধার কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং আমাদের ভলান্টিয়ার ছিল এখানে। স্থানীয় লোকজন এবং আমাদের ফায়ার সার্ভিসের ভলান্টিয়াররা উদ্ধার করে কয়েকজনকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে। অনেকে ধারণা করছিল ধ্বংসস্তূপের নিচে হয়তো কেউ আটকা আছে। নিখোঁজ কেউ রয়েছে কিনা চেক করার জন্য ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আর কাউকে পাইনি। পরে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করি।


কিশোরগঞ্জ শিল্পনগরী বিসিকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান আল ফারুক বলেন, প্রধান ফটকের উপরের অংশের ঢালাই দেওয়ার কাজ হওয়ার কথা ছিল আজকে। আমাদের অফিসের লোকজন ঝড় বৃষ্টির জন্য মানা করেছিল ঢালাই দেওয়ার জন্য। কিন্তু মানা না  শুনে ঢালাই দেওয়ার কাজ শুরু করে পরে এবং ভেঙে পড়েছে। বিষয়টি আমরা ঠিকাদারকে জানিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।




আসিফ আকবর । ছবি - সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ এএম

নিজের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সময় শিল্পী গাড়িতে ছিলেন না। তিনি ওই ভবনে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় বা স্টুডিওতে অবস্থান করছিলেন। গাড়িটিও ছিল ফাঁকা। ফলে গুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গাড়ির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় এসে এক ব্যক্তি আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।

পরে একই অটোরিকশায় করে মালিবাগের দিকে চলে যান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। কী কারণে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে


মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ এএম

সাভারের বিরুলিয়া কালিয়াকৈরের আলোচিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।


রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। পরিদশন শেষে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দাবি জানান সাজিদুর রহমান।


আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালকের বাসস্থানের আসবাবপত্র তছনছ করাসহ প্রতিষ্ঠানটির দরজা, জানালা, লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ওয়াশরুমের ঝরনা, কল এবং ইলেকট্রিক লাইনের সব তারসহ ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র আমরা দেখেছি। এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।


আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনিপন্থা। এসময় বেফাক মহাসচিব ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা কোনো নিয়ম হতে পারে না। এ দেশে ইসলামী আইনের শাস্তি হয় না, আমরা দাবি করব এই ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হোক।’


কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত অথবা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ পরিচালক দম্পতির ব্যক্তিগত অর্থকড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের নিরপরাধ স্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ‘মব কালচার’ ও মাদ্রাসার ওপর আঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে এক ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই মব কালচারের বিরুদ্ধে দেশের সব নাগরিককে সচেতন হতে হবে। মানুষের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষায় সরকারকেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’


তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে মানুষকে বিমুখ করার জন্য এটি কিছু চক্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভক্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি খোদাদ্রোহী ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।


পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নাজমুল হাসান, ঢাকা জেলা উত্তরের উপদেষ্টা মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আলী আকবার কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম, মুফতী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা আহমাদ আল হাবিব, মাওলানা আলী আকরাম প্রমুখ।


আটক তরুণী ও জামায়াত নেতার ছেলে। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ এএম

খুলনায় মেস থেকে তরুণীসহ মমতাজির বিল্লাহ (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খালিশপুরের মুজগুন্নি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাদের আটক করা হয়।

মমতাজির বিল্লাহ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম ফারুকের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার সুদর্শন রায় জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মেস থেকে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কেএমপির উপকমিশনার। 


আটক নারী উদ্যাক্তা সাথী আক্তার।

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৮ এএম

ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার ও দলটির নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে মন্তব্য করার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।


সাথী আক্তার ওই এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক।


জানা গেছে, রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে সাথী জানান, তার দুটি শোরুম ও আশপাশের কয়েকটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, এসির তার এবং বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। চুরির ঘটনায় ব্যবসার নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সাথী।


এ সময় ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা করে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতে রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকাবাসী তার পার্লারে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দিলে এবং পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায় পুলিশ।


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, পার্লারে হামলার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফেসবুক লাইভে সমালোচনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আইনজীবী শরিফুল আলম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম।


তিনি বলেছেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত।’


রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামির জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।


আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। মাদ্রাসায় প্রবেশ করে সেখানে অতর্কিত হামলা এবং মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়েছে।’ এই শিক্ষকের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বসে কথা বলা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তা না করে সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। আমার আসামি যদি কোনো অন্যায়ও করে থাকেন, তাহলে তো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন লোক নিয়ে গিয়ে মব সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।’


শিশুকে চুম্বন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিভাবকের কথা হচ্ছে, আমার বাচ্চাকে চুম্বন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চার বাবা-মা বলছেন, বিষয়টি তাদের বাচ্চা খারাপভাবে নিয়েছে।’


আইনজীবী শরিফুলের দাবি, ‘ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি, সেখানে চুমু দিতে চাওয়ার কথা এসেছে।’


অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘দেড়-দুই বছর আগেও এই বাচ্চা শিক্ষকের ঘাড়ে উঠে বসেছে, দাড়ি টেনেছে। ছোট বাচ্চা তো। মানে স্যারের সঙ্গে সে খুব ফ্রি। স্যার হয়তো বলেছেন, তুমি ভালো রেজাল্ট করেছ, তোমাকে আমি একটা চুমু দেব। অথবা তোমাদের প্রত্যেককে একটা সারপ্রাইজ দেব, তোমাদের আরও বেশি স্নেহ করব।’


মামলার বাদীপক্ষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষ আজকে অনেক দুর্বল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের পিটিশন দেওয়া হলেও তিনি দাঁড়াতে পারেননি। কাজেই সত্য-মিথ্যা আমরা বিজ্ঞ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করব। আমি মনে করি, আমার আসামি নির্দোষ। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং সেটা প্রমাণ করব।’


জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়ে শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি জামিন প্রার্থনা করেছি। আদালত স্বাভাবিকভাবেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং সেখানে জামিন প্রার্থনা করব।’


ভুক্তভোগী শাহজালাল রুমি ও তার তালাবদ্ধ বাসা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:০৪ এএম

কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের পর তার ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এবং লাগাতার হুমকি পাওয়ার পর গাজীপুর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন শাহজালাল রুমি। স্ত্রী এবং দুই সন্তানসহ তিনি ঠিক কোথায় আছেন তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।


রুমি যে ভবনে বসবাস করেন সেখানকার কেয়ারটেকার জানিয়েছেন, গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন রুমি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে তিনি এখন অন্যত্র অবস্থান করছেন।


রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে গিয়ে রুমির ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখতে পান এই প্রতিবেদক। ভবনটির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, দুই থেকে তিন দিন ধরে রুমির পরিবারের সদস্যরা ভয়ে বাসায় থাকছেন না। যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন। রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী। মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।


পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।


পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ


মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।


টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’


তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।


মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়


ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।