জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬, সময় : ১০:১৯ এএম

সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো বিএনপি সরকার ক্ষমতায় বসে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইসলামী ব্যাংকে কালো হাতের থাবা দিয়েছে। বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোতে যোগ্য ভিসিদের সরিয়ে দলীয় অনুগত ও পদধারী লোকদের বসিয়েছে। জেলা পরিষদ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক পদে দলীয় ক্যাডার ও দলীয় নেতাদের বসিয়ে বিগত ফ্যাসিস্টদের মতো দেশে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার চেষ্টা করছে। শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


তিনি বলেন, ইতিহাস ভুলবেন না। শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশাল কায়েম করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। অর্ধবছর থাকতে পারেননি। দেশের মানুষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা দেখতে চায় না। অনির্বাচিত প্রশাসক আমরা দেখতে চাই না। সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি  নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশের মানুষ দেখতে চায়।


‎জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২৪-র জুলাই আন্দোলন হয়েছিল বলেই বাংলাদেশে ২০২৬ সালের নির্বাচন হয়েছে। দেশে ২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। যাদের রক্ত এবং জিহাদের কারণে আজকের এই সংসদ, সরকার ও বিরোধী দল, তারা যদি শহীদ পরিবার, আহত পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা এবং উপহাস করেন তবে নিজের সঙ্গেই গাদ্দারি কায়েম হবে।


‎তিনি দাবি করেন, জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণ তাদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছে। কিন্তু জনগণের বিজয় অনেক জায়গায় প্রতিফলিত হয়নি। ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলে ১১ দলীয় জোট বিজয়ী হতো। কিন্তু জনগণের সেই বিজয় ছিনতাই করে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু একটি প্রেক্ষাপটের কারণে এই নির্বাচন আমাদের মেনে নিতে হয়েছে। কারণ দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে দেশের নির্বাচন হয়েছে। জনগণতো আমাদের ভোট দিয়েছে।


‎ড. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনে প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন এবং তাদের ভোটের যথাযথ মূল্যায়ন করা উচিত। জনগণের রায়কে সম্মান জানানো গণতন্ত্রের অন্যতম শর্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা গণভোট মানে না, তারা গণতন্ত্র রক্ষা করতে পারে না।


‎তিনি আরও বলেন, আমরা সংসদে আলোচনা করেছি, গণভোটের চর্চা যাতে হারিয়ে না যায়। মানুষের রায়কে সম্মান করুন। মানুষের রায়কে সম্মান না করলে মানুষ আপনাদের সামনে হিমালয়ের মতো দাঁড়াবে। জনগণের মনের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের প্রত্যাশা ও মতামতকে গুরুত্ব দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।


‎সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে অনেক ভুল করেছে। একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


‎তিনি বলেন, সরকারের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। আবার তারাই আমাদের খোঁটা দেয়, হাজার জাতের খোঁটা। আমার নাকি কোথায় জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছি। আপনারা কি কোথাও কোনও জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছেন। আপনাদের কাছে কি কেউ জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে। আপনারা কেউ বিক্রি করেনি। আপনাদের কাছেও কেউ বিক্রি করেনি। জান্নাতের টিকিট কারা বিক্রি করেছে যারা ইলেকশনের সময় গিয়ে বলেছে এই মার্কায় ভোট দিলে জান্নাত পাবেন। সেই ভিডিওগুলো কি হারিয়ে গেছে। কারা বিক্রি করেছেন যারা বলেছেন অমুক নেতার নাম ১০০ বার জপলে আপনি জান্নাতে যাবেন।


‎জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগরীর আমির মাওলানা মো. আবদুল জব্বারের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদসহ অন্যান্যরা।


‎পরে জামায়াতের আমির আসন্ন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন। একই সঙ্গে ২৭টি ওয়ার্ডে জামায়াতে ইসলামির কাউন্সিলর প্রার্থী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২১ পিএম

পাবনা সদর উপজেলার সোনাপাতি বিলে বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে এ ঘটনা ঘটে।


মালঞ্চি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কবির হোসেন বাবু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


তিনি বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের সময় ভুক্তভোগীরা একটি ঘরে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘরটি ছিল পলিথিনের। সেখানেই বজ্রপাত ঘটে। নিহতরা সবাই কিশোর ও তরুণ।


তিনি বলেন, বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই ছয়জন মারা গেছেন। আহত তিনজনকে আমরা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:০৩ পিএম

পঞ্চগড়ে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতি স্মরণে আয়োজিত ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।


ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জনাব মো. মাহফুজুর রহমান বাবু।


অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২ নম্বর হাফিজাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পঞ্চগড় জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক জনাব মো. আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় জেলা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আফতাব হোসেন সেলিম।




এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খেলা উপভোগ করতে বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতিতে মাঠ ছিল মুখরিত।


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ‘সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

‘বর্তমান বিশ্বে সার্বভৌমত্বের ধারণা আজ অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে। কোনো সমস্যা এখন আর একটি ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়। তাই সার্বভৌমত্বের অর্থ শুধু স্বাধীনভাবে চলা নয়, বরং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় অংশ নেওয়াও এর অংশ।’ এ কথা বলেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। 


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে শুক্রবার সকালে আইন বিভাগের ‘সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন’ শীর্ষক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি বিশ্বজুড়ে বাস্তবে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন,  বিশ্বে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতি দিন দিন বাস্তবে পরিণত হচ্ছে। পৃথিবীর দিকে তাকালেই আমরা এর উদাহরণ দেখতে পাই। শালীনতার খাতিরে আমি নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম বলতে চাই না। তবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত মানবতা ও মানবাধিকার।’


প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে সহজে বিসর্জন দেয়া যায় এমন পণ্য বা সম্পদ হলো মানুষের জীবন। আমি আমার এই মতের ওপর অটল। এর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে। আমরা কি এমন একটি দিনের কথা বলতে পারি, যেদিন কোনো একটি দেশ, এমনকি কোনো একটি শহরেও একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটেনি? এমন কোনো দিনের কথা কি আপনার মনে পড়ে? আমার তো পড়ে না।’


অধিকারকে নানা শ্রেণিতে বিভিক্ত করা হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘বাঘের অধিকার, কচ্ছপের অধিকার, এমনকি শিশুদের অধিকার, শ্রমের অধিকার, শ্রমিকদের অধিকার- এভাবে আমরা অধিকারের নানা শ্রেণিবিভাগ করে থাকি। কিন্তু মানবাধিকার তো মানবাধিকারই। আমরা অধিকারের নানা বিষয় নিয়ে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েছি যে, অধিকারের আগে থাকা ‘মানব’ শব্দটিই যেন ভুলে গেছি।’


অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘সমসাময়িক বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইনের ধারণাগুলো একে অপরের সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। বিশ্বায়ন, সশস্ত্র সংঘাত, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, অসমতা এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো বিষয়গুলো চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।’


এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তঃবিভাগীয় সম্পর্কের বিষয়টি জোরদার করে উপাচার্য বলেন, ‘চ্যালেঞ্জগুলো অনুধাবন করতে এবং কার্যকর আইনী ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ খুঁজে বের করতে একাডেমিক আলোচনা ও আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা একান্ত প্রয়োজন।’ 


সার্বভৌমত্ব আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘এর পাশাপাশি মানবিক মর্যাদা রক্ষা, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে।’


অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম বলেন, ‘সশস্ত্র সংঘাত, বিশ্বায়ন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈষম্যের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, শান্তি, জবাবদিহিতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় আইনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’


অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) প্রফেসর মামুনুর রশীদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘সার্বভৌমত্ব, মানবতা ও আইন নিয়ে আলোচনার জন্য আমরা যখন এখানে সমবেত হয়েছি, তখন আমাদের জাতির যাত্রাপথের দিকে ফিরে তাকানো প্রয়োজন।’ 


দুইদিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর প্রফেসর বেগম আসমা সিদ্দীকার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় প্লিনারি সেশন। এতে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন অস্ট্রেলিয়ার ম্যাককোয়ারি ল স্কুলের প্রফেসর ইমেরিটাস ড. মো. রফিকুল ইসলাম ও মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়ের আইন অনুষদের প্রফেসর দাতিন মেরি জর্জ। উপস্থাপিত প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রফেসর নকীব মু. নসরুল্লাহ ও রাবি আইন বিভাগের প্রফেসর আবু নাসের মো. ওয়াহিদ। 


দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে ৪টি একাডেমিক সেশনে ১২৪টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে বলে নির্ধারিত আছে। বিভাগের শিক্ষার্থী এস এম রিদওয়ান জুনায়েদ ও তাসনিম তাইয়েবা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।


ঠাকুরগাঁও–১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাড়িতে ফুল নিয়ে যান বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:২৯ পিএম

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে পরাজিত জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের বাড়িতে ফুল নিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন। শুক্রবার দুপুরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকায় দেলাওয়ার হোসেনের বাসভবনে যান মির্জা ফয়সল আমিন। এ সময় তিনি দেলাওয়ার হোসেনের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।


এ সময় দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি গর্বিত।’


নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও পরবর্তী সময়ে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার এমন উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচন একটা গণতান্ত্রিক প্রসেস, এই গণতান্ত্রিক প্রসেসের একটা মাধ্যম হচ্ছে নির্বাচন, আর গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় বিষয়টি হচ্ছে পরমতসহিষ্ণুতা।


“আমরা যদি একজন আরেকজনের মতামতকে শ্রদ্ধা-সম্মান না করি তাহলে তো আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো না।”


সেখানে দুই প্রার্থীর মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এছাড়াও নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে মিষ্টি খাওয়ান দেলাওয়ার হোসেন। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা উপস্থিততে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, এলাকার উন্নয়ন ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়।


এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র ভোটগ্রহণ হয়।


ভোট গণনা শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঠাকুরগাঁও জেলা নির্বাচন অফিসার মো. কামরুল ইসলাম ফলাফল ঘোষণা করেন।


সেখানে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটভাই ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমিনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।


ভোটে মির্জা ফয়সল পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াতে ইসলামের দেলাওয়ার হোসেনের বাক্সে জমা হয় ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট।


এছাড়াও এই আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ) পেয়েছেন ৮৩৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৮৯ ভোট ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) পেয়েছেন ৪৫০ ভোট।


সদ্য বিজয়ী সংসদ সদস্য মির্জা ফয়সল আমিন প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেনের প্রতি সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং ঠাকুরগাঁও ও দেশের স্বার্থে তার সমর্থক ও অনুসারীদের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


ফয়সল আমিন বলেছেন, “তিনি (দেলাওয়ার হোসেন) কিন্তু বিপুল পরিমাণ ভোটও পেয়েছেন। এখন একটা বিশাল অংশ তার সঙ্গে আছে।


“এই বিজয় তাদের বাদ দিয়ে নয়, তারাও তো আমাদের মানুষ, তারাও এই এলাকার মানুষ। অতএব আমার ইনশাআল্লাহ একসঙ্গে কাজ করবো।”


এ সময় পরাজিত জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমি গর্ববোধ করি, বড়ভাই মির্জা ফয়সল আমিন নির্বাচিত হওয়ার পর আমার খোঁজখবর নিতে এসেছেন। পাশাপাশি আমার নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে এসেছেন। এজন্য উনার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।”


তিনি মির্জা ফয়সল আমিনকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি তাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দেলাওয়ার বলেন, “এমনই রাজনৈতিক কালচার গড়ে ওঠা উচিত, নির্বাচন থাকবে, দল থাকবে, কিন্তু আমাদের পরস্পরের মধ্যে একটা সৌহার্দপূর্ণ আচরণ থাকবে-পরিবেশ থাকবে। যেটার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে পারবো। ফয়সাল ভাই আজ সেটাই করেছেন।”


সুশাসনের জন্য নাগরিক ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, “নির্বাচন শেষে বিজয়ী বিএনপি ও পরাজিত জাময়াত প্রার্থী একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন, একে অপরকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন। এটিই রাজনৈতিক সৌহার্দপূর্ণ আচরণ।”


রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ অব্যাহত থাকলে সুন্দর একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব বলে করেন তিনি।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৫ পিএম

বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেছেন, দেশের সব রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের পর পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগ চালুর যৌক্তিকতা নিয়ে চিন্তাভাবনা করা হবে। অন্যদিকে, দুই দেশ সম্মত হলেই দেশের একমাত্র চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে রেলযোগে পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।


মহাপরিচালক বলেন, পঞ্চগড় থেকে আপাতত একটি নতুন ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ১৮টি কোচ আনা হয়েছে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে আরও ২০০টি কোচ আসবে। এসব কোচ দিয়ে নতুন ট্রেন চালুর পাশাপাশি পুরোনো কোচ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। কোচগুলো আসার সঙ্গে সঙ্গে পর্যায়ক্রমে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।


পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এখনো দেশের সব রেললাইন ব্রডগেজে রূপান্তর করা হয়নি। ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হওয়ার পর পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল যোগাযোগের যৌক্তিকতা এবং এ রুটে পর্যাপ্ত যাত্রী পাওয়া যাবে কি না, তা বিবেচনা করা হবে।


বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আগে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে বাংলাবান্ধার ওপারে ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগের সংযোগ না থাকায় প্রকল্পটি থেকে প্রত্যাশিত আঞ্চলিক যোগাযোগ সুবিধা পাওয়া সম্ভব নয়। শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করলেও এর মূল উদ্দেশ্য, অর্থাৎ আঞ্চলিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা হবে না। তাই দুই দেশ সম্মত হলে ভবিষ্যতে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। আপাতত বিষয়টি স্থগিত রয়েছে।


এ সময় পঞ্চগড় রেলওয়ে স্টেশনের লোডিং-আনলোডিং সুবিধা পরিদর্শনের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, স্টেশনে কী পরিমাণ চাহিদা রয়েছে এবং বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা যথেষ্ট কি না, তা দেখতে এসেছেন তাঁরা। চাহিদা বেশি থাকলে এবং পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া গেলে স্টেশনের অবকাঠামো আরও সম্প্রসারণ করা হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কোচ রাখার ব্যবস্থা কিংবা পাশে নতুন রেললাইন নির্মাণের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।


পরিদর্শনকালে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৯ পিএম

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বীর পুরুষ’ কবিতা অবলম্বনে নির্মিত ‘খোকার স্বপ্ন’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। বুধবার বিকেলে উপজেলার আমজুয়ানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নাটকটি মঞ্চস্থ করে। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দেন নাট্যকার হাজ্জাজ তানিন। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধসহস্রাধিক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।


সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মনন, মেধা ও কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা ‘কারিগর’-এর বাস্তবায়নে শুরু হয়েছে ‘স্কুল সিলেবাস থিয়েটার’ কার্যক্রম। আয়োজকদের দাবি, পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তুকে নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপনের এই উদ্যোগ বাংলাদেশে প্রথম।


এই কার্যক্রমের আওতায় নাটকটি মঞ্চস্থ করা হয়। এর আগে নাটকের সঙ্গে যুক্ত ২৫ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে সাত দিনের নাট্যকর্মশালার আয়োজন করা হয়। গঠন করা হয় স্কুল থিয়েটার ক্লাব। কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের মেডিটেশন, ইয়োগা ও বিভিন্ন থিয়েটার গেমের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের গল্প, কবিতা, পরিবেশ পরিচিতি ও বিশ্বপরিচয়ের বিভিন্ন বিষয় নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।


শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় এ ধরনের আয়োজন এবারই প্রথম। এর আগে শিক্ষার্থীরা এমন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়নি। নাটকটিতে শুধু ‘বীর পুরুষ’ কবিতার মর্মার্থই নয়, প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের নানা বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। এ কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে, তারা সাবলীলভাবে কথা বলতে শিখছে। এমনকি ইংরেজিতে কথা বলার সাহসও অর্জন করছে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা। এ সময় বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাহমিনা বেগম, সহকারী শিক্ষক হীরা মনি, ৭ নম্বর দেবনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ হোসেন এবং কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী মিঞা বলেন, এটি একটি অভূতপূর্ব আয়োজন। থিয়েটার শুধু আনন্দের বিষয় নয়, এর মাধ্যমে সামাজিক নানা বার্তাও পাওয়া যায়। এটি কেবল নাটক নয়, বরং পাঠ্যসূচিরই একটি অংশ। দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।


আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, তেঁতুলিয়া উপজেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্যবইয়ের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোট ১০টি নাটক মঞ্চস্থ করা হবে।  জেলা প্রশাসক মোসা. শুকুরিয়া পারভিন সারিয়ালজোত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।


কারিগরের নির্বাহী পরিচালক সরকার হায়দার বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সাত দিনের নাট্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রশিক্ষকদের এক অনন্য সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশ ঘটছে। সাত দিনের কর্মশালায় অংশ নেওয়া ২৫ জন শিক্ষার্থী যেন নতুন একটি জগতে প্রবেশ করছে। শিক্ষার্থীরা নিজেরাই বিদ্যালয়ের মাঠে মঞ্চ তৈরি করছে, নাটকের সংলাপ তৈরি করছে। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটছে এবং সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা তৈরি হচ্ছে।