আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা
আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় যাদের দায়িত্ব রয়েছে আপনারা তা সঠিক ভাবে পালন করবেন। আমি নির্দ্বিধায় বলতে চাই কোন অন্যায়, কোন ধরণের অবিচার, সেটা দলের হউক বা দলের বাইরে হউক যে কোন লোক করুক সেই ক্ষেত্রে প্রশাসনের তরফ থেকে যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তাতে আমার পক্ষ থেকে বা দলের পক্ষ থেকে কোন সুপারিশ থাকবে না। আমি কোন সুপারিশ করবো না। যদি কেউ করে বা করতে পারে সে ক্ষেত্রে আপনারা কঠিন হবেন। আপনারা যখন অপারেশন করবেন তার জন্য যদি কোন শঙ্কা থাকে যে, ঐ কাজের জন্য কোথাও জবাবদিহি করতে হবে, বদলী হতে হবে এই চিন্তা মনে রাখার কোন কারণ নেই। যে কোন ভাল কাজ করতে গিয়ে অপ্রিয় হলেও করবেন। আমি সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো।
তিনি আরোও বলেন, সামাজিক আন্দোলন ছাড়া মাদক নির্মূল করা যাবে না। মাদক ব্যবসা, সেবন এবং পরিবহন নিয়ন্ত্রণকল্পে পুলিশ, সাংবাদিক ও শিক্ষকসহ সমাজের সচেতন লোকদের সমন্বয়ে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে মাদক বিরোধী সভা ও সেমিনার করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ একেএম ফজলুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
আজ বৃহস্প্রতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ একেএম ফজলুল হক মিলন।
সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. জাহাঙ্গীর আলম, কালীগঞ্জ আর আর এন পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কে এম নুরুল ইসলাম আল মোশাররফ ইবনে কাদির, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বকর মিয়া, কালীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. আল-আমিন দেওয়ান প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মাঝে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোরসালিন মেহেদী, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশীদ, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো. আবুল হোসেন, সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম, বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক, জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খাইরুল আলম, মোক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আইয়ুব বাগমার, নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোসা. কুহিনুর বেগম, কালীগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মন্নুর আহমেদ সহ কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তাগণ বলেন, বর্তমানে কালীগঞ্জে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কালীগঞ্জের যানজট নিরসন, শিক্ষার পরিবেশ, অনিয়ম, দূর্ণীতি, মাদক, বাল্য বিবাহ, নারী ও শিশু নির্যাতন নির্মূল, চুরি ও ডাকাতি সহ সকল অপরাধ প্রতিরোধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সমন্বিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত কালীগঞ্জ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুরের সদর উপজেলায় একটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা পাঁচজনকে আসামি করে জয়দেবপুর থানায় মামলা করেছেন।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জয়দেবপুর থানার দুটি মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে (২৯)। অন্য আসামিরা হলেন আরিফুল ইসলামের ভাই শরীফ মিয়া (৩৫), তাদের বাবা সেলিম মিয়া (৫৫), মা রহিমা খাতুন (৪০) ও দেলোয়ার হোসেন মামলার এজাহার অনুযায়ী, আসামিদের সবার বাড়ি ময়মনসিংহ সদর থানার চর বওলা গ্রামে।
আরিফুল ইসলামের একটি মহিলা মাদ্রাসায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত ওই ছাত্রী। আরিফুল ওই ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়াসহ নানাভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রীকে অপহরণের হুমকি দেওয়া হয়।
বিষয়টি ছাত্রী তার পরিবারকে জানালে শিক্ষক আরিফুল ইসলামকে এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন।
এজাহারে বলা হয়, ১০ অক্টোবর সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর আরিফুল ইসলাম সহযোগীদের নিয়ে ওই ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে ছাত্রীর বাবা সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। মেয়েকে উদ্ধার করতে না পেরে পরে তিনি থানায় মামলা করেন।
ছাত্রীর বাবা জানান, ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে প্রতিদিনের মতো মাদ্রাসায় যাওয়ার পর তার মেয়ে নিখোঁজ হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আরিফুল ইসলাম অন্যদের সহযোগিতায় তার মেয়েকে অপহরণ করেন।
এ বিষয়ে জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, মাদরাসা ছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা রুজু হয়েছে। অপহৃত ছাত্রীকে উদ্ধারসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের শূন্য পদে উপনির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে ড্রোন, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও কে-৯ ডগ ইউনিট ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম।
সোমবার ঠাকুরগাঁও বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া সাংবাদিকদের জানান, গত ২৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী এলাকায় সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও সেক্টরের অধীন ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় তিনটি উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ২১ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরা মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।
নির্বাচনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ব্যবহার করা হচ্ছে বডি-ওর্ন ক্যামেরা ও কে-৯ ডগ ইউনিট। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে সব প্রার্থী যাতে সমান সুযোগ পান এবং স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন, সে বিষয়েও কাজ করা হচ্ছে। এ জন্য প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধ সীমান্ত পারাপার এবং সম্ভাব্য নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রার্থী, প্রশাসন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতাও কামনা করেছে বাহিনীটি।
জাতীয় দৈনিক কালবেলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপন ভাই কে অপহরণ করে নির্যাতন, চাঁদা দাবি ও গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপন জানান, আজ সোমবার দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের কাজে টঙ্গী সেনাকল্যাণ শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শাহ সিমেন্টের ম্যানেজারের আসিফ মাহমুদের সঙ্গে কাজ শেষে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৪০-৫০ জন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী তার চোখ-মুখ বেঁধে জোরপূর্বক একটি অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে সন্ত্রাসীরা তার কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে। এ সময় তারা মাদকের বিরুদ্ধে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে তাকে আরেকটি স্থানে নিয়ে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা এক নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক উলঙ্গ করে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর ও নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয়। সন্ত্রাসীরা হুমকি দিয়ে বলে, ভবিষ্যতে হাজীর মাজার বস্তির মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ে কোনো ফেসবুক লাইভ বা সংবাদ প্রকাশ করা হলে এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রায় দুই ঘণ্টা নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সন্ত্রাসীরা তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার জ্ঞান ফিরে আসে।
এ বিষয়ে শাহ সিমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার আসিফ মাহমুদ জানান তিনি আমার সাথে অবস্থানকালে একদল অপরিচিত লোক তাকে জোরপূর্বক অজ্ঞাত স্থানে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে।’
মৌলভীবাজার সীমান্ত। ছবি: সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আতাশুর এলাকায় একটি প্লাস্টিকের কারখানায় আগুনে একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম সাকিব হাসান (১৮)।
আগুনের ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের নাম মানিক আহমেদ (৪০) ও রাকিব হোসেন (১৮)। তাদের ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ( মিটফোর্ড) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে সেখান থেকে মানিক আহমেদকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। তার শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
সোমবার দুপুর ১২টার দিকে নারিকেল বাগ এলাকার আমান প্লাস্টিক কারখানায় আগুন লাগে। দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে দুপুর ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক (ঢাকা) কাজী নজমুজ্জামান।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তা তালহা বীন জসিম জানিয়েছেন, ফায়ার সার্ভিসের ৮ ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করে।
তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আগুনের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ১২টা ৩২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নেভাতে সেখানে পৌঁছেন।
প্রথমে ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে আরও ৩টি এতে ইউনিট যোগ দেয়।
আতাশুর এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, দুপুর ১২টায় কালিন্দী ইউনিয়নের আমান প্লাস্টিকের কারখানা আগুন লাগে। এ সময় কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য চেষ্টা করেন। পরে রাজধানী ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের আরও টিম ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে সাকিব হাসানের মৃত্যু হয়।
কাজী নজমুজ্জামান জানান, ৮ তলা ভবনের মালিক সাজাহান মজুমদার। ভবনটিতে প্লাস্টিকের খেলনা তৈরি হয়। খেলনা কেমিক্যাল তৈরির কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়।
তিনি জানান, আগুন লাগার পর শ্রমিকরা ছুটোছুটি করে নেমে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে ৮টি ইউনিট কাজ করে। ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার্স ইনচার্জ ওসি রুহুল কুদ্দুস জানান, ভবনটিতে কেমিক্যাল মিশিয়ে খেলনা তৈরি হয়। কেমিক্যালের কারণেই আগুন লাগে।
‘নজরুল চর্চা কেবল একদিন বা এক বছরের আয়োজনে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনাকে আমাদের নিজেদের জীবনে ও দেশের উন্নয়নে প্রয়োগ করতে হবে।’—এমন আহ্বানের মধ্যদিয়ে চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উৎসব।
গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর, ২০২৬) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে ‘জাগো নব সৃষ্টির মহানন্দে’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গার পুলিশ মেহেদী শাহরিয়ার।
সমাজ গঠনে নজরুলের আদর্শের গুরুত্ব তুলে ধরে উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার বলেন, "নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষ্যে জেলায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জাতীয় পর্যায়ে চুয়াডাঙ্গার শিশু-কিশোররা অংশ নিয়ে যে কৃতিত্ব অর্জন করেছে, তা জেলাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।"
কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও চেতনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "নজরুল সাম্য, প্রেম, বিরহ, বিপ্লব ও চেতনার কবি। তার আদর্শকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধারণ করার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও কাজে লাগাতে হবে। সংস্কৃতির চর্চা সমাজ থেকে অপসংস্কৃতি ও মাদকের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে সহায়তা করে। যুবসমাজকে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।"
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার কার্পাসডাঙ্গায় কবির স্মৃতিবিজড়িত দিনগুলোর কথা স্মরণ করে বলেন, "আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত একটি জায়গা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় অবস্থিত। যা চুয়াডাঙ্গাবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। আমি সম্প্রতি সেই জায়গায় গিয়েছিলাম। আজ থেকে ১০০ বছর আগে আমাদের জাতীয় কবি পরিবারসহ সেখানে আড়াই মাস অবস্থান করেছিলেন এবং তার অসামান্য গ্রন্থ পদ্মগোখরা, মৃত্যুক্ষুধা, ও কবিতা লিচুচোর সেখানেই লিখেছিলেন।"
নজরুলের দর্শনের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের মিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, "উনার লেখার মাধ্যমে তিনি সমাজ ব্যবস্থাকে সাম্যবাদী করতে চেয়েছিলেন এবং দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হিসেবে উনার এই দর্শনের সাথে আমাদের কাজের অনেক মিল দেখতে পাই। উনি যেমন চেয়েছেন, আমরাও চাই এই সমাজ থেকে অপশাসন দূর হোক, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হোক ও সমতা বিধান হোক।সর্বোপরি তো সমাজ গঠন হোক " একই সাথে বর্তমান প্রজন্মের মাঝে মাদকের ভয়াবহতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তা প্রতিরোধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন পুলিশ সুপার।
এদিকে অনুষ্ঠানের মূল উদ্বোধক, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ সরাসরি উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। কণ্ঠশিল্পী হিরণ উর রশিদ শান্তর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংস্কৃতিক কর্মী ও বিপুলসংখ্যক প্রতিযোগী উপস্থিত ছিলেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে , তরুণ প্রজন্মের সৃজনশীলতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, হামদ-নাত ও নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে।