• প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:২৫ পিএম

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ কমিটিকে বিশেষ আর্থিক উপহার দিয়েছে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানে মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে উপহারের চেক তুলে দেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির।


চেক বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল হক নাসির বলেন, আবহমান বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ অনুদান নিশ্চিত করা হয়েছে। শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু সনাতন সম্প্রদায়ের নয়, এটি আমাদের সামগ্রিক উৎসবের অংশ। এই আনন্দকে সর্বজনীন রূপ দিতেই আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।


দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্প্রীতির প্রসঙ্গ টেনে জেলা পরিষদের প্রশাসক আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন- এই ভূখণ্ডে কোনো ‘সংখ্যালঘু’ শব্দ থাকবে না, আমরা সবাই পরিচয়গতভাবে বাংলাদেশি। তাঁরই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হয়, সে জন্য প্রতিটি পূজামণ্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাহারায় নিয়োজিত থাকবেন। ধর্ম-বর্ণের বিভেদ ভুলে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করব- এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।


জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সামছুন্নাহার স্বপ্নার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সদর উপজেলার রসুলপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি শ্রী সুভাস চন্দ, সাবালিয়া পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ, শ্রী শ্রী কালীবাড়ি পক্ষে রিপন সরকার, ঘাটাইল উপজেলার লাহেরী বাড়ি পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি গোপীনাথ, পাকুটিয়া চকপাড়া পূজা মন্ডপের পক্ষে বাদল চন্দ্র দাশ সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার মণ্ডপ প্রতিনিধি ও সনাতন ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ।


চেক গ্রহণকারী পূজামণ্ডপ কমিটির প্রতিনিধিরা জেলা পরিষদের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনে এ ধরনের সহযোগিতা পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন।

 

প্রকাশ, এবার জেলার ৫৩টি পূজামণ্ডপে মোট পাঁচ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।




মন্দিরে ছুরিকাঘাতের দায়ে পুলিশের হাতে আটক নতুন কুমার মন্ডল

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:৩২ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে গভীর রাতে মন্দিরে গিয়ে এলোপাথারি ছুরিকাঘাত করতে থাকায় স্থানীয়রা নতুন কুমার মন্ডল (২৮) নামে এক যুবককে আটক করে গাছের সাথে বেঁধে রাখে। পরে তাকে থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তার ছুরিকাঘাতে তিনজন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১১টায় উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের হামিদপুর উত্তরপাড়া সার্বজনিন দূর্গামন্দিরে এঘটনা ঘটে।


আজ রোববার বিকেলে সরেজমিনে ওই মন্দিরে গেলে মন্দিরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত আনসার সদস্য ও স্থানীয়রা জানান, মদ্যপ অবস্থায় নতুন কুমার মন্ডল মন্দিরে এসে মাইক অপারেটরকে মাইকের সাউন্ড বাড়িয়ে দিতে বলে। মাইকের সাউন্ড সিস্টেমে সর্বোচ্চ ভলিউম দিলেও সে আরও জোরে মাইক বাজাতে নির্দেশ দেয়। এক পর্যায়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে পকেট থেকে চাকু বের করে এলোপাথারি আঘাত করতে থাকে। এতে হামিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের দীপু কুমার, পলাশ কুমার ও রতন কুমার নামে তিনজন আহত হন। এদের মধ্যে দীপু কুমারের (২০) অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তিনি ওইগ্রামের বিপ্লব কুমারের ছেলে।


এসময় স্থানীয়রা নতুন কুমার মন্ডলকে আটক করে মন্দির প্রাঙ্গনে একটি গাছের সাথে বেঁধে রাখে। তাকে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।


খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নতুন কুমারকে থানায় নিয়ে আসে। সে হামিদপুর উত্তরপাড়া গ্রামের অনুকুল চন্দ্র মন্ডলের ছেলে।আজ রোববার বিকেলে মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক জানান, এব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি জানান, পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষের বাঁকি টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের এই ঘটনা ঘটে।


এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যাপক প্রস্ততি নেয়ার পরও কিভাবে মদ্যপ অবস্থায় ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতায়ও অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১৯ পিএম

হরিপুর ও পীরগঞ্জে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের সিজার মূল্য ১ লাখ ৫ হাজার ৩০০ টাকা। ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর ও পীরগঞ্জ সীমান্তবর্তী এলাকায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মদ ও বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ২৭ বোতল ভারতীয় মদ ও ২১৬ বোতল নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব পণ্যের মোট সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩০০ টাকা।


আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাতে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন চাপসার ও চান্দেরহাট বিওপির সদস্যরা ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।


সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে এসব মাদকদ্রব্য ও বিক্রয় নিষিদ্ধ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা পণ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির কঠোর নজরদারী ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।


সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।


বাম পাশ দিয়ে চওড়া গলির রাস্তা থাকলেও সামনে দিয়ে নতুন রাস্তার দাবিতে ইটের প্রাচীর ভাংচুর করা হয়

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:১১ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুরে বাড়ির পাশ দিয়ে বের হবার চওড়া গলির রাস্তা থাকলেও তা ব্যবহার না করে বাড়ির সামনে প্রতিবেসীর জমির উপর দিয়ে অবৈধভাবে রাস্তা নিতে একের পর এক মিথ্যা মামলা দায়ের, মারপিট, হুমকি-ধামকি ও ইটের প্রাচীর ভাংচুর করা হয়েছে। থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন জনকে আটক করার পরও প্রতিনিয়ত হুমকি প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


উপজেলা সদরের মডেল স্কুলপাড়ার মৃত আলেম উদ্দিনের ছেলে সুখেল হোসেন অভিযোগ করেন যে, প্রতিবেশী মোশাররফ মন্ডলের ছেলে নুর আলম তিন শতক জায়গা কিনে পাকা বাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু তিনি বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তার জন্য কোন জায়গা ফাঁকা রাখেননি। তার বাড়ির উত্তরদিকের প্রতিবেশীরা চওড়া গলি রাস্তা রেখেছেন। সে গলি ব্যবহার করে তারা নদীর বাঁধের রাস্তা ও মডেল স্কুল বড় রাস্তা পর্যন্ত যান। কিন্তু নুর আলম সে গলির রাস্তা ব্যবহার না করে পশ্চিম দিকে সুখেলের জায়গা ব্যবহার করে নদীর বাঁধের রাস্তায় যাবার অপচেষ্টা চালাতে থাকেন। সুখেল বরাবর তার জমি রাস্তা হিসেবে ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এতে নুর আলমের স্ত্রী সাহারা বেগম লোকজনদের নিয়ে নানান হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। এনিয়ে থানায় একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হলে বারে বারে বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও রাস্তার দাবিতে কোর্টে কয়েকটি মামলাও দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 


স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও জমি মাপজোখ করে নুর আলমের স্ত্রীকে প্রতিবেসীদের ছেড়ে দেয়া গলির রাস্তা ব্যবহারের পরামর্শ দেন। এরই মধ্যে সুখেল তার জমিতে মাটি ভরাট করে ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। নুর আলম গত ৯ অক্টোবর সকালে একদল বহিরাগত লাঠিয়াল নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কায়দায় ওই প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলে। সুখেল বাঁধা দিতে গেলে তাকে, তার মা কল্পনা বেগম, স্ত্রী শাবনুর বেগম ও ভগ্নিপতি মাসুদ হোসেনকে বেদম মারপিট করে। সুখেলের শিশু সন্তানকেও মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ফেলে দেয়। এতে সুখেলের হাতে ভাঙ্গা জখম হয়। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তাদের উপর হামলার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। 


ঘটনার সময় ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলার ভীমপুর ইউনিয়নের পাতনা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম, নওগাঁ সদর উপজেলার ফারাদপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে জহুরুল ইসলাম ও পানিসাইল গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে ফিরোজ হোসেনসহ তিনজনকে আটক করে। পরে এব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় নুর আলম, তার স্ত্রী সাহারা বেগম ও ভালাইন গ্রামের মফিজ মন্ডলের ছেলে মোয়াজ্জেম হোসেনকেও আসামী করা হয়। কিন্তু তাদেরকে থানা পুলিশ আটক করতে পারেনি।


মামলা দায়েরের পরও নুর হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা সুখেল ও তার পরিবারকে নানান হুমকি দিয়ে আসছে। তারা সুখেলের জমির উপর নির্মিত ভেঙ্গে দেয়া ইটের প্রাচীর মেরামত করতে দিচ্ছেনা।


মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা মহাদেবপুর থানার এসআই সাফিউল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৪ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি ও উপহারসামগ্রী বিতরণ করেছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য, ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব হাতেম খান।


গতকাল শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ভালুকা উপজেলা কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরে উপস্থিত থেকে তিনি নারী-পুরুষের হাতে এসব উপহারসামগ্রী তুলে দেন।


‘ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ সবার’ এই চেতনাকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে ভালুকা পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মধ্যে মোট ১ হাজার ৪০০টি শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ৮৭০টি শাড়ি ও ৫৩০টি লুঙ্গি রয়েছে। পাশাপাশি বিতরণ করা হয় আরও ৩০০টি উপহারসামগ্রী।


অনুষ্ঠানে হাতেম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে রয়েছেন এবং আজীবন তাঁদের সেবা করতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন যাবৎ আপনাদের পাশে আছি এবং আজীবন পাশে থাকতে চাই। আপনারা যদি আমাকে পাশে রাখেন, ইনশা আল্লাহ আমি আমার স্বার্থের ঊর্ধ্বে গিয়ে এই সেবাটি করে যাচ্ছি।’


আগামী নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের ব্যক্তিগত পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাতেম খান বলেন, মানুষ যাঁকে পছন্দ করবেন, তাঁকেই ভোট দেবেন। তবে জনগণের সেবা করার সুযোগ পেলে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাকে খেদমত করার মতো একটা সুযোগ দিলে হয়তো আমি এমনিতেই আপনাদের সেবা করছি, কিন্তু কলম থাকলে এবং চেয়ার থাকলে সেবাটা একটু বাড়িয়ে করা যাবে।’


বক্তব্যে ভালুকার বিভিন্ন মন্দিরের সমস্যা সমাধানে নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন হাতেম খান। তিনি জানান, পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মন্দিরের ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। অন্য একটি মন্দিরের শৌচাগার, মঞ্চ ও গোসলের স্থান নির্মাণের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে।


প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও দুর্গাপূজা উপলক্ষে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আয়োজকেরা। উপহারসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন হাতেম খান। এ সময় বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক জহির রায়হান ও ছাইদুর রহমান, পৌর বিএনপির সদস্য আমিনুল ইসলাম পাপ্পু, পৌর মহিলা দলের সভাপতি নাসরিন সুলতানা চায়না ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা আক্তার, পৌর তাঁতী দলের আহ্বায়ক আব্দুস সামাদ, পৌর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের পৌর শাখার সভাপতি প্রদীপ বণিক ও সাধারণ সম্পাদক অসীম কুমার মোদক এবং পূজা উদ্‌যাপন ফ্রন্টের পৌর শাখার সভাপতি মিঠু বণিকসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


আয়োজকদের মতে, উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৬ পিএম

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্মিত সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকায় এ স্টেশনের উদ্বোধন করা হয়। 


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিজ তানজিলা খানম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম শুকুর, দপ্তর সম্পাদক আব্দুর রহিম কালা, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহাম্মেদ সুমন, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সভাপতি প্রভাষক বসির উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান নুর (ভিপি আসাদ) এবং টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রাশেদুল ইসলাম কিরন। 




এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক খাদিজা আক্তার বিনা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা সোহেল রানা, প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, টঙ্গী অঞ্চল-১-এর প্রধান প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম, বিএনপি নেতা সরকার শাহানুর ইসলাম রনি, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল হাসেম, টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্যসচিব নাজমুল হোসেন মন্ডল, টঙ্গী পূর্ব থানা কৃষক দলের সদস্য সচিব আবুল কালাম, ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাজী জহিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আবু সাকেরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। 


সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে জমা ও স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের কেন্দ্রের মাধ্যমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল করা এবং নগরীর পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। উদ্বোধন শেষে এ এস পি এস প্রাঙ্গণে নিম গাছের চারা রোপন করেন।


বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম

  • প্রকাশ : রবিবার ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

জয়পুরহাটে জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ ও সার ডিলারশিপ বণ্টনে অনিয়ম এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সাল আলিম। এ পোস্টকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও দলের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।


গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দেওয়া ওই পোস্টে ফয়সাল লেখেন, ‘ল্যাপটপগুলি ভাগাভাগি করে নিজেদের মধ্যে খেয়ে ফেললেন।’ 


তাঁর ভাষ্য, গত ছয় মাসে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ করে ‘খাওয়া’ শেষ হয়েছে। এখন আর কিছু নেই, তাই ‘খাওয়া’ স্থগিত হয়ে গেছে। সার ডিলারশিপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। 


তাঁর অভিযোগ, এমনভাবে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের কেউ সুযোগ পাননি। এ ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। স্ট্যাটাসের শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি তো অবাক নয়নে দেখে যাচ্ছি আমাদের জয়পুরহাটের কী হবে?’


ফয়সাল আলিমের বাবা আব্দুল আলিম ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে জয়পুরহাট-১ (সদর ও পাঁচবিবি) আসনে জয়ী হন। তিনি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১৪ সালে তাঁর মৃত্যু হয়। 


স্ট্যাটাসের মন্তব্যের ঘরে কেউ ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করেছেন, কেউ আবার নতুন অভিযোগ তুলেছেন।


তারিক হোসেন খান নামে একজন মন্তব্যে লেখেন, ‘আরও খাওয়া আছে তো। এখন মেম্বার-চেয়ারম্যান বিক্রি হচ্ছে, ওরা বলছে আসো, সবাই আসো, টাকা দাও, টিকিট নাও।’ এতে স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন বা প্রার্থী বাছাইয়ে অর্থ লেনদেনের ইঙ্গিত রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো তথ্য দেননি।


ফয়সাল আলিমের সমালোচনা করে বেলাল হোসেন মন্তব্যে লেখেন, কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে ফয়সাল আলিমের নিজের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও সামনে আনা উচিত। তাঁর ভাষায়, ‘এ পর্যন্ত যা দেখছি, তা হলো কিছু সস্তা পোস্ট আর কিছু লোক দেখানো ছবি।’ তাঁর মতে, এ ধরনের পোস্টে দলের ভেতরে বিতর্ক, ভাঙন ও কোন্দল তৈরি হচ্ছে।


জিল্লুর রহমান এ ফেসবুক পোস্টকে জামায়াতের প্রচারের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে এভাবে লিখলে জামায়াতই সুবিধা পাবে। তিনি আরও দাবি করেন, ফয়সাল আলিমের বক্তব্য ও ‘হিংসার’ কারণে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হয়েছেন। এ দাবির পক্ষেও তিনি কোনো তথ্য দেননি।


জয়পুরহাট জেলা পরিষদ থেকে সম্প্রতি জুলাইযোদ্ধাদের মধ্যে বিনা মূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ করা হয়। ফয়সাল আলিম তাঁর পোস্টে ওই বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। জানতে চাইলে মুঠোফোনে ফয়সাল আলিম বলেন, ‘কারা ল্যাপটপ ভাগাভাগি করল, সেটি জয়পুরহাটবাসী জানে। আবার বিভিন্ন প্রকল্পের পারসেন্টেজের বিষয়টিও জানে। সত্যি কথা বলতে হবে।’ 


সার ডিলারশিপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি সারের ডিলার কারা পেয়েছেন, সেটিও প্রকাশ হয়েছে। কেউ শাশুড়ির নামে, কেউ শ্যালকের নামে নিয়েছেন। দলে কি নেতা-কর্মীর অভাব ছিল? তাঁরা পেলেন না কেন?’


নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ফয়সাল বলেন, ‘আমি স্ট্যাটাস দিয়ে দলের বিরুদ্ধে নয়, দলের পক্ষে কথা বলেছি। কারণ, দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো অনিয়ম-দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন না।’ 


তবে ল্যাপটপ ভাগাভাগি, বিভিন্ন প্রকল্পে কথিত পারসেন্টেজ এবং সার ডিলারশিপে আত্মীয়দের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি নির্দিষ্ট ব্যক্তি, প্রকল্প বা নথির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।


জয়পুরহাট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন বলেন, ‘আমি ফয়সাল আলিম সাহেবের ফেসবুকের স্ট্যাটাস দেখেছি। আমার স্ট্যাটাস পড়তে রুচিতে বেঁধেছে। অথচ কেউ স্ট্যাটাস দিল, তাঁর কিছুই মনে হয়নি।’