তপন চন্দ্র দাস ও লিখন চন্দ্র দাস
গাজীপুরের টঙ্গীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় তপন চন্দ্র দাস (৫০), লিখন চন্দ্র দাস (২০) নামে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে টঙ্গী পূর্ব থানাধীন গাজীপুরা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিট থেকে ৪টা ২০ মিনিটের মধ্যে গাজীপুরা বিআরটি লেনের পূর্ব পাশে কুটুমবাড়ি হোটেলসংলগ্ন মহাসড়কে বাবা ও ছেলে অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ আহত দুজনকে উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ছেলে লিখন চন্দ্র দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় তাঁর বাবা তপন চন্দ্র দাসকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সকাল সাড়ে ৯ টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত বাবা ছেলে শেরপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কৈবর্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তারা টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইস চৌরাস্তা এলাকায় জনৈক মিজানের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মাকসুদুল আলম বললেন, যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে।
মিয়া গোলাম পরোয়ার
ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না, কাউকে করতেও দেব না। নির্বাচনে কারচুপি বা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এসময় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের চেষ্টা হলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখার জন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আয়োজনে জেলা স্কুল বড় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি। নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা করা হলে নির্বাচন অফিস ঘেরাও করে অবস্থান নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে কোনো প্রিজাইডিং কর্মকর্তা সিল মারতে সহযোগিতা করলে কিংবা ভোট গণনার সময় দাঁড়িপাল্লার বান্ডেলে ধানের শীষ দিয়ে গণনা করলে কেন্দ্র ঘেরাও করে রাখতে হবে। প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হবে, যেন তিনি পালাতে না পারেন।’
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য পরিষ্কার ভোটাররা যেন নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন। আমরা ভোট ডাকাতি করব না, জালিয়াতি করব না কাউকে করতেও দেব না।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘জনগণের দুর্ভোগ বিএনপি শেষ করতে পারেনি। উত্তরবঙ্গের কৃষকেরা সারের সংকটে ভুগছেন। সারের অভাবে তাদের দুঃখ-কষ্ট বেড়েছে। বিএনপির দলীয় নেতা-কর্মী ও আত্মীয়স্বজনদের সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একেকটি ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আট মাসেই বিএনপি সরকারের লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে। তাদের মাথা ঠিক নেই। ‘এরা এখন জ্বরের মধ্যে ভাবীকে মা বলে ডাকে।’ তার অভিযোগ, সারা দেশে লুটপাটের হাট বসিয়েছে বিএনপি।
সরকারকে হুঁশিয়ার করে তিনি বলেন, ‘১৯৯৪ সালের মতো একটি আসন নিতে গিয়ে যেন সরকার বেকায়দায় না পড়ে।’
জনসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিরোধী দলে থেকেও যে উন্নয়ন করা যায়, তা দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বরাদ্দ না থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ বছরের ইতিহাসে যে উন্নয়ন হয়নি, তার চেয়েও বেশি উন্নয়ন হয়েছে।’
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লাহ সিগবা, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হালিম উদ্দীন এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনসহ অন্য নেতারা।
মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতাররা। ছবি: সংগৃহীত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে পুরোনো মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনায় ২৫ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে আখাউড়া থানা পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতেই আতিকুল ইসলাম বাদী হয়ে আখাউড়া থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাবেদ উল ইসলাম।
গ্রেফতাররা হলেন— আইড়ল গ্রামের বাসিন্দা শাহ কামালের ছেলে নাঈম (২৩), একই মহল্লার বাসিন্দা বাদল মিয়ার ছেলে জুবাইদ (২০), মোসলেমের ছেলে সায়েম (২০) ও মৃত নাগর মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান (৪২)।
পুলিশ জানায়, আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের আইড়ল গ্রামে নবনির্মিত ও পুরোনো দুটি মসজিদে নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গ্রামের দুপক্ষ পৃথকভাবে দুটি মসজিদে নামাজ আদায় করেন।
আইড়ল পূর্বপাড়ার বাসিন্দা মো. মুজিবুর রহমান, নাজির হোসেন ও মালু মিয়া যুগান্তরকে জানান, নামাজ শেষে নতুন মসজিদের পক্ষের লোকজন উত্তেজিত হয়ে পুরোনো মসজিদটি ভেঙে ফেলেন। এর আগে নতুন মসজিদপন্থীরা পুরোনো মসজিদের পূর্বপাড়ার বাসিন্দাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় কয়েকজন আহত হন।
ওসি জাবেদ উল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারদের দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা-২০২৭ কে সামনে রেখে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থীদের কোনো ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেমরা। একই সঙ্গে বিগত বছরগুলোতে দায়ের করা হত্যা মামলার দ্রুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব সিদ্ধান্ত ও দাবি তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থীদের কোনো ইজতেমা, দাওয়াতি বা তাবলিগি কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না। এছাড়া ২০১৮ ও ২০২৪ সালে সাদপন্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা দুটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে অবিলম্বে চার্জশিট দাখিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, এ বিষয়ে যদি সরকারের ওপর কোনো ধরনের অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয় কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হয়, তবে ঢাকার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিজ নিজ জেলায় কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
হেফাজত ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নুরুল ইসলাম ওলিপুরী, হেফাজত মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, মাওলানা আব্দুল হামিদ মধুপুরী, জমিয়ত সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, বেফাক মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি খিজিরুল্লাহ হাটহাজারী, মাওলানা ইকরাম হোসাইন ওয়াদুদী, মাওলানা সালাহ উদ্দিন, মাওলানা হিফজুর রহমান, মুফতি আরশাদ রহমানী, মুফতি দেলাওয়ার হোসাইন, মাওলানা রশিদুর রহমান ফারুক, মাওলানা আব্দুল আউয়াল, মুফতি মুবারকুল্লাহ, মাওলানা শফিকুর আহমেদ রশীদ, মাওলানা মুশতাক আহমেদ, মুফতি জাফর আহমদ, মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়া, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমি, মাওলানা আলাওয়ালুল করীম, মাওলানা ফজলুল্লাহ মাদানীনগরী, মাওলানা নিয়ামতুল্লাহ আল ফারুকী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা যুবায়ের বিন তৈয়ব, মাওলানা আনাস, মাওলানা মনির হুসাইন কাসেমী, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মুফতি মুহাম্মদ আলী আকাতাবনগরী, মাওলানা আফজালুর রহমান, মাওলানা নিয়ামুদ্দিন, মুফতি আতাউল্লাহ জিন্নাহ, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাহফুজুর রহমান মাহমুদ, মুফতি ফিকহিয়ারুল্লাহ আহমদী ও মাওলানা আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন জেলার আলেম ও ধর্মীয় নেতারা।
সরাইল থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাদানুবাদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ওসির সঙ্গে বাদানুবাদের ঘটনায় কোনো মামলা হলে প্রধান আসামি হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের এমপি ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে তার এ-সংক্রান্ত লিখিত বক্তব্য সাংবাদিকদের কাছে সরবরাহ করেন ব্যক্তিগত সহকারী জাকির হোসেন।
গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে তর্কে জড়ানোর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে- এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রুমিন ফারহানা এ প্রতিক্রিয়া জানান।
লিখিত বক্তব্যে রুমিন ফারহানা উল্লেখ করেন, সরাইল থানার ওসির বিরুদ্ধে গত ২৩ অক্টোবর জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের প্রতি সম্মান রেখে তিনি অপেক্ষা করছেন, এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওসির বিরুদ্ধে কী ধরনের বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে সরাইল থানা ভবনে ওসির সঙ্গে তার অনিয়ম-দুর্নীতি ও দুর্গাপূজায় মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ার জেরে বাদানুবাদে জড়ান রুমিন ফারহানা। এছাড়া রুমিন ফারহানার সঙ্গে আসা এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন ওসি তার কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ওসি ঘুষ নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই ব্যক্তিকে রুমিন ফারহানা শিখিয়ে থানায় এনেছেন বলে উল্লেখ করেন।
এ নিয়ে বাদানুবাদের একপর্যায়ে রুমিন ফারহানা ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়াকে বলেন, ‘আপনি তো আওয়ামী লীগের চোর।’
খুলনায় পুলিশের আইজিপি
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম বলেছেন, জন-আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি কার্যকর পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ লাইন্সে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং খুলনা এলাকার মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদ বিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন।
কেএমপি কমিশনার মোঃ সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সুধী সমাজের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
আইজিপি বলেন, বিগত সতেরো বছরে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে তা নিরসন করাই আমাদের লক্ষ্য। ৫ আগস্টের পর পুলিশ দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, পুলিশ কাজ করছে। জনগণের সাথে আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে আমরা মানবিক পুলিশ হতে চাই, জনবান্ধব পুলিশ হতে চাই। বর্তমান সরকার মাদক ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" ঘোষণা করেছে; যাতে সমাজে কোন মাদক না থাকে, চাঁদাবাজ না থাকে, কিশোর গ্যাং না থাকে।
আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে এসব অপরাধ নির্মূল করবো। বর্তমানে কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে। বর্তমান সরকার এ কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও বেগবান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বলে জানান। পরে আইজিপি খুলনা রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে খুলনাস্থ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় ও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
ঠাকুরগাঁও এর আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে শুক্রবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহৌউৎসব। ঠাকুরগাঁওয়ে বছরের পর বছর ধরে হেমন্তের শুরুতেই বুড়ির বাঁধে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
সম্প্রীতি সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ খায়রুল ইসলাম এখানে তৈরি করেছেন একটি দৃষ্টিনন্দিত মৎস চত্বর। যা স্থানীয় অদূরান্তের দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। এই বাঁধে অবৈধ কারেন্ট জাল ও রিং জালের বিরুদ্ধে নিয়েছেন ব্যবস্থা। অবমুক্ত করা হয়েছে মাছের পোনাও।ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নে আজ শনিবার থেকে বুড়ির বাঁধ এলাকায় পুরোদমে চলছে মাছ ধরার উৎসব। আর এখানকার শুক নদীর 'বুড়ির বাঁধ' এলাকায় প্রতি বছরের মতো এবারও বসেছে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরার উন্মুক্ত উৎসব। রীতিমতো প্রতিযোগিতার আমেজে চলে এ মাছ শিকার, যা ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্দীপনা। শীতের আগমনী বার্তায় বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার পর সবার জন্য মাছ ধরার এ সুযোগ করে দেওয়া হয়। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে এখানে বসেছে তিন দিনের এক গ্রামীণ মেলাও।
এর আগে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকেই বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয়। এর পরেই শত সৌখিন শিকারি ও সাধারণ মানুষ বুড়ির বাঁধ এলাকায় মাছ ধরতে নামেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গ্রামীণ জনপদ ও শহর থেকে শত শত মানুষ বুড়ির বাঁধে ভিড় করেছেন। নারী, পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখরিত বাঁধের চারপাশ। সবাই যার যার মতো করে জাল, পলো (খলুই), খোচা ও লাফি জাল নিয়ে নেমে পড়েছেন কাদা-জলে। এমনকি সরঞ্জামহীন অনেকেই খালি হাতেও নেমেছেন মাছ ধরতে। সব মিলিয়ে বুড়ির বাঁধ এলাকায় চলছে মাছ ধরার মহা উৎসব।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মূলত ১৯৮২ সালে শুকনো মৌসুমে এ অঞ্চলের জমি চাষাবাদের জন্য ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ও চিলারং ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে শুক নদীর ওপর বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে উজানের পানি এখানে আটকে রাখা হয় সেচের জন্য। এ সময়ে ঠাকুরগাঁও মৎস্য অধিদপ্তর বাঁধের পানিতে বিভিন্ন মাছের পোনাও অবমুক্ত করে। আর শীতের শুরুতেই যখন পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন বাঁধের মাছ ধরার জন্য সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে আসছে মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।
ঠাকুরগাঁও সদরের চিলারং ইউনিয়ন অম্বারু থেকে আসা কামরুল হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে মাছ ধরার জন্য এই দিনটির অপেক্ষায় থাকি।
অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আমি খুব খুশি। কারণ দেশি মাছের স্বাদ আলাদা। এখানে রুই, পাবদা, ষোল ও বড় মাছ পাওয়া যাচ্ছে।
পীরগঞ্জের আমতলী থেকে আসা আলআমিন হকের মতে, বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে এসে মনে হচ্ছে যেন এক বিশাল লোকমেলা, যেদিকে চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ।
মাছ শিকারি ছাড়াও মেলায় ভিড় বাড়ে মাছের ক্রেতাদেরও। শহর থেকে আসা মাছ ক্রেতাদের অভিযোগ, দেশি মাছ পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন, কিন্তু এসে দেখেন শহরের বাজারের চেয়েও এখানকার মাছের অনেক সস্তা ও টাটকা।
ভুল্লী বাজার থেকে আসা সুজন ইসলাম জানান, এখানে টেংরা, গোচি, শিং, টুনা মাছ প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ থেকে টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর শোল ও রুই-কাতলা মাছের দাম চাওয়া হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা। পুঁটি মাছও বিক্রি হচ্ছে ১২০-২০০ টাকায়।
শহরের কলেজপাড়া থেকে আসা সৌখিন মাছ শিকারি রফিকুল ইসলাম বলেন, কত মাছ পেলাম সেটা বড় কথা নয়। সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই বুড়ির বাঁধে মাছ ধরতে আসার জন্য।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সভা আলী জানান, অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় বাঁধের গেট খুলে দেওয়া হয় এবং শীতের শুরুতেই মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
উৎসবে যোগ দেয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রাজা শহিদুল আসলাম বলেন, মনে হচ্ছে যেন এক গ্রামীণ মেলায় এসেছি। মাছ ধরা এখানে উপলক্ষ মাত্র, আসলে এটা মিলনমেলা। এভাবেই প্রতি বছর বুড়ির বাঁধে চলে শত শত মানুষের মিলনমেলা ও মাছ ধরার এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব।