মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান
নিরাপত্তার আশঙ্কা তুলে ধরে নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপি–মনোনীত প্রার্থী ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় তিনি এ ঘোষণা দেন।
মোহাম্মদ মাসুদুজ্জামান নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি। তিনি মডেল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তাঁর এই মতবিনিময় সভায় সাংবাদিক ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদুজ্জামান বলেন, দল থেকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি এলাকায় গণসংযোগসহ নানা কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। মানুষের কাছ থেকেও ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। মনে হয়েছে, ভোটারদের একটা স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ব্যক্তিগত কারণে আমি নির্বাচন করব না, আমি মনোনয়ন কিনব না। এ কারণে শহর ও বন্দরবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমি একজন সমাজকর্মী হিসেবে আজীবন আপনাদের পাশে থাকব।’
বিএনপি–মনোনীত এই প্রার্থী বলেন, ‘আমি জানি আমি কী কাজটা করতে যাচ্ছি। এ সিদ্ধান্তের কারণে আমার দলের ও শুভাকাঙ্ক্ষী অনেকের আশা–আকাঙ্ক্ষা আজ মাটি হয়ে গেল। এ সিদ্ধান্ত অনেক শক্ত করেই নেওয়া।’
মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতায় এযাবৎকালে যতগুলো অনুষ্ঠান ও সংবাদ সম্মেলন করেছি, এই সংবাদ সম্মেলটা ভিন্ন। এখানে পিনপতন পরিবেশ। আমি জানি, এই অবস্থা কেমন; তারপরও এটার বিশদ বর্ণনা দেওয়ার মতো নয়। কীভাবে যে না করব...এই কয়েকটা দিন নিজেকে তৈরি করার চেষ্টা করছিলাম। যাঁরাই এই আসনে মনোনয়ন পাবেন, তাঁদের সঙ্গে আমাদের নেতা–কর্মীদের নিয়ে দলের হয়ে কাজ করব। আমাদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈরিতা থাকবে না, আমরা সবাই একযোগে কাজ করব।’
নিজেকে একজন রাজনীতিক, ব্যবসায়ী ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তুলে ধরে মাসুদুজ্জামান বলেন, ‘সবার আগে পরিবার এবং নিরাপত্তা। আমি আগেই বলেছি, পরিবার থেকে বিদায় নিয়েই রাজনীতিতে এসেছি। সেখানে তাদের কোনো বাধা ছিল না। তারা রাজি না হয়েও রাজি হয়েছে। আমি ইচ্ছা প্রকাশ করেছি মানুষের জন্য কাজ করার। সাম্প্রতিক ঘটনা ও পরিবেশ–পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত ব্যথিত ও ভীত। এর বাইরেও আরও কিছু নিরাপত্তা ইস্যু আছে, সেটা আমি বিশদভাবে বলতে চাই না। পরিবেশটাই নেগেটিভ। এটি দলের নয়, আমার নিজের সিদ্ধান্ত।’
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাসুদুজ্জামান আরও বলেন, ‘উনি (তারেক রহমান) আমাকে সম্মান দিয়েছিলেন, এটা আমি ধরে রাখতে পারলাম না। আশা করছি, দল বিষয়টি বিবেচনা করবে। আমার দুর্ভাগ্য আমি এটা ধরে রাখতে পারলাম না। বিএনপি বড় একটি দল, আমি পরিবারের কাছে পারছি না, পরিবার এখানে গুরুত্বপূর্ণ। দু–একটি ঘটনা ঘটলেও পরিস্থিতি এখনো ভালো আছে। আশা করছি, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে।’
শীতলক্ষ্যার দুই পাড়ের শহর-বন্দর নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি গঠিত। এতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলা পড়েছে। গত ২৩ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে মাসুদুজ্জামানকে প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। এর পর থেকে তিনি ভোট চেয়ে এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ, সভা-সমাবেশ করে আসছিলেন।
নব্বইয়ের দশকে ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির রাজনীতি করা মাসুদুজ্জামান দীর্ঘদিন ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। গত ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর পল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন। দলীয় মনোনয়নও পান। এই আসনে মাসুদুজ্জামান ছাড়াও বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন, সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ, বিএনপি নেতা আবু জাফর বাবুল। আবু আল ইউসুফ দলীয় প্রার্থী মাসুদুজ্জামানের পক্ষে কাজ শুরু করলেও অপর তিনজন নির্বাচনে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আসিফ আকবর । ছবি - সংগৃহীত
মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সাভারের বিরুলিয়া কালিয়াকৈরের আলোচিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। পরিদশন শেষে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দাবি জানান সাজিদুর রহমান।
আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালকের বাসস্থানের আসবাবপত্র তছনছ করাসহ প্রতিষ্ঠানটির দরজা, জানালা, লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ওয়াশরুমের ঝরনা, কল এবং ইলেকট্রিক লাইনের সব তারসহ ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র আমরা দেখেছি। এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।
আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনিপন্থা। এসময় বেফাক মহাসচিব ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা কোনো নিয়ম হতে পারে না। এ দেশে ইসলামী আইনের শাস্তি হয় না, আমরা দাবি করব এই ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হোক।’
কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত অথবা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ পরিচালক দম্পতির ব্যক্তিগত অর্থকড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের নিরপরাধ স্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ‘মব কালচার’ ও মাদ্রাসার ওপর আঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে এক ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই মব কালচারের বিরুদ্ধে দেশের সব নাগরিককে সচেতন হতে হবে। মানুষের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষায় সরকারকেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে মানুষকে বিমুখ করার জন্য এটি কিছু চক্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভক্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি খোদাদ্রোহী ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নাজমুল হাসান, ঢাকা জেলা উত্তরের উপদেষ্টা মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আলী আকবার কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম, মুফতী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা আহমাদ আল হাবিব, মাওলানা আলী আকরাম প্রমুখ।
আটক তরুণী ও জামায়াত নেতার ছেলে। ছবি : সংগৃহীত
আটক নারী উদ্যাক্তা সাথী আক্তার।
ফেসবুক লাইভে বিএনপি সরকার ও দলটির নেতাকর্মীদের সমালোচনা করে মন্তব্য করার অভিযোগে ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তার নামে এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকা থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।
সাথী আক্তার ওই এলাকার ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক।
জানা গেছে, রোববার দুপুরে ‘সাথী মেকওভার’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। লাইভে সাথী জানান, তার দুটি শোরুম ও আশপাশের কয়েকটি দোকান থেকে বৈদ্যুতিক তার, এসির তার এবং বাসা থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি। চুরির ঘটনায় ব্যবসার নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন সাথী।
এ সময় ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা করে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন তিনি। তার লাইভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। রাতে রাজনৈতিক কর্মী ও এলাকাবাসী তার পার্লারে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একপর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দিলে এবং পার্লারে ভাঙচুরের আশঙ্কায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যায় পুলিশ।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম জানান, পার্লারে হামলার আশঙ্কার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ফেসবুক লাইভে সমালোচনার কারণে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে ওই নারীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনজীবী শরিফুল আলম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামির জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। মাদ্রাসায় প্রবেশ করে সেখানে অতর্কিত হামলা এবং মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়েছে।’ এই শিক্ষকের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বসে কথা বলা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তা না করে সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। আমার আসামি যদি কোনো অন্যায়ও করে থাকেন, তাহলে তো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন লোক নিয়ে গিয়ে মব সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।’
শিশুকে চুম্বন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিভাবকের কথা হচ্ছে, আমার বাচ্চাকে চুম্বন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চার বাবা-মা বলছেন, বিষয়টি তাদের বাচ্চা খারাপভাবে নিয়েছে।’
আইনজীবী শরিফুলের দাবি, ‘ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি, সেখানে চুমু দিতে চাওয়ার কথা এসেছে।’
অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘দেড়-দুই বছর আগেও এই বাচ্চা শিক্ষকের ঘাড়ে উঠে বসেছে, দাড়ি টেনেছে। ছোট বাচ্চা তো। মানে স্যারের সঙ্গে সে খুব ফ্রি। স্যার হয়তো বলেছেন, তুমি ভালো রেজাল্ট করেছ, তোমাকে আমি একটা চুমু দেব। অথবা তোমাদের প্রত্যেককে একটা সারপ্রাইজ দেব, তোমাদের আরও বেশি স্নেহ করব।’
মামলার বাদীপক্ষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষ আজকে অনেক দুর্বল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের পিটিশন দেওয়া হলেও তিনি দাঁড়াতে পারেননি। কাজেই সত্য-মিথ্যা আমরা বিজ্ঞ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করব। আমি মনে করি, আমার আসামি নির্দোষ। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং সেটা প্রমাণ করব।’
জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়ে শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি জামিন প্রার্থনা করেছি। আদালত স্বাভাবিকভাবেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং সেখানে জামিন প্রার্থনা করব।’