টঙ্গীতে মানববন্ধন।

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৫৫ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে স্থানীয় দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা মামলার অভিযোগ করছে। এরই জের ধরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিরুদ্ধে হামলার মামলা করার প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে।


আজ শনিবার (১০ জানুয়ারী) সকাল ১০টা থেকে সোয়া ১১টা পর্যন্ত টঙ্গী-কালিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের আমতলীতে এই মানববন্ধন হয়। 


মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ৪৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসাদুল্লা, সহ যুব বিষয়ক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ভান্ডারী, ভুক্তভোগী আব্বাস আলীর স্ত্রী নাসিমা বেগম, মেয়ে আলেয়া, আসমা, শাকিব আলী, আশরাফুল হক জুয়েল, মনির হোসেন, শহিদসহ এলাকাবাসী। 


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর আদালত এলাকায় প্রতিপক্ষ আইয়ুব আলীগং একই এলাকার আব্বাস আলী (৭৫), ছেলে রাকীব আলী(২৭) ও তার স্ত্রী নাসিমা বেগমকে (৫৫) মারধর করে। এর পর আহতরা গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এসময় অবস্থা খারাপ থাকায় আব্বাস আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর বিকেলে রাকীব আলী গাজীপুর থেকে টঙ্গী যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের দ্বারা গুরুতর জখম হয়ে বাবার সাথে একই হাসপাতালে ভর্তি হয়। এসব ঘটনায় থানা ও আদালতে লিখিতভাবে জানানো হয়। 


এদিকে গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আব্বাস আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আইযুব আলী গাজীপুর সদর মেট্রো থানায় মামলা করে। মামলায় আইয়ুব আলীর গাড়ি আটকে ভাংচুর ও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করার অভিযোগ আনা হয়। এই মামলার পক্ষে গতকাল শুক্রবার আইয়ুব আলী প্রতিপক্ষ আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে একই এলাকায় মানববন্ধন করেন। 


অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে একই দিনে দুইবার হামলা-পালটা হামলার অভিযোগ উঠে। আদালত এলাকা থেকে টঙ্গী পর্যন্ত একদিনে দুই দফায় হামলায় উভয়পক্ষের ৪জন আহত হয়েছে। হামলায় গাড়ি ভাংচূর ও গুলিবর্ষনের কথা উল্লেখ করে থানায় ও মারামারির কথা উল্লেখ করে আদালতে পালটাপালটি আবেদন করেছে দুই পক্ষ। ঘটনার প্রতিবাদে পালটাপালটি  মানববন্ধনও করেছেন তারা। 


টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনাস্থল মেট্রো সদর থানায়। ভিকটিমদের বাসা টঙ্গী। এ বিষয়ে সদর থানা বিস্তারিত বলতে পারবে। 


এ বিষয়ে গাজীপুর মেট্রো সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, গুলির ঘটনার প্রমান পাইনি। একটি ভিডিও পেয়েছি। এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। অপরপক্ষও অভিযোগ করেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।




রফিকুল ইসলাম মাদানী

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:০৫ পিএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডাকাতের কবলে পড়েছেন ইসলামিক বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানি। রোববার দিবাগত রাতে এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় তিনি ডাকাতের কবলে পড়েন। 


তবে তাঁর কাছ থেকে কোনো কিছু খোয়া যায়নি বলে ফেসবুক লাইভে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানা পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তৎপর রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক। 


জানা গেছে, এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের পাকুন্ডা এলাকায় ওয়াজ মাহফিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে রফিকুল ইসলাম মাদানি ডাকাতের কবলে পড়েন। তাৎক্ষণিক তিনি ফেসবুক লাইভে এসে তাঁকে রক্ষা করার আকুতি জানান। 


তিনি লাইভে জানান, সড়কের মধ্যে বড় বড় পাথর ফেলে গাড়ির গতিরোধ করে ডাকাতি করা হচ্ছে। তাঁর গাড়ি একটু দূরে থাকায় তিনি রক্ষা পেয়েছেন। ডাকাতরা রামদা নিয়ে ডাকাতি করছেন। এ সময় অন্য একটি গাড়ির চালকের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। 


তিনি আরও জানান, ডাকাতদের দেখে তাঁর গাড়ি চালক গাড়ি ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে তারা রক্ষা পেয়েছেন।


সোনারগাঁ থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ডাকাতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৩ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত এগিয়ে চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই শেষে দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


রোববার সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান এসব তথ্য জানান।


ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, মামলা হওয়ার পর থেকেই তদন্ত চলছে। আজও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ শেষ হলেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।


তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগী শিশু আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। তার জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।


পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর সফিউদ্দিন রোডের মধ্য আউচপাড়ার অভিযান-১৯৩ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মো. মোসলেম আহমদকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিশু আদালতে জবানবন্দি দেয়। পরে পুলিশ জানায়, জবানবন্দিতে অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।


এদিকে, রোববার আসামিপক্ষ থেকে পুনরায় জামিনের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।


অন্যদিকে, মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর দায়ের করা পৃথক মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, একদল লোক মাদরাসায় প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। ওই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুটি মামলারই তদন্ত করছে পুলিশ।


নিজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং তিনি আইনিভাবে মামলাটি মোকাবিলা করবেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে নিপীড়িত হয়েছে। আমি বিচার চাই। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।


অন্যদিকে, রোববার দুপুরে মাদরাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন  বলেন, মামলার তদন্ত চলছে, পুলিশ আছে। এখন কথা বলা সম্ভব নয়।


পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে তদন্ত সম্পন্ন করা হবে। এরপর দ্রুততম সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১২:২৭ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান। এর আগে, গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার একলাশপুর বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. রাসেল (২৫), রাকিব (১৯), আব্দুল আলিম (১৯), মো. কামরুল ইসলাম (১৯), মো. জিহান (১৮), নিশান (১৮), মো. সিয়াম (১৮) ও জিসান (১৮)।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা একলাশপুর ইউনিয়নের টার্ফের পাশের সড়ক দিয়ে ঝটিকা মিছিল বের করেন। পরে তারা মহাসড়কে ওঠেন। মিছিল থেকে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিছিল থেকে আটজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। পরে রোববার (২৫ অক্টোবর) নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা ফেসবুকে মিছিলের ১ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়ান।


বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, মিছিলে ব্যবহৃত ব্যানার ও লাঠি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


আসিফ আকবর । ছবি - সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ এএম

নিজের গাড়িতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় তিনি নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে। তবে এখন পর্যন্ত জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ছাড়াও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ নিয়ে কাজ করছে।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোর পৌনে ৫টা থেকে সাড়ে ৫টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের সামনে আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার সময় শিল্পী গাড়িতে ছিলেন না। তিনি ওই ভবনে অবস্থিত নিজের ব্যক্তিগত কার্যালয় বা স্টুডিওতে অবস্থান করছিলেন। গাড়িটিও ছিল ফাঁকা। ফলে গুলির ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে গাড়ির পেছনের জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় এসে এক ব্যক্তি আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন।

পরে একই অটোরিকশায় করে মালিবাগের দিকে চলে যান তিনি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করে পুলিশ। কী কারণে আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে


মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ এএম

সাভারের বিরুলিয়া কালিয়াকৈরের আলোচিত তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জোর জোর দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।


রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও হাইআতুল উলইয়ার কো-চেয়ারম্যান মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করেন। পরিদশন শেষে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এই দাবি জানান সাজিদুর রহমান।


আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেফাজত মহাসচিব বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পরিচালকের বাসস্থানের আসবাবপত্র তছনছ করাসহ প্রতিষ্ঠানটির দরজা, জানালা, লাইট, ফ্যান, এসি, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন ওয়াশরুমের ঝরনা, কল এবং ইলেকট্রিক লাইনের সব তারসহ ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের চিত্র আমরা দেখেছি। এতে কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে।’ সরকারকে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করছি এসব ঘটনা আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অংশ।


আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই আইনিপন্থা। এসময় বেফাক মহাসচিব ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, ‘মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আব্দুল বারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। অন্যায় বা দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগে একজন মানুষকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে চিত্রায়িত করা কোনো নিয়ম হতে পারে না। এ দেশে ইসলামী আইনের শাস্তি হয় না, আমরা দাবি করব এই ক্ষেত্রে ইসলামী আইনের কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা হোক।’


কোনো অভিযোগের নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড, আলেম-উলামা ও মুরুব্বিদের অবহিত করা যেত অথবা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সুযোগ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই মাদ্রাসাটিতে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্রসহ পরিচালক দম্পতির ব্যক্তিগত অর্থকড়ি ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকের নিরপরাধ স্ত্রীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানান। সাম্প্রতিক ‘মব কালচার’ ও মাদ্রাসার ওপর আঘাত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে দেশে এক ধরনের ‘মব’ সৃষ্টির অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই মব কালচারের বিরুদ্ধে দেশের সব নাগরিককে সচেতন হতে হবে। মানুষের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষায় সরকারকেও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’


তিনি অভিযোগ করেন, মাদ্রাসা শিক্ষা থেকে মানুষকে বিমুখ করার জন্য এটি কিছু চক্রের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভক্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। দেশি-বিদেশি খোদাদ্রোহী ও নাস্তিক্যবাদী গোষ্ঠীর চক্রান্তের অংশ হিসেবেই এসব অপতৎপরতা চালানো হচ্ছে।


পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজতের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর মাওলানা নাজমুল হাসান, ঢাকা জেলা উত্তরের উপদেষ্টা মাওলানা আশিকুর রহমান, মাওলানা আব্দুল্লাহ, মাওলানা আব্দুল মান্নান পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা আফসার মাহমুদ, ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি মাওলানা আলী আকবার কাসেমী, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আজম, মুফতী মাহফুজুর রহমান, মাওলানা ফয়সাল মাহমুদ হাবিবী, মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মাওলানা নাজমুল হাসান বিন নূরী, মাওলানা আহমাদ আল হাবিব, মাওলানা আলী আকরাম প্রমুখ।


আটক তরুণী ও জামায়াত নেতার ছেলে। ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৪ এএম

খুলনায় মেস থেকে তরুণীসহ মমতাজির বিল্লাহ (২৬) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (২৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খালিশপুরের মুজগুন্নি এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলা থেকে তাদের আটক করা হয়।

মমতাজির বিল্লাহ সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ইসলামকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও জামায়াত নেতা গোলাম ফারুকের ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপকমিশনার সুদর্শন রায় জানান, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই মেস থেকে দুজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কেএমপির উপকমিশনার।