• প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম
  • আপডেট : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৭ পিএম

"করব কাজ গড়বো দেশ তান্ত্রিক বাংলাদেশ"—এই দীপ্ত স্লোগান ও সুদৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী চুয়াডাঙ্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। 


এ উপলক্ষে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে এক বর্ণাঢ্য ও আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ দর্শকদের মাঝে ছিল উপচে পড়া আমেজ।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক  শরিফুজ্জামান শরীফ। চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের  সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত  করে তোলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম পিটু, জেলা আইনজীবী সমিতির সম্পাদক অ্যাডভোকেট ওহিদুল আলম খন্দকার মানি, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক বিপুল হাসান হাজী এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সম্পাদক হামিদ উদ্দিন বাবু প্রমুখ।


এছাড়াও জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নেন জাতীয়তাবাদী ক্রীড়া দল  চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবির ক্রিকেট কাউন্সিলর আব্দুস সালাম, সদর থানা যুবদলের আহ্বায়ক মতিউর রহমান মিশর, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। দেশের একটি স্থানীয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই উৎসব উদযাপিত হয়।


অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চটি আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা এবং দলের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতাদের ছবি সংবলিত একটি বিশাল ব্যানার দিয়ে সাজানো হয়। ব্যানারে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছিল।


আলোচনা সভা শেষে এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিশু-কিশোর ও তরুণ শিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী খুদে শিল্পীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার আদলে লাল ও সবুজ রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাক (লাল পাঞ্জাবি-কুর্তি ও সবুজ উত্তরীয়) পরিধান করে মঞ্চে আসে। তারা দেশের গান ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।


পুরো অনুষ্ঠানটির চমৎকার ও প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা আর দেশাত্মবোধক গানের সুরে সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে সাহিত্য পরিষদ চত্বর, যা উপস্থিত দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ মুগ্ধ করে রাখে।




  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:০৩ পিএম

নাটোরের লালপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে। উপজেলার ৪৬টি পূজামণ্ডপে পূজা-অর্চনা, আনন্দ-উৎসাহ ও ধর্মীয় নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।


এবার লালপুরে গত বছরের তুলনায় পাঁচটি পূজামণ্ডপ বেড়েছে। নতুন পাঁচটি মণ্ডপ হলো-গোপালপুর পৌরসভার শিবপুর, সিরাজীপুর, ঈশ্বরদী ইউনিয়নের শিবনগর, আড়বাব ইউনিয়নের বড় বাহাদিপুর এবং কদিমচিলান ইউনিয়নের ঘাটচিলান।




গোপালপুর পৌরসভায় আটটি, লালপুর ইউনিয়নে ছয়টি, ঈশ্বরদী ইউনিয়নে চারটি, আড়বাব ইউনিয়নে পাঁচটি, চংধুপইল ইউনিয়নে চারটি, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নে তিনটি, দুয়ারিয়া ইউনিয়নে তিনটি, ওয়ালিয়া ইউনিয়নে ছয়টি, দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নে চারটি, অর্জুনপুর-বরমহাটি ইউনিয়নে একটি এবং কদিমচিলান ইউনিয়নে দুটি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়।


লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় কুমার কর্মকার বলেন, আমরা সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রতিমার বিসর্জন দেয়া হয়েছে। 


লালপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপেন্দ্রনাথ সাহা বলেন, “এবারের দুর্গাপূজা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছিল।”


পূজা উপলক্ষে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।


এছাড়া লালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি মোঃ আবীর হোসেন পূজা মন্ডপ গুলো পরিদর্শন করেছেন।


উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও প্রশাসনের তৎপরতায় পূজা উদযাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।


দুর্গাপূজা

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৯ পিএম

সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় পূজা দুর্গাপূজা। শরৎকালে প্রতিবছর দুর্গাপূজা করবে আশায় বুক বেঁধে রাখে সনাতনী হিন্দুরা দুর্গোৎসব উদযাপন করবে। এবারও তার কোন ব্যতিক্রম হয়নি। সনাতনী হিন্দুদের আশ্বিন মাস এলেই মনে একটি  দুর্গাপূজার আমেজে মন ভরে থাকে। এক বছর অপেক্ষার পর ১৬ অক্টোবর হতে দুর্গোৎসব এ বছর শুরু হয়। আজ ২১ অক্টোবর দেবীর বিসর্জন দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দুর্গোৎসবের।


কথায় কথায় জানা যায়, সবার মনে একটি প্রশ্ন কেমন হলো এবছর দুর্গোৎসব। বেশ কয়েকজন সনাতনী হিন্দু মন খুলে বলেন, এবছর গত কয়েক বছরের মধ্যে পলাশে দুর্গোৎসব সবচেয়ে সুন্দর ভাবে উদযাপিত হয়েছে। আনন্দ উচ্ছাস নিরাপত্তা শৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মত। প্রশাসন ও জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলে সহযোগিতা করেছে একটি সুন্দর সুশৃংখল আনন্দমুখর দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য।


ঘোড়াশালের আনন্দ দেবনাথ বলেন এবার মন ভরে মনের মত, একটি দুর্গাপূজা করলাম। ভিরিন্দার শান্তনু পাল তিনি বলেন এবার দুর্গোৎসব হয়েছে সেই রকম। আতশি পাড়ার সুকুমার ভদ্র বলেন গত কয়েক বছরে দুর্গোৎসব এমন সুন্দর হয়নি। কুড়ায় তলির অপু সেন  জানান, এবার আমরা দুর্গাপূজায় আনন্দ করেছি, মন ভরে মায়ের পূজা করেছি। পাইকসার সরোজ কুমার দেবনাথ বলেন পলাশে এবার মনের মত করে পালন করেছি দুর্গাপূজা। ডাঙ্গার হৃদয় ঘোষ জানান এবার পূজায় আনন্দ করেছি অভূতপূর্ব। 


পলাশ বাজার দুর্গাপূজায় দেখতে আসা শিউলি, আরতি, শিলা, অনুরাধা হাসিমুখে বলেন, স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ কয়েকটি দুর্গা মন্ডপে আমরা গিয়েছি এবং খুবই আনন্দ খুবই আনন্দ পেয়েছি, যা অতুলনীয়।


বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কুমুদ রঞ্জন দেবনাথ বলেন, গত কয়েক বছরের মধ্যে এত সুন্দর সুষ্ঠু সুশৃংখল দুর্গোৎসব নিরাপত্তা বহুল দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়নি। 


বিশেষ করে পলাশ বাজার দূর্গা মন্ডপে আসেন পলাশের প্রাণপ্রিয় নেতা এলজিআরডি মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান স্যার ও বিএনপি'র নেতৃবৃন্দ।  মন্ত্রীর আগমনে অত্যন্ত খুশি হয় সনাতনীরা। আবার পূজা পরিদর্শনে আসেন, পলাশের প্রিয় ব্যক্তিত্ব জনপ্রিয় দৈনিক সংবাদের সম্পাদক আলতামাস কবির।পলাশের সুপরিচিত সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির মহোদয় কে পেয়ে খুশি হন সনাতনীরা। 


এদিকে মন্ত্রী মহোদয়ের হৃদয় কাড়া বক্তব্য সনাতন ধর্মালম্বীদের মন ছুয়ে যায়। তাছাড়া সরকারের সুন্দর উদ্যোগ প্রশাসনের সহযোগিতা, এলাকাবাসীর সহযোগিতা আমাদের মন জয় করেছে। তিনি আরো বলেন, গত কয়েক বছর দুর্গাপূজার সময় বৃষ্টি হয়েছে, এতে পূজার আনন্দ অনেকটা বিঘ্নিত হয়েছিল। এবার কিন্তু আবহাওয়া  ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও নির্মল, কোন বৃষ্টি বাদল হয়নি। তাই পূজার আনন্দ ছিল অভূতপূর্ব। উল্লেখ্য পলাশে এবার গতবার চেয়ে পাঁচটি পূজা বেশি হয়েছে। এবার পলাশে মোট ৪৬ টি দূর্গা মন্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে।


পলাশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত সার্বক্ষণিক ৪৬টি পূজা মন্ডপে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা করার জন্য তদারকি করেছেন। সভাপতি অসিত দাস ও সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দত্ত সংবাদকে বলেন, আমরা গত গত ১০-১২ দিন ধরে সর্বক্ষণ প্রতিটি পূজা মন্ডপের সভাপতির সেক্রেটারি সাথে যোগাযোগ রেখেছি। সুশৃঙ্খল পূজা উদযাপনের জন্য আমরা নরসিংদী জেলা প্রশাসক মহোদয় ও এস পি মহোদয়ের সাথে সভা করেছি। তাছাড়া পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে সভা করেছি।


সরকারের দেওয়া অনুদান সুষ্ঠুভাবে প্রতিটি মন্ডপে  বিতরণ করা হয়েছে । বিএনপি যুবদল ছাত্রদল স্বেচ্ছা সেবক দলের নেতৃবৃন্দ সর্বদা পাশে ছিল এবং সহযোগিতা করেছে। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা ছিল চোখে পড়ার মত।এক কথায় পলাশের সনাতনী হিন্দুরা এবারের পূজায় সর্বোচ্চ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।আজ বিকেলে বিসর্জনের  মধ্য দিয়ে এবারের দুর্গাপূজা প্রাপ্তি ঘটবে। 


শিক্ষক জাকির

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:২৯ পিএম

নরসিংদীর পলাশে শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে চারা উৎপাদনে সফলতা অর্জন করেছেন জাকির খান। উপজেলার জিনারদী ইউনিয়নের চরনগরদী গ্রামে ১০ বিঘা জমিতে ‘স্মার্ট এগ্রো কেয়ার’ নামে একটি কৃষি উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে মাটির পরিবর্তে ককোপিট ব্যবহার করে উৎপাদন করছেন বিভিন্ন জাতের আগাম সবজির চারা। এসব চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন তিনি।


সরেজমিনে দেখা যায়, স্মার্ট এগ্রো কেয়ারে সারি সারি ট্রেতে বেড়ে উঠছে বিভিন্ন জাতের সবজির চারা। পেঁপে, করলা, ধুন্দল, বরবটি, শসা, লাউ, টমেটো, ক্যাপসিকাম, মরিচ ও ডাঁটাসহ নানা ধরনের সবজির চারা উৎপাদন করা হচ্ছে এখানে। প্রচলিত মাটির পরিবর্তে নারকেলের ছোবড়া থেকে তৈরি ককোপিট ব্যবহার করে আধুনিক পদ্ধতিতে এসব চারা উৎপাদন করছেন তিনি।


জাকির খান জানান, তার বাবা ও দাদা কৃষিকাজ করার সময় বীজ কেনার ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে প্রতারণার শিকার হতেন। এক জাতের বীজ কিনে অন্য জাতের ফসল পাওয়া কিংবা বীজের মান ভালো না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়তেন তারা। পরিবারের এই অভিজ্ঞতা থেকেই কৃষকদের জন্য মানসম্মত বীজ থেকে উন্নত চারা উৎপাদনের চিন্তা মাথায় আসে তার।


সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের দক্ষতা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন স্মার্ট এগ্রো কেয়ার।


ককোপিটে উৎপাদিত চারার বিশেষত্ব হলো, উপযুক্ত পরিচর্যায় এসব চারা সহজে নষ্ট হয় না এবং জমিতে রোপণের পর ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এসব চারা রোপণে আগ্রহ বাড়ছে। কৃষকেরা আগাম জাতের সবজির চারা রোপণ করে মৌসুমের শুরুতেই উৎপাদিত সবজি বাজারজাত করতে পারছেন। এতে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।


প্রতিষ্ঠানটিতে উৎপাদিত বিভিন্ন প্রজাতির চারা আকার ও জাতভেদে প্রতিটি ৪ থেকে ৬ টাকা দরে বিক্রি করা হয়। চারা বিক্রি করে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন জাকির খান।


জাকির খানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো, স্বল্পমূল্যে আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত মানসম্মত চারা আরও বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। যাতে কৃষকেরা সঠিক জাতের ভালো চারা রোপণ করে অধিক ফলন ও মুনাফা অর্জন করতে পারেন।


কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার পাশাপাশি জাকির খান স্থানীয় বিদ্যাসাগর মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত থেকেও কৃষিতে তার এমন উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।


তার এই উদ্যোগে পলাশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন।


শিক্ষকতার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির এমন উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। জাকির খানের এই প্রচেষ্টা একদিকে যেমন তার আত্মকর্মসংস্থানের পথ তৈরি করেছে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকদের জন্য মানসম্মত চারা উৎপাদন ও আগাম সবজি চাষের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।



সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মিজানুর রহমান ও তার সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া স্ট্যাটাস।

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৯ পিএম

সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. মিজানুর রহমানের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে করা ওই মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


সম্প্রতি ডা. মিজানুর রহমান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘আমার মনে হয় কেয়ামতের ময়দান থেকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী।’


একজন সরকারি কর্মকর্তা ও চিকিৎসকের ফেসবুক আইডি থেকে এমন মন্তব্য প্রকাশের পর তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমালোচনা করেন। পরে তার ফেসবুক টাইমলাইন থেকে পোস্টটি মুছে ফেলা হয় অথবা এর গোপনীয়তা পরিবর্তন করা হয়।


এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাতক্ষীরা ও তালা উপজেলার সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা। তাদের দাবি, গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে। অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের দায়িত্ব। ফলে সাংবাদিকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে নিয়ে এমন মন্তব্য কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছ থেকে কাম্য নয়।


একাধিক গণমাধ্যমকর্মী বলেন, ডা. মিজানুর রহমানের মন্তব্য শুধু আপত্তিকর নয়, এটি সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার শামিল। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তার আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল থাকা উচিত। তারা এ মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।


এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।


তবে সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন ডা. মো. আ. সালাম বলেন, ‘একজন চিকিৎসক সাংবাদিকদের নিয়ে কখনো এমন লিখতে পারেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


এদিকে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে আলোচনা শুরু হয়েছে। দায়িত্বশীল পদে থাকা কর্মকর্তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেলার গণমাধ্যমকর্মীরা।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:০২ পিএম

বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে নিজ উদ্যোগে অভিযানে নেমেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নগরীর আমানগঞ্জ এলাকায় তিনি ও তার সহযোগীরা এই অভিযান পরিচালনা করেন।


এই ঘটনার ৩ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নগরীর আমানগঞ্জ এলাকার টিবি হাসপাতাল মাঠে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুকের নেতৃত্বে কয়েকজন মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছেন। এ সময় তার সহযোগীরা প্রথমে দুজন এবং পরে আরও দুজনকে আটক করেন। পরবর্তীতে তাদের চড়থাপ্পড় ও মারধর করা হয়।


এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক মোবাইল ফোনে জানান, এলাকার মাদকের উৎপাতে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। তাই নিরুপায় হয়ে তিনি মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমেছেন এবং এলাকায় কোনো মাদকের ঠাঁই হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন।


তিনি আরও জানান, রাত ৮টার দিকে নগরীর আমানগঞ্জের টিবি হাসপাতাল ও শিশু হাসপাতাল এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৩-৪ জনকে আটক করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে তারা ছাড়া পেয়ে যায়- এমন অভিযোগ করে তিনি জানান, তাই আপাতত হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় চড়থাপ্পড় মারার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সন্তানকেও তো শাসন করা যায়, সেই হিসেবেই তিনি চড় মেরেছেন।’


প্রসঙ্গত, বিএনপি নেতা ইশরাক ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি গত শনিবার বিকেলে তার আসনের গেন্ডারিয়ায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমেছিলেন। সেই অভিযানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে ইশরাকের এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরদিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।


এরপর সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করে ইশরাক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার ঘোষণা দেন। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।


  • প্রকাশ : বুধবার ২১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৪ পিএম

সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব ও অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ‘বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন-সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব ও কর্তব্য’ বিষয়ক সেমিনার ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত।


বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল ১০ টায় তেঁতুলিয়া উপজেলা সম্মেলনকক্ষে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের উদ্যোগে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ সেমিনার ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এতে তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম। সভাপতিত্ব করেন তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসাইন। এসময় সভায় বক্তব্য রাখেন তেঁতুলিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহরাব আলী। 

প্রশিক্ষক ও রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের সচিব আব্দুস সবুর।


সেমিনারে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা, সাংবাদিকতার নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান মেনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


এ সময় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও পেশাগত দায়বদ্ধতার মধ্যে সমন্বয় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।


সেমিনারে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সতর্কতা, আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।


আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়ানোর পাশাপাশি নৈতিক, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।