সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কৌঁসুলি (জিপি) এ্যাড. অসীম কুমার মন্ডল ও তার বিলাসবহুল অট্টালিকা। ছবিঃ নওরোজ॥
সাতক্ষীরায় সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি.) অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ ক্যাডার এবং পরবর্তীতে নাম লেখান খুলনা মহানগর আ'লীগের সদস্য ফরমেও, তবুও এখনো সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি) হয়ে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কিভাবে সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন তা নিয়ে বর্তমানে আদালত প্রাঙ্গণে নানা আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ইতিমধ্যে তার বিরুদ্ধে উপরি মহলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অনেকেই। এমন একটি অভিযোগের কপি নওরোজ এর হাতে পৌঁছে।
অভিযোগে দেখা যায়, তিনি রাজনৈতিক পদ পদবী গোপন করে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্থ করে পকেটে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বর্তমানে তার রাজনৈতিক পরিচয় ফাঁস হওয়ায় তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান অভিযোগে।
লিখিত অভিযোগে আরোও উল্লেখ করা হয়, অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মণ্ডল অতীতে ছাত্রলীগ এবং গত ০৮ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১১ সালেও খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দলীয় সদস্য ফরম পূরণ করেন।
একজন ফ্যাসিস্টের দোসর ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে এখনো কিভাবে বহাল রয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় সেই অভিযোগে।
এমন অভিযোগের সত্যতা জানতে সরেজমিনে নওরোজ প্রতিনিধি পরিদর্শনে গেলে দেখা যায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ০৪ নং ওয়ার্ড মুন্সীপাড়ায় এ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল কৌঁসুলি হওয়ার পর ৪ তলা বিশিষ্ট বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন।
বাড়ীতে আশ্রয় দিতে দেখা গেছে আশাশুনি উপজেলার আ'লীগ নেতা ও বড়দল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও তার পালাতক পরিবারের সদস্যদেরকেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরে এমনকি গ্রামেও তিনি ইতিমধ্যেই ক্রয় করেছেন প্রায় (২৫-৩০) বিঘা জমি। তার এই হঠাৎ উত্থান নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী সহ সাতক্ষীরা আদালত প্রাঙ্গণে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে কিছু হাইব্রিড বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেছেন এবং একটি প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করে সাতক্ষীরা জেলার সরকারি কৌঁসুলি (জি.পি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর অসীম কুমার মণ্ডল সরকারের পক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন মামলায় প্রত্যাশিত অগ্রগতি করতে পারেননি বরং রাষ্ট্রকে ঠকিয়ে নিজের পকেট ভারী করতে ব্যস্ত সময় পার করেন। এমনকি সরকারি মামলায় আপস বা সোলে ডিক্রির কারণে রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন একাধিক নিরপেক্ষ আইনজীবীরা।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক এ্যাডভোকেট আকবর আলী জানান, অসীম কুমার মন্ডল একজন ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন এবং তার তেমন কোন সহায় সম্পত্তি কিছুই ছিল না বর্তমানে তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এই টাকার রহস্য উন্মোচন করা সহ তাকে দ্রুত অপসারণের জন্য উর্দ্ধতন নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ও আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নূরুল আমিন মুঠোফোনে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিষয়টি ১০০% সত্য বলে স্বীকার করেন এবং তাঁর নিয়োগের প্রক্রিয়া, রাজনৈতিক পরিচয়ের অতীত, সরকারি মামলায় তাঁর ভূমিকা এবং রাষ্ট্রপক্ষের মামলার ফলাফল সবকিছু নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দ্রুত অপসারণ করে বিচারের আওতায় আনার জন্য জোর দাবি জানান।
এ সকল অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে সাতক্ষীরা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে কর্তব্যরত কৌঁসুলি এ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল কে তার ব্যবহৃত মোবাইল +৮৮০ ১৭১২-৬৪৯১৮২ নাম্বারে ০৬:০৫ মিনিটে কল করলে রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। সকল তথ্য প্রমাণ সহ অডিও এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। আগামী পর্বে তথ্যবহুল প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ করা হবে।
চলবে....
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে এক আবুধাবি প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কালাদরাপ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিনগর গ্রামের প্রবাসী মো.নেছার আহমেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর রাতের দিকে ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল দুটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওই বাড়িতে আসে। তাদের মধ্যে সাতজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় তিনজন সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছিল। অন্য তিন থেকে চারজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘরের বাহিরে পাহারা দেয়। ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকে নেছার আহম্মেদের স্ত্রী নুরজাহান বেগম ও ছেলে রায়হান হোসেনের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে জিম্মি করে। পরে ঘরে থাকা চার ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে এগিয়ে এলে ডাকাতেরা নিজেদের সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে আসামি গ্রেপ্তারের জন্য এসেছে বলে জানায়। এতে স্থানীয় লোকজন দূরে সরে যান। পরে বাড়ির চারপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করলে ডাকাতেরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে চার জোড়া কানের দুল ও দুটি চেইন রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ এখনো মামলা করতে আসেননি। ডাকাত দল প্রবাসীর বাড়ি থেকে চার জোড়া কানের দুল, দুটি স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৪৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ডাকাত দলের সদস্যরা সেনাবাহিনীর প্রকৃত পোশাক পরেননি। তাদের কয়েকজন সেনাবাহিনীর পোশাকের আদলে তৈরি পোশাক পরিহিত ছিলেন।
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী তাঁর জামিন নামঞ্জুর করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গত বুধবার ওই শিক্ষককে মারধর করে পুলিশে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়। একই দিন বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
এদিকে অভিযোগের তদন্তে গতকাল শনিবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে পুলিশ। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়।
তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান। তবে তদন্ত এখনো চলমান।
১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনা খুলে বলে।
এরপর ২১ অক্টোবর (বুধবার) দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা থানায় মামলা করেন।
অন্যদিকে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষককে মারধর করেছে। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর, ১৭ লাখ টাকা ও ৫টি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
পরে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন শিশুটির বাবা। তিনি দাবি করেন, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; কোনো ধরনের ‘মব’ সৃষ্টি করতে নয়। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
শিক্ষককে মারধরের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। শিশুকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।
ছবি : সংগৃহীত
পিরোজপুরে পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী মানিক পশারীর মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে মরদেহটি দাফন করা হয়।
জানা গেছে, শনিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানিকের মরদেহ আসলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোপের মুখে পড়ে তার স্বজনেরা। পুলিশের সহায়তায় মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অব অনার শেষে নিরাপত্তা দিয়ে লাশ ঘিরে রাখে সদর থানা পুলিশ।
পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সহায়তায় মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে। রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ। এ সময় মানিক পশারীর স্ত্রী সন্তান সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর মরদেহ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামাত ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা কোনো প্রকার বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামী লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়। কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। ২০০৯ সালের ১২ আগস্ট পিরোজপুর থানায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা করেন মানিক। পরবর্তী সময়ে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে চলা মূল মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষককে মারধর, প্রহরীকে আহত করা, কার্যালয় ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন শানে সাহাবা। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সংগঠনটি প্রতিবাদ সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে। ঘটনার সঙ্গে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিদেরও সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনটির নেতারা। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীর ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের সফিউদ্দিন সরকার রোডে ক্বরীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মালিহাকে (৬) কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তার বাবা শাহজালাল রুমি কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসায় গিয়ে শিক্ষক মুসলিম উদ্দিনকে মারধর করেন। এ ঘটনার ভিডিও শাহজালাল নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে শিক্ষককে ধরে রেখে মারধরের দৃশ্য দেখা গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, একপর্যায়ে শিক্ষক মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে মাথা, বুক ও পিঠে লাথি মারা হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত হন। এ ঘটনায় মাদ্রাসার এক প্রহরীও গুরুতর আহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মাওলানা ক্বারি আলমাস হোসেন টঙ্গী পশ্চিম থানায় শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মারধর, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে মামলা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় খতিব ফাউন্ডেশন শানে সাহাবার নেতারা বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে দলবদ্ধভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সংগঠনটির নেতাদের অভিযোগ, ঘটনার সময় শাহজালাল রুমির সঙ্গে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যক্তিরাও ছিলেন। তাঁদের দাবি, ঘটনাটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ও ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁরা আরও বলেন, মাদ্রাসাটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, শ্রেণিকক্ষে ভালো ফলাফলের জন্য ছয় বছর বয়সী ওই শিশুকে আদর করে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। তবে শিশুটির প্রতি শিক্ষকের আচরণ নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে শিশুটির বাবা ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকির অভিযোগও রয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অর্থ লুট ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হলেও শাহজালাল রুমি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. আরিফুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসার শিক্ষককে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মামলার আবেদনও গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
যশোরের ঝিকরগাছায় একটি আবাসিক মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আব্দুর রহমানের বিরুদ্ধে।
২০২১ সালে নিজ বাড়িতে পদ্মপুকুর গ্রামের রওজাতুল জান্নাত বালিকা হাফেজিয়া মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ৬৫ জন ছাত্রী রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ জন আবাসিক। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন।
ভুক্তভোগী শিশুদের অভিযোগ, বিকালের দিকে বিভিন্ন সময়ে তাদের আলাদাভাবে পরিচালকের কক্ষে ডেকে নেওয়া হতো। সেখানে শরীর ও হাত-পা টিপে দেওয়ার কথা বলে জামা ও পায়জামার ভেতরে হাত দিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করা হতো। এসব ঘটনা কাউকে না বলার জন্য মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো। এক ছাত্রীকে জোর করে শোয়ানোর চেষ্টা করা হলে সে কৌশলে পালিয়ে আসে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। শিশুদের অভিভাবক জানান, মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পর মেয়েরা আর সেখানে যেতে চাইত না।
এর আগে কোচিং না করার অভিযোগে তাদের মারধর করা হলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তখন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। পরে ১৯ অক্টোবর এক শিশুর পায়ে পেরেক ফুটলে মেয়েরা বাড়িতে এসে সব ঘটনা জানায়। শিশুদের সৎ বাবা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি তাদের নিজের সন্তানের মতো বড় করেছেন। গত বছর মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর তিন-চার মাস পর থেকেই এ ধরনের নিপীড়ন চলে আসছে বলে মেয়েরা তাকে জানিয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
মাদ্রাসার পরিচালক ও শ্রীরামপুর আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুর রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ছাত্রীরা দুষ্টু প্রকৃতির হওয়ায় তাদের মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
ঝিকরগাছা থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া হাসান জানান, এ পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারকে দ্রুত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে কালো পোশাক ও হেলমেট পরে এসে চায়ের দোকানে বসে থাকা জামাল উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধকে লক্ষ্য করে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নাটেশ্বর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষকামতা গ্রামের বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন একই গ্রামের মিজি বাড়ির মৃত সাখায়েত উল্যার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামাল উদ্দিন একসময় প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে তিনি নাটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে এলাকায় পোস্টারিং করেন। বর্তমানে তার একাধিক ছেলে প্রবাসে রয়েছেন। শনিবার রাতে তিনি বাড়ির পাশে বটতলী এলাকার সালাউদ্দিনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় কালো পোশাক ও হেলমেট পরা দুই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে দোকানের সামনে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে তার বাম পা ও রানে গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রাজীব আহমেদ চৌধুরী বলেন, রাত ১২টার দিকে গুলিবিদ্ধ জামাল উদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি হন। তার বাম পা ও রানে বুলেটের আঘাত রয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন এবং আশঙ্কামুক্ত।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ওই বৃদ্ধ একটি দোকানে বসে ছিলেন। ওই সময় দুজন ব্যক্তি হঠাৎ এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। তবে কী কারণে তাকে গুলি করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।