রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ১১:০৮ পিএম

রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) এর অন্তুর্গত ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ষড়যন্ত্রমূলক ও বেআইনিভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীপন্থী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ব্যাংকটিতে আওয়ামীপন্থীদের পুণবার্সন, ক্ষমতার অপব্যবহার, সরকারের উন্নয়নের ধারাকে ব্যাহত করা ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তাদের অন্যায়ভাবে হয়রানির মাধ্যমে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যেই ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি দখলের অপচেষ্টা করছেন।


রাকাব সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার পতনের পর ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে একটি সাধারণ সভার মাধ্যমে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত সভায় ব্যাংকের শতাধিক কর্মকর্তাদের সর্বসম্মতিতে ডিজিএম মো. জিয়াউদ্দিন আকবরকে আহবায়ক, এজিএম মো. মোস্তাফিজুর রহমান সরকারকে সদস্য সচিব করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি করা হয়। ব্যাংকের অন্যান্য অফিসারের সুপারিশ ও সম্মতির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটির আহবায়ক কর্তৃক ডিজিএম মো. মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে প্রধান কার্যালয়ের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়। পর্যায়ক্রমে রাকাবের ১৮টি জোনের এ্যাডহক কমিটি ঘোষণা করা হয়।


২০২৫ সালের ১৬ আগস্টে রাজশাহীর ম্যাংগো রিসোর্ট-এ কেন্দ্রীয় এ্যাডহক কমিটি, হেড অফিস কমিটি এবং ১৮টি জোনের কমিটির সকল সদস্যবৃন্দের উপস্থিতিতে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরবর্তীতে রাকাব চত্বরে ২০২৬ সালের ৮ মার্চ রাকাবের প্রধান কার্যালয়ে ইফতার মাহফিল ও সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রাকাবের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান, কর্মকর্তা-কর্মচারী, কর্মচারী সহ বিএনপির রাজশাহী-২ (পবা-মোহানপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মন্ডল, রাকাব চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আলী, ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মরতুজা, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুন ও সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক নজরুল হুদা। আরো ছিলেন ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গ, অংশীজন সহ প্রায় শহস্রাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী।


‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’ কমিটি নিয়ে ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ডিজিএম জিয়াউদ্দিন আকবর বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোষরদের দ্বারা বহু অন্যায়, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন রাকাবে জাতীয়তাবাদী আদর্শের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সেই চিন্তার ফলশ্রুতিতে ৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে সকলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে  আড়ম্বড়পূর্ণভাবে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু তারপরও আওয়ামীলীগার দোসরদের অপচেষ্টা ও অপতৎপরতা থেমে থাকেনি।


তিনি বলেন, তারা উত্তরাঞ্চলের প্রাণ তথা কৃষক, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের হৃদয়ের স্পন্দন খ্যাত রাকাবকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পিছিয়ে পড়া ব্যাংক হিসেবে অকার্যকর করার জন্য নানান ষড়যন্ত্রে পুণরায় লিপ্ত হয়েছে। এরই ফলশ্রুতিতে রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে (২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ উল্লেখ করে) তড়িঘড়ি করে ‘রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন’-এর একটি ভুয়া কমিটি গঠন করেন এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। যেখানে বহু কর্মকর্তারা জানেন-ই না, সেখানে তাদের নাম কিভাবে গেলো!


ব্যাংকটির বিশ্বস্ত সূত্র মারফত জানা যায়, রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজা, জিএম তাজ উদদিন আহম্মেদ, ডিজিএম মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম শাহিনুর ইসলাম সহ অনেকেই অন্যান্য অফিসারদের মুঠোফোনে ফোন করে আবার চা পানের অজুহাতে ডেকে তাদের জোরপূর্বক নতুন আওয়ামী কমিটিতে যুক্ত হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। নতুন কমিটিতে যোগদান না করলে সকলকেই বদলি ও খারাপ এসিআর প্রদানের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ  উঠেছে। গোলাম মরতুজা, তাজ উদদিন, মিজান ও শাহিনুর এদের সকলের-ই আওয়ামী লীগের প্রভাব ও প্রতিপত্তি প্রদর্শন করে অতীতে নানা অপকর্ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশন সহ বঙ্গবন্ধু পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন বলে জানান রাকাব সংশ্লিষ্টরা।


এবারে রাকাবের (ভারপ্রাপ্ত) এমডি মো. গোলাম মরতুজাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করেও তার মন্তব্য মেলেনি। 


রাকাব এ্যাসোসিয়েশনের কমিটির চক্রান্তের বিষয়ে অভিযোগকারীরা জানান, গত ৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর প্রধান কার্যালয়ের আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দেন। লিখিত আবেদনে তিনি জানান যে, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রধান কার্যালয় কমিটি নামে দুইটি কমিটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে আমার শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে প্রধান কার্যালয় কমিটির আহবায়ক পদ হতে ইস্তফা প্রদান করালাম। অথচ, পরের মাসেই তিনি নিজেই নিজেকে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ঘোষণা করে কমিটি দেন।


অভিযোগ রয়েছে, ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর রাজশাহী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মেরাজ উদ্দিন মোল্লার ভাই পরিচয়ে গত ১৭ বছরে রাকাবের হেড অফিসে সাধারণ সেবা বিভাগে দীর্ঘদিন কর্মরত থেকে কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাজশাহী মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে।


অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ২০ আগষ্ট ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলামকে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর যুগ্ম আহবায়ক পদে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় সংগঠন পরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িত থাকা এবং নৈতিক স্খলনের অভিযোগে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক পদ হতে বহিস্কার করা হয়। বহিস্কারাদেশে উল্লেখ করা হয় যে, ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর সাংগঠনিক কোন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ, সংগঠনের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে কোন কর্ম সম্পাদন এমনকি রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে কোন কার্যক্রমে জড়িত থাকতে পারবেন না। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম নিষিদ্ধ আওয়ামি ফ্যাসিস্ট এর জয়পুরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের ঘনিষ্ঠজন এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় সরাসরি অংশগ্রহণ করেন এবং রাকাব, বগুড়া জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক থাকাকালীন সময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে আস্থাভাজন হয়েছিলেন। ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম কোটি কোটি টাকার আর্থিক র্দুর্নীতি, নিয়াগ বাণিজ্য ও নারী কেলেংকারীসহ নানা অনিয়মে জরিয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাছে একের পর এক অভিযোগ জমা রয়েছে।


গত ২০ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর আহবায়ক জিয়া উদ্দিন আকবর (ডিজিএম) পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য আগামী ২৯ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে সাধারণ সভা আহবানের বিজ্ঞপ্তি জারী করেন। ঠিক তার পরেরদিন নিজেদের অপকর্ম ঢাকার জন্য ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান এবং ডিজিএম মো. শাহিনুর ইসলাম রাকাবে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখ রাতে তড়িঘড়ি করে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন নামের একটি কমিটি নিজেদের নামে দখলের অপপ্রচার ও অপচেষ্টা চালায়।


ব্যাংক সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিদ্যমান কমিটির আহবায়কের অনুমতি ছাড়াই এবং নির্বাচন বহির্ভূত ও বে-আইনীভাবে সৃষ্ট ‘ক’ তফসিলে বর্ণিত রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর গঠনতন্ত্রের ধারা-১৩(২)(ক), ১৫(ক), ১৮(ক)(খ), ১৯ এর বিরোধী কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি এবং প্রধান কায়ালয় কমিটি জাল, যোগ-সাজসী, প্রতারণামূলক গঠনতন্ত্র বিরোধী অবৈধ এবং বে-আইনী হওয়ায় তা অকার্যকর মর্মে অভিযোগ উঠেছে। আরো অভিযোগ উঠেছে যে, কমিটির সদস্যগণের কোন রুপ মতামত বা অনুমতি এবং সাধারণ সভা ছাড়াই নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


এ বিষয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সৈয়দ খায়রুল ইসলাম বলেন, এনিয়ে গত ২১ আগষ্ট ২০২৬ তারিখে একটি বিজ্ঞপ্তি জারী করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর নাম ব্যবহার করে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গ্রুপে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রাকাব অফিসার্স এ্যাসোসিয়েশন-এর পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠনসহ নামের একটি তালিকা প্রচারিত হচ্ছে। সকল সদস্যগণকে  প্রচারিত এ ধরণের তালিকায় বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়েছে।


এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি ও কৃষক আন্দোলন এবং জুলাই-৩৬ পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদ জামাল কাদেরী বলেন, ‘রাকাবের প্রতিষ্ঠা মূলত এই উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের জন্যই হয়েছিল। বর্তমানেও এটি বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে বেশ ভালো কাজ করছে। তবে ব্যাংকের ভেতরের দ্বন্দ্বে কৃষকদের কোন ক্ষতি হোক, তা আমরা চাই না। যদি কেউ এমন অপতৎপরতা চালায়; তবে আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চারভাবে আওয়াজ তুলবো এবং প্রতিহত করবো। তিনি বলেন, রাকাব যেভাবে কৃষকদের সহযোগিতায় কাজ করছে, ঠিক সেইভাবেই কাজ করুক এটাই আমাদের কাম্য। ব্যাংকটির উন্নতি অটুট থাকুক এবং স্বার্থান্বেষী কূটকৌশলকারীরা পরাজিত হোক এই প্রত্যাশায় করি।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।


আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।  


রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।


পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।


গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।


ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে  এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।




সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট  আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।


উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 


এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। 


সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।


আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।  


ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 


দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।


অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা। 


দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ। 


এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।


পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।


বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‌‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’


রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।


এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।


রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’


তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’। 


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।


ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।


এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

সিলেটে স্বপ্ন দেখিয়ে নিভে গেল ৩৩৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প 'হাইটেক পার্ক। কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্নী এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় প্রতিষ্টিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ট্রায়াল দেওয়া হয়। এ প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগ কারীরা। যারা প্লটও স্পেস ভাড়া নিয়েছিলেন তারাও বিরত রয়েছেন বিনিয়োগ থেকে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমি ও স্পেস ভাড়া দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র একটি। ফলে মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় হাইটেক পার্ক। মাটিভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ছিল হাইটেক পার্কে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন।


এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, এল এডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর প্রযুক্তিবিদও গড়ে তুলতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এজন্য প্রকল্পে আইটি সেন্টারসহ দুটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়। 


হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের ভেতর ও সিলেট সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ‘সেভেন সিস্টারে’ রফতানির প্রত্যাশা ছিল। এই প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইটেক পার্কটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১.৩৯৯ একর জমি এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার ৭৬০ বর্গফুট স্পেস ৪০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বরাদ্দ নেওয়ার পর অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে বিনিয়োগ স্থগিত রাখেন। এর মধ্যে নোহা অ্যান্ড সোহান এন্টারপ্রাইজ পাঁচতারকা হোটেলের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে চুক্তি বাতিল করেন। সিমেড লিমিটেড নামক অন্যএকটি প্রতিষ্ঠানও একই কারণে তাদের বরাদ্দকৃত জমি ছেড়ে দেয়।


এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেয় হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হাইটেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কগুলোতে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে ঘটবে বিপ্লব। কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ তরুণ-তরুণীর। বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া সিলেটে গড়ে ওঠবে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। গতি সঞ্চার হবে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে। এমন স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হাইটেক পার্ক’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখানো ৩৩৬ কোটি টাকার সেই মেগা প্রকল্পের আকাশে জমেছে ঘনকালো মেঘ।


হাইটেক পার্কের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোরশেদুল আলম জানান, প্রকল্পটি শুরুতে বিনিয়োগকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দেশের অন্য এলাকা থেকে কম- এজন্য বিনিয়োগকারীরা ও আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপনে পিছিয়ে গেছেন। বর্তমানে র‌্যাংগস গ্রুপ তাদের ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং ইউনিট চালু করেছে। গ্যাসের অভাবে বাকি ইউনিটগুলো তারা চালু করতে পারেনি। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে পার্কের কারখানাগুলো চালু রাখা বেশ ব্যয়বহুল।


মোরশেদুল আলম আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। অর্ন্তবর্তী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা সিলেট হাইটেক পার্কে গ্যাস সংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু পেট্রোবাংলা সেটি আটকে দেয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো ফিরবেন।’

সর্বশেষ সব খবর