শহরের ছিলিমপুরে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান তার নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-৬ সদর আসনের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা বলছেন— বিএনপির ঘাঁটি বগুড়া, সামনে ভোটের মাধ্যমে দেখিয়ে দেন বগুড়া সত্যিকারে বিএনপির ঘাঁটি। এই ঘাঁটি রক্ষার দায়িত্ব আপনাদের।
আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি শহরের ছিলিমপুর এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আরও বলেন, বগুড়ার সাতটি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আপনার পরিশ্রম করতে হবে। মানুষের কাছে যেতে হবে। আমি কেন থাকতে হবে— আপনারই বিএনপির ধানের শীষের পক্ষে ভোট করবেন; এটা আপনাদের দায়িত্ব। ছোট ছোট গ্রুপ করে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাবেন। মানুষকে বোঝাবেন— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে আবার আগের মতো বগুড়ার উন্নয়ন হবে, সারা দেশের উন্নয়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের ম্যাডামের জন্য যেভাবে বিপুল ভোটে বিজয়ী করেছিলেন, এই নির্বাচনেও ৭টি আসনে সেভাবে বিজয়ী করবেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করবো। এক সাথে দেশের ও দেশের মানুষের উন্নয়ন করবো।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চান, জেলা বিএনপি নেতা আলী আজগর তালুকদার হেনা, কে এম খায়রুল বাসার, সহিদুন নবী সালাম, হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, জিয়া অলি, মাফতুন আহমেদ রুবেল প্রমুখ ছিলেন।
হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে বিশ্বের মুসলমানরা আল্লাহ পাকের অলি মনে করতেন। তিনি ছিলেন ন্যায়পরায়ণ, সৎ এবং সত্যবাদী।
এর পর সিরাজগঞ্জ যাওয়ার পথে তারেক রহমান বগুড়া-৭ আসনের শাহজাহানপুর উপজেলার মাঝিড়ায় পথ সভায় বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি আসনের বিএনপির প্রার্থী মোরশেদ মিল্টনের জন্য ভোট চেয়ে বলেন, মিল্টনের মাধ্যমে আপনাদের এলাকার উন্নয়ন করা হবে। আপনাদের সামনে বেশি কথা বলতে পারছি না। আপনারা ঘরের মানুষ হয়ে যদি বেশি সময় নেন; তাহলে অন্য জেলার মানুষের জন্য কেমনে সময় পাবো।
আখ রোপণ
ঠাকুরগাঁও চিনিকলে আখ রোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। (১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার) সদর উপজেলার চিলারং এলাকার চাষী মো: ফয়েজ উদ্দিনের জমিতে রোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করে সুগার মিল কর্তৃপক্ষ।
এ সময় চাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে রাজশাহী সুগার মিল হতে অনলাইনে যুক্ত হয়ে আখ রোপণ ২০২৬-২০২৭ মৌসুমের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান অ্যাডবোকেট মো: শামছুজ্জামান সুরুজ।
ঠাকুরগাঁও সুগারমিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. হুমায়ন কবীরের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকাস্থ বিএসএফআইসি’র টেকনিক্যাল সার্ভিস (টিএস) প্রধান কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক। এছাড়া সভায় সুগার মিলের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কৃষক গণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সুগারমিল কর্তৃপক্ষ জানায়, একটা সময় আখ চাষ থেকে কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নিলেও ভালো দামের কারণে আবার আশাব্যঞ্জকভাবে আখচাষে ঝুঁকছেন। মিল জোন এলাকায় এবার আখ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭ হাজার একর জমি। আখ মাড়াইয়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লক্ষ মেঃ টন, চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার ৩শত মেঃ টন।
সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অবৈধ অস্ত্র ও অন্যান্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সতর্কতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতেও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। আজ মঙ্গলবার সিলেট সার্কিট হাউজে জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব নির্দেশ প্রদান করেন। সভায় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সিলেটের বালু, পাথর ও অন্যান্য খনিজ সম্পদ আহরণসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে পরিবেশ, স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান, আদালতের রায় এবং দেশের প্রয়োজন- সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গঠিত জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, বিজিবি, পরিবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ প্রয়োজনীয় সংস্থার সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেটের বালু-পাথর ব্যবসার সঙ্গে বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান জড়িত। একইসঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাও জরুরি। পাহাড়ি ঢল, আকস্মিক বন্যা ও নদীভাঙনসহ সীমান্ত এলাকার ঝুঁকির বিষয়গুলোও সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের কারণে সমাজে নানা ধরনের অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টি হচ্ছে। মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। চাঁদাবাজির ক্ষেত্রেও কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী কোনো রাজনৈতিক দল বা সরকারের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তা বরদাশত করা হবে না।
সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের অগ্রাধিকারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও কারাগার থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের একটি অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র ভবিষ্যতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। তাই লুট হওয়া অস্ত্র, অবৈধ অস্ত্র এবং নির্ধারিত সময়ে জমা না দেওয়া অস্ত্র উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য প্রদানকারীদের জন্য সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সময়ে বিতর্কিতভাবে দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স যাচাই-বাছাই করে বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট অস্ত্র উদ্ধারে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মব সৃষ্টি বা ‘মব জাস্টিস’-এর বিষয়ে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ, সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাও কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, জনসভা, সেমিনারসহ নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা তুলে ধরতে হবে। তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে মব সৃষ্টির কোনো সুযোগ না দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সম্প্রতি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) নতুন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে মাদকের শীর্ষ ৫০ ব্যবসায়ীর তালিকা প্রণয়ন করে তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিলেটে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ অভিযান পরিচালনা করা গেলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে পরিস্থিতির দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, সিলেট এসএমপি দেশের অন্যতম বৃহৎ পুলিশি এলাকার দায়িত্ব পালন করছে। আগামীতে এসএমপি, রেঞ্জ পুলিশ ও জেলা পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান ফলাফল অর্জন করতে হবে।
সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান ও সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরীসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
দেশের দুর্গম সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়াতে থার্মাল ইমেজিং ও নাইট ভিশন সুবিধাসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে বিজিবি। এ জন্য সিলেটে দেশের প্রথম ‘সীমান্ত স্কুল অব সারভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ চালু করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সিলেট বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের কার্যক্রম, ড্রোনের ব্যবহারিক প্রদর্শনী ও মহড়া দেখেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব সীমান্ত এলাকায় জনবল দিয়ে ম্যানুয়ালি নজরদারি করা কঠিন, সেখানে ডিজিটাল নজরদারি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ইমেজিং ড্রোন ব্যবহার করা হবে। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে সীমান্তের ওপারে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করার পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং মানব পাচারের মতো আন্তসীমান্ত অপরাধ শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
এ সময় সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রের মাধ্যমে ড্রোন ও ডিজিটাল নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে সীমান্তের বর্ডার আউটপোস্ট, বিজিবি সদর দপ্তর ও আঞ্চলিক কমান্ড পর্যায় থেকেও সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিজিবির জন্য দেশে ড্রোন তৈরি ও সংযোজনের উদ্যোগের কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমরা এগুলো নিজেরাও এখানে অ্যাসেম্বল করছি, বানাচ্ছি এবং ভবিষ্যতে সেটা আমাদের জন্য একটা ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিশ্বের বিভিন্ন ধরনের আধুনিক ড্রোন রাখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সব ধরনের উন্নত ড্রোন এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে আরও উন্নত ড্রোন এখানে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।শুধু সীমান্ত নজরদারি নয়, দুর্যোগের সময়ও ড্রোন ব্যবহার করা যাবে বলে জানান তিনি। দুর্গম এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো ও উদ্ধারকাজে ড্রোন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বিজিবি সদস্যরা এরই মধ্যে এ ধরনের কাজে ড্রোন ব্যবহার করেছেন বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপাতত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বিজিবি সদস্যদের জন্য পরিচালিত হবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন ও সুযোগ অনুযায়ী বেসামরিক জনগণকেও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হতে পারে। তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়নের কাজেও এই সক্ষমতা কাজে লাগানো হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এমপি বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করে দেশকে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সপ্তাহের সাত দিনই সরকার জনগণের কল্যাণ ও দেশের উন্নয়নে নিবেদিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে দুঃস্থ ভাতা, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আজ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভা মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাই আন্দোলনের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। জনগণের ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে এসেছে। এখন গণতন্ত্রকে সুসংহত করার পাশাপাশি দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
পিরোজপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আহম্মদ সোহেল মনজুর বলেন, অতীতে সংঘটিত বিভিন্ন অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে জেলায় বন্ধ থাকা উন্নয়নকাজগুলো দ্রুত পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও যথাযথ মান বজায় রেখে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিয়ে, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় সরকার বদ্ধপরিকর। এসব সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে নিজে কী পেলেন-সেটি বড় বিষয় নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রকে কী দিতে পারলেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সমুন্নত রেখে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জ্বল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক আ. মান্নান হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বিপ্লব এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম মল্লিক জোমাদ্দার।
আলোচনা সভা শেষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরগুনায় নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর দলীয় কার্যালয় থেকে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে বরগুনা মিজান টাওয়ারের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এ.জেড.এম. সালেহ ফারুক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কে. এম শফিকুজ্জামান মাহফুজ, সদর উপজেলা বিএনপি’র সাবেক আহ্বায়ক তালিমুল ইসলাম পলাশ প্রমুখ।
সমাবেশে নেতাকর্মীরা বলেন- বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু একটি উদযাপনের দিন নয়, এটি গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার সংকল্প নেওয়ার দিন। এসময় দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে আগামী দিনে দলকে আরও সুসংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।
রংপুরে
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ একই পরিবারের আলোচিত ৪ খুনের ঘটনাটি
একটি লোমহর্ষক ঘটনা। এই হত্যাকাণ্ডটির রহস্য
উদঘাটনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করছে। একই সাথে হত্যাকাণ্ডটির রহস্য উদঘাটনে দ্বারপ্রান্তে পুলিশ বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার তোফায়েল আহমেদ।
মঙ্গলবার(১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে
গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের ৪ জন হত্যার
ঘটনায় গ্রেফতার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে জেলগেটে
প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদ
পরবর্তি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি
বলেন, ৪ খুনের মামলাটি
তদন্তাধীন। তাই এই বিষয় বিস্তারিত
আলোচনার এখন সময় না। তবে আপনাদেরকে আপডেট দিতে চাই, গ্রেফতার দুইজনকে জিজ্ঞাবাসাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছিলো। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজকে তাদের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এটি অব্যাহত থাকবে। মামলার রহস্য উদঘাটনে আমাদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করছি। আশা করছি সেই পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই মামলার নিষ্পত্তি
হবে।
এদিকে
গতকাল বেলা ১১ টা ৪৫
মিনিটে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিন্নাত আলীর নেতৃত্বে তিনসদস্যের একটি টীম কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন। তিনঘণ্টা ধরে এ জিজ্ঞাসাবাদ চলে।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে নতুন কোন তথ্য সামনে এসেছে কিনা এবং তারা এ বিষয়ে মুখ
খুলেছে কিনা তা জানা যায়নি।
এর আগে ৩১ আগস্ট সোমবার
আদালতে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলো মামলার তদন্তকর্মকর্তা। পরে মেট্রোপলিটন চীফ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক রফিকুল ইসলাম তিনদিনের মধ্যে যে কোন দুইদিন
তিন ঘন্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি প্রদান করেন।
এ
বিষয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানান, একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা
ঘটনায় নতুন কিছু তথ্য আসায় সেগুলো ক্রোস চেক করার জন্য গ্রেফতার সিদ্ধার্থ-মুগ্ধ দাসকে রিমান্ডের প্রয়োজন থেকে আদালতে আবেদন করা হয়েছিলো। যে কোন দুইদিন
তিন ঘন্টা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি প্রদান করেন আদালত।
উল্লেখ
গত ২২ আগস্ট রংপুর
নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের
মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় একই
এলাকার ও প্রতিবেশী সিদ্ধার্থ
দাস ও মুগ্ধ দাসকে
গ্রেফতার করা হয়। পরে তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় দুই জন সাক্ষীও আদালতে
জবানবন্দি দেন।
এর আগে পুলিশ জানিয়েছিলো ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ৮-৯ ইয়াবা সেবন করেছিলো বলে জানায় পুলিশ।