• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ এএম

১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন আর তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসন। এর তিনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র), আর বাকি তিনটিতে জামায়াত এগিয়ে আছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। 


২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের অপকর্ম, আধিপত্য বিস্তার, আচার আচরণে দলটির ইমেজ অনেকাংশে কমেছে। তেমনি জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের বেড়েছে আগ্রহ।


এক সময়ের বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনগুলো উদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজ দল আর উপদলীয় কোন্দলে একদমই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি। বোদ্ধারা বলছেন শেষ মূহুর্তে দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে। 


জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন, যা ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২১ জন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বিএনএফ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


এই ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি মূলত: নারী ভোটাররা। ছয়টি আসনেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।


জামায়াত এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে সুক্ষ্মভাবে। তাদের নারী কর্মীরা দল বেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৪ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধরাও নিয়ামক শক্তির একাংশ হতে পারে বলে বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন। তাদের মতে দল, মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সন্তানেরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুবাদে জুলাই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।


জুলাই চেতনা যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য এরা দশ দলকেই ভোট দেবে। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিএনপির একাংশের ভোট ছাড়াও নিয়ামক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে টানলেও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্রদের উপরই ভরসা রাখছেন এমনটাই বলছেন তারা।


নওগাঁ-১

 

জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৬ নওগাঁ-১ আসন। এখানে ভোটের মাঠে লড়ছেন পাঁচজন। তবে লড়াই হবে মূলত: ত্রিমুখী, বিএনপি-স্বতন্ত্র আর জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। 


গত নির্বাচনেও তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। দলীয় মনোনয়ন পাবার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত হবার আগে থেকেই তিনিও মাঠে আছেন। এই হেভিওয়েট প্রার্থী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর তিন বার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 


স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) প্রার্থী হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির একটি পক্ষ এখনও তার পক্ষে কাজ করছেন-এই অভিযোগে তিন উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির ভোট ব্যাংকে তিনি একটা বড় ফ্যাক্টর। 


তবে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সে কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে বর্তমানে কোনো বিভক্তি নেই। ডা: ছালেক চৌধুরী অনেক আগে থেকেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি প্রার্থী থাকায় ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ আর ডা: ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাবো। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই আমার অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চাই।’ 


এই আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম এগোচ্ছেন ভিন্ন কৌশলে। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। 


স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী কালু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। তবে তা জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করতে যথেষ্ঠ নয় বলে অভিমত অভিজ্ঞদের।


নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ জন, পোরশা উপজেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন ও সাপাহার উপজেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৩ জন। ২০০৮ থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।


নওগাঁ-২


পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৭ নওগাঁ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সামসু্েজ্জাহা খান, জামায়াতের এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম। এখানে মূলত: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সামসুজ্জোহা খান পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। 


তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে যায়। এই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার এই আসন পুনরুদ্ধারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাঙ্খিত প্রচারণায় না থাকায় বিজয় ছিনিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। 


এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি নওগাঁ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। দলীয় কৌশলী শৃঙ্খলে ডোর টু ডোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে এবার তারাই বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন। 


তবে সামছুজ্জোহা খান দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এবি পার্টির মতিবুল ইসলামও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।


এই আসনে মোট ভোটার তিন লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী এক লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ দুই জন।


নওগাঁ-৩


মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন আর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৮ নওগাঁ-৩ আসন। সর্বোচ্চ আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনে। এরা হলেন, ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি), মাহফুজুর রহমান (জামায়াত), নাছির বিন আছগর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মাসুদ রানা (জাপা), কালিপদ সরকার (বাসদ), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (বিএনএফ), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (স্বতন্ত্র)। 


এখানে মূলত: লড়াই হবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আর জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী অন্যদের চেয়ে অনেক গুন এগিয়ে থাকলেও দলীয় দ্বন্দ্বে আশানুরুপ ফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


বিএনপির প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ট্যক সো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল অনেক আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন। বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপি আর মহাদেবপুরে উপজেলা কৃষক দলের ব্যানারে তিনি প্রচার চালান। এই আসনে আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বয়কট, বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট আন্দোলন করেন। 


এখন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধানের শীষের প্রচারে নামলেও তা অনেকটাই লোক দেখানো এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তিনি যাতে বিজয়ী হতে না পারেন সেজন্য তারা গোপনে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন এমনটাও ভাবছেন অনেকে। নিজ দলেই যেন কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলছেন, এবার বিএনপির জোয়ার এসেছে। জনতা বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন। 


মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু ১৯৯১ থেকে এই আসনে পরপর চার বার এমপি নির্বাচিত হন। 


এসময় তিনি এলাকায় প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। গত নির্বাচনেও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পাতানো নির্বাচনে সেবার তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। একারণে মানুষ তাকে জনতার এমপিই মনে করেন। এবারও তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। 


এছাড়া এখনও বিএনপির একটা অংশ তার জন্য কাজ করছেন। বহিস্কার হবার ভয়ে প্রকাশ্যে কাজ না করলেও আড়ালে তার ভোট করছেন। আঞ্চলিকতার টানেও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষ তাকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এদিক থেকে তার ভোটের পাল্লা অনেকটাই ভারি।


বিএনপি আর বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুবাদে শুরু থেকেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক স্থানে। ডানপন্থীদের নানা কার্যক্রমে তারা যুক্ত থেকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। এখন তাদের বৃহৎ নারী দলকে মাঠে নামিয়েছেন। মূলত: এই নারীকর্মীরা ভোটারদের মনের কোণে ঢুকতে সক্ষম হয়েছেন। এরাই হবেন জামায়াত প্রার্থীর জয়ের নিয়ামক শক্তি।


নওগাঁ-৪


মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪৯ নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। এরা হলেন, বিএনপির ডা. ইকরামুল বারি টিপু, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন, সিপিবির ডা. ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফান বেগম ফেন্সি  (কলস)। 


এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। তবে নানা কারণে বিএনপিতে বিভক্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াত এগিয়ে যেতে পারে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। এখানে বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। ডা. ইকরামুল বারি টিপুকে মনোনয়ন দেয়ায় দীর্ঘদিন অন্যরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এতে দলের ভোট ব্যাংকে মারাত্মক চির ধরেছে। তবে ডা. ইকরামুল বারি টিপু বলেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। 


এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিব। ২০০৯ সালে এই দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে। সেবার ডা. ইকরামুল বারি টিপু বিজয়ী হন। তবে ১৯৯১ এর নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বিএনপির বিভক্তিতে জামায়াতের অবস্থান হয়েছে শক্ত।


এরশাদ আমলে এই আসনে জাতীয় পার্টির কফিল উদ্দিন সোনার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার জাপা, সিপিবি, ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 


উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৩ জন ও নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। 


নওগাঁ-৫


নওগাঁ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৫০ নওগাঁ-৫ আসন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন। এরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতের এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুকে গতবারও ধানের শীষ দেয়া হয়েছিল। তিনি ছাড়াও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। 


মনোনয়ন ঘোষণার পর তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এখানে বিএনপির অন্তরদ্বন্দ্বে প্রাণহীন প্রচারণা চলছে বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা। এর সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম। জামায়াতে কোন গ্রুপিং না থাকায় দিন দিন তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।


ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নওগাঁ সফর করে ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দু'দলই জিততে মরিয়া। দু'দলের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এই দু'দলই এখন আলোচনায়।


এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন ও নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। 


নওগাঁ-৬


বাংলা ভাই খ্যাত উত্তরের রক্তাক্ত জনপদ আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৫১ নওগাঁ-৬ আসন। এই আসনে এবার পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতের খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি বিআরপি এর আতিকুর রহমান রতন মোল্লা ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির।


এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক চারদলীয় জোটের গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত: আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর। গতবারও তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। 


রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু আলমগীর কবিরের ছোট ভাই হওয়ায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে যাবে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। অপরদিকে অতীতের নানা কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকও গড়াতে পারে স্বতন্ত্রের দিকেই। আলমগীর কবির বলেন, ‘আমার লড়াই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই।’ বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় জামায়াতও এগুচ্ছে কৌশলী খেলায়। তারাও জয়ের জন্য আশাবাদী।


এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ টি। 




  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৪ পিএম

রংপুর বিভাগে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গত এক বছরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক হাজার ২০০ জন স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে। যা সার্জারি বিভাগের মোট অস্ত্রোপচারের মধ্যে সর্বাধিক। অজ্ঞতার কারণে অনেক রোগী হাসপাতালে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসছে না। চিকিৎসা নিতে দেরী করায় অনেককে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হচ্ছে। 


আজবৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রংপুর মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগ আয়োজিত ‘স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী কর্মসূচীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ তথ্য দেন। সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন। 


সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শরিফুল ইসলাম নন্তুর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জহিরুল হক, সার্জারি বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ডা. সৈয়দা শাহনাজ নাসরুল্লাহ ইলোরাসহ সার্জারির মাধ্যমে স্তন ক্যান্সার থেকে সুস্থ্য হওয়া নারীরা।


এতে বক্তারা বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জার বিভাগ স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় বর্হিবিভাগে একটি ক্লিনিক চালু করেছে। যেখানে স্তনের স্ক্রিনিংসহ চিকিৎসকরা স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ কিংবা তার বেশি, তাদের স্তনে যদি কোন গুটি, চাকা বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়, যা পরবর্তী মাসিক ঋতুচক্র পাড় হওয়ার পরও থেকে যায়। তাহলে স্তন ক্যান্সারের শংঙ্কা থেকে দ্রুত কোন সার্জনের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। বেশির ভাগ রোগী দেরী করে হাসপাতালে আসায় তাদের সুস্থ্য করে তোলা সম্ভব হয় না।  


বক্তারা আরও বলেন, স্তন ক্যান্সার হলে মানুষ মারা যায় সমাজে এমন ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। এই ক্যান্সারের চিকিৎসা করে মানুষ সুস্থ্য হয়ে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিও থেরাপি মেশিন নেই। যদি এই মেশিন চলে আসে তখন স্তন কেটে না ফেলেও স্তন ক্যান্সারের অপারেশন করা সম্ভব হবে। এছাড়া স্তন ক্যান্সার রোগীদের অপারেশনসহ কেমোথেরাপি কার্যক্রম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু রয়েছে।


এরপর একটি র‌্যালী রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এরপর কেককাটাসহ কলেজ অডিটরিয়ামে বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৫১ পিএম

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক সড়কে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়েছে। সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ডাকে আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। যদিও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞায় গত ১২ অক্টোবর হতে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে বর্তমানে সাজেকে কোনো পর্যটক নেই।


সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সশস্ত্র কর্মীদের সাজেক এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি দেয় সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ও গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। অবরোধের কারণে বাঘাইছড়ি উপজেলার ৩৬ নম্বর সাজেক ইউনিয়নে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ সাজেক ভ্যালি ও তার আশেপাশের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে সকাল থেকে কোনো যানবাহন চলতে দেখা যায়নি সড়কগুলোতে।


সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের গঙ্গারাম উঁচাবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা। সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখে তারা।


এদিকে অবরোধের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাটের দিনেও স্থানীয় হাট-বাজারগুলোতে দেখা গেছে সুনসান নীরবতা। পরিবহন সংকটে জুমের উৎপাদিত ফসল হাটে নিতে পারছেন না জুমচাষীরা। 


স্থানীয়রা বলছেন অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে সাজেকে খাদ্যসংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন মহল।


সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, সড়ক অবরোধ চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। অবরোধ ঘিরে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। 


এর আগে বুধবার সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ব্যানারে দুটি সংগঠন যৌথ বিবৃতিতে সাজেক ইউনিয়নে এ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছিল।


এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে চলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ। অবরোধে সাজেকে আটকা পড়ে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় সাজেক থেকে পর্যটক ফিরিয়ে আনতে গেলে সাজেকের ওজোবাজার আটকে দেয় অবরোধকারীরা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পর পর্যটকবাহী নিরাপত্তা স্কটটি ছেড়ে দেয়া হয় এবং সড়ক অবরোধ ৪৮ ঘণ্টার জন্য শিথিল করা হয়। 


এরপর বুধবার আবার দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধ ডাকা হয়। পরে পর্যটক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অনির্দিষ্টকালের জন্য সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেয় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।


এদিকে, পর্যটনকেন্দ্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি জেলা শহরে মানববন্ধন করেছে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক কর্মচারীরা।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:০৩ পিএম

সীমান্তের কাছাকাছি ৬৪ মণ্ডপ, বিসর্জন পর্যন্ত থাকবে টহল তৎপরতা। শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পূজাকে কেন্দ্র করে দুই জেলার সীমান্ত এলাকায় মোট ৮৬টি পূজামণ্ডপ চিহ্নিত করেছে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)। এর মধ্যে ৬৪টি মণ্ডপ আন্তর্জাতিক সীমারেখার খুব কাছাকাছি অবস্থিত। পূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিনরাত টহল কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বিজিবি।


আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাটালিয়নের দায়ীত্বপূর্ণ দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার ৯৯ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোকে নিরাপত্তার আওতায় আনা হয়েছে।


এর মধ্যে ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের দুই থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে ২২টি, দিনাজপুরের বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলাধীন সীমান্ত এলাকায় ২৩টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ৪১টি পূজামণ্ডপ রয়েছে। বিজিবি জানায়, শারদীয় দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন এই উৎসব। তাই সীমান্তবর্তী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


ইতোমধ্যে বিজিবির টহল দল সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দায়ীত্বপূর্ণ এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় কাজ করছে। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এ তৎপরতা অব্যাহত ও জোরদার থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া পূজামণ্ডপের সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় করছেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক ও বিজিবির সদস্যরা।


এর মাধ্যমে পূজার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের নিরাপত্তা ও সহযোগীতার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা ও মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বিজিবির প্রতিটি সদস্য নিরলসভাবে কাজ করছেন। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবগুলো শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করাও বাহিনীর অন্যতম অগ্রাধীকার।


বিজ্ঞপ্তিতে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, সীমান্ত বা পূজামণ্ডপ এলাকায় কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি কিংবা তৎপরতা চোখে পড়লে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে হবে। স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও সহযোগীতাকে নিরাপত্তা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে বাহিনী।


উল্লেখ্য, এ বছর ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে বলে বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:২৩ পিএম

‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন'এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ঠাকুরগাঁওয়ে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস উদ্‌যাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। বৃহস্পতিবার(১৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


অনুষ্ঠানে ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ১৩০ জন অংশ নেন। এ সময় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের মধ্যে ১৪টি স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় এবং প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ রফিকুল হক। সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আবু তাহের। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর রহমান, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফয়সাল আহমদ এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপি কনসালট্যান্ট চিকিৎসক আল মানসুর। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিবন্ধী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫৯ পিএম

ঋণ ও সঞ্চয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ২০২৫ সালে ১১৮ কোটি টাকা ব্যয় করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা 'আশা'। চলতি বছর এই খাতে ১৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রংপুরে এনজিও ফোরামের সভাকক্ষে আশার বিভাগীয় পর্যায়ের মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।


সভায় ঋণ ও সঞ্চয় কর্মসূচির পাশাপাশি আশার শিক্ষা, শিক্ষা বৃত্তি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, ফিজিওথেরাপি, স্যানিটেশন এবং দুর্যোগকালীন সহায়তা ও  সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। 


এসময় জানানো হয়, আশা রংপুর বিভাগের ৪৩৫টি ব্রাঞ্চের আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ২৮৬ জন সদস্যকে ৬ হাজার ৩৩৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থ বছরে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৩৭৫ জন সদস্যকে ৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 


ঋণ বিতরণ কর্মসূচির পাশাপাশি রংপুর বিভাগে ১০৭টি ব্রাঞ্চে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এক হাজার ২২টি শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৯৩৯ জন।


এছাড়া, ৩টি ব্রাঞ্চে সমন্বিত স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ১২টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাধ্যমে গত অর্থ বছরে মোট ৩ লাখ তিন হাজার ৩৩৪ জনকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করা হয়েছে।


সভায় আরও জানানো হয়, রংপুর, নীলফামারী এবং ঠাকুরগাঁও সদরে অবস্থিত ৩টি ফিজিওথেরাপি সেন্টার ও বিভিন্ন ক্যাম্পের মাধ্যমে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ২২ হাজার ২১৩ জনকে সেবা প্রদান করা হয়েছে।


সামাজিক নিরাপত্তা খাতে শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে তিন হাজার ২০০টি কম্বল হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া স্যানিটেশন উদ্যোক্তা ও ব্যবহারকারীদের মাঝে ঋণ বিতরণ এবং গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজেলায় 'হোপ ফর দি পুওরেস্ট (এইচপি)' প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।


পাশাপাশি সদস্য কল্যাণ কার্যক্রমে আওতায় ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ৩২৬ জন সদস্যকে অবসর সম্মানী ভাতা হিসেবে ৪৯ লাখ টাকা প্রদান। এক হাজার ৭০৫ জন সদস্যের মৃত্যুতে এককালীন ৮৫ লাখ টাকা অনুদান। দুই হাজার ২৮১ জন মৃত সদস্যের ১০ দশমিক ৬০ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ মওকুফ করা হয়।


এছাড়া তিন হাজার ৪৮২ জন অভিভাবকের মৃত্যুতে ১২ দশমিক ৯৫ কোটি টাকা ঋণ মওকুফ,  ৬৪ জন কর্মক্ষমতা হারানো সদস্য ও অভিভাবকের ২৪ লাখ টাকা ঋণ মওকুফ। তিন হাজার ৮৭৫ জন সদস্যকে ৮৮ দশমিক ২২ লাখ টাকার চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আশার এসব কর্মসূচি নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।


সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রংপুর বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোসাদ্দেকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন আশার রংপুর ডিভিশনাল ম্যানেজার এস. এম. বেলাল হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রংপুর জেলার সিনিয়র ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হারুনার রশীদ সেখ। 


প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে আশার এই সামাজিক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করে  আগামীতে এ কার্যক্রমের পরিধি আরও বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।


  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৩৯ পিএম

‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’—এই প্রতিপাদ্যে রংপুরে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস, ২০২৬ উপলক্ষ্যে আলোচনাসভা ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিবসটি উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান। রংপুর জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্র যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জেলা প্রশাসক বলেন, সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আন্তরিকতা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে পারেন। রংপুরের মতো জনপদ থেকেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধীরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। এই ধারা অব্যাহত রাখতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।


তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য সরকারের উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, ইতোমধ্যে সরকার প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে এক হাজার টাকায় উন্নীত করেছে। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে তাদের জন্য ‘শ্রুতিলেখক’সহ বিশেষ পরীক্ষার সুযোগ চালু রয়েছে। রংপুর জেলার প্রায় ৩০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে আনুমানিক এক লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন। এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে পেছনে রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এজন্য তাদেরকে সমাজের মূল স্রোত ধারায় নিয়ে আসার পাশাপাশি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।


জেলা প্রশাসক প্রতিবন্ধীদের সঠিক তথ্য ও স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও অনুদান যেন প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের দোরগোড়ায় পৌঁছায়, সেজন্য ভুয়া তথ্য পরিহার করে সঠিক তথ্য সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ধরনের মিথ্যাচারের সুযোগ নেই। সত্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ করা হলে প্রতিবন্ধী শিশুরা সরকারি সহায়তার প্রকৃত সুফল পাবে।


তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অবহেলা ও ভিক্ষাবৃত্তির মতো অবস্থা থেকে ফিরিয়ে এনে সমাজের মূল স্রোতধারায় যুক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা ও তাদের সামগ্রিক সম্ভাবনার বিকাশে সঠিক তথ্য প্রকাশে তিনি সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


অনুষ্ঠানে রংপুর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নুসরাত ফাতেমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা প্রদান করেন অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিক্যাল অফিসার ড. রাকিবুল ইসলাম, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি নুর আলম, প্রতিবন্ধী সঙ্গীতাঙ্গনের পরিচালক শংকর বাবু প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মাসুদ রানা। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, প্রতিবন্ধী শিশু-অভিভাবক, শিক্ষবৃন্দ, এনজিও সংগঠনের সদস্য, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আলোচনাসভার পূর্বে দিবসটি উপলক্ষ্যে রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।