• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ এএম

১১টি উপজেলার ৯৯টি ইউনিয়ন আর তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নওগাঁর ছয়টি সংসদীয় আসন। এর তিনটিতে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র), আর বাকি তিনটিতে জামায়াত এগিয়ে আছে বলে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। 


২০২৪ এর ৫ আগস্ট পরবর্তী বিএনপির নেতাকর্মীদের অপকর্ম, আধিপত্য বিস্তার, আচার আচরণে দলটির ইমেজ অনেকাংশে কমেছে। তেমনি জামায়াতের প্রতি সাধারণ ভোটারদের বেড়েছে আগ্রহ।


এক সময়ের বিএনপির দূর্গ বলে পরিচিত এই আসনগুলো উদ্ধারে মরিয়া হয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। নিজ দল আর উপদলীয় কোন্দলে একদমই কোনঠাসা হয়ে পড়েছে বিএনপি। বোদ্ধারা বলছেন শেষ মূহুর্তে দলীয় কোন্দল ঠেকাতে না পারলে বিএনপিকে চরম মূল্য দিতে হবে। 


জেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, নওগাঁর ছয়টি আসনে মোট ভোটার ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন, যা ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন পুরুষ ভোটারের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২১ জন। বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, সিপিবি, বিএনএফ ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


এই ছয়টি আসনে জয়-পরাজয়ের নিয়ামক শক্তি মূলত: নারী ভোটাররা। ছয়টি আসনেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি।


জামায়াত এই সুযোগটাকে কাজে লাগাচ্ছে সুক্ষ্মভাবে। তাদের নারী কর্মীরা দল বেঁধে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। এছাড়া ২৪ এর চেতনায় উদ্বুদ্ধরাও নিয়ামক শক্তির একাংশ হতে পারে বলে বয়োজ্যেষ্ঠরা বলছেন। তাদের মতে দল, মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের সন্তানেরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়ার সুবাদে জুলাই আন্দোলনে জড়িয়ে পড়ে।


জুলাই চেতনা যাতে ধ্বংস না হয় সেজন্য এরা দশ দলকেই ভোট দেবে। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিএনপির একাংশের ভোট ছাড়াও নিয়ামক শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। বিএনপি ও জামায়াত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলে টানলেও আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্রদের উপরই ভরসা রাখছেন এমনটাই বলছেন তারা।


নওগাঁ-১

 

জেলার নিয়ামতপুর, পোরশা ও সাপাহার উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৬ নওগাঁ-১ আসন। এখানে ভোটের মাঠে লড়ছেন পাঁচজন। তবে লড়াই হবে মূলত: ত্রিমুখী, বিএনপি-স্বতন্ত্র আর জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। 


গত নির্বাচনেও তাকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। দলীয় মনোনয়ন পাবার পর থেকেই ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন তিনি। উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা: ছালেক চৌধুরীও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। মনোনয়ন চুড়ান্ত হবার আগে থেকেই তিনিও মাঠে আছেন। এই হেভিওয়েট প্রার্থী ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর পর তিন বার বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। 


স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল) প্রার্থী হওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বিএনপির একটি পক্ষ এখনও তার পক্ষে কাজ করছেন-এই অভিযোগে তিন উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজনকেও বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপির ভোট ব্যাংকে তিনি একটা বড় ফ্যাক্টর। 


তবে ধানের শীষের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সে কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘দলের মধ্যে বর্তমানে কোনো বিভক্তি নেই। ডা: ছালেক চৌধুরী অনেক আগে থেকেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন। তিনি প্রার্থী থাকায় ধানের শীষের ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না।’ আর ডা: ছালেক চৌধুরী বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমি লড়াই করে যাবো। ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই আমার অবস্থানের যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে চাই।’ 


এই আসনে জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাহবুবুল আলম এগোচ্ছেন ভিন্ন কৌশলে। নারী কর্মীদের সম্পৃক্ত করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগঠিত প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। 


স্থানীয়রা বলছেন, বিএনপির ভোট বিভক্ত হলে জামায়াত প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়বে। এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আকবর আলী কালু ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আব্দুল হক শাহ নির্বাচনী দৌড়ে রয়েছেন। তবে তা জেতার মত পরিস্থিতি তৈরি করতে যথেষ্ঠ নয় বলে অভিমত অভিজ্ঞদের।


নওগাঁ-১ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৫ জন। এর মধ্যে নিয়ামতপুর উপজেলায় ২ লাখ ১৫ হাজার ৯৭২ জন, পোরশা উপজেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার জন ও সাপাহার উপজেলায় ১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৩ জন। ২০০৮ থেকে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল।


নওগাঁ-২


পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত ৪৭ নওগাঁ-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির সামসু্েজ্জাহা খান, জামায়াতের এনামুল হক ও এবি পার্টির মতিবুল ইসলাম। এখানে মূলত: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। সামসুজ্জোহা খান পত্নীতলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি, নওগাঁ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির কৃষি বিষয়ক সম্পাদক। 


তিনি ষষ্ঠ ও সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর থেকে এই আসন আওয়ামী লীগের দখলে যায়। এই হেভিওয়েট প্রার্থী এবার এই আসন পুনরুদ্ধারে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপিতে একাধিক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তারা দলের প্রার্থীর পক্ষে কাঙ্খিত প্রচারণায় না থাকায় বিজয় ছিনিয়ে নেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। 


এই সুযোগটাকেই কাজে লাগাচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থী এনামুল হক। তিনি নওগাঁ জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর। দলীয় কৌশলী শৃঙ্খলে ডোর টু ডোর প্রচারণা চালাচ্ছেন। এই আসনে এবার তারাই বিজয়ী হবেন বলে আশা করছেন। 


তবে সামছুজ্জোহা খান দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, পত্নীতলা ও ধামইরহাট উপজেলায় বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। এবি পার্টির মতিবুল ইসলামও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।


এই আসনে মোট ভোটার তিন লক্ষ ৭২ হাজার ৪৩৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক লক্ষ ৮৫ হাজার ৩৭৭ জন, নারী এক লক্ষ ৮৭ হাজার ৫৫৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গ দুই জন।


নওগাঁ-৩


মহাদেবপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন আর বদলগাছী উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৪৮ নওগাঁ-৩ আসন। সর্বোচ্চ আট জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই আসনে। এরা হলেন, ফজলে হুদা বাবুল (বিএনপি), মাহফুজুর রহমান (জামায়াত), নাছির বিন আছগর (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মাসুদ রানা (জাপা), কালিপদ সরকার (বাসদ), আব্দুল্লাহ আল মামুন সৈকত (বিএনএফ), পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি (স্বতন্ত্র) ও সাদ্দাম হোসেন (স্বতন্ত্র)। 


এখানে মূলত: লড়াই হবে বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি আর জামায়াতের প্রার্থী মাহফুজুর রহমানের মধে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় বিএনপি প্রার্থী অন্যদের চেয়ে অনেক গুন এগিয়ে থাকলেও দলীয় দ্বন্দ্বে আশানুরুপ ফল পাওয়া দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। 


বিএনপির প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট ট্যক সো ব্যক্তিত্ব ফজলে হুদা বাবুল অনেক আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন। বদলগাছীতে উপজেলা বিএনপি আর মহাদেবপুরে উপজেলা কৃষক দলের ব্যানারে তিনি প্রচার চালান। এই আসনে আরো দুজন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে বয়কট, বয়কট, ফজলে হুদা বয়কট আন্দোলন করেন। 


এখন বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন ধানের শীষের প্রচারে নামলেও তা অনেকটাই লোক দেখানো এমনটাই মনে করছেন অনেকে। তিনি যাতে বিজয়ী হতে না পারেন সেজন্য তারা গোপনে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার কথা বলছেন এমনটাও ভাবছেন অনেকে। নিজ দলেই যেন কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারছেন না। তবে প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল বলছেন, এবার বিএনপির জোয়ার এসেছে। জনতা বিপুল ভোটে ধানের শীষকে বিজয়ী করবেন। 


মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ১নং সদস্য পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনি এবার মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার পিতা জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পীকার ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য প্রয়াত আখতার হামিদ সিদ্দিকী নান্নু ১৯৯১ থেকে এই আসনে পরপর চার বার এমপি নির্বাচিত হন। 


এসময় তিনি এলাকায় প্রভূত উন্নয়ন সাধন করেন। গত নির্বাচনেও পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী জনিকে ধানের শীষের মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। পাতানো নির্বাচনে সেবার তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পান। একারণে মানুষ তাকে জনতার এমপিই মনে করেন। এবারও তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন এমন প্রত্যাশা করেন তিনি। 


এছাড়া এখনও বিএনপির একটা অংশ তার জন্য কাজ করছেন। বহিস্কার হবার ভয়ে প্রকাশ্যে কাজ না করলেও আড়ালে তার ভোট করছেন। আঞ্চলিকতার টানেও মহাদেবপুর উপজেলার মানুষ তাকেই বেছে নিতে বেশি আগ্রহী। এছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের একটা বড় অংশ তার পক্ষে কাজ করছে এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এদিক থেকে তার ভোটের পাল্লা অনেকটাই ভারি।


বিএনপি আর বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে ভোট ভাগাভাগির সুবাদে শুরু থেকেই জামায়াতের প্রার্থী রয়েছেন সুবিধাজনক স্থানে। ডানপন্থীদের নানা কার্যক্রমে তারা যুক্ত থেকে ব্যাপক প্রচার চালাচ্ছেন। এখন তাদের বৃহৎ নারী দলকে মাঠে নামিয়েছেন। মূলত: এই নারীকর্মীরা ভোটারদের মনের কোণে ঢুকতে সক্ষম হয়েছেন। এরাই হবেন জামায়াত প্রার্থীর জয়ের নিয়ামক শক্তি।


নওগাঁ-৪


মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ৪৯ নওগাঁ-৪ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ছয় জন। এরা হলেন, বিএনপির ডা. ইকরামুল বারি টিপু, জামায়াতের খন্দকার আব্দুর রাকিব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সোহরাব হোসাইন, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন, সিপিবির ডা. ফজলুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফান বেগম ফেন্সি  (কলস)। 


এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে। তবে নানা কারণে বিএনপিতে বিভক্তির সুযোগ নিয়ে জামায়াত এগিয়ে যেতে পারে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। এখানে বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় তিন জন মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। ডা. ইকরামুল বারি টিপুকে মনোনয়ন দেয়ায় দীর্ঘদিন অন্যরা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এতে দলের ভোট ব্যাংকে মারাত্মক চির ধরেছে। তবে ডা. ইকরামুল বারি টিপু বলেন, মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। তাদের বিজয় সুনিশ্চিত। 


এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য ও নওগাঁ জেলা জামায়াতের আমীর খন্দকার আব্দুর রাকিব। ২০০৯ সালে এই দুই প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচনে। সেবার ডা. ইকরামুল বারি টিপু বিজয়ী হন। তবে ১৯৯১ এর নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদি এমপি নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপি ও জামায়াত উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু বিএনপির বিভক্তিতে জামায়াতের অবস্থান হয়েছে শক্ত।


এরশাদ আমলে এই আসনে জাতীয় পার্টির কফিল উদ্দিন সোনার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু এবার জাপা, সিপিবি, ও অন্যান্য দলের সাংগঠনিক তৎপরতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীকে মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম ফেন্সি একাই কলস প্রতীকের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। 


উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, এই আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৩ জন ও নারী ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১৫ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। 


নওগাঁ-৫


নওগাঁ সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ৫০ নওগাঁ-৫ আসন। এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ জন। এরা হলেন, বিএনপির জাহিদুল ইসলাম ধলু, জামায়াতের এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুর রহমান, জাতীয় পার্টির আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ধলুকে গতবারও ধানের শীষ দেয়া হয়েছিল। তিনি ছাড়াও একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশি ছিলেন। 


মনোনয়ন ঘোষণার পর তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন করেন। এখানে বিএনপির অন্তরদ্বন্দ্বে প্রাণহীন প্রচারণা চলছে বলেই মনে করছেন বোদ্ধারা। এর সুযোগ নিচ্ছেন জামায়াত প্রার্থী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এ্যাডভোকেট আবু সাদাত সায়েম। জামায়াতে কোন গ্রুপিং না থাকায় দিন দিন তাদের বিজয়ের সম্ভাবনা বাড়ছে। এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।


ইতোমধ্যেই বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান নওগাঁ সফর করে ভোটারদের নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দু'দলই জিততে মরিয়া। দু'দলের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এই দু'দলই এখন আলোচনায়।


এখানে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৮০ হাজার ৩১ জন ও নারী ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৯৪ জন। ভোটকেন্দ্র ১১৮টি। 


নওগাঁ-৬


বাংলা ভাই খ্যাত উত্তরের রক্তাক্ত জনপদ আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ৫১ নওগাঁ-৬ আসন। এই আসনে এবার পাঁচ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরা হলেন, বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু, জামায়াতের খবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি বিআরপি এর আতিকুর রহমান রতন মোল্লা ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবির।


এই আসনে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন সাবেক চারদলীয় জোটের গৃহায়ন ও গণপুর্ত প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। পঞ্চম থেকে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। এবার দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মূলত: আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম রেজুর। গতবারও তিনিই বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন। 


রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বুলু আলমগীর কবিরের ছোট ভাই হওয়ায় বিএনপির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাক্সে যাবে এমনটাই বলছেন বোদ্ধারা। অপরদিকে অতীতের নানা কারণে আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকও গড়াতে পারে স্বতন্ত্রের দিকেই। আলমগীর কবির বলেন, ‘আমার লড়াই চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে চাই।’ বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় জামায়াতও এগুচ্ছে কৌশলী খেলায়। তারাও জয়ের জন্য আশাবাদী।


এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫০ জন ও মহিলা ১ লাখ ৭১ হাজার ৬১ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১৫ টি। 



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৫ পিএম

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সাবেক সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন ডাকাতকে আটক করেছে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।


আটককৃত ডাকাতরা হলেন, উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইনউদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (২১), একই ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের মৃত ইছহার ছেলে ফখরুল ইসলাম নাঈম (২১) ও চচ্রগ্রাম বন্দর সল্ট ভোলা ক্রসিং এলাকার মৃত শাহজাহানর মো.সাকিব (২২)।  


রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ছমদ আলী চেয়ারম্যানের নতুন বাড়িতে ডাকাতির এ ঘটনা ঘটে।


স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী আবদুল আলীম দীর্ঘ ২১ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে প্রায় ছয় মাস আগে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার খবর পেয়ে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের উড়িরচরের জলদস্যু শাহীনের যোগসাজশে গত শনিবার একদল ডাকাত রামপুর ইউনিয়নে এসে অবস্থান নেয়। রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে আবদুল আলীম ও পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৭-৮ জন মুখোশধারী ডাকাত বসতঘরের কাঠের দরজার লক ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। এ সময় ডাকাতরা আবদুল আলীম ও তার ছেলে সাইফ আলীকে হাত-পা বেঁধে ও মুখ ঢেকে জিম্মি করে।


পরে ডাকাতরা পরিবারের নারী সদস্যদের কাছ থেকে একটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি স্বর্ণের আংটিসহ মোট আনুমানিক এক ভরি দুই আনা স্বর্ণালংকার এবং আলমারি থেকে নগদ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ঘরে অবস্থান করে ডাকাতরা সামনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনার পরপরই স্থানীয় রংমালা বাজারের পাহারাদাররা সন্দেহজনকভাবে দ্রুত হেঁটে যাওয়া চট্টগ্রামের বাসিন্দা সাকিব নামে এক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সাকিব, রামপুরের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম নাঈম ও রিয়াজসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আটক তিনজনকে থানায় নিয়ে যায়।


কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকীম বলেন, সন্দেহজনক অবস্থায় স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। ডাকাতির ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

সাভার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিও কলোনী এলাকায় লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টে এক শ্রমিকদল নেতা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে  চাঁদাবাজির চেষ্টার অভিযোগে এনে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন লাব্বাইক ট্রান্সপোর্টের সুপারভাইজার মোঃ রিয়াজ মোর্শেদ।


গত ৩০ আগস্ট তিনি ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবর এই লিখিত অভিযোগ দেন। ভুক্তভোগী এ সময় অনুলিপি দিয়েছেন, সহকারী পুলিশ সুপার ঢাকা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানা।


ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, শ্রমিকদল নেতা পরিচয় মোঃ জসিম উদ্দিন মোল্লা (৩৮) সাং- ব্যাংক কলোনী, সাভার, ঢাকাসহ তার সহযোগী অজ্ঞাত ৭/৮ জনসহ নেশাগ্রস্ত কয়েকজন প্রায় প্রতিদিনই সরকার নির্ধারিত রোডভেকোলাইনে আমাদের চেকপোস্টে  এসে উৎপাত সৃষ্টি করে। কোম্পানীর লোকজনকে গালিগালাজ ও মারধর করে চেকপোস্ট থেকে সরিয়ে দেয়। ড্রাইভার-স্টাফদের মারধর করে। তাদের বক্তব্য, এখানে কোম্পানীর কোন গাড়ী বা কর্মচারী দাঁড়াতে পারবে না। এখানে দাঁড়ালে সব কোম্পানী গাড়ি প্রতি ৫০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসবের প্রতিবাদ স্বরূপ আমরা গাড়ীর সহযোগীতায় প্রতিরোধ করি। কিন্তু ইদানীং তারা নতুন কৌশলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত হয়েছে।




সম্প্রতি পূর্বে থেকেই দুর্ঘটনা কবলিত একটি প্রাইভেট কার আমাদের কোম্পানীর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-১০৩৯ বাসের সাথে ইচ্ছাকৃতভাবে ধাক্কা লাগিয়ে গত ১৮ আগস্ট পাকিজা এলাকার কোম্পানীর বেশ কয়েকটি গাড়ী আটক করে জসিম গং। পরে এবং ১৯ আগস্ট  আমাদের নিকট থেকে সাভার মডেল থানায় বসে ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকা আদায় করে।


উল্লেখ্য যে, বিবাদী জসিম পূর্ববর্তী আওয়ামী সরকারে আমলে যুবলীগ পরিচয় দিয়া, এখন শ্রমিক দলের সাভার পৌর সাংগঠনিক ও ঢাকা জেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পরিচয়ে চাঁদাবাজীসহ নানাবিধ অপকর্মে লিপ্ত। এমতাবস্থায়, উক্ত চেকপোস্ট ও আশপাশ এলাকায় কর্মরত আমরা সবাই নিরাপদ বোধ করছি না। যেকোন সময় হয়তো বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 


এদিকে অভিযুক্ত জসিম বলেন- তারা কেন আমার বিরুদ্ধে লিখিত দিয়েছে আমার জানা নেই। তার চাঁদা দাবির বিষয়গুলো জিজ্ঞেস করলে তিনি অস্বীকার করেন। 


সাভার মডেল থানা পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, বৈধ পৌর ইজারা ছাড়া কেউ চাঁদা দাবি করলে এটা কঠোরস্ত দমন করা হবে। সে যে দলেরই হোক না কেন। এ বিষয়ে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

সর্বশেষ সব খবর

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৫:৩৩ পিএম

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।


আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে “সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি” শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। 


প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্নমান কাবার পরিবেশন করবে ও কোন অনিয়ম করবে তাদেরকে খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।  


ববি হাজ্জাজ বলেন, এলাকাবাসীদের নিজ নিজ স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের স্কুলের যেসব পুরোনো শিক্ষার্থী রয়েছেন, তাদেরও স্কুলের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। এতে স্কুলের প্রতি সবার দায়িত্ববোধ তৈরি হবে এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


ম্যানেজিং কমিটি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ম্যানেজিং কমিটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়। স্কুলের এলাকার মানুষের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই কমিটি গঠন করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকাবাসীকে বিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। এলাকাবাসী স্কুলের সঙ্গে যুক্ত থাকলে বিদ্যালয়টি আরও ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 


দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) মো. আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক এ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।


অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা রংপুরের বিভাগীয় উপপরিচালক মো. আজিজুর রহমান, দিনাজপুর জেলা শিক্ষা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।


জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শুকনো খাবারের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের জন্য পুষ্টিকর রান্না করা দুপুরের খাবার (মিড-ডে মিল) সরবরাহ করা। 


দিনাজপুর জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। উপজেলাগুলো হলো-কাহারোল, ঘোড়াঘাট, বিরল, বিরামপুর ও বোচাগঞ্জ। 


এই কর্মসূচির মাধ্যমে ৫টি উপজেলার ৬৮ হাজার ৭৬১ হাজার কোমল মতি শিক্ষার্থী স্কুল ফিডিংয়ের আওতায় আনা হবে। ওরিয়েন্টেশন কর্মশালায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৬৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

সিদ্ধার্থ-মুগ্ধের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদকের অস্তিত্ব

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৪৯ পিএম

রংপুরে আলোচিত চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের ফলাফলে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (৩০ আগস্ট) কারাগার থেকে দুজনের নমুনা (ইউরিন) সংগ্রহ করা হয়।


পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আদালতের অনুমতি নিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাব টেকনোলজিস্টদের একটি দল আসামিদের ডোপ টেস্টের জন্য প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয়। এতে দুজনের শরীরে মাদকের আলামত পাওয়া যায়নি।


বিষয়টি নিশ্চিত করে আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‌‘গতকাল (রোববার) তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। আজ ফলাফল পেয়েছি। এতে মাদকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’


রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগে ২৩ আগস্ট ভোরে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ। এর আগে ২১ আগস্ট ভোরে নিজ বাড়িতে সপরিবারে খুনের শিকার হন গণপতি চক্রবর্তী।


এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাস। জবানবন্দিতে ২০ আগস্ট দিনগত মধ্যরাত থেকে পরদিন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ওই দুই আসামি ৯ পিস ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে স্বীকার করেছিলেন।


রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ডোপ টেস্ট করার জন্যে আমাদের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেখানে ওই আসামিদের নিরাপত্তা ইস্যুতে ডোপ টেস্টটা যেন জেলগেটে করা হয়, সেরকম একটা অনুরোধ আমাদেরকে করা হয়। সেটার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এখান থেকে দুইজন টেকনোলজিস্ট দিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারায় তাদেরকে জেলগেটে পাঠাই। সেখান থেকে তারা নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করা হয়। টেস্টের রেজাল্ট সিলগালা করে আমরা আবার তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠিয়ে দিই।’


তিনি আরও বলেন, ‘এমফিটামিন অনেকদিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এরপরে আর পাওয়া যায় না। বিধায় যেহেতু এরা সাতদিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, তাই মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাতদিনের বেশি হলে এটা প্রস্রাবের ভেতরে পাওয়া যায় না।’

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:১২ পিএম

ব্রিটিশ রেডক্রসের সহায়তায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) নগরীর ধোপাদীঘির পাড়স্থ রেড ক্রিসেন্টের নিজস্ব ভূমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন করা হয়।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. আব্দুস সালাম এই উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।




প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মূল ভূমিকা পালন করছে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট’ (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগ)। এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগে সার্বিক সহায়তায় রয়েছে ‘ব্রিটিশ রেড ক্রস’। 


অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, রেড ক্রিসেন্ট সিলেট ইউনিটকে আরও আধুনিক, সুসংগঠিত ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম করে গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই ‘মডেল ব্রাঞ্চ ইনিশিয়েটিভস’ গ্রহণ করা হয়েছে।


ব্রিটিশ রেড ক্রসের সহায়তায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে সিলেটে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, ত্রাণ কার্যক্রম ও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ আরো গতিশীল হবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, সিলেট ইউনিটের চেয়ারম্যান আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের উপ-মহাসচিব এহছান-এ-এলাহী, সুইস রেড ক্রসের প্রতিনিধি সঞ্জীব বিশ্বাস, ব্রিটিশ রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ মুকেশ, আইএফআরসি-এর অ্যাক্টিং এইচওডি সোনাক্ষি দে, আইসিআরসি-এর এইচওডি নিকোলাস ফ্লুয়েরি, রেড ক্রিসেন্টের সিলেট ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান সেলিম, পিএন্ডডি বিভাগের পরিচালক সায়মা ফেরদৌসী, সিলেট ইউনিটের সেক্রেটারি মাহবুবুল হক চৌধুরী, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল আল মামুন সামন, নির্ঝর রায়, আবু সাঈদ মো. ইব্রাহিম, কামরুজ্জামান দিপু, পারভেজ আহমদ, যুব প্রধান চৌধুরী লাবিব ইয়াসির।


এছাড়াও ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ, ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ব্রিটিশ রেড ক্রস এবং সুইস রেড ক্রস-এর প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সিলেট জেলা ও শহরের রেড ক্রিসেন্ট যুব সদস্য, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং রেড ক্রিসেন্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


এদিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পূর্বে রবিবার সিলেট জেলা পরিষদ কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রেড ক্রস এবং রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের অংশীদারদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।


পরে নগরীর সারদা হল রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট ও সিলেট মাতৃমঙ্গল নার্সিং কলেজ পরিদর্শন করেন প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ৩১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:০১ পিএম

সিলেটে স্বপ্ন দেখিয়ে নিভে গেল ৩৩৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প 'হাইটেক পার্ক। কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্নী এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় প্রতিষ্টিত প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার ট্রায়াল দেওয়া হয়। এ প্রজেক্টের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগ কারীরা। যারা প্লটও স্পেস ভাড়া নিয়েছিলেন তারাও বিরত রয়েছেন বিনিয়োগ থেকে। ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে জমি ও স্পেস ভাড়া দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেছে মাত্র একটি। ফলে মেগা প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।


সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কোম্পানী গঞ্জ উপজেলার বর্ণি এলাকায় ১৬২.৮৩ একর জায়গায় গড়ে তোলা হয় হাইটেক পার্ক। মাটিভরাট থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৩৩৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় প্রকল্পটি। প্রকল্পটির উদ্দেশ্যে ছিল হাইটেক পার্কে বিভিন্ন ধরনের হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী উৎপাদন।


এছাড়া গ্রাফিক্স ডিজাইন, অ্যানড্রয়েড মোবাইল অপারেশন, জাভা এসই-৮ প্রোগ্রামিং, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট, নেটওয়ার্ক অ্যান্ড সার্ভার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, কোর হার্ডওয়ার্ক অ্যান্ড অপারেটিং সিস্টেম, বিপিও, ই-কমার্স, এস কিউ, এল এডমিনিস্ট্রেশন, ওরাকল ইত্যাদি বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আগামীর প্রযুক্তিবিদও গড়ে তুলতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ। এজন্য প্রকল্পে আইটি সেন্টারসহ দুটি প্রশিক্ষণ সেন্টারের ব্যবস্থা রাখা হয়। 


হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হলে সেখানে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি উৎপাদিত পণ্য ও সেবা দেশের ভেতর ও সিলেট সীমান্ত লাগোয়া ভারতের ‘সেভেন সিস্টারে’ রফতানির প্রত্যাশা ছিল। এই প্রত্যাশা নিয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে হাইটেক পার্কটিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৭১.৩৯৯ একর জমি এবং ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার ৭৬০ বর্গফুট স্পেস ৪০ বছরের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। বরাদ্দ নেওয়ার পর অনেকে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে বিনিয়োগ থেকে সরে দাঁড়ান। এ ছাড়া গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পেয়ে অনেকে বিনিয়োগ স্থগিত রাখেন। এর মধ্যে নোহা অ্যান্ড সোহান এন্টারপ্রাইজ পাঁচতারকা হোটেলের জন্য জমি বরাদ্দ নিয়ে ব্যাংক ঋণ না পেয়ে চুক্তি বাতিল করেন। সিমেড লিমিটেড নামক অন্যএকটি প্রতিষ্ঠানও একই কারণে তাদের বরাদ্দকৃত জমি ছেড়ে দেয়।


এদিকে, পার্কটিকে সচল করতে সরকারিভাবে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অর্ন্তবর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রকল্পটি স্থগিত বা বাতিলের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যত অনিশ্চয়তায় পড়ে। পরে ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর প্রকল্পের অগ্রগতি ও অর্থায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সরকারকে পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব দেয় হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। ওই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার হাইটেক পার্কগুলোকে কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে পার্কগুলোতে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে কবে নাগাদ বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য প্রযুক্তিখাতে ঘটবে বিপ্লব। কর্মসংস্থান হবে অর্ধ লক্ষাধিক দক্ষ-অদক্ষ তরুণ-তরুণীর। বিনিয়োগে এগিয়ে আসবেন দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা। শিল্পায়নে পিছিয়ে পড়া সিলেটে গড়ে ওঠবে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্প। গতি সঞ্চার হবে সিলেটের স্থানীয় অর্থনীতিতে। এমন স্বপ্ন দেখিয়ে সিলেটে যাত্রা শুরু করেছিল ‘হাইটেক পার্ক’। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বপ্ন দেখানো ৩৩৬ কোটি টাকার সেই মেগা প্রকল্পের আকাশে জমেছে ঘনকালো মেঘ।


হাইটেক পার্কের উপ মহাব্যবস্থাপক মো. মোরশেদুল আলম জানান, প্রকল্পটি শুরুতে বিনিয়োগকারীদের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। সিলেটে গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা দেশের অন্য এলাকা থেকে কম- এজন্য বিনিয়োগকারীরা ও আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত হাইটেক পার্কে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিনিয়োগকারীরা তাদের শিল্পকারখানা স্থাপনে পিছিয়ে গেছেন। বর্তমানে র‌্যাংগস গ্রুপ তাদের ফ্রিজ ম্যানুফেকচারিং ইউনিট চালু করেছে। গ্যাসের অভাবে বাকি ইউনিটগুলো তারা চালু করতে পারেনি। সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে পার্কের কারখানাগুলো চালু রাখা বেশ ব্যয়বহুল।


মোরশেদুল আলম আরও বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের সাথে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। তারা গ্যাস ও বিদ্যুতের নিশ্চয়তা চাচ্ছে। কিন্তু আমরা দিতে পারছি না। অর্ন্তবর্তী সরকারের জ্বালানী উপদেষ্টা সিলেট হাইটেক পার্কে গ্যাস সংযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন, কিন্তু পেট্রোবাংলা সেটি আটকে দেয়। বর্তমান সরকার বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মনে হচ্ছে। বিরাজমান সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগকারীরা হয়তো ফিরবেন।’

সর্বশেষ সব খবর