ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, গণতন্ত্র ও ইতিবাচক পরিবর্তনের আহ্বান। ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দিনাজপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বর্ণাঢ্য র্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচীতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপির। বিশেষ কারণে তিনি স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। একই কারণে জাতীয় সংসদের হুইপ মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছর এ দিবসটি পালন করা সম্ভব হয়নি এবং তৎকালীন সরকারের সময় তাঁদের দিবসটি পালন করতে দেওয়া হয়নি। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মোঃ জেদান আল মুসা, পিপিএম তাঁর বক্তব্যে ইতিহাস জানার পাশাপাশি ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বাস্তব জীবনে তার প্রতিফলন ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, শুধু ইতিহাস জানলেই হবে না, সেই ইতিহাসের আলোকে কাজ করতে হবে। নিজেদের উন্নত করতে হবে এবং মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে হবে।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোঃ মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, দিনাজপুর সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ লুৎফর রহমান এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ মোকশেদ আলী মঙ্গলিয়া। তাঁরা দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, সামাজিক দায়ীত্ববোধ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সমাজ গঠনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ রফিকুল ইসলাম।সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় দিবসগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপনের বিষয় নয়; বরং এসব দিবসের তাৎপর্য অনুধাবন করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়া এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার গ্রহণ করা জরুরী।
তিনি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ—‘বিপ্লব’ ও ‘সংহতি’র তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন। তাঁর মতে, বিপ্লব হচ্ছে কাঙ্ক্ষিত আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা, আর সংহতি হচ্ছে সেই পরিবর্তন বাস্তবায়নে মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত অবস্থান। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়ীত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, পৃথিবীকে উন্নত করার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার শিক্ষা। একজন শিক্ষক যদি একজন ভালো মানুষ তৈরি করতে পারেন, তাহলে সেই শিক্ষার্থীর মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে একজন ভালো কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, বাবা কিংবা মা গড়ে উঠতে পারেন। তাই উন্নত রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও মানসম্মত শিক্ষার বিকল্প নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত চেতনা ধারণ করতে হলে দেশের আইন-কানুন জানতে হবে এবং পরিবার ও সমাজের অন্যদেরও সে বিষয়ে সচেতন করতে হবে। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য উপলব্ধি করে সবাইকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস. এম. হাবিবুল হাসানসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, সরকারী দপ্তরের প্রতিনিধিবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিকেলে জেলা বিএনপির র্যালী ও সমাবেশ
অন্যদিকে, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিকেল ৪টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জেলা বিএনপির উদ্যোগে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি।
সমাবেশে বক্তারা ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের চেতনায় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়। র্যালীটি দিনাজপুর শহরের কাচারী রোড, পৌরসভা রোড ও সদর হাসপাতাল রোডসহ প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেল রোডে অবস্থিত জেলা বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালীতে জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোঃ মোকাররম হোসেন, সহসভাপতি আলহাজ্ব মাহবুব আহমেদ, মোঃ আখতারুজ্জামান জুয়েল ও মোঃ হাসানুজ্জামান উজ্জ্বল, মোঃ খালেকুজ্জামান বাবু, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মুন্না, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ও মোঃ নাজমুল হুদা জনি, কোষাধ্যক্ষ আনিসুর রহমান বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মণ্ডল বকুলসহ জেলা ও পৌর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া দিনাজপুর জেলা যুবদলের আহ্বায়ক এ কে এম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, সদস্যসচিব রেজাউর রহমান রেজা, জেলা মহিলা দলের সভাপতি জিনাত আরা ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন সুলতানা ডিউটি, কেন্দ্রীয় তাঁতীদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও দিনাজপুর জেলা তাঁতীদলের সভাপতি মোঃ রেজাউল ইসলাম গুরু এবং জেলা তাঁতীদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাসু খাঁন সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ সেলিমসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা র্যালীতে অংশগ্রহণ করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচীতে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারী দপ্তর, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, শিক্ষা ও ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
ইলিশ মাছ। ফাইল ছবি
দেশজুড়ে চাঁদপুরের সুস্বাদু ইলিশের খ্যাতি রয়েছে। এই সুযোগে চাঁদপুরের ইলিশের কথা বলে কিছু অসাধু চক্র ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছিল। এই প্রতারণা বন্ধ করতে অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রির ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন।
এ নিয়ে গত বুধবার একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চাঁদপুর জেলা সুস্বাদু ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ইলিশের সেই স্বাদ অক্ষুণ্ন রাখা, ইলিশের মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জেলার মান সমুন্নত রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসন বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। চাঁদপুর জেলার ইলিশের নাম করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসন এ ধরনের প্রতারণা রোধে অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রয়ের জন্য ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অনলাইনে ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য আগ্রহী ব্যবসায়ীদের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরমে (পরিশিষ্ট-ক) ১৫ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন করত হবে। পরিশিষ্ট-খ–তে বর্ণিত কাগজপত্র দাখিল করে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে লাইসেন্স নিতে হবে।
জেলা মৎস্য বণিক সমিতি, জেলা ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুরের ইলিশের নাম ভাঙিয়ে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণা করে আসছে। এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল থেকে নয়জনসহ মোট ১১ জন প্রতারককে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
জেলা প্রশাসনের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের ফলে অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ কিনতে গিয়ে ক্রেতারা প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। চাঁদপুর জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান বলেন, ‘এখন থেকে ইলিশ নিয়ে আর প্রতারণা করার সুযোগ থাকবে না। আমরা অনলাইনে ইলিশ বিক্রেতাদের লাইসেন্সের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা নিয়েছি।’
নাবিলা নুসরাত (৩২) নামে এক নারী চিকিৎসকের মৃত্যু। ছবি: সংগৃহীত
ঝালকাঠির নলছিটিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে ঝালকাঠির নলছিটিতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ই নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভপিতিত্ব করেন নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রতীক কুমার কুন্ডু।
সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান প্রতীক কুমার কুন্ডু।
বক্তব্য রাখেন নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো:আনিচুর রহমান (হেলাল) খান, নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: তৌহিদুজ্জামান সোহাগ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো:হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা প্রনীসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আবু সালেহ, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন আকতার, উপজেলা (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী, বীর মুক্তযোদ্ধা রুস্তম আলী খলিফা, নলছিটি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন ও নলছিটি প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি মো: শাহাদাত হোসেন মনু।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন বক্তারা।
সভায় অন্যদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান পলাশ, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো: এনামুল হক, উপ পরিদর্শক (ডিএসবি) মো: আজিজুর রহমান, উপজেলা মডেল মসজিদের ইমাম আতিকুর রহমান সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রিশাল বিভাগ সমিতি ঢাকার কার্যকরি পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
শনিবার (৭ই নভেম্বর) বিকালে মতিঝিল কিচেন ইয়ার্ডে ভিআইপি রুমে বরিশাল বিভাগ সমিতি ঢাকার কার্যকরি পরিষদের এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নতুন কমিটি গঠনের জন্য নির্বাচন আয়োজন সিদ্ধান্ত আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার নির্ধারণ করা হয়েছে।
উক্ত সভায় সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু'র সভাপতিত্ব ও সাধারন সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: আবদুছ ছোবাহান এর সঞ্চালনায় কার্যকরি পরিষদের ২৫ জন কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্য উপস্থিত ছিলেন ও প্রস্তাবনা পেশ করেন। সভায় আগামী ২৬ ডিসেম্বর শনিবার সম্মেলন ও নির্বাচনে চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারন করা হয় এবং মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একই অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় শের ই বাংলা এ কে ফজলুল হক এর ১৫৩ তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠান শৃঙ্খলার সাথে সুসম্পন্ন হওয়ায় সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয় এবং স্মরনিকা প্রকাশ সহ অনুষ্ঠানের সর্বমোট খরচ ১,৫০,৫৩০ টাকা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় পিরোজপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীরকে জানাযা ও দাফনে বাধা দেয়ায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বর্তমান অমানবিক পরিস্থিতিতে তাঁর পরিবারের পাশে দাড়ানো ও সমিতির পক্ষ থেকে আর্থিকভাবে ১০,০০০/(দশহাজার) টাকা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল খারাপ হওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করা হয় এবং আগামীতে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো করতে সভা থেকে সমিতির সভাপতি সরাসরি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এর সাথে কথা বলে পরামর্শ প্রদান করেন এবং অতি শীঘ্রই সমিতির একটি প্রতিনিধি দল বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে মত বিনিময় করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
সভায় প্রতি বছরের মতো আসন্ন শীতে সমিতির মাধ্যমে শীতবস্ত্র/কম্বল বিতরন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং দুঃস্থ মানুষকে শীতবস্ত্র দিতে কম্বল ক্রয়ের জন্য সমিতির সদস্য, উপদেষ্টা ও সম্পদশালী ব্যক্তিদের নিকট থেকে আর্থিক অনুদানের অনুরোধ জানায় এবং সভাপতি মোবাইল ০১৭১০৯২৯৯৫৭ (বিকাশ), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. মো: রুবেল হাওলাদার মোবাইল ০১৭৩০৮৮৭৭৭৭ পাঠাতে অনুরোধ করা হয়। সভায় সমিতির নির্বাচনকে সফল করার জন্য বরিশাল বিভাগের প্রত্যেক উপজেলার প্রতিনিধি নিশ্চিত ও সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপি পদস্থ কর্মকর্তাদেরকে সম্পৃক্ত করতে সভায় গুরুত্ব দেয়া হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি ও সোনালী ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর শওকত ইসলাম, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক এড. মো: রুবেল হাওলাদার, সাংবাদিক কায়কোবাদ মিলন, সাংবাদিক বদরুল আলম নাবিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবিএম সুলতান আহমদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এনায়েত হোসেন আকন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আসাদুজ্জামান খান, মো: আবুল কালাম, ড. নাঈম হোসেন,খন্দকার আবুজাফর মো: সালেহ, মো: জাকারিয়া মোল্লা, মো: আবদুল মান্নান প্রমুখ।
সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ জিয়াউল কবির দুলু সকলকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে সমিতি ও এলাকার উন্নয়নে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান এবং সমিতির আসন্ন নির্বাচন, বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সার্বিক সফলতা কামনা করে উপস্থিত কর্মকর্তা ও নির্বাহী সদস্যগনকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।। ছবি: সংগৃহীত
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকে দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচি নিয়েছিল চট্টগ্রাম নগর বিএনপি।। ছবি: সংগৃহীত
‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকে দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচি নিয়েছিল চট্টগ্রাম নগর বিএনপি। নগরের অন্যান্য এলাকার মতো আজ শনিবার সকাল থেকে আগ্রাবাদেও মাইকে গান বাজানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে মাইকে বেজে ওঠে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ গানটি।
মাইকে গানটি বাজানোর ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশ বলছে, বিএনপির কর্মসূচিতে অসতর্কতাবশত গানটি বেজে উঠেছিল। তবে বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখলেও ঘটনার বিস্তারিত তাঁদের জানা নেই। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মাইকে ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা তুমি বাংলাদেশের নেতা’ গানটি বাজছে। পাশের সড়কে চলাচল করছে রিকশা, অটোরিকশা, সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন।
জানতে চাইলে নগরের ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ ফয়সাল প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপির কর্মসূচিতে অন্য একটি গান বাজানোর ভিডিও তাঁদের নজরে এসেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেছে। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ইউটিউব থেকে দলীয় গান বাজানো হচ্ছিল। একের পর এক গান চলার মধ্যেই এক পর্যায়ে ওই গানটি বেজে ওঠে। তবে দ্রুত গানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃতভাবে গানটি বাজানো হয়নি।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। সারা দিন দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তবে কারা গানটি বাজিয়েছেন, তা খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত) শওকত আজম খাজা বলেন, ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে নগরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকে দলীয় গান ও ভাষণ প্রচারের কর্মসূচি ছিল। আগ্রাবাদে দলের কর্মসূচিতে অন্য দলের গান বাজানোর একটি ভিডিও তাঁর নজরে এসেছে। তবে কারা গানটি বাজিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেননি।