সাংবাদিক তুরাব হত্যার বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:২৭ এএম

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে শহীদ এটিএম তুরাব আমাদের সকলের প্রেরণার উৎস। এ হত্যার সাথে জড়িত সকলকে বিচারের আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তুরাব হত্যার বিষয়ে সংসদে সরকারি ও বিরোধীদলকে সোচ্চার হবার পরামর্শ দেন তিনি। পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত সাংবাদিক এটিএম তুরাবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী ও এটিএম তুরাব পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

 

আজ শনিবার বিকেলে সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ক্লাব সভাপতি মুকতাবিস উন নূর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন-সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান লোদী কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম ও সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন। অনুভূতি ব্যক্ত করেন এটিএম তুরাব পদকের জন্য মনোনীত দৈনিক নয়া দিগন্তের ব্যুরো প্রধান আবদুল কাদের তাপাদার। 




ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির আরো বলেন, জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজার মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। শহীদ তুরাবের রক্ত সিলেটের মাটিতে ঝরেছে। 


তুরাব হত্যার বিচার বিলম্বিত হবার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, এ নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আগামী ২/৩ দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলবেন। যাতে তুরাবসহ এ ধরনের জঘন্য হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতরা দ্রুত গ্রেফতার হয় এবং তাদের উপযুক্ত শাস্তি হয়। 


সাংবাদিকতার মৌলিক নীতিমালার বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তুরাব শহীদ হয়েছেন। গত ১৫ বছর অপতথ্যের মাধ্যমে দেশকে তথ্য সন্ত্রাসে পরিণত করা হয়েছিল। বর্তমানে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দাফন হয়ে গেছে। বিগত নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে মিডিয়া স্বাধীনভাবে তার কার্যক্রম  চালাচ্ছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের কলম ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভেদাভেদ থাকতে পারে। কিন্তু দেশের ব্যাপারে আমাদের সকলকে এক থাকতে হবে। 


দেশপ্রেমের চেতনা নিয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান তিনি। এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তুরাবের লাশ ছিনিয়ে নেয়ার অপচেষ্টার স্বাক্ষী আমরা। মামলায় আমাদের লোকজনকেও আসামি করা হয়। এটা হচ্ছে নির্মম বাস্তবতা। জুলাই বিপ্লবে তুরাব ও গোলাপগঞ্জের ৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যার অগ্রগতি নিয়ে তিনি সম্প্রতি চিফ প্রসিকিউটরের সাথে আলোচনা করেছেন। এ হত্যাকান্ডের বিলম্বে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা প্রতিশোধপরায়ণ হতে চাই না। এ হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে-এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। 


সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী (কয়েস লোদী) তুরাব হত্যার বিচার কার্যক্রম তুরাব হত্যাকান্ডের তদন্ত প্রক্রিয়া সাগর রুনি হত্যাকান্ডের মতো হয়ে যায় কিনা-এই আশংকা ব্যক্ত করেন। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পুলিশ অফিসাররা গ্রেফতার না হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রতিবাদ নয়, ফাঁসির দাবি নিয়ে আমরা দাঁড়িয়েছি’। 


মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম বলেন, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে তুরাব জীবন দিয়েছেন। এ মামলার তেমন অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। 


মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেছেন এ সরকার কোন অন্যায়কে ছাড় দেবে না। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাঈদা পারভীন বলেন, রাজনীতির কারণে কারো রক্ত ঝরুক-এটা আমরা চাই না।

 

বক্তব্য রাখেন-ক্লাবের সাবেক সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী ও ইকরামুল কবির, সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ হান্নান, সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা বদর, সাবেক কোষাধ্যক্ষ কবীর আহমদ সোহেল, ক্লাবের সহ-সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ, ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্লাব সদস্য কবির আহমদ। পরে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক আব্দুল কাদের তাপাদারের হাতে ক্রেস্ট ও সম্মাননা তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিবৃন্দ। 


ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক শেখ আশরাফুল আলম নাসির, পাঠাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুহিবুর রহমান, কার্যনির্বাহী সদস্য আমজাদ হোসাইন ও আনাস হাবিব কলিন্স, ক্লাব সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন-জিয়াউস-শামস শাহীন, হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সেলিম আউয়াল, মো. আমিরুল ইসলাম চৌধুরী (এহিয়া), কবির আহমদ, আশকার ইবনে আমিন লস্কর রাব্বী, জাবেদ আহমদ, আহবাব মোস্তফা খান, মো. বদরুর রহমান বাবর, শুয়াইবুল ইসলাম, নৌসাদ আহমদ চৌধুরী, মুনশী ইকবাল, শেখ আব্দুল মজিদ, মো. দুলাল হোসেন, মো. মারুফ হাসান, লুৎফুর রহমান তোফায়েল, এম রহমান ফারুক, শফিক আহমদ শফি, মামুন পারভেজ, লবীব আহমদ, মো. জুনেদ আহমদ, আব্দুল হান্নান, লোকমান আহমদ, সহযোগী সদস্য আকাশ চৌধুরী প্রমুখ। 


সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস উন নূর বলেন, একটি পক্ষ এই হত্যা মামলার আসামীদের রক্ষার জন্য শুরুতেই তৎপর ছিল। তুরাবের পরিবার যেন ইনসাফ পায়-তিনি সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।



সর্বশেষ সব খবর

কালীগঞ্জে বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মিলনের মতবিনিময়

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান


বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি মিলনের মতবিনিময়

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার নাগরী এলাকার স্বপ্ন কানন রিসোর্টে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন।


মতবিনিময় সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এ কে এম ফজলুল হক মিলন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি কিংবা দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্য, কর্মকাণ্ড বা সিদ্ধান্ত নিয়ে তথ্য ও যুক্তিনির্ভর গঠনমূলক সমালোচনা গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ। 




সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের মতপ্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। এখানে প্রত্যেকের মতামত প্রকাশের অধিকার রয়েছে। তবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে কাউকে হেয় করা, অশালীন ভাষা ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণ করা কোনোভাবেই সুস্থ সামাজিক পরিবেশের জন্য সহায়ক নয়।


তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির কর্মকাণ্ড নিয়ে মানুষের প্রশ্ন বা সমালোচনা থাকতেই পারে। ভুল-ত্রুটি থাকলে তা তথ্য ও যুক্তির মাধ্যমে তুলে ধরা উচিত। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান এবং সমাজে গঠনমূলক আলোচনা তৈরি হয়। 


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মিলন বলেন, কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকলে যুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য উপস্থাপন করা উচিত। ব্যক্তিগত কটূক্তি, অশ্লীল শব্দ বা অপমানজনক মন্তব্যের মাধ্যমে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না।

সভায় অন্যান্যের মাঝে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. হুমায়ুন কবির মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খালেকুজ্জামান বাবলু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সোলেমান আলম, আশরাফী হাবিবুল্লাহ খোকা, মো. খায়রুল আহসান মিন্টু, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন আরমান মাষ্টারসহ উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 


এ সময় তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম আরও সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধান অতিথি। সভায় নেতৃবৃন্দ স্থানীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম, পারস্পরিক সমন্বয় এবং দলীয় কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল করার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

আসন্ন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে  আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী এলাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত  হয়। 


কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ০৪ নং ওয়ার্ড বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং কায়েতপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব সেলিম আহমেদ। 


​সভায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূল পর্যায়ে দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ সেলিম আহমেদ বলেন, কায়েতপাড়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের সাংগঠনিক শক্তি আরও সুসংগঠিত করে তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে দলীয় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কায়েতপাড়ার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।


‎তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রত্যেক ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সক্রিয় হতে হবে। দলের প্রতি আনুগত্য ও ঐক্য বজায় রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

সর্বশেষ সব খবর

দানবাক্সে মিলল প্রায় ৮৯ লাখ টাকা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১৭ পিএম

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খুলে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে সিলগালা অবস্থায় থাকা তিনটি ডেগ ও পাঁচটি দানবাক্স খোলা হয়। এরপর পাওয়া নগদ অর্থ, স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়। এ সময় সন্ধ্যা ৬ টার দিকে দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ও বিভিন্ন সরঞ্জামের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।


মাজার কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, দানবাক্স ও ডেগ থেকে পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৮ টাকা। স্বর্ণ পাওয়া গেছে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি। পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে রয়েছে, যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া। 


এর আগে ১৫ আগস্ট সর্বশেষ দানবাক্স ও মানতের বাক্স খোলা হয়েছিল। সেদিন গণনা করে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় বিভিন্ন দেশের মুদ্রা ছাড়াও স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। এর আগে ১১ জুলাই দানবাক্সের অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার সামগ্রী পাওয়া যায়। আর ২২ জুন দানবাক্স খোলা হলে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকা যোগ হওয়ায় ওই দফায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।


উল্লেখ্য, প্রায় একমাস ৪দিন পর আবার শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান বাক্সগুলো খোলা হয়েছে। এর আগে গত ২২শে জুন প্রথমবার, ১১ই জুলাই দ্বিতীয়বার ও গত ১৫ আগস্ট ৩৪ দিন পর তৃতীয়বারের মতো দানবাক্স খোলা হয়েছিল। ওইসময় পাওয়া গিয়েছিল ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা।

সর্বশেষ সব খবর

অপ্রতিম হত্যায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ ক্লু

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৫ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের পাদদেশে স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। 


আজ শনিবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে তারা ঘটনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র বা ‘ক্লু’ পেয়েছেন।


নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার দম্পতির একমাত্র সন্তান।


পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার উদ্দেশ্যে বের হয় অপ্রতিম। তবে সন্ধ্যা নেমে এলেও সে আর ঘরে ফেরেনি। স্বজনেরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।


নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর আজ শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন সালমানপুর এলাকার লালমাই পাহাড়ের নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 


ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। জড়িতদের গ্রেপ্তারে আমাদের একাধিক টিম কাজ করছে। আপাতত একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি দোষী না নির্দোষ, তা তদন্তের পরেই জানা যাবে।’


হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, শুধুই একটি আইফোন ছিনতাইয়ের জন্য এই নিষ্পাপ শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে- তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এদিকে অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোনটি পাওয়া না যাওয়ায় সেটি ছিনতাই করতেই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। নিষ্পাপ এই কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:১৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে সদর উপজেলার ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন- A+ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সংবর্ধনা স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষার্থীদের হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট তুলে দিয়ে তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরূমে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ঠাকুরগাঁও এডিপি, ওয়ার্ল্ড ভীষণ বাংলাদেশ এর সহযোগীতায় শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।




অনুষ্ঠানে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার এস‌এসসির ২০২৬ সেশনে গোল্ডেন A+ প্রাপ্ত প্রায় ২৭০ জন শিক্ষার্থীকে হাতে সার্টিফিকেট ও সম্মাননা ক্রেস্ট ও সম্মানী দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন অতিথীরা।


অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ খাইরুল ইসলাম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, জেলা প্রশাসক মোঃ রফিকুল হক, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আরিফুল্লাহ, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হাফেজ মোঃ রশিদ আলম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক মোঃ মাহমুদুন নবী, অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মহাদেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ জাকিরুল ইসলাম। 


এ সময় অনুষ্ঠানে গোল্ডেন এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবক ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


বক্তারা সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে দেশ তথা এলাকার মানুষের সেবায় কাজ করার আহবান জানান।

সর্বশেষ সব খবর

অবৈধ বালু ভরাট বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের ৯ দফা দাবি পেশ

  • প্রকাশ : শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫২ পিএম

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি আবাসন কোম্পানি কর্তৃক অবৈধ দখল বন্ধে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা কতৃক পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের মাধ্যমে ৯ দফা দাবী পেশ করা হয়েছে।


আজ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর)  দুপুরে উপজেলার জলসিঁড়ি প্রকল্পের ৪ নম্বর সেক্টরের অস্থায়ী ক্যাম্পে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় দুই ইউনিয়নের ১০ গ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে আহসান উল্লাহ মাস্টারের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। অন্যদিকে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের পক্ষ থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু তারেক মোহাম্মদ রাশেদের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে গ্রামবাসীদের নানা সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দেন।


সভায় গ্রামবাসীদের পক্ষে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের সঠিক সীমানা নির্ধারণ (ডিমার্গেশন), বসতবাড়ি বাদ দিয়ে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প সীমানার ভেতরে থাকা জমির বিনিময়ে গ্রামবাসীদের আনুপাতিক হারে জমি বা প্লট বরাদ্দ, জমির ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ এবং স্থানীয় অধিবাসীদের  বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানানো হয়।


সংহতি প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে ১০টি গ্রামের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আবাসন প্রকল্পের কারণে সৃষ্ট বৈষম্য ও ভোগান্তি নিরসনে ঘোষিত ৯ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে স্থানীয়দের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।


উক্ত আলোচনা সভায় ‘পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদ’-এর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পেশাজীবী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় বক্তব্য রাখেন ও সংহতি প্রকাশ করেন- ব্যাংকার আবু বক্কর সিদ্দিক, হোসেন ব্যাপারী, পেশকার শামসুদ্দিন, রফিকুল ইসলাম রফিক, দলিল লেখক গুলজার হোসেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার, অ্যাডভোকেট নাজমুল ইসলাম, বাহার উদ্দিন নয়ন, প্রভাষক নূর সালাম, আমজাদ, ফার্মাসিস্ট সুমন মিয়া, মাহাবুবুর রহমান (বাবু), ঢাকা থেকে আগত প্রতিনিধি হাবিব ও আবদুর রহিম দুয়ারী, আনোয়ার হোসেন এবং হাফেজ আবদুল বাতেন।


সভা থেকে সর্বসম্মতিক্রমে রূপগঞ্জের ১০টি গ্রামের মানুষের স্বার্থে ৯ দফা দাবি দ্রুততম সময়ে মেনে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। অন্যথায় পৈতৃক ভিটা-মাটি সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন নেতৃবৃন্দ।

সর্বশেষ সব খবর